আপন ফাউন্ডেশন

Date:

কাব্য অভিধান : বাংলা শব্দাবলির সংকলন

সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী

অংশু- কিরণ, রশ্মি, প্রভা।

অকচ- চুল নেই এমন।

অকঞ্চুক- খোলস বা খোসা নেই এমন।

অকন্টক- কন্টকহীন, নিষ্কন্টক, নিরুপদ্রব, নিঃশত্রু।

অকর্ণ- কান নেই এমন।

অকষ্ট-কল্পনা- স্বতঃস্ফুর্ত রচনা।

অকস্মাত- হঠাৎ।

অকাতর- কাতর নয় এমন, ব্যাকুলতা শুন্য।

অকায়- দেহহীন।

অকিঞ্চন- দুঃখী, নিঃস্বতা, মূঢ়।

অকিঞ্চিত- তুচ্ছ।

অকীক- নীলাভ মুল্যবান প্রস্তর বিশেষ।

অকীর্তি- বদনাম।

অকু- খুন ডাকাতি অপরাধ।

অকুন্ঠ- কুন্ঠাহীন।

অকুব- কান্ডজ্ঞান।

অকুলান- অভাব।

অকুশল- অমঙ্গল।

অকূপার- কূর্ম, কচ্ছপ।

অকৃত- যা করা হয়নি।

অকৃতার্থ- বিফলমনোরথ।

অকৈতব- কৈতব বা ছল নেই এমন।

অক্ত- সময়।

অক্রম- ধারাবাহিকতা বা ক্রমের অভাব।

অক্রুর- ক্রুরহীন, সরল।

অক্লিষ্ট- ক্লান্তিহীন।

অক্ষটি- শিকারী।

অক্ষত- অনাহত, অচ্ছিন্ন, নিখুঁত।

অক্ষয়- অবিনশ্বর, ক্ষয়হীন।

অক্ষর- যার ক্ষরন নেই, ঈশ্বর, শিব, ব্রহ্ম, পরমাত্মা, আকাশ।

অক্ষান্তি- ঈর্ষা, অসহিষ্ণুতা।

অক্ষি- চক্ষু, নেত্র, চোখ, দৃষ্টি, চোখের তারা।

অক্ষুন্ন- বলবৎ, অব্যাহত।

অক্ষুব্ধ- প্রশান্ত, ধীর।

অক্ষৌহিণী- অনেক সৈন্য।

অখন্ড- অভগ্ন, পূর্ণ, অক্ষত, অবিভক্ত।

অখল- ছলনাশুন্য, সরল, অখলা।

অখিল- সমুদয়, যাবতীয়, নিখিল, জগদীশ্বরম, পরব্রহ্ম।

অখ্যাত- নগন্য, অপ্রসিদ্ধ।

অগ- গতিশূন্য, নিশ্চল।

অগড়-বগড়- অর্থহীন প্রলাপ বা কাজ, আবোল তাবোল।

অগণন- অগণিত, অগণ্য, অসংখ্য।

অগতি- গতিহীন, স্থির, নিরুপায় ব্যক্তি।

অগত্যা- অন্য গতি বা উপায় নেই বলে, বাধ্য হয়ে, কাজে কাজেই।

অগম- গতিহীন, অগাধ, অথই, অগম্য, দুর্গম।

অগা-কান্ত- নির্বোধ ব্যক্তি, অগারাম।

অগাধ- অতল, বিশাল, বিপুল।

অগুণ- অহিত, দোষ, অপরাধ।

অগুরু- গন্ধ কাঠবিশেষ। কৃষ্ণ চন্দন।

অগোচর- অজ্ঞাত, অপ্রত্যক্ষ।

অগ্নি- আগুন, অনল, বহ্নি, পাবক, তেজ, শক্তি।

অগ্নাস্ত্র- শতঘ্নী, অস্ত্র।

অগ্র-শিখর।

অঘটন ঘটন পটিয়সী- অসাধ্যসাধনে পটু, নারী।

অঘাসুর- অঘ নামক অসুর, কংসের অনুচর।

অঘোর- অভীষণ, শান্ত (অঘোরমন্ত্র)।

অঘোষ- শব্দহীন।

অঙ্কন- চিহ্ন দেয়া, রেখাপাত।

অঙ্কুট- চাবি।

অঙ্কুর- মুকুল, উদ্ভিন্ন, নবোদিত বস্তু, আদি সুত্রপাত।

অঙ্কুরিত- প্রকাশিত, মুকুলিত, আবির্ভূত।

অঙ্কোপরি- কোলের উপর।

অঙ্গন- আঙ্গিনা, প্রাঙ্গন।

অঙ্গনা- সুন্দরী নারী।

অঙ্গাবরন- দেহের আচ্ছাদন।

অঙ্গার- কয়লা, কলঙ্ক।

অচর- গতিহীন, স্থাবর, অচল।

অচিন- অচেনা।

অচিন্তনীয়, অচিন্ত্য- যা চিন্তা করা যায় না।

