লেখক – কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী
আল হাক্কু মুররুন অর্থাৎ সত্য বড় তিতা হয়। তাইতো সত্য আছে রূপক-প্রতীকের (মুতাশাবেহাতের) আড়ালে। জ্ঞানীগণ রূপক প্রতীকের আড়ালে স্থিত সেই চিরন্তন-শ্বাশত দ্ব্যর্থবিহীন সত্যকে বুঝতে পারেন বিধায় তারা জাতি-গোত্রের ভেদাভেদের বাহিরে অবস্থান করেন এবং তারা হলেন পতিত মানুষের পথপ্রদর্শক। সেই সত্যকে সত্যের পথিক বা সত্যনিষ্ঠ ব্যাক্তি ছাড়া কেউ ধারণ করতে পারে না। সেজন্যই সাধারন মানুষের নিকট রূপক প্রতীকের উপস্থাপন। জ্ঞানীগণ সেই রূপক প্রতীকের সমুজ্জল (মুহকামাত) যা দ্ব্যর্থবিহীন তার ভেদ বুঝেন। সাধারন মানুষ তাইতো জ্ঞানীর সঙ্গ না নিলে, কখনো সেই রূপক প্রতীকের দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে তা কখনো জানতে পারে না। এই জ্ঞানীরাই হলেন মানব মুক্তির দিশারী তথা গুরু বা মুর্শিদ। মানুষ ধর্মজ্ঞানহীন এবং পথভ্রষ্ট হয় যখন কোরানের মোতাশাবেহাতকে তথা রূপক প্রতীককেই ধর্মজ্ঞান মনে করে তথা রূপক প্রতীকের অর্থ করে- যা কোরানে নিষেধ করা হয়েছে।
কোরানের সমস্ত কালাম আছে রূপক প্রতীকের আড়ালে। সেই রুপক প্রতীকের আড়ালে লুক্বায়িত চিরসত্য দ্ব্যর্থবিহীন জ্ঞানময় কালামকে না বুঝে শুধু রূপক প্রতীকের অর্থ করে আলেম মোল্লাগণ সাধারন মানুষকে পথভ্রষ্ট করে চলছে। তারই একটি চিরন্তন শ্বাশত চিরবর্তমান ঘটনা হলো আদমকে সেজদা করা। সাধারন লোকগুলো এর শুধু মোতাশাবেহাতটিই জানে, এর মুহকামাত তথা হাকিকত সম্পর্কে সম্পূর্ণ বেখবর বিধায় অখন্ডে প্রবাহিত চিরন্তন শ্বাশত বর্তমান ঘটনাটিকে অধিকাংশই অতীত কালের ঘটনা বলে জানে, মানে এবং তাই প্রচার করে। ইহাই অজ্ঞতা-মুর্খতা।
আদম কাবায় সেজদা না করে ইবলিশ কাফের হলো। ইবলিশ আল্লাহর সাথে প্রতিজ্ঞা করলো যে পথে আমি পথভ্রষ্ট হলাম (মানে আদম কাবায় সেজদা না করে) বা কাফের বা লানত পেয়ে জান্নাত থেকে বের হলাম আমি তোমার আওলাদে আদমকেও সে পথে পথভ্রষ্ট করবো। আল্লাহ বললেন, তুমি পারবে তবে যারা আমার বান্দা তাদেরকে তুমি কিছুই করতে পারবে না। ইবলিশ কিভাবে পথভ্রষ্ট হলো? সে আদম কাবায় বা মুর্শিদ কাবায় সেজদা করে নি। কিন্তু সে বিমূর্ত আল্লাহকে মানে, সেজদা করে, রাছুল স্বীকার করে, ইহকাল বা পরকালও স্বীকার করে, জান্নাত জাহান্নাম সবই স্বীকার করে এবং আল্লাহর বন্দেগীও বেশি বেশি করছে। আল্লাহর মূর্তরূপ বা আদম কাবায় বা মুর্শিদ কাবায় সে সেজদা করতে রাজি নয় বিধায় আল্লাহপাক তাকে লানত দিয়ে বা ওয়া কানা মিনাল কাফেরীন ঘোষনা দিয়ে তার সমস্ত ইবাদতের ফল অসার ঘোষণা করে দিয়ে জান্নাত থেকে বের করে দিলেন।
