আপন ফাউন্ডেশন

Date:

বাবরী চুল রাখার বিধান ও বাবরী চুল প্রসঙ্গে আলাপ

ফেসবুক পেজ
ইউটিউব চ্যানেল

হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী

হিংসুকে হিংসা করে, গীবতকারী গীবত চর্চা করে মনে তৃপ্তি পায়। কুকুরের তকদিরে যা আছে তা খেয়েই শান্তি পায়। সব প্রাণী ঘি খেতে পারে না, তা যতো পুষ্টিকর খাদ্যই হোক না কেনো। প্রবাদ বাক্যে বলছে, কুকুরে ঘি খেলে নাকি গায়ের পশম ঝড়ে যায়। একদল আলেম-মোল্লা-মুফতি বা তাদের অনুসারীগণ এমন কিছু বিষয় নিয়ে তর্ক-বিতর্ক করে যে তাদেরকে গন্ডমূর্খ বললেও গাধায় বত্রিশ দাঁত বের করে হাসবে। তারা এ ধরণের কাজ কেনো করে ? কারণ, মূলে হলো অজ্ঞতা-মূর্খতা। তাদের এ ধরনের বিকৃত চিন্তার ফসল গ্রহণ করছে সমাজের এক শ্রেণীর লোকজনও। তাই তাদের অনুসারীদের মধ্যে অনেকেই অনেক বিষয়কে নাজায়েজ, বেদআত, হারাম অথবা  টিটকারীস্বরূপ অনেক কথা বলে থাকে। যেমন, মাথায় লম্বা চুল থাকলে একদল আলেম-মোল্লারা এবং তাদের অনুসারীগণ বলে ‘চুল্লা’, মেয়ে লোক, বা কেউ বলছে বড় চুল রাখা জায়েজ নেই, কেউ বলছে বেদআত, কেউবা আরো একটু এগিয়ে গিয়ে বলছে ‘ভন্ডামী’ বা এরা ভন্ড ইত্যাদি। এ ধরনের কথা ওরা কেনো বলছে? কারণ, ইহা তাদের বিকৃত স্বভাবেরই প্রতিফলন, যা ইবলিশ বা শয়তানের গুণÑখাছিয়ত। শয়তানের কোনো স্ত্রী নেই কিন্তু বংশ বিস্তার করে চলছে ঠিকই।

শয়তানের গুণ-খাছিয়তকে বা শয়তানের ধর্মকে যে দীলে ধারণ করছে, পোষণ করছে, সে-ই হলো শয়তানের বংশধর। কুকুর যেমন ঘি খেতে পারে না ওরাও তেমন ভালো কোনো কথা বা চিন্তা দীলে পোষণ করতে পারে না। তারা তাদের মনকে অজ্ঞতা-মূর্খতার অন্ধকারে আবৃত করে ফেলছে, মানে দীলে মোহর মারা হয়ে গেছে। অনেকে পীর-ফকিরগণের লেবাছ দেখেও টিটকারী করে থাকে, ইহাই তাদের চরিত্র। ভালোমন্দ প্রভেদ করার শক্তি তাদের নেই, তাই গীবত চর্চা ছাড়া তাদের কোনো পথও নেই। এ ধরনের লোক (মানুষ নয়) নিজ আত্মা হারিয়ে তাদের অজান্তেই অন্তরে পশুর সুরত নিয়ে বাস করছে। তাই পশুত্বের আচরণ তাদের মুখ, হস্ত, পদ থেকে প্রকাশ পাচ্ছে। স্বভাবে সুরতের পরিচয় হয় বিধায় এ ধরণের লোকগুলো মানুষ নয়, মানব সুরতে পশু। যদি এ ধরণের গুণ-খাছিয়ত ত্যাগ করতে না পারে তবে দেহ ত্যাগের পরে তাদের সুরত বদল হয়ে যাবে মানে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। যেখানে ইসলামেরই চৌদ্দ আনা বিকৃত করা হয়েছে/করা হচ্ছে, নানা ফেরকার আলেম-মোল্লারা সেখানে ঝগড়া করছে চুল, দাঁড়ি, নখ, মোচ, হায়েজ-নেফাস, বউ তালাক দেয়া বা আনা, কাপড় টাখনুর নিচে না উপরে, ছবি হারাম না হালাল ইত্যাদি নিয়ে। মোল্লাতন্ত্রের ধর্মজ্ঞান পশ্চাৎমুখী, অকেজো, জড়ত্ব স্বভাবের।

তাই কাঠ মোল্লাদের লক্ষ্য করে বাংলার জাতীয় কবি এবং বিখ্যাত ওলী কাজী নজরুল ইসলাম তাদেরকে সুরসুরি দিয়ে ঘুম ভাঙ্গানোর জন্য বলছেন,

“বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে, আমরা তখনো বসে
বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজি, কোরান-হাদিস চষে।”

