লাবিব মাহফুজ
অনন্ত রূপে যখন ছিলাম অখন্ডতায়
নিত্যানন্দে নিত্যরূপে দিব্য জ্যোতির মাঝে –
পূর্ণতায় অপূর্ণ সকল শ্বাসরুদ্ধ হয়ে গুমরে গুমরে কাঁদতে ছিল!
একটি প্রাণে সকল প্রাণ, সকল প্রাণে একটি আকাঙ্খা
বার বার তাড়িয়ে ফিরছিল আমায়!
অবশেষে সুষুষ্মা মন্ডিত সেই মহা পবিত্র আলোক দীপ নিভিয়ে,
সাথী করে নিলাম অন্ধকার!
আমিই সারথী হলাম মিথ্যার!
আশ্রয় খুঁজে নিলাম কুহেলিকার মাঝে!
আপনত্বে ধারণ করলাম অপবিত্রতা!
এরই মাঝে, হঠাৎ –
ধীরে ধীরে খুঁজে পেতে শুরু করলাম এক অপূর্ব গতিশীলতা।
অনুভব করলাম কে যেনো আমাকে বার বার তাগিদ দিচ্ছে
কি যেনো হারাতে হবে,
কি যেনো পেতে হবে,
হয়তো কিছু আমায় ফেলে চলে যাচ্ছে
হয়তো কিছু আমার জন্য অপেক্ষা করছে!
আমাকে কি যেনো করতে হবে!
শুধু এইটুকু অনুভুতি, আমাকে ঘুমুতে দেয়নি কত শত মহাকাল
সময়ের বুকে কান পেতে শুনতে দেয়নি স্থবিরতার সুর।
আমাকে বঞ্চিত হতে হয়েছে কত বাঞ্ছিত বিষয় হতে!
আজ, আমি পূর্ণ
শুধু সেই অপূর্ণতার স্তবগান গেয়ে!
তাই স্বর্গের বাসরেও বার বার গাই
অপূর্ণতার, অপবিত্রতার, মিথ্যার স্তবগান!
তুমিইতো জাগিয়েছো আমায়,
আমায় শিখিয়েছো কিভাবে খুঁজতে হয় নিজেকে!
কিভাবে পেতে হয় নিজেকে!
আজ আমি আর একা নই..
যেদিকেই তাকাই দেখি অগনিত মৃত্যুর মাঝে
রাশি রাশি ধ্বংসস্তুপের মাঝে
ভেসে আসে একটি সুর!
সকল রূপের এক দেয়ালে
ভেসে উঠে এক অনন্ত রূপ!
সকলের সুরে সুর মিলিয়ে আজ আমি শুনতে পাই
নিখীল বিশ্ব বীণার সেই আদি তান –
যে গান নিরবে গেয়েছিলাম আমি
একা, তখন কেই শুনেনি!
আজ সকল কন্ঠে গভীর রাগে সর্বদাই বাজে সে সুর
আমি হয়তো আর গাই না,
এখন শুধূ শুনি,
হয়তো শুনি না,
শুধু ভাবি!
কে গায় ঐ মধূর মনোমোহিনি সুরে!
কে দেখে ঐ সপ্তলোক বিস্মৃত দৃষ্টি এলোমেলো চাউনিতে!
কে ভাবে হৃদয় তন্ত্রীর সকল বীণায় ঝংকার দিয়ে!
জানি কেউ না
কিন্তু হয়তো বলতে পারিনা
কখনো বলবোও না
শুধু দেখে যাবো।
আর অবাক হবার ভান করবো
হয়তো কখনো বিস্মিত হবো!
আজ আমার দৃষ্টিতে, আমার শত অবলোকনে,
আমি যে রূপে মূর্ত, সকলের মাঝে
এইতো অপূর্ণতা, এইতো বাধা
একে তো থাকতে হবে!
আমার, সকলের এইতো আমার সেই
আত্মোপলব্ধির মহান শিক্ষা।
যা জাগিয়েছে আমায়!
কে তুমি? ফিরাতে চাও আমায় সেই স্বর্গীয় জ্বালায়,
যেখানে নেই, আমার সকলের
সকল সুরে যখন বাজে আমার তান,
সকল কন্ঠ যখন গায় আমার ই গান
সকল রূপে যখন ভাসে আমার রূপ,
আমিতো এই চেয়েছিলাম,
এখন আমি শুধু দেখি,
এক অনন্ত মাধূর্যে সকল অবগুন্ঠিত মুরতি!
এতো আমারই,
সকলেরই,
আমি তো প্রণাম করতে চাই এই বিছিন্নতাকে
এই অপূর্নতাকে,
একাকিত্ব নয়,
সকলকে নিয়ে অখন্ড থাকাতেই তো আমার আনন্দ!!
রচনাকাল – 06/03/2018