আদমের দুটি অবস্থা। একটি জান্নাতে অপরটি দুনিয়ার জীবন। দুনিয়ার জীবনে তিনি পাক পাঞ্জাতনের উছিলা ধরে তওবা করে মুক্তি পেলেন এবং তিনি নবী ও রাছুল হলেন। এই আদমই পতিত মানব জাতির পথপ্রদর্শক বা মুর্শিদ। কাজেই এখন যারা আদম কাবায় বা মুর্শিদ কাবায় সেজদা করা মানে না বা শেরেক বলে চিৎকার করে তারা ইবলিশের বান্দা। ইহাই কুরআনের হুকুম বা বিধান। আদম আল্লাহর প্রতিভূ বা স্থলাভিষিক্ত এবং আদম আল্লাহর সুরতে গঠন এবং আদম বর্তমান। আল্লাহ শুধু নূর, বিমূর্ত নূর, মেছালবিহীন নূর।এ নূর দর্শনযোগ্য নয়। আল্লাহপাক ই আবার তার নূরের মেছাল দিয়েছেন তাকে দেখার জন্য ‘মাছালু নূরীহি কামিশকাতিন ফিহা মিজবাহুন’ বলে। ঐ বিমূর্ত নূরের মেছালই হলো আদম। আল্লাহ প্রয়োগহীন এবং তার প্রায়োগিক অবস্থাই হলো আদম।
কাজেই আদম কাবায় বা মুর্শিদ কাবায় আল্লাহকে দর্শন করতে হবে এবং এখানে সেজদা দিলেই আল্লাহপাক সেজদা পাবেন এবং খুশি হবেন। এই আদম কাবাই হলো ঈমানদারের কাবা কেবলা তথা দিক, যার অভিমুখে আল্লাহকে সেজদা করবে। ইহারই প্রতীক স্বরুপ আরবে পাথরের তৈরী কাবা ঘরকে কেবলা করে আল্লাহ কে সেজদা দিলে তা শরিয়তেই গ্রহনযোগ্য বা স্বীকৃত। হাদিস কুদসী হতে জানা যায়, আল্লাহপাক বলেন, “ইন্নাল্লাহা খালাকা আদামা আলা ছুরাতিহী” অর্থাৎ নিশ্চয়ই আল্লাহপাক আদমকে সৃষ্টি করেছেন আপন সুরতের উপরে। সৃষ্টি মানে অবিকল প্রকাশ বা আসলেরই প্রকাশ। এই মানুষের মাঝেই আল্লাহ তাঁর বিমূর্ত নূর মূর্তরূপে প্রত্যক্ষ করে নবুয়ত খতম ঘোষণা করলেন।
যেখানে আল্লাহর নবুয়ত সেখানেই আছে আল্লাহর সুরত। আল্লাহপাক তাঁর স্বীয় সিরাত হতে আদমের সুরত প্রকাশ করলেন বিধায় আদম সুরতেই আল্লাহকে ঈমানদারগণ দর্শন করছেন এবং আল্লাহপাককে দর্শন করে বা নিরিখ করে নূরী কাবা বা আদম কাবার মাধ্যমে আল্লাহকেই সেজদা করে চলেছেন। আল্লাহ ছাড়া অন্য কেহ সেজদা পাবে না। তবে আল্লাহর বিমূর্ত রূপে নয়, সেজদা হবে তাঁর মূর্ত রূপে- ইহাই হলো সেরাতুল মুস্তাকিম। কিন্তু ইবলিশ তার প্রতিজ্ঞানুযায়ী মানুষকে পথভ্রষ্ট করবে তাই সেরাতুল মুস্তাকিমের মাঝে তথা নূরী কাবায় আল্লাহর ছুরতের নিরিখ প্রতিষ্ঠিত হতে দিবে না।
যদিও ইবলিশ দ্বারা ইহা একটি পরিক্ষা, কারা আদম কাবায় সেজদা করে বা করে না। যারা আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করছে তারা আল্লাহর বান্দা, তাদের সেজদা কবুল হচ্ছে। আর যারা সেজদা করছে না তারা শয়তানের বান্দা বা অনুসারী, তাদের কোনো বন্দেগী কবুল হচ্ছে না; বরং গলায় পড়ছে লানতের মালা। ইবলিশের এই প্রতিজ্ঞার ফাঁদে পড়েছে পৃথীবির চৌদ্দ আনা মানুষই। বলা যায়, এই পৃথিবীতে ইবলিশেরই এক প্রকার রাজত্ব চলছে এবং ইবলিশ মানবজাতির অধিকাংশকে অচেতন করে রেখেছে। বিধায় তারা বুঝতেই পারছে না যে, তারা ইবলিশ দ্বারা আক্রান্ত হয়ে ভুল পথে আছে। তারা ভাবছে ঠিক পথেই আছে, যেমন ভেবেছিলো ইবলিশ যে আমিই আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা না করে একমাত্র আল্লাহকেই (বিমূর্ত আল্লাহকে সেজদা করে) সঠিক পথে আছি! এই শ্রেণীর উপাসকগণের উপাসনার ধারাটি হলো, তারা শুধু আনুষ্ঠানিকতাকেই একমাত্র ইবাদত মনে করে। যেমন, ওয়াক্তিয়া নামাজ, রোজা, হজ্ব, যাকাত ইত্যাদিই একমাত্র ইবাদত! আসলে এ সমস্তই হলো আসলের প্রতীক, উপমা বা মেছাল তথা মুতাশাবেহাত তথা খন্ড কালের ইবাদত, অখন্ড কালের নয়।