ওলী-আউলিয়া, ফকির-দরবেশ, সাধু-সন্ন্যাসী বা তাদের অনুসারী তরিকতপন্থীগণের মাথায় লম্বা চুল দেখলে এক শ্রেণির বিকৃত চরিত্রের অধিকারী ছোয়াবের ব্যাপারী/ধর্ম ব্যবসায়ী মোল্লা-মুফতি বা তাদের অনুসারীগণের মগজ গরম হয়ে উঠে। (এ তাপের ঘরে মোয়াক্কেল হলো আজাজিল-শয়তান, সুরা নাস)। ফলে তেলে-বেগুনে জ্বলে উঠে তারা। একটু লক্ষ্য করে দেখুন, মূলতঃ শয়তানই এ ধরণের আচরণ প্রকাশ করছে। এ ধরনের মোল্লা-মুফতিগণ দ্বীনে মুহাম্মদী হতে বহু দূরে অবস্থান করছে। বিশেষ করে ওরা দেওবন্দী ওহাবী, খারেজী, জামায়াতে মওদুদী বা অন্যান্য মৌলবাদী কুলাঙ্গার। তাদের এ ধরনের আচরণ ধর্ম এবং কোরান-হাদিসের পরিপন্থী। তাই বলছি,  ওরা নামাজ-রোজা’ই যখন করছে সেই সাথে আল্লাহর অনুমতি নিয়ে ঈমান এনে ইসলামে দাখেল হয়ে যাওয়া উচিত। ‘খাসায়েছুল কোবরা’ কিতাবের ২য় খন্ডের ১৯-২১ পৃষ্ঠা (বঙ্গানুবাদ) হতে জানা যায় হযরত আদম (আঃ)-এর মাথায় লম্বা চুল ছিল এবং মুখে কোনো দাঁড়ি ছিল না। হযরত উবাই ইবনে কাব (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত আদম (আঃ)-এর মাথার চুল/কেশ মোবারক খেজুর গাছের ডগার মতো লম্বা ঘন কালো ছিল।

জান্নাতে দৌড়াদৌড়ি করার সময় নবীর লম্বা চুল গাছের সাথে জড়িয়ে পড়েছিল। চুল কতো লম্বা হলে গাছের সাথে জড়িয়ে পড়তে পারে তা কি ভাবনার বিষয় নয়? এ হাদিসটি ‘তাফসিরে ইবনে কাছিরে’ বর্ণিত আছে। জানা দরকার খেজুর গাছের ডালগুলো বা ডগা প্রায় ৪/৫ হাত লম্বা হয়ে থাকে। তা হতে অনুমান করা যায় হযরত আদম নবীর চুল কতোটুকু লম্বা ছিল। প্রায় অধিকাংশ নবী-রাছুলগণের মাথায়ই লম্বা/ বাবরী চুল ছিল বলে প্রমাণিত। মানুষ সৃষ্টির প্রাথমিক অবস্থায় দাঁড়ি আসে নি এসেছে শিশু উপযোগী লম্বা চুল। আদিম যুগ হতে বর্তমান যুগ পর্যন্ত মাথার চুল, দাঁড়ি, মোচের অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন সাধিত হয়েছে। আদিম যুগে চুল দাঁড়ি কাটার ব্যবস্থা ছিল না বিধায় সবারই চুল, দাঁড়ি, মোচ অনেক বড় বড় ছিল, থাকাটাই স্বাভাবিক। ধীরে ধীরে উন্নত যুগে উন্নত ব্যাবস্থার কারণে মানুষের পোশাক, খাবার, যানবাহন, আচার-আচরণ, ব্যবহৃত জিনিস পত্র হতে শুরু করে সমস্ত কিছুই পরিবর্তন পরিবর্ধনের দিকে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে। বর্তমান যুগে আমাদের মহানবী (সাঃ) এর অবস্থান কালে তিনি ক্লিন সেভ করতেন কিনা তা কিন্তু ভাবনার আছে! এ কথাটি শুনে মহিষের মতো গর্জন না করে, ফতোয়ার ডিগবাজি না খেলে আগে একটু গভীরভাবে চিন্তা করে বলুন! ১৯৮৮ ইং সনের ‘মাসিক গণফোরামের’ একটি প্রতিবেদন হতে জানা যায়, নবীজি (সাঃ) ৫৩ বৎসর পর্যন্ত ক্লিন সেভ করতেন। এ কথাটি তৎকালীন সময়ে ‘ইসলামী ফাউন্ডেশনের’ পরিচালক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক লাইব্রেরীতে ইসলামী সম্মেলনে এক প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন। কারণ, তাঁর মুখে তখন দাঁড়ি ছিল না।