অচেত- অজ্ঞান, বিবেকহীন, তত্ত্বজ্ঞানহীন।

অচেতন, অচৈতন্য- চেতনা নেই এমন।

অচ্ছদ- অনাচ্ছাদিত।

অচ্ছেদ্য- যা ছেদন করা যায় না।

অচ্যুত- যা চ্যুত হয়নি।

অছি- অভিভাবক।

অজপা- যথাবিধি জপ না করা।

অজ-বীথি- ছায়াপথ, দেবযান, নক্ষত্রবীথি।

অজয়- পরাজয়, অজেয়।

অজর- জরাগ্রস্থ হয় না এমন।

অজস্র- অসংখ্য, প্রচুর।

অজানত- অজানতে, অজান্তে, অজানা, অজানিত।

অজিত- যা জয় করা যায় না, অজেয়।

অজিন- হরিনের চামড়া, বাঘছাল, পশুর চামড়া।

অজুহাত- ওজর, অছিলা, যা কারন নয় তাকে কারন বলে চালানো।

অঝোর- অবিরাম, অবিশ্রান্ত।

অঞ্চল- শাড়ির প্রান্ত।

অঞ্চিত- পূজিত, যাকে পূজা করা হয়েছে। রোমাঞ্চিত, ভূষিত, কুঞ্চিত।

অঞ্জন- কাজল, সুরমা, রসাঞ্জন, অঞ্জনিকা।

অঞ্জলি- যুক্তকর, আঁজল, পূজা, ভজনা।

অটবি- বন, অরণ্য।

অণিমা- সূক্ষতা, অণুত্ব।

অণীক- বানের বা তীরের অগ্রভাগ।

অতনু- যার তনু/দেহ নাই, অঙ্গহীন, বিপুল, অক্ষুদ্র।

অতন্দ্র- অতন্দ্রিত, নিদ্রাহীন।

অতর্কিত- অলক্ষিত, হঠাৎ, অপ্রত্যাশিত।

অতলান্তিক- আটলান্টিক। যার তল নেই।

অতসী- সোনালী রঙ্গের ফুল।

অতিশয়োক্তি- অত্যুক্তি, কঠোর বাক্য।

অতুল- তুলনাহীন।

অতুষ্ট- তৃপ্ত নয় এমন।

অত্বর- ধীর, মন্থর।

অত্যয়- মৃত্যু, বিনাশ, ধ্বংস। (দেহাত্যয়, কালাত্যয়)।

অত্যল্প- খুব সামান্য।

অথর্ব- জড়, জড়াগ্রস্থ, অকর্মণ্য, নড়াচড়ার শক্তি নেই এমন।

অথান্তর- মুশকিল, বিপদ, অসুবিধা।

অদন্ত- যার এখনো দাত উঠে নাই।

অদর্শন- দৃষ্টির অগোচর।

অদানে অব্রাহ্মনে- বাজে ব্যাপারে দান, যা স্বার্থক নয়।

অদিতি- দেবগনের মাতা।

অদীক্ষিত- দীক্ষা নেয়নি এমন।

অদীপ- আলোহীন, প্রদীপ জ্বালা হয়নি এমন।

অদ্বয়- অদ্বিত্বীয়, যার দ্বিতীয় নাই, অদ্বৈত, ব্রহ্ম।

অদ্রি- সূর্য, পর্বত, শিব, হিমালয়, অদ্রীশ।

অধর- নীচের ঠোট, সুধাপান, চুম্বন, অধরামৃত।

অধরা- যে ধরা দেয় না।

অধিকরন- দখল, আধিপত্য, অধিকার।

অধিগত- প্রাপ্ত, জ্ঞাত, অধীত, পঠিত।

অধিবাস- নিবাস, বসতি, মাঙ্গল্য দ্রব্যাদি, গন্ধমাল্য, ধূপ, ধান, শুভ মাঙ্গলিক।

অধিবিদ্যা- সৃষ্টি ও জ্ঞান সংক্রান্ত দর্শনশাস্ত্র।

অধিরথ- সারথি, মহারথ।

অধিরোহ- অধিরোহন, আরোহন, আরোহীনি।

অধিশ্রয়ণী- উনুন, চুল্লি।

অধিষ্ঠাতা- অবস্থানকারী, স্থিতি।

অধীশ- অধীশ্বর, প্রভূ, কর্তা, মালিক।

অধুনা- বর্তমানে, সম্প্রতি, আজকাল।

অধোগতি- অধোগমন, নিন্মগতি, অবনতি, দুর্দশা।

অধোবাস- নিন্মাঙ্গের পরিচ্ছদ।

অধ্যাত্ম- আত্ম বিষয়ক।

অধ্যাস- সত্তা বা গুনাগুন আরোপ, এ বস্তুতে অন্য বস্তুর গুন আরোপ।

অধ্যুষিত- উপনিবিষ্ট।

অধ্যেতা- অধ্যয়নকারী, বিদ্যার্থী।

অধ্রুব- যা ধ্রুব নয়, অনিত্য, পরিবর্তনশীল, অনিশ্চিত।