এ সমস্ত ইবাদত সময়ের দুই স্তর অতিক্রম করতে পারে না। মানুষের ইবাদত হলো খন্ড কালের ইবাদত হতে অখন্ড কালে স্থিতি লাভ করা তথা দায়েমীতে কায়েম হয়ে যাওয়া তথা নিজেই নামাজ-রোজা হয়ে যাওয়া এবং এবং নিজের নামাজকে হেফাজত করা। মানুষ ইবাদত করবে কার এবং কোথায়? আল্লাহ মানুষে(অহুয়া মায়াকুম আইনামা কুনতুম; ওয়া নাহনু আকরাবু ইলাইহি মিন হাবলিল ওরিদ)। কাজেই মানুষ নিজের মধ্যে নিজের আল্লাহকে চিনে নিজের মধ্যেই তাঁর ইবাদত করবে। এজন্য দেখা যায় নামাজ আদায় করার প্রথমে সেজদার জায়গায় লক্ষ্য, তারপর রুকুতে পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলে, সেজদায় নাকের মাথায় এবং তাশাহুদ পাঠ করার সময় ক্বালবের দিকে লক্ষ্য করতে হয় মানে নামাজ মানুষ নিজেই।
এজন্যই আদম কাবায় আল্লাহ আছেন। এই কাবা পাঁচ নূরের তৈরী তথা আদমই হলো নূর আল্লাহ। বিমূর্তের মূর্ত আল্লাহ তথা লাছানির ছানি আল্লাহ তথা বেমেছালের মেছাল আল্লাহ (মাছালু নূরীহি… মিছবাহুন)। তথা নূর আল্লাহ তথা আদমকে সেজদা না করে ইবলিশ পথভ্রষ্ট হলো । আর এখন পনের আনা মানুষকে যেভাবে পথভ্রষ্ট করে চলেছে এবং আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা না করার জন্য শত-সহস্র মত, যুক্তি, বুদ্ধি, ফতোয়া সে তুলে ধরছে! কোথা তে এবং কেমন করে সে এ সমস্ত বিষয়গুলো তুলে ধরছে? তার অবস্থান এই মানুষেরই অন্তর জগতে ছুদুর নামক স্থানে (অছওয়াছিল খান্নাছ)। শেরেকির পচা-দূর্গন্ধটিও এখানে আছে বলে ফতোয়ার ডিগবাজী খেলছে, সেই সঙ্গে জাহান্নামে যাবার প্রচন্ড ভয়টিও দেখাচ্ছে। আর অন্ধ মূর্খ নাদানেরা সেই ফাঁদে পড়ে তাদের অজান্তেই পথভ্রষ্ট হচ্ছে এবং পথভ্রষ্ট করার শিক্ষার জন্য হাজার হাজার আরবী পাঠশালাও খুলেছে।
আল্লাহকে ছাড়া সেজদা দেয়া হারাম এটা সত্য, তবে তা হবে মুর্শিদ বা আদম কাবাকে অভিমুখ করে। যেমন, আরবে পাথরের কাবাকে অভিমুখ করে সেজদা করা হয়। মক্কার কাবা ঘর হলো হাকিকি কাবারই প্রতীক। আল্লাহপাকের মূল সিফাতের মারেফত হলেই চিনা যাবে আল্লাহর সুরতেই আদম বা মানুষ সৃষ্টি। এই ইলমে মারেফত দ্বারা চক্ষু খুলে যাবে এবং দিব্যদৃষ্টি অর্জন হবে। কাজেই আল্লাহর চোখ দ্বারাই আল্লাহকে দেখতে হবে, শুধু মানবীয় চোখে তাকে দেখা যাবে না (লা তুদরিকুল আবছারু)। আল্লাহপাক জানাচ্ছেন, হে রাছুল, আমার বান্দারা জিজ্ঞেস করবে আল্লাহ কোথায়? আপনি বলে দেন, আল্লাহ তোমার কাছেই আছে। আরও পরিষ্কার করে বলছেন, আল্লাহ তোমার সাথেই আছেন। তাহলে অনুমান কল্পনায় বিমূর্ত আল্লাহকে আসমানে সাব্যস্ত করা কুফরী।
