লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী
হযরত সুলতান বাহু (রহ.) ছিলেন উপমহাদেশের সুফি সাধনা, ফকিরি দর্শন ও মারেফতি সাহিত্যের এক অত্যুজ্জল নাম। সপ্তদশ শতকে বর্তমান পাকিস্তানের পাঞ্জাব অঞ্চলে তাঁর জন্ম। ১৬৩০ সালে জন্মগ্রহণকারী এই মরমি সাধক ১৬৯১ সালে দুনিয়া থেকে বিদায় নেন। তাঁর জীবন ছিল আল্লাহর প্রেম, আত্মশুদ্ধি ও সত্যের অনুসন্ধানে নিবেদিত এক নিরন্তর প্রচেষ্টার ফসল।
সুলতান বাহুর কাছে ফকিরি কেবল দুনিয়াত্যাগ কিংবা বাহ্যিক বেশ ধারণের নাম ছিল না। প্রকৃত ফকিরি হলো নিজের আমিত্ব, অহংকার ও নফসের দাসত্ব থেকে মুক্ত হয়ে পরম সত্তায় নিজেকে সমর্পণ করা। তাঁর দর্শনে মানুষের অন্তরই সেই ক্ষেত্র, যেখানে প্রেমের আগুন জ্বলে উঠলে আত্মার অন্ধকার ধীরে ধীরে দূরীভূত হয়।
তাঁর মারেফতি সাধনার কেন্দ্রে ছিল ইশক-ই-হাকিকি, পরম সত্যের প্রতি নিখাদ প্রেম। তিনি আল্লাহর জিকির, মুর্শিদের দিকনির্দেশনা এবং অন্তরের পরিশুদ্ধির মাধ্যমে আত্মিক উপলব্ধির পথ অনুসন্ধান করেছেন। তাঁর শিক্ষায় ‘হু’ কেবল উচ্চারিত একটি শব্দ নয়; বরং আল্লাহর স্মরণে নিমগ্ন হওয়ার এক গভীর আধ্যাত্মিক অনুষঙ্গ।
সুলতান বাহু ফারসি ও পাঞ্জাবি ভাষায় বহু মরমি রচনা রেখে গেছেন বলে পরিচিত। রিসালা-ই-রুহি শরিফ, আইন-উল-ফক্র ও নূর-উল-হুদা তাঁর নামে প্রচলিত উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ। এসব রচনায় ফকিরি, প্রেম, তাওহিদ ও আত্মোপলব্ধির নানা দিক আলোচিত হয়েছে।
এই পোস্টে আমরা দেখবো মহাত্মা সুলতান বাহু রহ. এর দুটি অনুকবিতার অনুবাদ। অনুবাদ করেছেন লাবিব মাহফুজ চিশতী।
০১.
যখন প্রকট হল প্রেম, আমি চিনলাম আমার ঈশ্বরকে
সে আমাকে জোগায় বল, দেখায় পথ।
আমার অন্তর এমন এক স্থান
যেখানে একত্রে আছে অগ্নি, জ্বালানি ও ধোঁয়া
তখনি খুঁজে পেলাম প্রিয়তমকে, যখন
প্রেম আমাকে চেতনা দিলো।
০২.
প্রেমের প্রতিমা লুকালে কি আসে যায়
হৃদয় কি দূরে থাকে কখনো?
সে বাস করে বহু দূর পর্বতে –
দৃষ্টির আড়াল কি হয় কখনো?
এক কণা প্রেম যার আছে – সে মদ ছাড়াই মাতাল।
সেই প্রকৃত সাধক, সমাধিতেও যে জীবন্ত!