অনক্ষ- ইন্দ্রিয় নেই যার, চোখ নেই যার। অন্ধ।

অনঘ- পাপহীন, নিষ্পাপ।

অনঙ্গ- দেহহীন, আকাশ, চিত্ত, মোহন কৃষ্ণ।

অনতি- অধিক নয় এমন, অল্প, অল্পকাল।

অনতীত- অতীত নয় এমন।

অনধীত- যা পঠিত নয়, অপঠিত।

অনন্ত- অন্তহীন, যার শেষ নেই। অক্ষয়।

অনন্তর- তারপর।

অনন্বিত- অসংলগ্ন।

অনপগত- অপগত বা দূরীভুত হয়নি এমন।

অনপত্য- অপত্য বা সন্তান নেই যার।

অনপায়ী- অবিনশ্বর, অক্ষয়।

অনপেক্ষ- অন্যের ওপর নির্ভরশীল নয় এমন।

অনপেত- যুক্ত, বিচ্যুত হয়নি এমন।

অনবদ্য- নির্দোষ, চমৎকার।

অনবধান- অমনোযোগ।

অনম্বর- দিগম্বর, অনাবৃত, আচ্ছাদন নেই এমন।

অনয়- দুর্ভাগ্য, অন্যায়, দুর্দশা

অনর্গল- অবিরাম, অবারিত।

অনশ্বর- নশ্বর নয় এমন, নাশহীন।

অনাদী- আদীহীন, কারনহীন, ঈশ্বর।

অনামিকা- নামহীন।

অনার্দ্র- ভিজে নয় এমন।

অনার্য- অসভ্য, আর্য নয় এমন।

অনালোকিত- আলোকিত নয় এমন।

অনাহত- আঘাত পায়নি এমন।

অনাহুত- যাকে আহ্বান করা হয়নি।

অনিঃশেষ- যা নিঃশেষ হয়না। অফুরন্ত।

অনিকেত- গৃহহীন, নিকেতন হীন, নিরাশ্রয়।

অনিন্দ্য- প্রশংসার যোগ্য, সুন্দর, নিখুঁত, অনিন্দিতা।

অনিপূণ- নিপূণ নয় এমন।

অনিবদ্ধ- অনিয়মিত, অলিখিত, অগ্রথিত।

অনিবার- যা নিবারন করা যায় না। অবিরল, নিরন্তর, যা এড়ানো যায়না।

অনিমিখ- অপলক, পলকহীন। অনিমেষ, নিমেষহীনভাবে চেয়ে থাকা।

অনিয়ত- যা নির্দিষ্ট নয়, অনিশ্চিত, অসংযত।

অনিরুদ্ধ- অনিবারিত, অবাধ, রোধ করা হয়নি এমন।

অনির্বাণ- নির্বাণ বা মুক্তিলাভ হয়নি এমন, যা নেভে না, জ¦লন্ত, অশান্ত।

অনির্বেদ- অনুতাপহীন, গ্লানিহীন।

অনিল- বাতাস, বায়ু।

অনীক- সৈন্যদল।

অনীশ- অনীশ্বর, নাস্তিক, ঈশ্বর মানে না এমন।

অনীহ-অনীহা।

অনুকল্প- গৌন বা অপ্রধান বিধি। বিকল্প, পরিবর্ত, প্রতিনিধি।

অনুকূল- সহায়, সাহায্য করে এমন। সমর্থন।

অনুকৃত- অনুকরন করা হয়েছে এমন।

অনুক্ত- বলা হয়নি এমন, অকথিত, ঊহ্য।

অনুচিন্তন- অনুচিন্তা, গভীর চিন্তা, অনুধ্যান।

অনুজীব্য- আশ্রয় করার যোগ্য, সেব্য।

অনুদিন- প্রতিদিন

অনুদ্দেশ- খোঁজ না পাওয়া।

অনুপ- উপমাবিহীন, যার তুলনা নেই। অনুপম।

অনুপপত্তি- অসংগতি, যুক্তির অভাব।

অনুপেত- পাওয়া যায়নি এমন।

অনুবদ্ধ- সমৃদ্ধ, সংশ্লিষ্ট, সম্পর্কযুক্ত।

অনুবন্ধ- অবতারনা, আরম্ভ, অভিলাষ, প্রসঙ্গ, অনুবন্ধী।

অনুবল- সহায়, অনুব্রত।

অনুমত- স্বীকৃত, সহমত।

অনুমিতি- অনুমান, ধারনা,আন্দাজ।

অনুরক্ত- অনুরাগী, আসক্ত, ভক্ত। অনুরত। অনুরাগ।

অনুরঞ্জন- সন্তোষ বিধান, মনোরঞ্জন, প্রীতিসম্পাদন।

অনুরাধা- বিশাখা নক্ষত্রের অনুগত মঙ্গলকর সপ্তদশ নক্ষত্র।