আল্লাহকে সৃষ্টি থেকে কোথায় আলাদা স্যাব্যস্ত করা যাবে না, করলে তা হবে শেরেকি। ইবলিশ ই প্রথম এই শেরেকি টা করছে আর করছে তার অনুসারীরা তথা যারা ইবলিশের মতবাদে আক্রান্ত হয়ে আছে তথা নফসে আম্মারার গুণ খাছিয়তে আবৃত হয়ে আছে। এই পথে এবং মতে ইবলিশ অধিকাংশকেই পথভ্রষ্ট করতে পারছে (সুরা আনআম – ১১৬)। আল্লাহ আমার সাথেই আছেন, এর ভেদ রহস্য একমাত্র মানুষই বুঝতে পারে এবং তাকে দেখতে পায়। মানুষেরই এক নাম হলো মুহাম্মদ আর মুহাম্মদ হলো আল্লাহ মোজহার তথা মুহাম্মদ সৃষ্টি হলো আল্লাহর চেহারার নূর হতে। সেজন্য বলা হয়েছে, খালাকতু মুহাম্মাদান মিন নুরে ওয়াজহি। অর্থাৎ আমার চেহারার নূর হতে মোহাম্মদকে সৃষ্টি করেছি। অন্ধ-মূর্খ-নাদানেরা এ হাদিসের হাকিকত বুঝতে না পেরে মিথ্যা বা জাল হাদিস বলে প্রচার করছে। জানা প্রয়োজন যে, আল্লাহ এবং তাঁর হাবিব মুহাম্মদ একই নূর।
হাদিস কুদসীতে বলা হচ্ছে, আনা মিন নূরীল্লাহ ওয়াল খালকু কুল্লিহিম মিন নূরীহি। অর্থাৎ আমি আল্লাহর নূর হতে এবং সমস্ত সৃষ্টি আমার নূর হতে। এর মানে সমস্ত সৃষ্টিই হলো নূরে মোহাম্মদীর ঝরণার প্রবাহিত রূপ তথা কুললানা মুহাম্মদ। তার মধ্যে মানুষ মুহাম্মদ সৃষ্টির বিশেষ বৈশিষ্টের অধিকারী। এ মুহাম্মদই নবুয়ত লাভ করেছে তথা বিশ্ব ব্রহ্মান্ডময় সুরের ভাবমর্ম মুহাম্মদের জলিতে এসে সুরা কালামে কোরান স্বরূপ জহুর হচ্ছে। ঈমানদারগণ তথা মুহাম্মদের অনুসারীগণ মুহাম্মদ হতে আল্লাহর কালাম শ্রবণ করে ইনছানে পরিণত হচ্ছে। কিসসা কোরানের তার দলিল হলো, আর রহমান।আল্লামাল কোরআন।খালাকাল ইনছান। অর্থাৎ রহমান। তিনি কোরান শিক্ষা দেন। সৃষ্টি করেন ইনছান। এই কোরান হলো আরবী কোরান, কিচ্ছা কোরান নয়।
কিচ্ছা কোরান আসমানী কোরান নয়, আসমানী কোরান হলো আরবী কোরান। আরবী কেরান হলো ইনছান কোরান। ইনছানের বুনিয়াদ হলো ইনছাফ আর ইনছানের পবিত্র গুণ খাছিয়ত হলো ইনছানিয়াত- যা জাতপাক আল্লাহর পবিত্র সিফাত। কিচ্ছা কোরানে তাই বলা হয়েছে, ফিতরাতাল্লাহিল্লাতি ফাতারান নাসা আলাইহা। অর্থাৎ আল্লাহ যেই প্রকৃতির ওপর মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, তাহাই তো তাদের জন্য আল্লাহর প্রকৃতি বা ফেতরাত। বিশ্বাস ভক্তি যোগে আল্লাহর কালাম শ্রবণে পর্দাবৃত মানুষ পর্দামুক্ত হয়ে ইনছান রূপে গড়ে ওঠে। এটা একমাত্র তাদের দ্বারাই সম্ভব যারা আল্লাহর কালামকে আল্লাহর নিকট হতে শ্রবণ করে নেয়। যিনি এই কালাম প্রকাশ করেন তিনি রহমান, আল্লাহর মূর্তরূপ তথা গুরু তথা আদম বা মুর্শিদ। তুমি জেনে রাখো এবং জানো যে, আল্লাহ নিজেই হলো কালাম। তবে মতলেক কালাম, সেই কালাম আদমে বা তাঁর খলিফার মাধ্যমে নাতেক হচ্ছে। আল্লাহপাক ছাড়া কেহ কোরান শিক্ষা দিতে পারে না।
যারা বলছে আমরা কোরান শিক্ষা দেই তারা কুফরি করছে। ঈমানদারগণ সেই কালাম আল্লাহর কালাম বলে শনাক্ত করে এবং তা শ্রবন করে হেদায়াত প্রাপ্ত হচ্ছে। যারা কিচ্ছা কোরান শ্রবণ বা পাঠ করছে তারা অন্ধ অনুমানেই থেকে যাচ্ছে এবং পথহারা হচ্ছে। তবে কিচ্ছা কোরানের ভেদ যারা আরবী কোরান থেকে বুঝে এবং চিনে নিচ্ছে তারা অনুমান কল্পনার বৃত্ত হতে বের হয়ে বাস্তবে বর্তমান খোদা দর্শন করে পথ প্রাপ্ত হচ্ছে । মারেফাত মানে বাস্তবতা। অনুমান কল্পনা হতে বের হয়ে চিরবর্তমানে কায়েম হয়ে যাওয়া।
