পর্ব ৩৫ এবং পর্ব ৩৬ একত্রে
ভাবানুবাদ – লাবিব মাহফুজ চিশতী
পর্ব – ৩৫
আমাদের এ জগত এমন এক রহস্যের কেন্দ্রবিন্দু, যার রয়েছে নিজস্ব নিয়মনীতি। আমরা এ নিয়মগুলোকে বুঝতে সক্ষম হলেই ত্বরান্বিত হয় আধ্যাত্মিক উন্নতি। পৃথীবির সাদৃশ্যসমূহ বা নিয়মানুবর্তিতা আমাদেরকে এ যাত্রাপথে এগিয়ে নেয়না, রবং বিপরীতধর্মিতা স্পষ্টভাবে আমাদেরকে এগিয়ে নেয়, লক্ষ্যপানে। জগতের যত বিপরীতধর্মিতা, তা আমাদের প্রত্যেকের ভেতরের বিদ্যমান। এবং আমাদের উচিত সে স্পষ্ট বিধিবহির্ভূত বৈপরিত্যের দিকে মনোযোগী হওয়া।
আমাদের মধ্যে যিনি বিশ্বাসী, তার উচিত তার অন্তরস্থিত অবিশ্বাসীর সাথে পরিচিত হওয়া। আর যিনি অবিশ্বাসী, তার উচিত অন্তরস্থিত নীরব বিশ্বাসীকে চিনে নেওয়া। তখনই আমরা ইনছানে কামিল বা পূর্ণতম মানব-মহানে পরিণত হই, আমাদের প্রত্যেকের উচিত আমাদের ভেতরকার সকল আপাত বৈপরিত্যকে চিনে নেওয়া। যদিও একটি ধীর প্রক্রিয়া, তবু আমাদের এ প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়েই যেতে হয়।
বিশ্বাসী হবার জন্য আপনার সবচেয়ে বড় কর্তব্য হচ্ছে আপনার ভেতরকার অবিশ্বাসী চিনে নেওয়া।
পর্ব – ৩৬
আমাদের এ জগত সুনির্দিষ্ট কিছু নীতির মাঝে প্রতিষ্ঠিত। কখনো যে নীতিসমূহের বিন্দুমাত্র ব্যত্যয় ঘটে না। পারস্পারিকতার এ নীতিগুলো চিরন্তন ঐক্যে স্থিত। এখানে কিছুই প্রতিদানহীন বা অসার নয়। প্রতিটি কর্ম বা চিন্তাও এখানে সমান গুরুত্বপূর্ণ। একফোঁটা দয়া বা এক কণা পরিমাণ মন্দও এখানে প্রতিদানশূণ্য নয়। জগতের অনিবার্য নীতি এটাই যে, এখানে অস্তিত্বের প্রতিটি বিন্দুও এক একটি অর্থবোধক সত্য।
ঈশ্বর তাই করেন, যা আমরা করি। আমরা যখন সবাইকে ভালোবাসি, ঈশ্বর তাই করেন। আমরা যখন চক্রান্ত, ছলনা বা কুটকৌশলের বিন্যাস করি, ঈশ্বরও তাই করেন। যদি ফাঁদ পাতি, ঈশ্বরও তাই করেন। জগতের ঈশ্বরের জ্ঞানের বাইরে একটা পাতাও নড়ে না। তার জ্ঞান জগতের সমগ্রকে বেষ্টন করে রাখে। এ বিশ্বাস জরুরী যে, ঈশ্বর যা কিছু করেন, তা সুন্দর, সূচারু ও পরিপূর্ণ রূপে করেন।
অহেতুক চালাকী বা কৌশল অবলম্বন না করে ঈশ্বরে প্রকৃতই সমর্পিত হোন। সেটাই মঙ্গলজনক।