অনুষ্ণ- গরম নয় এমন। শীতল।

অনুসঙ্গ- স্নেহ, দয়া, ইঙ্গিত।

অনূপ- জলময় স্থান, জলা, বিল।

অনূর্ধ্ব- যার চেয়ে উর্দ্ধে নেই।

অনৃত- মিথ্যা।

অন্ত- বিনাশ, মৃত্যু, প্রান্ত, সীমা, নিশান্ত।

অন্তঃ – ভিতরে, অভ্যন্তর।

অন্তরায়- বাধা, বিঘ্ন।

অন্তরীক্ষ- আকাশ।

অন্তরিত- অন্তর্হিত, অদৃশ্য, আচ্ছন্ন, আবৃত।

অন্তর্হিত- তিরোধন করেছে এমন।

অন্তস্থ- শেষে অবস্থিত।

অন্তিক- সন্নিহিত, নিকটস্থ, নৈকট্য, সান্নিধ্য।

অন্তিম- শেষ।

অন্দর- ভিতর, অন্তঃপুর।

অন্বিত- যুক্ত, গুণান্বিত।

অন্বীক্ষা- পর্যালোচনা।

অন্বেষণ- খোঁজ।

অন্যূন- অন্তত।

অপ- জল।

অপগত- বিগত, প্রস্থিত, দুরীভূত, রহিত, অপসৃত। চলে গেছে এমন।

অপচ্ছায়া- আবছায়া, অস্পষ্ট ছায়ামূর্তি

অপত্নীক- বিপত্নীক, অবিবাহিত।

অপনোদন- অপসারন, অপনয়ন, দূরীকরন।

অপভাষ- নিন্দা, অপবাদ।

অপয়া- কুলক্ষনযুক্ত, অলক্ষণা, অলুক্ষুনে।

অপরা- যা শ্রেষ্ঠ নয়।

অপরাজিত- পরাজিত হয়নি এমন। অপরাস্ত। অপরাহত। অপরাজিতা ফুল।

অপরুপ- অপূর্ব, অতুলনীয় রুপ।

অপর্ণ- গাছের পাতা নেই এমন।

অপর্ণা- তিনি তপস্যা কালে পর্ণ বা পাতাও আহার করেননি।

অপলক- পলকহীন, নিমেষহীন, অনিমেষ, স্থিরদৃষ্টি।

অপলাপ- মিথ্যা উক্তি।

অপহত- নিহত, বিনষ্ট। বিনাশপ্রাপ্ত।

অপাঙক্তেয়- এক পঙিক্ততে বসার যোগ্য নয় এমন, জাতিচ্যুত, একঘরে।

অপাঙ্গ- চোখের কোণ, আড়চোখ, কটাক্ষ।

অপান- অধোবায়ু, নিন্মগামী বায়ু।

অপার- পার বা কুল নেই এমন, পারহীন, অকূল, অসীম।

অপিচ- আরও, অধিকন্ত, পক্ষান্তরে, তবুও, তথাপি।

অপ্রতিভ- অপ্রস্তুত, হতবুদ্ধি, বিব্রত, লজ্জিত।

অপ্রতিম- তুলনাহীন, তুলনা নেই যার, প্রতিমা বা সদৃশ নেই যার।

অপ্রতুল- অপ্রাচুর্য, অভাব, অনটন।

অপ্সরা- অপ্সরী, সুরসুন্দরী, স্বর্গের বারাঙ্গনা।

অবকাশ- বিরাম, ফুসরত, অবসর, ফাঁক, ছুটি।

অবতার- জীবদেহ ধারন করে দেবতার পৃথিবীতে অবতরন।

অবদ্ধ- বাধা নয় এমন।

অবধি- সেই হতে, জন্মাবধি, সীমা, অন্ত।

অবধূত- শৈব সন্ন্যাসী, সংসারত্যাগী, তান্ত্রিক।

অবনত- নিচু, নত, আনত, পতিত, অবনতি, অধোগতি।

অবনী- পৃথিবী, ভূমি, ভূতল, ধরণীতল।

অবন্তি- মালব প্রদেশ, মালবের রাজধানী, উজ্জয়িনী, বিক্রমাদিত্যের রাজধানী।

অবভাস- প্রকাশ, দীপ্তি, ছল।

অবয়ব- শরীরের অঙ্গ।

অবরোহ- নিচে নামা, অবতরন।

অবর্ণ- নিচু জাতি।

অবলুপ্ত- লোপ পেয়েছে এমন।

অবশী- ইন্দ্রিয়পরায়ন, নিজেকে বশ রাখতে পারে না এমন।

অবসন্ন- অবসাদগ্রস্ত, ক্লান্ত, শ্রান্ত।

অবাঙ মানস গোচর- ভাষা ও বোধের অগোচর।

অবাক্সমুখ- নীচের দিকে মুখ করা এমন।

অবাঞ্ছিত- যা চাওয়া হয়নি এমন।

অবাত- বায়ুশুণ্য, বাতাস নেই এমন।