যেমন, মাওলানা রুমী, তিনি কিচ্ছা কোরানের ভেদ তাঁর মুর্শিদ শামস তাবরীজের নিকট যখন চিনে নিয়েছেন তখন দ্ব্যার্থহীনভাবে ঘোষণা করলেন, ‘হাম জেকোরা মগজে রাবার দাস্তা, উস্তে খাঁ পেশে ছাগা আন দাখতাম’ অর্থাৎ আমি কোরানের মগজ উঠিয়ে নিয়েছি (আরবী কোরান চিনে নিয়েছি তথা কোরানের মুহকামাত বুঝে নিয়েছি তথা কোরানের বাস্তবতা চিনে নিয়েছি)। আর অস্তি চর্ম শৃগাল কুকুরের জন্য রেখে দিয়েছি। (যারা কোরানের মুহকামাত বুঝেনি তথা কিচ্ছা কোরানকেই আসল কোরান বুঝেছে তাদেরকে তিনি কুকুর সম্বোধন করেছেন)। যারা কোরানের মুহকামাত বুঝে নিজের মধ্যেই খোদাকে শনাক্ত করেছেন তথা চিনে নিয়েছেন তারাই হচ্ছেন পর্দামুক্ত মানুষ তথা আল্লাহর বান্দা তথা আবদুহু ওয়া রাছলুহু। এরা বহু হয়েও এক এবং আল্লাহর সাক্ষী তথা নূর আল্লাহ ।
এরাই হলো রব রহমান, যারা ঈমান এনেছে তাদের কাবা-কেবলা তথা লক্ষ্যস্থল তথা দিক। এই কাবাতে তাওয়াফ করে খোদার পরিচয় নিতে হবে তথা খোদাকে শনাক্ত করতে হবে। এই আল্লাহর ঘর কাবাতে যারা সেজদা করেনা তারাই হলো লানত প্রাপ্ত এবং কাফের তথা পর্দাবৃত। খফি মুহাম্মদরে ঘর এই মানব দেহ, এই ঘরের মধ্যে আরো চারজন – আলী, ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন; এরাই হলো ঘরের অধিবাসী তথা আহলে বাইয়্যেত। আর মুহাম্মদ (সা) কে নিয়ে হলো পাকপাঞ্জাতন (কোরান)। এই পাকপাঞ্জাতন কে? আল্লাহর হাস্তি হলো পাকপাঞ্জাতন আর পাকপাঞ্জাতনের নাস্তি হলো আল্লাহ। এখানে তিনি ‘আমরা’ বলে কোরানে জানাচ্ছেন (ওয়া নাহনু আকরাবু ইলাইহি মিন হাবলিল ওরিদ)।
এই পাকপাঞ্জাতনের পাঁচ অজুদ নিয়ে মানব দেহই হলো একত্বের নিদর্শন। এখানেই খোদা ধরা দিলেন আর জ্ঞানীগণ চিনে নিলেন তাদের খোদাকে, বের হয়ে আসলেন অনুমান কল্পনায় খোদা বিশ্বাস হতে, চলে আসলেন আয়নাল ইয়াকিনে। দেখতে পেলেন আল্লাহ আর খোদা প্রভেদ হয়েও অভেদ হয়ে আছে মানব রূপে এসে। আরো চিনতে পেলেন আল্লাহ আলিফ লাম লাম হা এই চার অক্ষর নিয়ে মানুষের সাথে মিশে আছেন তথা মুহিত হয়ে আছেন (আলা কুল্লে শাইয়্যিম মুহিত)। এখান থেকেই আল্লাহপাকের জ্যোতির প্রকাশ ঘটছে (সুরা নূর ৩৫ নং আয়াত)। বে-মেছাল নূর তাঁর নূরের মেছাল দিলেন (মাছালু নূরীহি), দরশন যোগ্য করলেন এবং তাতে তাঁর নূরের প্রকাশ ঘটাচ্ছেন, ঈমানদারগণ চিনে নিলো এবং দেখে নিলো তাঁর খোদাকে। বললো, আমি একমাত্র আল্লাহর ই ইবাদত করি এবং তাঁরই সাহায্য চাই। (ইয়্যাকা নাবুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাইন)। ‘আরশে আলা’ তে খোদার ধ্যানে দিদারে ঈমানদারগণ কায়েম হলো তথা সেরাতুল মুস্তাকিমে কায়েম হয়ে গেলো।