যাক, কিন্তু নবী-রাছুল, ফকির-দরবেশ, ওলীদের অবস্থাটি তা হতে অবশ্যই ভিন্ন প্রকৃতির। কারণ, এরা আল্লাহর পথে নিজেকে উৎসর্গ করে দিয়ে তাঁরই ধ্যানে-দিদারে মগ্ন হয়ে ফানাফিল্লাহতে বাস করেন। কেউ পাহাড়ে, কেউ জঙ্গলে, কেউ বা খানকার নির্জন কোঠায় বসে আল্লাহর গভীর ধ্যানে-দিদারে তথা জিকিরে মগ্ন হয়ে থাকে। কেউ লোক সমাজ হতে দূরে অবস্থান করে মজ্জুব হালতে দিন যাপনকরেছেন/করছেন। বিধায় নিজেদের শরীরের দিকে আর তেমন একটা নজর দেয়ার ,ফুসরত পান না। তাই দেখা যায় তাদের চুল-দাঁড়ি-মোচ অনেকের হাতের নখ পর্যন্ত অনেক বড়-লম্বা হয়ে যায়। সাধারণ লোকজন তাদের হাকিকত বুঝতে না পেরে যার যার মতে সে সমালোচনা করে থাকে। তাই গন্ডারদের গায়ে সুরসুরি দিয়ে বলছি , যদি একটু বোধোদয় হয়। স্বয়ং রাছুল পাক (সাঃ)-ই বাবরী চুল রেখেছেন। তার চুল কখনো কখনো কাঁধ অতিক্রম করে পিঠেও এসে যেতো। বর্তমানে নবীজি (সাঃ)-এর চুল মোবারক গুগলে দেখাচ্ছে তা কমপক্ষে দেড় হাত লম্বা হবে। যে সাহাবা রাছুলপাক (সাঃ)-এর মাথার চুল মোবারক যতোটুকু লম্বা দেখেছেন সে ততোটুকুই বর্ণনা করেছেন। সে মতে বর্ণনার ভিন্নতা স্বীকার্য, তাই শুনুন-

কিতাব মতে চুল তিন প্রকার –

(১) ওয়াফ্রা – যখন মাথার চুল কানের লতি পর্যন্ত লম্বা হয় তখন তাকে বলে ‘ওয়াফ্রা’। রাছুলপাক (সাঃ)-এর চুল অনেক লম্বা করে রাখতেন। কখনো কখনো তিনি তা কর্তন করে কানের লতি পর্যন্ত রেখেছেন। কানের লতি পর্যন্ত লম্বা কেশ মোবারক যারা দেখেছেন তাদের কিছু বর্ণনা তুলে ধরছি।

যেমন, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাছুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, এক রাত্রে আমি সাদা গমের বর্ণের মতো একজন সুন্দর পুরুষকে স্বপ্নে দেখতে পেয়েছি। তাঁর মতো সুন্দর মানুষ তোমরা দেখনি। তাঁর চুল কানের লতি পর্যন্ত লম্বা ছিল। এবং এমন সুন্দর ছিলেন যে, তাঁর মতো সুন্দর চুলওয়ালা তোমরা দেখতে পাওনি। তাঁর চুলগুলো আঁচড়ানো ছিল। চুল থেকে যেন পানি টপ্কে পড়ছে। তিনি দু’জন লোকের উপর ভর করে/কাঁধে ভর করে খানা-এ-কাবার তাওয়াফ করছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম ইনি কে ? বলা হলো, ইনি মরিয়ম-তনয় ঈসা-মসীহ্ (আঃ)। পরেই আমি আরেকটি লোক দেখলাম, তার চুল কোঁকড়ানো, ডান চোখ কানা, যেন তা আঙ্গুরের মত বেরিয়ে রয়েছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এ লোকটি কে ? বলা হলো, মসীহে দাজ্জাল। (বোখারী ৫ম খন্ড, ৫৪৭৩)।

হযরত কাতাদা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আমি আনাস (রাঃ)-কে রাছুলুল্লাহ (সাঃ)-এর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম, তিনি বললেন, রাছুলুল্লাহ (সাঃ)-এর চুল না অধিক কোঁকড়ানো ছিল, না অধিক সোজা ছিল। বরং দু’অবস্থার মাঝামাঝি ছিল। এবং লম্বায় ছিল উভয় কান ও ঘাড়ের মাঝ বরাবর (বোখারী ৫ম খন্ড, ৫৪৭৬ নম্বর হাদিস)। এ হাদিসে বর্ণিত কেশ মোবারক কানের লতির চেয়েও নিচে ছিল বলে প্রমাণিত।

হযরত আনাস (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সাঃ)-এর চুল/কেশ মোবারক অর্ধকর্ণ পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। এ হাদিসটি ইমাম তিরমিযি তাঁর ‘শামায়েলুন তিরমিযীতে’ ২৩, ২৬ ও ২৮ নম্বর হাদিসে বর্ণনা করেছেন।