অবান্তর- অপ্রাসঙ্গিক।

অবারিত- বারন করা হয়নি এমন, অবাধ।

অবারিত- বারন করা হয়নি এমন, মুক্ত, অবাধ।

অবিকল্প- যার কোনো বিকল্প নেই।

অবিকার- বিকারহীন, পরিবর্তনহীন, রাগদ্বেষহীন।

অবিকৃত- অমিশ্র, বিশুদ্ধ, বিকৃত হয়নি এমন।

অবিচল- অবিচলিত, চঞ্চল নয় এমন, স্থির, দৃঢ়।

অবিতথ- সত্য, যথার্থ, মিথ্যা নয় এমন।

অবিদিত- অজানা, জানা নেই এমন।

অবিনীত- বিনীত নয় এমন। উদ্ধত।

অবিপ্লুত- ধ্বংস হয়নি এমন। অক্ষত।

অবিভক্ত- ভাগ হয়নি এমন।

অবিভাজ্য- ভাগ করা যায় না এমন।

অবিমিশ্র- মিশ্রিত নয় এমন।খাটি। বিশুদ্ধ।

অবিমৃশ্য- অবিবেচক, হঠকারী।

অবিরত- বিরামহীন, অবিশ্রান্ত, ক্রমাগত, একটানা, সতত, অনবরত।

অবিরল- বিরামহীন, ফাঁকহীন, নিরন্তর, অজ¯্র, অবিরত। অবিরাম।

অবিশঙ্ক-শঙ্কাহীন, ভয়হীন, নির্ভীক।

অবিহিত- অবৈধ, অশাস্ত্রীয়, অনুচিত।

অবীর- বীরত্বহীন, নির্বীর্য, বীরশূন্য।

অবেলা- বিকাল, দিনশেষ, অশুভ সময়।

অজ্ব- পদ্ম, চাঁদ, জলে জন্মায় এমন, জলজ।

অব্দি- সমুদ্র, সমুদ্রকে জয় করেছে এমন। সমুদ্রের তীরভূমি।

অব্যক্ত- প্রকাশ করা হয়নি এমন, অস্পষ্ট, অজ্ঞাত, পরমাত্মা।

অব্যয়- ক্ষয় নেই এমন, অবিনাশী, লয়হীন।

অব্যর্থ- কখনো ব্যার্থ হয় না এমন, অমোঘ।

অব্রত- ব্রত গ্রহন করেনি এমন, ব্রতহীন, উপনয়ন হয়নি এমন।

অভয়- ভয়হীনতা, নির্ভীকতা, সাহস, আশ^াস, বরাভয়, ভয়নাশক।

অভাজন- দীন, দুঃখী, গুণহীন, অযোগ্য।

অভাবিত- অভাবনীয়।

অভিকর্ষ- ভূকেন্দ্রাভিমুখে জড় পদার্থের আর্কষণ।

অভিখ্যা- নাম, সংজ্ঞা, খ্যাতি, উপাধি, শোভা। অভিধা।

অভিঘাত- আঘাত, সজোরে আঘাত।

অভিচার- তান্ত্রিক মতে অন্যের অনিষ্ট সাধন।

অভিজিত- বিজয়ী, নক্ষত্রবিশেষ।

অভিপন্ন- বিপদে পড়েছে এমন।

অভিপ্রায়- ইচ্ছা, উদ্দেশ্য, মতলব, অভিসন্ধি। অভিলাষ। অভীষ্ট।

অভিভূত- বিহ্বল, আবিষ্ট, আচ্ছন্ন।

অভিরত- অত্যন্ত আসক্ত। অনুরক্ত।

অভিরুপ- মনোরম, অপরুপ, প্রীতিকর, অনুরুপ, বিদ্বান, শিব।

অভিসন্তাপ- গভীর মনস্তাপ। গভীর দুঃখ।

অভিসার- প্রিয়মিলনের জন্য গমন, গোপন অভিযান, অভিসারিকা, অভিসারিণী।

অভী- নির্ভীক, ভয়হীন।

অভেদ- একই, সাদৃশ্য, একাত্মা, অভিন্ন, ঐক্য।

অভ্যাগত- অতিথিরুপে আগত, অথিথি, নিমন্ত্রিত।

অভ্যুদয়- উদ্ভব, প্রকাশ, উন্নতি, প্রকাশিত।

অভ্র- আকাশ, মেঘ। মেঘের ছায়া। আকাশের মতো নীল- অভ্রনীল।

অভ্র- অভ্রচ্ছায়া, অভ্রনীল, অভ্রক, অভ্রধাতু, আভ, অভ্রভেদী।

অভ্রপুষ্প- বেতস গাছ, বেত গাছ, আকাশকুসু, অলীক কল্পনা।

অমৎসর- হিংসাশুণ্য, পরশ্রীকাতরতা নেই এমন।

অমতি- দুর্মতি।

অমরতরু- পারিজাত, মন্দার, কল্পবৃক্ষ, সন্তানবৃক্ষ, হরিচন্দন-স্বর্গের এই পাচটি বৃক্ষ।

