লেখক – মুহাম্মদ কামরুজ্জামান রাজ
আহলুস সুন্নাহর তিনটি স্বীকৃত ধারা হলো: হানবলি আছারি, আশআরী ও মাতুরিদী। এদের মধ্যে মূল আকীদায় ঐক্য রয়েছে। আর ছদ্ম আছারি বা ছদ্ম সালাফি/ওয়াহাবি মতবাদকে ধারার বাইরে মনে করা হয়।
ইমাম ইবন কুদামাহ (রহ.)-এর বক্তব্য :
ইমাম ইবন কুদামাহ আল-হানবলি (রহ.) বলেন:কুরআন ও সহীহ হাদীসে আল্লাহর যে সকল সিফাত এসেছে, সেগুলোর প্রতি ঈমান আনা, সেগুলোকে বিনা আপত্তিতে গ্রহণ করা এবং তা’ওয়ীল, তাশবীহ ও তামসীল থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। আর যেসব সিফাত মানুষের বোধগম্য নয়, সেগুলোর শব্দকে যেমন এসেছে তেমনই মানতে হবে এবং এর প্রকৃত অর্থ আল্লাহর কাছেই সোপর্দ করতে হবে। (লুম’আতুল ই’তিকাদ)
কুরআনের দলীল:
“যারা ইলমে সুদৃঢ়, তারা বলে: আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি; সবই আমাদের রবের পক্ষ থেকে।” (সূরা আলে ইমরান ৩:৭)
১. তাফওয়ীদ কী?
তাফওয়ীদ অর্থ হলো, আল্লাহর সিফাতগুলোকে সত্য বলে বিশ্বাস করা, কিন্তু এর প্রকৃত অর্থ ও বাস্তবতা আল্লাহর কাছেই সোপর্দ করা। যেমন:
1. ওয়াজহ (মুখ)
2. ইয়াদ (হাত)
3. ইস্তিওয়া (আরশে সমুন্নত হওয়া)
এসব আমরা বিশ্বাস করি, কিন্তু এগুলোর প্রকৃত অর্থ কেমন তা জানি না।
২. তা’ওয়ীল কী?
তা’ওয়ীল হলো, প্রয়োজনে এমন ব্যাখ্যা করা যাতে মানুষ আল্লাহকে সৃষ্টির মতো মনে না করে। উদাহরণ:
1. ইয়াদ = ক্ষমতা বা অনুগ্রহ
2. ওয়াজহ = আল্লাহর সত্তা
3. আইন = হেফাজত ও তত্ত্বাবধান
4. ইস্তিওয়া = কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা
আশআরী ও মাতুরিদী আলেমগণ বলেন, বিভ্রান্তি দূর করার প্রয়োজনে এ ধরনের তা’ওয়ীল বৈধ।
ইমাম সুয়ূতী (রহ.) বলেন:তাফওয়ীদ হলো সবচেয়ে নিরাপদ পথ এবং অধিকাংশ সালাফের পদ্ধতি। তা’ওয়ীল প্রয়োজনে বৈধ, বিশেষত যখন মানুষ ভুল অর্থ গ্রহণের আশঙ্কায় পড়ে।
হানবলি আছারি, আশআরী ও মাতুরিদী এই তিন ধারাই আহলুস সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। তাদের মূল বিশ্বাস হলো: আল্লাহ তাআলা সৃষ্টির মতো নন; তাঁর সিফাতগুলো তাঁর শানে উপযুক্ত। আর উম্মাহর সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেম ঐতিহাসিকভাবে আশআরী ও মাতুরিদী ধারার অন্তর্ভুক্ত।
লেখক – মুহাম্মদ কামরুজ্জামান রাজ
রচনা : ১৪/০৯/২০২৬