সুনান আত তিরমিযী (পোশাক-পরিচ্ছদ অধ্যায়, ১৭৫৪ নম্বর হাদিস) হযরত আনাস হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাছুলুল্লাহ (সাঃ) ছিলেন মধ্যম আকৃতির। তিনি অধিক লম্বাও ছিলেন না আবার খাটোও ছিলেন না। তিনি সুঠাম দেহের অধিকারী ছিলেন এবং তাঁর গায়ের রং ছিল বাদামী। তাঁর মাথার চুল কোঁকড়ানোও ছিল না আবার একবারে সোজাও ছিল না। তিনি রাস্তায় চলাচলের সময় সামনের দিকে ঝুঁকে হাটতেন (সহীহ মুখতাসার শামাইল, নাসাঈ)। এ হাদিসটি হযরত ইবনে আব্বাস, বারাআ, আবু হুরায়রা, আবু সাঈদ, জাবির, উম্মে হানী (রাঃ) হতেও বর্ণিত আছে। হাদিসটি হাসান সহীহ গরীব।

বারাআ ইবনে আযিব (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেন, নবী করিম (সাঃ) মাঝারি গড়নের ছিলেন। তাঁর উভয় কাঁধের মধ্যস্থল প্রশস্ত ছিল।  তাঁর মাথার চুল দু’কানের লতি পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। আমি তাকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পরা অবস্থায় দেখেছি (সহীহ বোখারী-৩৫৫১ নম্বর হাদিস)।

ইবনে সা’দ, তিরমিযী, বায়হাকী, তাবারানী, আবু নায়ীম, ইবনে সাকান ও ইবনে আসাকিরের রওেয়ায়েতে হযরত হাসান (আঃ) বলেন,  আমি আমার মামা হিন্দ ইবনে আবী হালাকে রাছুলুল্লাহ (সাঃ)-এ  দেহাবয়ব সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। তিনি হুজুর (সাঃ)-এর দেহাবয়ব অধিক পরিমাণে ও সুস্পষ্টরূপে বর্ণনা করতেন। আমার প্রশ্নের জবাবে তিনি বললেন ঃ রাছুলুল্লাহ (সাঃ)-এর আপন সত্তার দিক দিয়েও মহান ছিলেন এবং অপরের দৃষ্টিতেও অত্যন্ত মর্যাদাবান ছিলেন। তাঁর মোবারক মুখমন্ডল পূর্ণিমার চাঁদের মত ঝলমল করতো। তাঁর গড়ন সম্পূর্ণ মাঝারি গড়নের চেয়ে কিছুটা দীর্ঘ ছিল। কিন্তু বেশী লম্বা গড়নের চেয়ে খাটো ছিলেন। মাথা সমতার পর্যায়ে বড় ছিল। কেশ যৎকিঞ্চিৎ কুঞ্চিত ছিল। মাথার কেশে আপনা আপনি সিঁথি হয়ে গেলে তিনি সিঁথি করতেন না। নতুবা সিঁথি করতেন। চুল কানের লতি পার হয়ে যেতো। তাঁর রঙ অত্যন্ত চমকদার ছিল এবং ললাট প্রশস্ত। তাঁর ভ্রু কুঞ্চিত, পাতলা ও ঘন ছিল (সংক্ষিপ্ত। খাসায়েছুল কোবরা, ১ম খন্ড ১৩৫)।

ইবনে আসাকির হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) হতে রেওয়ায়েত করেন যে, কিছু সংখ্যক ইহুদী হযরত আলী (আঃ)-এর কাছে এসে বললো: আপনার চাচাত ভাইয়ের গুণাবলী বর্ণনা করুন। হযরত মাওলা আলী (আঃ) বললেন, মুহাম্মদ না খুব লম্বা ছিলেন, না বেঁটে। তিনি মাঝারি গড়ন থেকে কিছু বেশী ছিলেন।  রং ছিল লালিমা মিশ্রিত সাদা। চুল কোঁকড়ানো ছিল, কিন্তু সম্পূর্ণ কুঞ্চিত ছিল না। মাথার চুল কানের লতি পর্যন্ত ছিল। ললাট প্রশস্ত ছিল এবং গাল সুস্পষ্ট ছিল (সংক্ষিপ্ত) । খাসায়েসুল কোবরা ১ম খন্ড-১৩৪ পৃষ্ঠা)। এ ধরনের হাদিস ইবনে সা’দ ও ইবনে আসাকিরের রেওয়ায়েতে হযরত মাওলা আলী (আঃ) হতে বর্ণিত আছে (খাসায়েছুল কোবরা, ১ম খন্ড ১৩১, ১৩৩ পৃষ্ঠা)। তাছাড়া ‘খাসায়েসুল কোবরা’ কিতাবের ১ম খন্ডের ১৩৪ পৃষ্ঠায় হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতেও বর্ণিত আছে।