অমরা- অমরাবতী, স্বর্গ, ইন্দ্রপুরী, দেবগনের বাসস্থান।অমরালয়।

অমর্ত্য- মর্ত্যরে নয় এমন, স্বর্গীয়, অপার্থিব।

অমাত্য- মন্ত্রী, যিনি পরামর্শ বা মন্ত্রনা দেন যিনি।

অমা- অমানিশা, আধার, অন্ধকার, রাত, রাত্রি।

অমানী- অহংকার বা অভিমান নেই এমন।

অমায়িক- অকপট, সরল, স্নেহশীল, নিরহংকার, ভদ্র, আন্তরিকতাপূর্ণ।

অমিত- পরিমিত নয় এমন, প্রচুর, অত্যাধিক, সীমাহীন, অসীম।

অমিতাভ- যার অমিত আভা বা জ্যোতি। বুদ্ধদেব।

অমিয়- অমৃত।

অমোঘ- ব্যার্থ হয় না এমন, অব্যর্থ, সার্থক।

অম্বর- সুগন্ধিদ্রব্য, ধুপের মতো দাহ্য বস্তু। অম্বুরী।

অম্বু- জল থেকে জন্মায় এমন, পদ্ম, শঙ্খ, পদ্মিনী, লক্ষী, মেঘ।

অম্লান- ম্লান হয়নি এমন, অমলিন, প্রফুল্ল, দ্বিধাহীন, কুন্ঠাহীন।

অয়ন- পথ, ব্যূহপথ, ভূমি, গৃহ, সূর্যের পতিপথ।

অয়ি- স্ত্রীলিঙ্গে ভক্তি প্রেমে বা স্নেহসূচক সম্বোধন।

অযুত- দশ হাজার, যুক্ত নয় এমন।

অরণি, অরণী- যে কাঠের ঘর্ষণে আগুন জ্বলে, চকমকী পাথর।

অরণ্য- বন, জঙ্গল।

অরবিন্দ- পদ্ম, লালপদ্ম, নীলপদ্ম।

অরি- অরাতি, শত্রু, রিপু, ছয় রিপু।

অরিত্র- নৌকার হাল বা দাঁড়।

অরুন্তুদ- মর্মভেদী, মর্মান্তিক।

অরুন্ধতী- সপ্তর্ষিমন্ডলের দ্বারা বেষ্টিত ক্ষীন নক্ষত্রবিশেষ।

অরুপ- রুপ নেই এমন, রুপহীন, আকার নেই এমন, নিরাকার।

অর্ক- সূর্য, কিরণ, রশ্মি, স্ফটিক, চন্দন।

অর্গল- দরজার খিল, হুড়কো, অর্গলিত।

অর্ঘ- মহার্ঘ, পূজা, পূজার উপকরন। অর্চনা।

অর্চনা- পূজা।

অর্থী- অভিলাষী, চায় এমন।

অর্বাচীন- নবীন, অপ্রাচীন, আধুনিক, নবীনতা।

অর্হ- যোগ্য, পূজ্য, পূজনীয়।

অর্হত- বুদ্ধ, নির্বাণের উপযুক্ত বৌদ্ধ বা জৈন সন্ন্যাসী।

অলক- কোঁকড়ানো চুলের গুচ্ছ, কুঞ্চিত চুল, চুলের গুচ্ছ।

অলক নন্দা, অলোকনন্দা- স্বর্গের নদী, গঙ্গোত্রীর কাছে গঙ্গার নাম।

অলক্ত, অলক্তক- আলতা, লাক্ষারস, অলক্ত-রাগ, আলতার দাগ।

অলখ- দৃষ্টির অগোচর, নজরে আসে না এমন।

অলখিতে- অলক্ষিতে, অজ্ঞাতসারে।

অলঙ্ঘন- যা লঙ্ঘন করা যায় না, অলঙ্ঘ্য।

অলি- ভ্রমর, ভোমরা।

অলিঞ্জর- মাটির তৈরী বড় পাত্র, জালা।

অলীক- অসত্য, মিথ্যা, অমূলক, ভিত্তিহীন, অসার।

অলোক- নির্জন, লোকজন নেই এমন, অদৃশ্য।

অলোক সুন্দর- মনুষ্যলোকে দুর্লভ এমন সুন্দর।

অশনি- বজ্র, বাজ, বজ্রপাত।

অশরীরী- শরীর নেই এমন, দেহহীন, প্রেতাত্মা।