সমস্ত মহাপুরুষগণ এ সিরাতুল মুস্তাকিমেই প্রতিষ্ঠিত আছে। এখানে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য ঈমানদারগণের প্রার্থনা। মুমিনের ক্বলব আল্লাহর সিংহাসন, এ ক্বালব বুকের মাঝে নয়। ক্বলব তিনটি পর্যায়ে রয়েছে – যা তিন আরশ বলে সাব্যস্ত রয়েছে। এ তিন আরশে একেরই তিন রূপ -মুহাম্মদ, রাছুল, আল্লাহ।
জানা দরকার, মানুষ যখন সিবগাতাল্লায় সিক্ত হয় তখনই হয় আরশুল্লাহ। যখন আমানু বা মুরিদগণ একা হয়ে আল্লাহকে ডাকে বা ডাকার জন্য সাধনা করে তখন সাথে সাথেই আল্লাহপাক তাঁর ডাকের সাড়া দেন এবং ঐ বান্দার ক্বলবে সেরাতুল মুস্তাকিম কায়েম হয়ে যায়। এই অবস্থায় দুই আকৃতিই এক দৃষ্ট হয় তথা ওয়াজেব এমকান এক হয়ে যায় এবং প্রকাশ পায় অজহুল্লাহ। সেই আমিকে এই আমিতে দৃষ্ট হয় তথা আমিকে ফিরে পেলাম তথা তাতে ঈদ পূর্ণমিলন হলো।
জ্ঞানীগণ চিনে নিলো এইতো আমার আল্লাহ। জ্ঞানীগণ আল্লাহকে চিহ্নিত করে তথা শনাক্ত করে শবে মেরাজ আদায় করে নিলেন আর এটাও বুঝে নিলেন যে, বিশ্ব ব্রহ্মান্ডে এক আল্লাহ ছাড়া আর কিছু নেই। জাত জুলমাত বেমেছাল তথা তনজিয়া এখানে তিনি বিমূর্ত। বিমূর্তের মূর্ত তথা তসবিয়া সিফাতে তিনি দৃশ্যমান, এখানে তাঁর ছুরত আছে, তিনি মূর্তমান হয় আছেন।
দিব্যদৃষ্টি যাদের আছে তারাই সেই রূপ চিনেন এবং দেখেন। কোরানে আল্লাহ বলেন, ‘হে মুহাম্মদ, আমার বান্দারা জিজ্ঞেস করবে আল্লাহ কোথায়? আপনি বলে দেন, তিনি নিকটেই আছেন।’ তিনি এতো নিকটে যে, তাঁর অস্তিত্ব ছাড়া আর কিছু দৃশ্যমান নেই। অস্তিত্বের প্রকাশের তীব্রতার আড়ালে তিনি অবস্থান করছেন।
মানবীয় দৃষ্টির বাহিরে তাঁর অবস্থান, অথচ এক সাথেই একাকার হয়েই তিনি অবস্থান করছেন। এজন্যই বলা হচ্ছে, লা তুদরিকুল আবছারু। কিন্তু আল্লাহ প্রদত্ত জ্ঞানে জ্ঞানীগণ তাকে চিনেন এবং দেখেন। কারণ তিনি বলেছেন, ফালানাকুচ্ছানা বেইলমিউ, ওয়ামা কুননা গায়িবিন। অর্থাৎ আমি জ্ঞান সহ প্রমাণ করবো যে, আমি অদৃশ্য ছিলাম না। সুরা হাদীদের ৩ নাম্বার আয়াতে আল্লাহর চারটি আকছাম তুলে ধরা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হলো হুয়ায জাহিরু। আ কালামগুলোর ভেদ রহস্য আছে আল্লাহ প্রদত্ত ইলেমের ভিতর, আর আল্লাহ নিজেই হলেন আলীমুন। এদিকে লক্ষ্য করেই কোরানে বলা হচ্ছে, আল্লাহ যাকে জ্ঞান দান করেন সেই জ্ঞান পায়, যাকে জ্ঞান দান করেন না, সে জ্ঞান পায় না। এ জ্ঞান অবশ্যই জাহিরী বিদ্যা বা ইলমুল কালাম তথা ইলমুল লেছানী নয় তথা মানবীয় এলেম নয়। কাজেই যারা বলছে, আমরা জ্ঞান দান করি, এমনটা বলা ঠিক নয়। কারণ, একমাত্র আল্লাহই জ্ঞান দান করেন তথা কোরান শিক্ষা দেন। দেখুন সুরা রহমান। আল্লাহই রহমান হয়ে কোরান শিক্ষা দেন বলে জানিয়েছেন। যেমন, আর রহমান অর্থাৎ তিনিই রহমান। আল্লামাল কোরান অর্থাৎ তিনি শিক্ষা দেন কোরান।