(২) লিম্মাহ – কানের লতি অতিক্রম করে যখন চুল কাঁধের উপর এসে পড়ে বা কাঁধ পর্যন্ত লম্বা হয় তখন তাকে বলে ‘লিম্মাহ।’

যেমন – বোখারী ৫ম খন্ডের কিতাবুল লেবাছ অধ্যায়ের ৪০৬ পৃষ্ঠায় হযরত বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, আমি লাল তহবন্দ ও চাদর পরিহিত অবস্থায় নবী করিম (সাঃ)-এর চেয়ে অধিক সুন্দর আর কাউকে দেখিনি। (ইমাম বোখারী বলেছেন), আমার কোনো এক বন্ধু মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন, হুজুর (সাঃ)-এর মাথার চুল ঘাড় পর্যন্ত এসে যেতো। আবু ইসহাক বর্ণনা করেছেন, আমি বারাআ (রাঃ)-কে এ হাদিস একাধিকবার বর্ণনা করতে শুনেছি। যখনই তিনি এ হাদিস বর্ণনা করেছেন, তখনই তিনি হেসে দিয়েছেন। শো’বা তাকে অনুসরণ করে বর্ণনা করেছেন, হুজুর (সাঃ)-এর চুল দু’কানের লতি পর্যন্ত চলে যেতো (৫৪৭২ নম্বর হাদিস)। সহীহ বোখারী ৩৫৫১ নম্বর হাদিস হতে বর্ণিত আছে যে, ইউসুফ ইবনু আবু ইসহাক তাঁর পিতা হতে বর্ণনায় বলেন, নবী করিম (সাঃ)-এর মাথার চুল কাঁধ পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। ইসলামিক ফাউন্ডেশন হতে প্রকাশিত, নম্বর – ৩২৯৬)।
হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করিম (সাঃ)-এর মাথার চুল ঘাড় পর্যন্ত এসে যেতো (৫৪৭৪-৭৫ নম্বর হাদিস)।

অধ্যাপক হাফেজ মাওলানা আবদুল জলিল সাহেবের বঙ্গানুবাদ বোখারীর ১৫০৫ নম্বর হাদিস হতে জানা যায় রাছুলপাক (সাঃ) স্বীয় মাথার সামনের চুলে গিট দিয়ে কপালে ঝুলিয়ে রাখতেন।

হযরত উম্মে হানী (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সাঃ) হিজরতের পর একবার মক্কায় আগমন করেন। তখন তাঁর কেশ/চুল মোবারক চতুর্ঝুটি বিশিষ্ট ছিল। অর্থাৎ চুলের চারটি বেণী ছিল। এ হাদিসটি সুনান আত্ তিরমিযীর ১৭৮১ নম্বর হাদিস। (শামায়েলুন তিরিমিযী-২৭ নম্বর হাদিস, অধ্যায় নম্বর ৫)। এ হাদিসটি ইমাম তিরমিযি তাঁর ‘শামায়েলুন তিরমিযীর’ ৩৮ পৃষ্ঠায় ২৯ নম্বর হাদিসেও বর্ণনা করেছেন। হযরত ইবনে ওমরও উম্মে হানী হতে এ হাদিসটি বর্ণনা করেছেন যে, নবী করিম (সাঃ) যখন মক্কায় আসেন তখন তাঁর মাথার চুলের চারটি বেণী ছিল। এ হাদিসটি হাসান। (আল মাদানী প্রকাশনী হতে প্রকাশিত ‘তিরমিযী’ হাদিস নম্বর -১৭৮১, সহীহ ইবনে মাজাাহ-৩৬৩১, ইফাঃ -১৭৮৮)।

হযরত আব্বাস (রাঃ) হতে তিনি বলেন, নূর নবীজির (সাঃ)-এর মাথায় চুল মোবারক লম্বা ছিল এবং তিনি তাঁর চুলের মাঝখানে সিঁথি কাটতেন (মুসলিম/বোখারী)। অন্য হাদিস গ্রন্থে বর্ণিত হযরত ইমাম হুসাইন ইবনে আলী (আঃ)-হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নবী করিম (সাঃ)-এর মাথায় লম্বা চুল ছিল যা কানের লতির নিচ পর্যন্ত ঝুলন্ত অবস্থায় রাখতেন (তিরমিযী)। নবী প্রেমিক সাহাবা আসহাবে সুফ্ফাগণ গায়ে ছিন্ন বস্ত্র পরিধান করতেন এবং মাথায় লম্বা চুল রাখতেন। তার মধ্যে হযরত মাহজুরা (রাঃ) একজন। হযরত বেলাল (রাঃ)-এর পরে মুয়াজ্জিন হিসেবে হযরত আবু মাহ্জুরা (রাঃ)-এর নাম শীর্ষে। তৎকালীন অধিকাংশ সাহাবাগণের মাথায় লম্বা চুল ছিল। রাছুলপাক (সাঃ) ১৫ বৎসর হেরাগুহায় নিরন্তর ধ্যান সাধনায় মগ্ন ছিলেন, তখন তাঁর চুল মোবারক/শিরোরুহ মোবারক স্বাভাবিক নিয়ম-নীতির কারণেই অধিক লম্বা হয়ে গিয়েছিল। কারো কারো মতে তখন তাঁর চুল/কেশ মোবারক কোমরের নিচে চলে গিয়েছিল। এ রীতি তাঁর পূর্ব বংশধরদের মধ্যেও প্রচলন ছিল। হযরত আবু তালেব (রাঃ)-ও এ পথের পথিক ছিল। বিশেষ করে রাছুল পাক (সাঃ)-এর দাদা আবদুল মোত্তালেবও (হানীফ-মিল্লাতে ইব্রাহীম) রমজানে এক মাস ব্যাপী নির্জন সাধনার জন্য পাহাড়ের গুহায় চলে যেতেন। তার মাথায়ও বাবরী ছিল বলে বিধৃত। তিনি মুখের দাঁড়ি দিয়ে কাবা ঘর ঝাড়– দিতেন।

