আপন ফাউন্ডেশন

বাণী সমাহার – কবি কাজী নজরুল ইসলাম

Date:

Share post:

সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী

বাংলা সাহিত্য জগতের এক অপার বিস্ময় কবি কাজী নজরুল ইসলাম । যিনি তার দুরন্ত লেখনীর জ্যোর্তিচ্ছটায় ভাসিয়ে নিয়ে চলেছিলেন পুরো একটি যুগকে, একটি জাতিকে। আপন খবরের এ বারের আয়োজনে থাকছে কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর কিছু বাণী সমাহার ।

১. আমি অর্থ উপার্জ্জন ছাড়া বোধহয় জগতের সবকিছু করতে পারি ।ঐ জিনিসটের মালিক হতে হলে যতটা নীচে নামতে হয়, ততটা নামবার দুঃসাহস আমার নেই।

২. আকাশের দিকে তাকিয়ে এইবার আমার নতূন করে মনে হচ্ছে, স্রষ্টা গণিতবিদ, না কবি? লোকটা এত হিসেবী অথচ এত সুন্দর!

৩. সৈনিক হয়ে এসেছিলাম মারামারি করবার জন্যই, প্রেম করবার জন্য না।

৪. মাকে আগে আমার প্রাণ ভরা শ্রদ্ধা-ভক্তি-ভালোবাসা অন্তরের অন্তর থেকে দিয়েই আর মা’র চেয়ে বড় জন্মভূমিটাকে ভালোবাসতে শিখেছি।

৫.এই তো সেই সত্যিকারের মোসলেম জননী, যিনি নিজ হাতে নিজের একমাত্র সন্তানকে যুদ্ধসাজে সাজিয়ে জন্মভূমির পায়ে রক্ত ঢালতে পাঠাতেন। এ বিসর্জন, না অর্জন?

৬. জননী আর জন্মভূমির দিকে কখনও আর এত স্নেহ এত ব্যথিত দৃষ্টিতে চেয়ে দেখিনি, যেমন তাদিগে ছেড়ে আসবার দিনে দেখেছিলুম। শেষ চাওয়া মাত্রেই বোধ হয় এমনি প্রগাঢ় করুণ!

৭. সেই দীল মাতানো স্মৃতিটি মাঝিহারা ডিঙির মতো আমার হিয়ার যমুনায় বারে বারে ভেসে উঠছে।

৮. এ জীবনের অনেকগুলো দিন তোমার বিরহে কেটে গেলো। তাতে তোমাকে না হারিয়ে আরো বড় করে পেয়েছি। তোমায় যে হারিয়েছিলাম, সে তোমাকে এতো সহজে পেয়েছিলাম বলেই।

৯. দুনিয়ায় যত রকম আনন্দ আছে, তার মধ্যে এই বিচ্ছেদের ব্যথাটাই সবচেয়ে আনন্দময়।

১০. যাকে ভিতরে, অন্তরে পেয়েছি, তাকে খামখা বাইরের পাওয়া পেতে এতো বাড়াবাড়ি কেনো?

১১. আমার প্রেম, বক্ষের গোপন-তলে নিহিত মহান প্রেম, যা সর্বদাই পবিত্র, তা তেমনি পূত অনবদ্য আছে আর চিরকালই থাকবে, তার গায়ে আঁচড় কাটে বাইরের কোনো অত্যাচার অনাচারের এমন ক্ষমতা নেই ।

১২. ঐ এক পলকের চাওয়াতেই যে আমাদের কত কথা শুধানো হয়ে যেত, কত ব্যথা-পুলক শিউরে উঠত, তা ঠিক বোঝানো যায় না ।

১৩. তোমার প্রাণের কথা তুমি কোন দিনও একটি কথাতেও জানাওনি, তাই তো আজ আমার বুক জুড়ে এত না জানার ব্যথা ।

১৪. যে আগে ভালোবাসে, প্রায়ই তার আই দুর্দ্দশা এই লাঞ্ছনা ভোগ করতে হয়। তাই বড় দুঃখে আজ অবিশ্বাসী নাস্তিকের মত এই বলে মরতে যাচ্ছি যে, পৃথিবীতে ভালোবাসা বলে কোন জিনিস নেই।

১৫. যদি পারো আশীর্বাদ করো, যেন আবার জন্ম নিলে, তুমি যাকে ভালোবাসো, সেই হয়ে যেন জন্মগ্রহন করি।

১৬. দুঃখ করো না বন্ধু, তোমায় বুকের প্রেম দিতে পারিনি বলেই তো চোখের জল দেই।

১৭. আমি ভালোবাসা পাইনি, তুমিও ভালোবাসা পাওনি, এখানেই তো আমরা বন্ধু।

১৮. হৃদয়কে জয় করতে না পারার বেদনা আমর বাহুকে যে এমন শক্তিহীন করে তুলবে এ আমার কল্পনারও অতীত ছিল।

১৯. আমি ভালোবেসে কাঁদতে চাই, তাই কাঁদি। বুকে পেলে কান্না যাবে ফুরিয়ে, প্রেম যাবে শুকিয়ে, তাই পেতে চাইনে। বুকের ধনকে বিলিয়ে দেই অন্যকে।

২০. যত ভুলতে চেয়েছি, তুমি হয়েছ তত নিকটতম! একি দুর্ব্বার আকর্ষণ তোমার!

২১. আমাদের এই ভালোবাসার আর দরবেশের প্রেমের সমান গভীরতা, এ আমি নিশ্চয় করে বলতে পারি, যদি সেই ভালোবাসা চিরন্তন হয়।

২২. দুঃখকে পাবার জন্যই আমি এমন করে বাইরে বেড়িয়েছি।

২৩. দুঃখ কষ্টই তো আমার অপার্থিব চিরদিনের চাওয়া-পাওয়া ধন। ও যে অলঙ্কার। তাই হাসিমুখে তাকে বরণ করে নিয়েছি।

২৪. এই বেদনার আনন্দই আমাকে পাগল করলে, ঘরের বাহির করলে। বন্ধনমুক্ত রিক্ত করে ছাড়লে।

২৫. একা আর থাকতে পারলাম না বলেই আমার দুঃখের দোসরের অভিসারে বেরিয়েছি।

২৬. দুঃখও আমায় ছাড়বে না, আমিও তাঁকে ছাড়বো না। সে যে আমার বন্ধু, প্রাণপ্রিয়তম সখা। আমার ঝড় বাদলের মাঝখানে নিবিড় করে পাওয়া সাথী ।

২৭. আমি এসেছিলাম দুঃখ ভুলতে। কিন্তু সে দুঃখ এতো বিপুল হয়ে উঠবে, সে দুঃখ যে অন্যেরও ঘর পোড়াবে, এ আমি জানতাম না।

২৮. এই যে দুঃখের বুক আঁকড়ে ধরেছি, আর ছাড়ছিনে!

২৯. আমার এ পথ শ্বাশত সত্যের পথ। বিশ্বমানবের জনম জনম ধরে চাওয়া পথ। আমি আমার আমিত্বকে এ পথ থেকে মুখ ফিরাতে দেবো না।

৩০. অনাত্মীয়দের, অপরিচয়ের দলের নীড় হারাদের সাথী আমি! ওদের বেদনায়, ওদের চোখের জলে আমি যেন আমাকে পরিপূর্ণরুপে দেখতে পাই। তাই ঘুরে বেড়াই এই ঘর হারাদের মাঝে।

সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী

More Posts

সাবস্ক্রাইব করুন

Related articles