অশিব- অকল্যাণ, অমঙ্গল, অশুভ।

অশীতি- আশি, আশিসংখ্যক।

অশ্রুত- শোনা যায়নি এমন।

অসপত্ন- শত্রুহীন, নিষ্কন্টক।

অসম- সমান নয় এমন। অসমান, অন্যরকম, অসমতল।

অসমীচীন- অনুচিত, অসংগত, অন্যায়, অনুপযুক্ত।

অসহ- অসহিষ্ণু, অসহ্য, সহ্য করা যায় না এমন।

অসাজন্ত- অসজ্জিত, অশোভন, বেমানান।

অসাম্য- সাম্যতার অভাব, অসমতা, অমিল, একতার অভাব।

আসার- তুচ্ছ পদার্থ, বাজে, মিথ্যা।

অসি- তরবারি, তরোয়াল, অস্ত্রবল।

অসিত- কৃষ্ণবর্ণ, কালো। শ্যামল, কালো রঙের।

অসিতোপল- নীলকান্তমনি, নীলা।

অসু- প্রাণ, প্রাণবায়ু, জীবন।

অসুসার- অসুবিধা, অস্বস্তি, অস্বাচ্ছন্দ্য।

অসৃক- রক্ত।

অস্ত- কাল্পনিক পর্বতবিশেষ, অস্তাচল, শেষ, অবসান, হৃতগৌরব।

অস্তি- বিদ্যমানতা, স্থিতি, সত্তা, থাকা, হাস্তি।

অস্তোদয়- সূর্যের অস্ত বা উদয়। অস্তগমন।

অস্ত্যান- নিন্দা, তিরষ্কার।

অস্থান- মন্দ স্থান, খারাপ জায়গা।

অস্থাবর- স্থানান্তরযোগ্য, যা সরানো যায়।

অস্বামিক- প্রভূ বা মালিক নেই এমন।

অস্মার- বিস্মৃতি, ভুলে যাওয়া, স্মৃতিভ্রংশ।

অস্মিতা- অহংকার, নিজের সম্পর্কে গর্ব। আমিত্ব।

অহং-অহম- আমি, আমিত্ব, আমিত্বভাব, আমিত্ববোধ, আমিসত্তা।

অহমিকা- অহংকার, গর্ব, দম্ভ।

অহর্নিশি- দিনরাত, সতত, প্রতিনিয়ত।

অহি- সাপ। অহি-নকুল= সাপ বেজি।

কটর- অভিনেতা।

আইচ- পুষ্পবৃক্ষবিশেষ, আচ গাছ ও তার ফুল।

আওড়- নদীর ঘূর্ণি, জলের আবর্ত বা ঘূর্ণি।

আওতা- রোদের আড়াল।

আওরত- নারী, স্ত্রীলোক।

আঁক- চিহ্ন, দাগ, রেখা।

আঁখি- নিদ্রাহীন আঁখি, চোখের জল, দৃষ্টিপাত, চোখের পাতা।

আঁচ- আন্দাজ, অনুমান, ধারনা।

আঁজল- অঞ্জলি, গন্ডুষ, হাতের কোষ, অঞ্জলি পরিমান।

আঁত- অন্তর, হৃদয়, নাড়ি।

আঁতাঁত- সদ্ভাব, সহযোগিতা, মৈত্রী।

আঁতুড়- সূতিকাগার, সন্তানপ্রসব গৃহ।

আঁতেল- পন্ডিত বিদ্বান বা বুদ্ধিজীবীর ধরণধারণবিশিষ্ট ব্যক্তি।

আঁধার- অন্ধকার, আলোকের অভাব, নিরালোক।

আঁধি- আঁন্ধি- ঝড়ো হাওয়া যাতে ধুলা ও অন্ধকার সৃষ্টি হয়, ঝড়।

আঁসু- চোখের জল, অশ্রু।

আঁস্তাকুড়- উচ্ছিষ্ট বা আবর্জনা ফেলবার স্থান।

আক ছার- হামেশা, প্রায়ই, সর্বদা, সচরাচর।

আকণ্ঠ- কণ্ঠ পর্যন্ত, গলা পর্যন্ত, কণ্ঠ অব্দি ডুবে আছে এমন।

আকন্দ- অকর্, গাছবিশেষ ও তার ফুল।

আকবাত- পরকাল।

আকবরি- বাদশাহ আকবরের নামাঙ্কিত মোহর।