পবিত্র কোরানে সুরা কাহাফ (২৫ নং আয়াত) মোতাবেক সাতজন যুবক সাধকগণ (ধর্ম সন্ত্রাসী রাজার ভয়ে পালিয়ে) এক পাহাড়ের গুহায় ৩০৯ বৎসর ধ্যান সাধনায় মগ্ন ছিল। তাদের চুল কতোটুকু হতে পারে তা কাঠ মোল্লার দলেরা হিসাব জানে কি? এ আয়াতের ভেদ যুগে যুগে বর্তমান। সুফি সাধক ফকির দরবেশগণ যদি জঙ্গলে, পাহাড়ের গুহায়, বা কোনো নির্জনস্থানে, ধ্যানের ঘরে ৩শত বৎসর আরো ৯ বৎসর অতিবাহিত করে তাদের চুল কেমন হতে পারে তা কি ভাবনার বিষয় নয়? সাধকগণ গুহা হতে বের হয়ে যখন তাদের মুদ্রা নিয়ে বাজারে গেল তখন দেখা গেল সে মুদ্রা অচল। এখনো সাধক পীর-ফকির, দরবেশগণের মুদ্রা ধর্ম সন্ত্রাসী বা তাদের অনুসারী বা জঙ্গি মৌলবাদীগণের নিকট অচল। সে মুদ্রার পরিচয় যারা জানে তারা ইহাও জানে যে, সে অত্যাচারিত বাদশাহ এবং তাদের অনুসারীগণ যুগে যুগেই বর্তমান। শুধু স্থান-কাল, নাম-উপাধি ভিন্ন, স্বভাব-চরিত্র অভিন্ন।

চুল কতোটুকু বড়/লম্বা হলে চুলে গিট দিয়ে রাখতেন অথবা চারটি বেণী করে রাখতেন তা কি ভাবনার বিষয় নয় ? যারা লম্বা চুল দেখলে পশুত্বের আদিম চরিত্রটির বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে সমালোচনা করে যাচ্ছে তাদেরকে বলছি আপনি/আপনারা নিজেদের চুলগুলো গিট দিয়ে দেখুন কতোটুকু লম্বা হলে চুলে গিট দিতে পারবেন বা চুলের চারটি বেণী গাঁথতে পারবেন! বাস্তবেই তা একবার প্রমাণ করে দেখুন না ! কসাইয়ের হাতের ছুরি আর ডাক্তারের হাতে ছুরি এক নয়। পুলিশের হাতের পিস্তল আর সন্ত্রাসীর হাতের পিস্তল এক নয়। নবী-রাছুল, ওলীয়ম মুর্শিদ/গুরু/পীরের এবং তাদের ভক্ত-অনুসারী পাগল-মস্তানদের মাথার চুল-গোঁফ আর অন্যান্য সাধারণ মানুষ বা আলেম- মোল্লাদের চুল-গোঁফ এক নয়। চুল বড় রাখলেই যদি মেয়ে হয়ে যায় তবে তো নবীজি (সাঃ) বা অন্যান্য নবী-রাছুলগণকেও তো তাই বলা হলো (জাগতিক অর্থে)। নবুয়তে নবী-রাছুল মানেই বেলায়েতে ওলী-আউলিয়া-উনাদের প্রায় পনের আনাই তো বাবরী বা লম্বা চুলের অধিকারী। তবে তারাও কি মেয়ে নাকি ? তবে হ্যাঁ, এ কথা সত্য যে, যারা লম্বা চুল বা বাবরী চুল দেখলে পীর, ফকির-দরবেশ বা তাদের অনুসারীগণকে ব্যাঙ্গ-বিদ্রুপ করে মেয়ে বলে সম্ভোধন করছে মূলতঃ তারাই হলো মেয়ে, এ কথা একশত ভাগ সত্য এবং এ ধরনের মেয়ে/নারীগণ কখনো বেহেশতে যাবে না। এ ধরনের অজ্ঞ-মূর্খদের বুঝাতে যাওয়া আর ছাগলের কানে মন্ত্র পড়া একই কথা। ওলী-আউলিয়া বা পীর-ফকির, দরবেশদের মাথায় লম্বা কেশ/চুল-গোঁফ তো নবুয়তের যুগের নবী-রাছুলদেরই সুন্নত অনুসরণ-অনুকরণ। যদি কোনো লোক ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ, হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে, ঘৃণার দৃষ্টিতে বা অবজ্ঞা করে পীর-ফকির বা ওলী আউলিয়া, দরবেশদের লম্বা চুল-গোঁফের সমালোচনা করে তবে তো প্রকারান্তরে রাছুলপাক (সাঃ)-এরই সমালোচনা করা হলো। যারা রাছুলপাক (সাঃ)-এর সমালোচনা করে তারা সর্বসম্মতভাবে কাফের (ফতোয়ায়ে রহমানিয়া, মমতাজুল ফাতাওয়া)।