‘কোরান শিক্ষা দেন’ এ কথার মর্মার্থ হলো নিজেকে চেনার জ্ঞান দান করেন তথা রবকে চেনার শিক্ষা দেন। যা কোরান তথা আল্লাহর কালাম ইনছান সৃষ্টি করে তথা ইনছানিয়াত প্রতিষ্ঠিত করে। তাই বলা হচ্ছে, খালাকাল ইনছান। এই ইনছানের ছুরতই হলো আল্লাহর আমানত। আল্লাহর কালাম ছাড়া এই আমানত রক্ষা করা যায় না। আর আমানত রক্ষা না করলে তথা হেফাজত না করলে আসফালাস সাফেলিন হবে এবং তাতে বারবার চামড়া পরিবর্তন হবে তথা ছুরত বদল হয়ে যাবে। যেমন, বলা হচ্ছে, লাওয়াহাতুল্লিল বাশার অর্থাৎ বাশারের পরিবর্তন ঘটবে। এই জন্য বিশ্বাস এবং আদবের মাধ্যমে রহমানের কালাম মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করতে হবে এবং সেই মোতাবেক জীবন গড়তে হবে তথা আমানত হেফাজত করতে হবে।
ঈমানদারগণ রহমান আল্লাহর কালাম শ্রবণ করতে পারেন। এই কালাম শ্রবণে ইনছানে পরিণত হচ্ছেন। প্রচলিত মাদ্রাসার ইলেম তাহা নয় এবং এই কালাম আল্লাহর শ্রবণযোগ্য কালাম নয়। আল্লাহর কালাম শ্রবণের মধ্যেই ঐ কালামের ভেদ রহস্য লুকিয়ে রয়েছ। এই কালাম শ্রবণে দিব্যদৃষ্টি খুলে যাবে তাতে আল্লাহকে চেনা যাবে। একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর কেহই জ্ঞান দান করতে পারেন না। আর আল্লাহপাক যাকে খুশি জ্ঞান দান করেন। কাজেই মাদ্রাসায় ধর্মজ্ঞান দান করা হয়, একথা কুফরী। আর আলেম সমাজ যাকে শরীয়তের ইলেম বলে দাবী করছে, তা আসল নয়। ইহা ধর্মজ্ঞানের রূপক প্রতীক তথা মুতাশাবেহাত বা জাহিরী ইলেম- যাকে কালাম শাস্ত্র বলে। ধর্মজ্ঞান হলো আত্মার জ্ঞান যা রূপকের আড়ালে রয়েছে। রূপকের ভেদ উন্মোচন হলে তবে মিলে ধর্মজ্ঞান। জাহিরী ইলেম যেহেতু রূপক, কাজেই রূপকের আবরণ উন্মোচন হলেই দেখা যাবে শরীয়তি ইলেমের বিপরীত হলো ধর্মজ্ঞান, যা রূপকের আড়ালে রয়েছে।
বোখারীর ১২২ নম্বর হাদিস হতে জানা যায়, হযরত আবু হোরায়রা (রা) বলছেন, আমি রাসুল (সা) হতে দুটি ইলেমের পাত্র লাভ করেছি। তার মধ্যে একটি তোমরা সবাই জানো, অপরটি আমি যদি তোমাদেরকে বলি, তবে তোমরা আমার কন্ঠনালী কেটে ফেলবে। এ জন্যই বলা যায় মাদ্রাসায় যা শিক্ষা দেয় হচ্ছে তা তাশাবাহা বা রূপক। কাজেই রূপক ধর্মজ্ঞান নয়, রয়েছে রূপকের আড়ালে। সুতরাং যাকে বলা হচ্ছে শরীয়তি ইলেম তা এক প্রকার পাগলামী বৈ আর কিছু নয়। আলেম-মোল্লারা কোরান বা ধর্মজ্ঞান শিক্ষা দিচ্ছে তাহা বলা মাত্রই ঠিক নয়। কারণ, আল্লাহ ছাড়া কেউ কোরান বা ধর্মজ্ঞান দান করতে পারে না। সুরা রহমান ই তার প্রমাণ। মাদ্রাসায় শিক্ষা দেয়া হয় ভাষাজ্ঞান, যা ইলমুন কালাম বা কালাম শাস্ত্র। এ বিদ্যা দিয়ে আরবী ভাষার কোরান পড়া যায়, তার আক্ষরিক বিদ্যা শিক্ষা করা যায় তথা রূপক-কাঠামো শিক্ষা করা যায় কিন্তু কোরানের জ্ঞান লাভ করা মোটেও সম্ভব হয় না।
