অনুবাদ – লাবিব মাহফুজ চিশতী
হযরত খাজা হাকিম সানায়ী রহ. বলেছেন, “দুনিয়ার মানুষ হচ্ছে মোমবাতির শিখার সামনে উড়ন্ত তিনটি প্রজাপতির মতো। প্রথমটি অগ্নিশিখার খুব কাছে গিয়ে বলে, ভালোবাসা কি আমি জানি। দ্বিতীয়টি তার ডানা দিয়ে অগ্নিকে আলতো স্পর্শ করে বলে, আমি জানি প্রেমানল কিভাবে পোড়ায়। আর তৃতীয়জন নিজেকে অগ্নিতে নিক্ষেপ করে এবং নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। কেবল সেই জানে সত্যিকারের প্রেম কি!”
কবিতা – অগ্নির প্রেম
মুল – হযরত ফরিদউদ্দিন আত্তার রহ.
অনুবাদ – লাবিব মাহফুজ চিশতী
গভীর নিশিথে, জড়ো হল পতঙ্গেরা
জানতেই হবে মোমবাতির সত্য –
কি করে জ্বলে তীব্র আলোকচ্ছটা?
ঠিক হলো, তাদেরই একজন যাবে
মোমবাতির রহস্যের সন্ধানে।
প্রাসাদের ঝালর দেয়া জানালার ফাঁকে
মোলায়েম মোমের আলো
উঁকি দিয়ে দেখলো একটি পতঙ্গ
উড়ে গেল পূর্বের সভায়, বলল
দেখেছি অগ্নি, মোম, আলো –
তাদের মধ্যেকার জ্ঞানী পতঙ্গটি বললে,
তুমি কিছুই জানো না!
এবার আরো উৎসুক পতঙ্গটি এগিয়ে এলো
বলল, আমি যাচ্ছি মোমের রহস্য সন্ধানে –
ছুটে চলল পতঙ্গটি – জানালা ভেদ করে
আরো নিকটে, শামাদান –
ভীতু হিয়ার কম্পমান ইচ্ছা, ঝাপসা অবয়ব
অগ্নির উত্তাপ, দগ্ধীভূত বাসনার আহাজারি –
ফিরে এলো সভায়। জেনেছি অগ্নিকে।
জ্ঞানী পতঙ্গটি বললে,
জানার চিহ্ন তোমারও যে নেই!
এবার এলো আরেকটি পতঙ্গ
উড়ে চললো পূর্বের জাফরী ফাঁকে
ব্যাকুল প্রণয়ে সে উন্মত্ত, নৃত্তরত
মোমাগ্নির প্রতি গভীর প্রণয় নিবেদনে
ঝাপ দিলো আগুনে। সত্তা-অগ্নি হলো একাকার
পুড়লো ডানা, পুড়লো দেহ, মাথা, সর্ব অস্তিত্ব
প্রখর লাল আভায় উদ্ভাসিত হলো সে
উজ্জল রশ্নিতে বিকিরিত হলো স্বরূপ –
হারিয়ে গেলো চিরতরে।
জ্ঞানী পতঙ্গটি বললে,
সেই জানে সত্যকে, যে সমাহিত হয় সত্যে।
যে সমাধিস্থ নয়, সে জানে না সত্য,
জানে না রহস্য, জানে না প্রেম।
আর যে জেনে যায়, সে পুড়ে যায়
হারায় অস্তিত্ব। হয়ে যায় নির্বিকার, বাকশূণ্য।
দেহ ও আত্মা উভয় কে ত্যাগ না করলে
কেউ পায়না সে পরিচয়, যেখানে
উভয় জগত রহস্যে বিলীণ হয়।