হযরত ইবনে ওমর (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, নবী করিম (সাঃ) আঠাল জিনিস দ্বারা মাথার চুল জড় করেছিলেন (এহরাম অবস্থায়, এ সময় চুলে চিরুনী করা নিষেধ তাই) তার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে রাছুলপাক (সাঃ) চুল মোবারক বাবরী ছিল (মেশকাত ৫ম খন্ড, ২৪৩৩ নম্বর হাদিস, আবু দাউদ)। হযরত আবু আইয়ুব আনসারী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, নবী করিম (সাঃ) এহ্রাম অবস্থায় আপন মাথা ধুইতেন (মেশকাত-২৫৬৫ নম্বর হাদিস, বোখারী, মুসলিমের সূত্রে)। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নবী করিম (সাঃ) মাথায় বাবরী চুল রাখতেন (মেশকাত-৩৪১ পৃষ্ঠা)।

হযরত আবু কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, একদা তিনি রাছুলুল্লাহ (সাঃ)-কে বললেন, জনাব ! আমার চুল ঘাড় পর্যন্ত পৌঁছেছে। সুতরাং আমি কি উহাকে আঁচড়িয়ে রাখতে পারি ? তিনি, বললেন, হ্যাঁ, এবং উহাকে যত্নে রাখো। (মেশকাত-৪২৮৩ নম্বর হাদিস)।

হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন – আমার মাথার সম্মুখ ভাগে এক গুচ্ছ লম্বা চুল ছিল। আমার আম্মা আমাকে বললেন, আমি উহা কাটিব না। কেননা, রাছুলুল্লাহ (সাঃ) কখনো কখনো উহাকে ধরে সোজা করতেন (মেশকাত-৪২৬২ নম্বর হাদিস, আবু দাউদ)। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, রাছুলুল্লাহ (সাঃ) বলছেন, যে ব্যক্তির (বাবরী) আছে, সে যেন উহাকে যতেœ রাখে। (মেশকাত-৪২৫২ নম্বর হাদিস, আবু দাউদ)।

হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন – আমি ও রাছুলুল্লাহ (সাঃ) একই পাত্র হতে গোসল করলাম। তখন হুজুর (সাঃ)-এর মাথার চুল জুম্মার উপরে এবং ওয়াফ্রার নীচে ছিল। এ হাদিসটি তিরমিযীর বর্ণিত এবং মেশকাতের ৪২৬০ নম্বর হাদিস। এ হাদিসটি ইমাম তিরমিযি তাঁর “শামায়েলুন তিরমিযীতে” ২৪ নম্বর হাদিসে তুলে ধরেছেন। এবং ‘শরহুস সুন্নাহ’তে ৩১৩৭ নম্বর হাদিসে বর্ণিত আছে। হযরত আয়েশা (রাঃ) বর্ণিত হাদিসটিকে আবু ঈসা উল্লেখিত সনদ সূত্রে হাসান সহীহ গরীব বলেছেন। উল্লেখিত হাদিসটি আরো কয়েকটি সূত্রে আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে। তবে তাতে তাঁর বাবরি চুল কাঁধের উপরে কিন্তু কানের লতির নিচ পর্যন্ত লম্বা ছিল কথাটুকু উল্লেখ নেই। (শেষের অংশটুকু আবদুর রহমান ইবনু আবুয্ যিনাদ তাঁর বর্ণনায় উল্লেখ করেছেন)। তিনি একজন সিকাহ (আস্থাভাজন) বর্ণনাকারী এবং হাদিসের হাফিজ ছিলেন। মালিক ইবনু আনাস (রাঃ) তাকে সিকাহ বলেছেন এবং তাঁর নিকট হতে হাদিস লিখার নির্দেশ দিতেন (সহীহ ইবনে মাজাহ-৬০৪, ৩৬৩৫)।