মাদ্রাসার বিদ্যা হলো মোতাশাবেহাত, এর আড়ালে যে চরম সত্য জ্ঞান মুহকামাত রয়েছে তাই হলো কোরান জ্ঞান, যা অর্জন করা প্রত্যেকের জন ফরজ। মাদ্রাসার বিদ্যা দ্বারা শত-সহস্র মতভেদ সৃষ্টি হয়। কারণ, কোরানের জ্ঞান রয়েছে রূপক-প্রতীকের আড়ালে, আর তাশাবাহা (রূপক-প্রতীক) হলো দ্ব্যার্থক, যা বহুমুখী, যা ইলমুল কালামের বিপরীত। আল্লাহপাক যে কোরান শিক্ষা দেন তা হলো ‘ফি কিতাবিম মাকনুন’ তথা যা আছে গোপন গ্রন্থের মধ্যে। সেই কিতাব যাতে রয়েছে রবের রব তথা আরবী কোরান। এ আরবী কোরান আসমান হতে নাযিল হচ্ছে। আল্লাহ শিক্ষা দেন আরবী কোরান। শিক্ষা দেন মানে নিজেকে চিনিয়ে দেন।
কারণ, নিজেকে চিনলেই রব আল্লাহকে চেনা যায়। আল্লাহকে চিনে তাঁর পাক জাতে বাস করাই হলো মানুষের সাধনা বা ইবাদত । কারণ, জিন ইনছানের ইবাদত হলো নিজেকে চেনা। কোরানের লি ইয়াবুদুন কথাটি লি ইয়ারেফুন শব্দ হতে এসেছে। লি ইয়ারেফুন কথাটির অর্থ হলো নিজেকে চেনা। নিজেকে চেনা মানেই হলো আল্লাহকে চেনা। কাজেই আর রহমান অর্থাৎ তিনি রহমান। আল্লামান কোরআন মানে তিনি শিক্ষা দেন (চিনিয়ে দেন) কোরান। খালাকাল ইনছান বা ইনছান সৃষ্টি করেন। মানব মনের হায়ানিয়াত রূপান্তর করে ইনছানিয়াতের ভেতর কায়েম করেন আর তখনই ইনছান সৃষ্টি হয়। ইনছানই আল্লাহকে চিনে এবং আল্লাহর পাক জাতে বাস করে তথা নিজেই আল্লাহ হয়ে যায় তথা আনাল হকে স্থিত হন।
হাদিসে এহসানে বলা হচ্ছে, তোমরা এমন ভাবে ইবাদত করো যেনো আল্লাহকে দেখতে পাচ্ছো। আর যদি আল্লাহকে দেখতে না পাও তবে মনে করো আল্লাহই তোমাদেরকে দেখেন। এই হাদিস হতে জানা যায়, দুই শ্রেণীর উপাসক বর্তমান। এক শ্রেণীর উপাসক আল্লাহকে চিনেন এবং দেখেন। এরা রাসুলের প্রথম নির্দেশের ভেতর আছেন মানে এরা জ্ঞানী সম্প্রদায়। তাদের জন্য বলা হচ্ছে ‘লা ছালাতা ইল্লা বে হুজুরিল ক্বালব’ অর্থাৎ ছালাত নেই আল্লাহকে হাজির নাজির দেখা ব্যাতিত। এরা সংখ্যায় খুবই কম । আর দ্বিতীয় শ্রেণীর উপাসক বা ইবাদতকারী হলো তারা আল্লাহকে দেখে না, তবে আল্লাহই তাদের দেখেন, এই বিশ্বাসে পড়ে আছে। এরা সাধারণ শ্রেণীর মানুষ। এরা অন্ধ-মূর্খ। এই শ্রেণীর উপাসকদের মধ্যে দুটি ধারা।
বৃহৎ দলটি গোঁড়া জঙ্গি-মৌলবাদী। এরাই ধর্মের নামে যতো অন্যায়-অত্যাচার, জোর-জুলুম, মানুষ হত্যা ইত্যাদি করে যাচ্ছে। এই দলটি সর্ব ধর্মের আড়ালেই বাস করছে। এমন কোনো জঘণ্য কাজ নেই যা তারা ধর্মের দোহাই দিয়ে করছে না। তাদের কোনো ধর্ম নেই- এরা ধর্মের হিজাব পড়ে আছে তথা ধর্মের ছদ্মাবরণে বাস করছে। পৃথিবীতে যতো মানুষ মারা গেছে তার অর্ধেকই মারা গেছে ধর্ম নিয়ে দ্বন্দ্ব বিভেদের কারণে। এরা বাস করছে হায়ানিয়াতের ভিতর। পৃথীবি ধ্বংস হবে বনের পশুদের দ্বারা অবশ্যই নয়, ধ্বংস হবে মানব নামক জীবের মনের মধ্যে বাস করা পশুদের দ্বারা। বনের পশুদের আকার আকৃতির সীমা আছে কিন্তু মানব মনে বাস করা পশুদের আকার আকৃতির কোনো সীমা এবং সংখ্যা নেই। এ মানবরূপে বাস করা নরপশুদের দ্বারাই মানব সভ্যতা ধ্বংস হবে। তাদের কোনো ধর্ম নেই পশুত্ব ছাড়া।
আদম কাবায় সেজদা এবং কিছু কথা : আদম কাবা / Adam qaba
লেখক – কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী

