পর্ব ৩৩ এবং পর্ব ৩৪ একত্রে
ভাবানুবাদ – লাবিব মাহফুজ চিশতী
পর্ব ৩৩
জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য হলো, ঠিকই আমরা একসময় জীবনকে অতিক্রম করবো। জীবন আমাদেরকে ঠিকই ঠেলে দিবে অনন্ত শূণ্যতার পানে, মৃত্যুর পানে। সবকিছু পেছনে ফেলে আমরা রওয়ানা হবো এক অনন্ত যাত্রায়। তবু আমরা সবাই এ পৃথিবীতে কোথাও যেন পৌঁছতে চাই, কি যেন হয়ে উঠতে চাই। কিসের যেন অপূর্ণতা আমাদেরকে তাড়া করে ফেরে প্রতিক্ষণ। তারপর ঠিকই একদিন সব কিছু ভুলে যাই, সব কিছুকে ছাপিয়ে যাই।
যদি তুমি জ্ঞানী হও, তাহলে শূণ্যের মত হালকা হয়ে বাঁচো। বাহিরের সাজসজ্জা নয়, ভেতরের শূণ্যতাই স্থির রাখে আমাদের চেতনাকে। যে শূণ্যতা থেকে আমরা এসেছি, যেদিকেই আমাদের চূড়ান্ত গন্তব্য। আমরা কি অর্জন করতে চাই তা নয়, বরং শূণ্যতার চেতনাই আমাদেরকে এগিয়ে নিয়ে যায় সুন্দরের পানে, মুক্তির পানে।
জীবন পূর্ণতায় স্থিত। অপূর্ণচিন্তা রহিত। জীবনের শূণ্যতা অনন্তের শূণ্যতারই প্রকাশ। জীবনে নিষ্ঠাবা হও।
পর্ব ৩৪
আধ্যাত্মিক পথ পরিক্রমার সবচেয় সুন্দরতম ও গুঢ় বিষয়টি হলো আত্মসমর্পন। আপন অন্তরের সত্যকে পূনরুজ্জীবিত করতে হলে নিজেকে ঐশ্বরিক সত্যের কাছে সমর্পন করতে হয়। এই মহিমান্বিত সমর্পনের মধ্য দিয়েই জারি হয় অন্তরজ্ঞান, ভেতরের পরম সত্ত্বা লাভ করে রূপ। বলা হয়, সমর্পন হলো আধ্যাত্মিক জগতের দরজা।
সমর্পিত হওয়া মানে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয় নয়। দূর্বল হয়ে যাওয়া নয়। সমর্পন হতাশাবাদ বা পরাজয়কে নির্দেশ করে না। সত্যিকার সমর্পনে থাকে এমন এক শক্তি, যা আসে একান্ত ভেতর থেকে। এটি এমন এ ঐশ্বরিক আলো বহন রে যা মূলত মানুষকে প্রভুর দরজায় পৌঁছে দেয়।
যারা নিজেকে সমর্পিত করে জীবনের দিব্য সত্ত্বার কাছে, তারা হয়ে ওঠে ঐশ্বরিক জ্যোতিতে ভরপুর। জগতের শত সহস্র অশান্তি ও ব্যাঘাতের মাঝেও তারা থাকে অটল শান্তিতে। সমগ্র জগতও যদি ঝড়ের কবলে পরে, সমর্পিত মানুষটি থাকে পরমসত্ত্বার কোলে, প্রশান্তিতে।
সমর্পিত হও, তবে লাভ করবে ঐশ্বরিক জ্যোতি।