হযরত বারাআ ইবনে আযেব (রাঃ) বর্ণনা করেন, নবী করিম (সাঃ) মধ্যাঙ্গী ছিলেন। তাঁর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান প্রশস্ত ছিল। তাঁর মাথার কেশ কানের লতি পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল (২৫ নম্বর হাদিস, অধ্যায় সংখ্যা ৩)। এ হাদিসটি সহীহ মুসলিম-৬২১০, আবু দাউদ ৪০৭৪, নাসাঈ-৫২৩২, মুসনাদে আহামদ-১৮৪৯৬, সহীহ ইবনে হিব্বান- ৬২৮৪ নম্বরে বর্ণিত আছে।

সহীহ মুসলিমে (ইফাঃ) আমর আন-নাকিদ ও আবু কুরায়ব (রহঃ) বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, বাবরী চুলধারী, লাল পোশাক পরিহিত কোনো লোককে আমি রাছুলুল্লাহ (সাঃ)-এর চেয়ে সুন্দর দেখিনি। তাঁর চুল কাঁধ স্পর্শ করতো। উভয় কাঁধের মধ্যে দূরত্ব ছিল। তিনি লম্বাও ছিলেন না, বেঁটেও ছিলেন না (হাদিস নম্বর-৫৮৫৬)।
সহীহ বোখারী (তাওহীদ), অধ্যায় – ৬১/মর্যাদা ও বৈশিষ্ট্য। হাদিস নম্বর ৩৫৫১। তাতে অতিরিক্ত বর্ণিত আছে যে, বারাআ ইবনে আযেব বলেন, ‘আমি তাকে লাল ডোরাকাটা জোড় চাদর পড়া অবস্থায় দেখেছি। তাঁর চেয়ে বেশী সুন্দর আমি কখনো কাউকে দেখিনি।’

আল মাদানী প্রকাশনী হতে প্রকাশিত সহীহ ইবনে মাজাহ-৩৫৯৯, তিরমিযী-১৭২৪, সুনান তিরমিযী-১৭৩০ নম্বর হাদিসে মাহমুদ ইবনু গায়লান (রহঃ) বারাআ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি বলেন, লাল (জুড়িদার) পোশাক পরিহিত কাঁধ পর্যন্ত চুলে অধিকারী কোনো ব্যক্তিকে রাছুলুল্লাহ (সাঃ) অপেক্ষা সুন্দর দেখিনি। তাঁর চুল কাঁধে এসে পড়তো। তাঁর দু’কাঁধের মধ্যবর্তী স্থান ছিল প্রশস্ত। তিনি খর্বাকৃতির ছিলেন না আবার দীর্ঘাঙ্গীও ছিলেন না। এ হাদিসটি জাবির ইবনে সামুরা, আবু রিমছা ও আবু জুহায়েব (রাঃ) থেকেও বর্ণিত হয়েছে। ইমাম আবু ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদিসটি হাসান সহীহ। সুনান আত্ তিরমিযীর ১৭২৪ নম্বর হাদিসের বর্ণনায় রয়েছে, “লাল জামা পড়ে থাকাবস্থায় রাছুলুল্লাহ (সাঃ)-এর চেয়ে কোনো বাবরী চুলবিশিষ্ট সুন্দর মানুষ দেখিনি।”

একই হাদিস আধুনিক প্রকাশণীর বোখারী-৩২৮৭, ইফাঃ-৩২৯৬ নম্বর হাদিসে বর্ণিত আছে।

ওহাবীদের নেতা মৌলবী আশরাফ আলী থানবী তার ‘বেহেশতী জেওর’ কিতাবের ২৪৬ পৃষ্ঠায় বলেছেন, “যদি কেহ মাথার চুল কান পর্যন্ত বা কাঁধ পর্যন্ত লম্বা করে রাখে, তবে তাও জায়েজ আছে। তিনি লম্বা চুলকে সুন্নত হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

৩। জুম্মাহ – জুম্মাহ চুলের কোনো হদ/সীমা রাখা হয়নি। কাঁধ অতিক্রম করে অধিক লম্বা চুলকে ‘জুম্মাহ’ বলে। বহু নবী-রাছুল এবং ওলী-আউলিয়াদের সুন্নত ইহা। ইতিহাসে দেখা যায় কোনো কোনো সাহাবা বা ওলীদের চুল হাটুর নিচেও চলে যেতো। তার বহু নজীর ইতিহাসে রয়েছে।

বাবরী চুল রাখার বিধান ও বাবরী চুল প্রসঙ্গে আলাপ
হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী

সাবস্ক্রাইব করুন
ফেসবুক পেজ
ইউটিউব
হোয়াটসএপ গ্রুপ
টেলিগ্রাম গ্রুপ