পরম প্রভু চিরকালে প্রজ্জলিত সূর্য সম দীপ্তিময়। তাই তার উত্থান পতন বা জন্ম মৃত্যু বলে কিছু নেই। শুধু তিনি তাঁর ভক্তের আহ্বানে / প্রভুপ্রেম এ প্রকট হন মাত্র।
ধর্ম মানেই অটল নিষ্ঠা ভক্তি। যার হৃদয়ে নেই অচলা ভক্তি, সে তো ধর্ম পথের জঞ্জাল ব্যতিত অন্য কিছু নয়। ভক্তি-বিশ্বাস-প্রেম, এ তিনের সমন্বয়েই প্রতিষ্ঠিত হয় ধর্ম।
সুফি সাধনা তথা ধর্মীয় মরমীবাদ বা আধ্যাত্মিকতা তথা সুফিবাদ এর প্রতি আজন্ম দরদ ছিল কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর। সাধু সন্যাসীদের প্রতি ভক্তিভাব ছিল তাঁর ছোটবেলা থেকেই।
বাদশাহীর বিনিময়ে দরবেশী খরিদ করে ইব্রাহিম ইবনে আদহাম সামান্য রাজ্যের বাদশাহ থেকে পরিণত হন পরকালের বাদশাহ তে। মারেফত এর সমুদ্রে অনেক বড় নাবিক হয়ে বিলিয়ে বেড়ার মুক্তির অমিয় সুধা।
এই ধ্বংসের অতলে নিমজ্জিত মানুষগুলোকেই প্রভু ডেকে ডেকে ফিরছেন শ্বাশত মুক্তির ধামে ফিরে আসার জন্য। নিত্য আনন্দের দেশে ফিরে আসার জন্য। প্রভু সমীপবর্তী হওয়ার জন্য।
“প্রভুজ্ঞান চিরনিত্য। তিনি স্বয়ং হাইয়্যুল কাইয়্যুম হয়ে চিরঞ্জীব ও চিরস্থায়ী জগতে নিত্য আসীন। তাঁর পরিচয় জ্ঞানও তাঁর অস্তিত্বের মতো চিরনিত্য, শ্বাশত তথা চিরন্তন।”
মানুষের জীবন নির্দেশনাই ধর্ম। মানুষের শুদ্ধতার জন্য জ্ঞানীগণ প্রবর্তন করেছেন ধর্ম ও ধর্মবিশ্বাস। জগতে এমন মানুষও প্রচুর, যারা কোনো ধর্মবিধান পালন করে না।
হৃদয়ের আলো দিয়ে আকাশ কে ছুঁতে পারা এক অমর কবি জালালউদ্দিন মুহাম্মদ রুমী (Rumi)। আধ্যাত্মবাদকে যিনি প্রতিষ্ঠিত করেছেন বিশ্ব সাহিত্যের পাতায় পাতায়, তিনিই জালালউদ্দিন রুমী।
আধ্যাত্মিক লেখালেখির প্লাটফর্ম আপন খবর এ নিয়মিত প্রকাশিত হচ্ছে ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতা বিষয়ক বিভিন্ন আর্টিকেল। তারই ধারাবাহিকতায় এবারে পাঠকদের জন্য থাকছে ধর্ম কি ও ধর্মের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে আলোকপাত।
মাঝে মাঝে পৃথীবিতে আবির্ভূত হয়েছেন এমন কিছু শক্তিমান সত্ত্বা, যারা জগত কে শিখিয়েছেন প্রভুপ্রেম। ‘আপনি আচরি ধর্ম’ তারা সকলকে দিয়েছেন শিক্ষা। প্রভুপ্রেমের মশাল প্রজ্জলিত করেছেন দ্বিগ্বিদিক। তেমনি একজন প্রভুপ্রেমিক তাপসী রাবেয়া বসরী (র)।
মহান আউলিয়া উৎবা বিন গোলাম (র)। তিনি ছিলেন কঠোর তপস্বী এবং সাধনায় সিদ্ধ একজন মুক্তপুরুষ। যার নির্মল হৃদয়টি ছিল আল্লাহপ্রেমে ভরপুর। সাধনার পথে আসার পেছনে রয়েছে তাঁর চমকপ্রদ একটি ঘটনা।
নবী করিম (সা) এর বিশিষ্ট অনুচর হযরত আনাস (রা), হযরত আবু হুরায়রা (রা) সহ বহু ধর্মনিষ্ঠ ও পূণ্যাত্মা মানুষদের সংস্পর্শধন্য বিশিষ্ট অলী হযরত আবু হাশেম মাক্কী (র)। তাদের সংস্পর্শে প্রভাবিত হয়েছেন আবু হাশেম মাক্কী (র)।
ইরানের আজম নামক স্থানে জন্ম হযরত খাজা হাবীব আজমী (র) এর। বাস করতেন বসরা শহরে। সেখানে ছিল তাঁর সুদের ব্যবসা। পরবর্তীতে সুদ ব্যবসা ছেড়ে দিয়ে হযরত খাজা হাসান বসরী (রা) এর নিকট মুরীদ হন হযরত খাজা হাবীব আজমী (র)।
বসরা শহর। সে শহরেই বাস করতেন এক নামকরা সুদ ব্যবসায়ী। ব্যবসায় তিনি সিদ্ধহস্ত। শহরজোড়া তাঁর প্রচুর খাতক। বিরাট কারবার। অত্যন্ত কঠোর চিত্তের ব্যবসায়ীটি সারাদিন বাড়ি বাড়ি ঘরে সুদ আদায় করেন।
মানুষতত্ত্বেই নিহিত প্রকৃত সত্য। মানুষ, মানুষ হয়ে উদ্ঘাটন করে সেই মহাসত্যের দ্বার। যাকে বলা হয় ‘ফাতিহাতুল কিতাব’। কামনা বাসনা বিবর্জিত মোহমুক্ত চরম নিরপেক্ষ একজন শুদ্ধ ও পবিত্র মানুষই হলো মহান আল্লাহর হাকিকত।
হযরত ওয়াসে (র) ছিলেন তাঁর যুগের বিখ্যাত সাধক ও ধর্মপ্রাণ অলী। কৃচ্ছসাধনার দ্বারা তিনি নিজেকে নিয়ে গিয়েছিলেন এক অনন্য উচ্চতায়। দারিদ্রতার কষাঘাতে জর্জরিত হয়েও তিনি সারাজীবন নিজেকে ব্যাপৃত রেখেছিলেন প্রভুর উপাসনায়।
পতিত মানব জাতিকে পথ প্রদর্শনের নিমিত্তে যুগে যুগে এ ধরাধামে আগমন করেছেন অসংখ্যা পূণ্যাত্মা। তাদেরই একজন হলেন হযরত মালেক ইবনে দীনার (র)। খাজা হাসান বসরী (রা) এর সমসাময়িক ছিলেন তিনি। অত্যন্ত উচ্চমানের সাধক ছিলেন তিনি।
সরাসরি মহানবী (সা) এর সানুরাগ সংস্পর্শধন্য খাজা হাসান আল বসরী (রা)। এলমে মারিফতের দীক্ষা নেন নবী (সা) এর গুপ্তজ্ঞানের ধারক বাহক মাওলা আলী (আ) এর নিকট হতে। তাঁর যামানার সর্বোচ্চ জ্ঞানী হিসেবে তাঁকেই ধরা হতো।
যুগে যুগে দেশে দেশে কালে কালে প্রতিটি জনপদে আবির্ভুত মহান অলী আউলিয়া গণের পবিত্র জীবনাচারনে বার বার জগতে প্রতিধ্বনিত হয় পবিত্র ধর্মচেতনার সুরধ্বনি। আবহমান কাল থেকেই পবিত্রাত্মা তথা আউলিয়াগণের দ্বারা ধর্ম প্রচার হয় জগতে।
জগৎগুরু মোহাম্মদ (সা) এর সানুরাগ সংস্পর্শধন্য খাজা হাসান আল বসরী। একদিন নবী (সা) এর পানি পান করার পাত্র থেকে পানি পান করে ফেললেন শিশু হাসান বসরী। পেয়ালায় পানির পরিমান কম দেখে নবী (সা) জিজ্ঞেস করলেন, পানি পান করেছে কে?
যুগে যুগে এ ধরনীতে আবির্ভূত হন স্রষ্টার কিছু প্রিয় বান্দা। তাদের অনুকরণ-অনুসরণের জোর তাগিদ দেয়া হয়েছে সকল ধর্মেই। আমাদের আজকের আলোচনায় থাকছে এমনই এ জোতির্ময় সত্ত্বা “হযরত খাজা ওয়ায়েস আল ক্বরণী”।
মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ, এ শ্রেষ্ঠত্ব এসেছে তার মেধা, গঠন ও সুরত শৈলীর কল্যাণে। সে সৃষ্টিকে এমন করে সৃজন করে কুল আলমকে করেছে সুশৃঙ্খল, প্রাধান্য পেয়েছে প্রভুত্বের। মহান আল্লাহ পাক এই মানুষের মননে ছাবেত হয়ে তার প্রশংসার সবটুকু কুড়িয়ে নিয়েছেন।