আকর- খনি, উৎপত্তিস্থান, আধার, পাত্র।

আকর্ণ- কান পর্যন্ত, টানা চোখ।

আকর্ণন- শ্রবন, শোনা।

আকস্মিক- হঠাৎ, অপ্রত্যাশিত।

আকালিক- অকালে বা অসময়ে উৎপন্ন।

আকিঞ্চন- দৈন্য, নিঃস্বতা, বিনীত কামনা, আকাঙ্খা, আগ্রহ, চেষ্টা।

আকীর্ণ- ছড়ানো, বিক্ষিপ্ত, বির্স্তীণ, পূর্ণ।

আকুতি- আকুলতা, আকুল প্রার্থনা, অভিপ্রায়, মনের ইচ্ছা বা কামনা।

আকু-পাংচার – শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুঁচ ফুটিয়ে রোগ সারানো চৈনিক পদ্ধতি।

আক্রম- আক্রমন, বলপূর্বক অতিক্রম, বিক্রম।

আক্রা- দুর্মূল্য, মহার্ঘ, অত্যন্ত দামী।

আক্লান্ত- অতিশয় ক্লান্ত।

আক্ষিপ্ত- নিক্ষিপ্ত, বিক্ষিপ্ত, যা ছোড়া হয়েছে এমন।

আখবার- খবরের কাগজ।

আখা- উনুন, চুল্লি।

আখ্যা- সংজ্ঞা, নাম, উপাধি।

আগড়-বাগড়- নানারকম বাজে জিনিস।

আগড়ম বাগড়ম- অর্থহীন অপ্রয়োজীয় বা অসংলগ্ন কথা।

আগত- এসেছে এমন।

আগম- তন্ত্রশাস্ত্র, বেদ, আগমন, অন্তঃশ^সন যন্ত্র।

আগম বাগীশ-আগম বেদী- আগম শাস্ত্রে অর্থাৎ বেদাদী শাস্ত্রে অভিজ্ঞ।

আগর- শ্রেষ্ঠ, প্রধান, উৎকৃষ্ট।

আগল- খিল, হুড়কো, বেড়া, ঝাপ।

আগাম- অগ্রিম।

আগার- থাকবার জায়গা, গৃহ, আলয়, ভান্ডার।

আগি- আগুন, বহ্নি।

আগু- গোড়া, সামনের দিকে, অগ্রবর্তী, অগ্রসর।

আগুল্ফ- গোড়ালী পর্যন্ত।

আঘ্রাণ- গন্ধ গ্রহন, গন্ধ নেয়া, শোঁকা।

আঙ্কিক- অঙ্ক সম্বন্ধীয়, অঙ্কে পারদর্শী এমন।

আঙ্গার- কয়লা, পোড়া কাঠ।

আচকা-হঠাৎ, আকস্মাত, আচমকা। আচম্বিত।

আচকান- পুরুষদের পরিধেয় শেরওয়ানী জাতীয় লম্বা জামাবিশেষ।

আচমন- পূজার কাজ শুরু করার আগে জল দিয়ে বিধিমতো দেহশুদ্ধি।

আচ্ছিন্ন- ছিন্ন করা হয়েছে এমন।

আজন্ম- জন্ম থেকে শুরু করে।

আজানু- হাটু পর্যন্ত। লম্বিত।

আজার- রোগ, অসুস্থ, আজারি, রোগী।

আজু- আজ।

আজ্ঞা- আদেশ।

আঞ্জনেয়- হনুমান, অঞ্জনার পুত্র।

আঞ্জাম- বন্দোবস্ত, নির্বাহ, সরবরাহ।

আঞ্জুমান- সভা, সমিতি, মজলিশ।

আড়- আড়াল।

আড়ম্বর- জাঁকজমক,ঘটা, সমারোহ। রণবাদ্য।

আড়ষ্ট- অসাড়, জড়, অস্বচ্ছন্দ।

আড়ানা- কানাড়া গোষ্ঠীর রাগিণী, যা রাত্রির দ্বিতীয় প্রহরে গাওয়া হয়।

আতত- বিস্তৃত, প্রসারিত, সজ্জিত, প্রসার।

আতপ- সূর্যকিরণ, রোদ।

আতপত্র- ছাতা।

আত্মীকরন- দেহের অঙ্গীভূত করা।

আত্মহুতি- নিজেকে আহুতি দেয়া। নিজের জীবন বিসর্জন।

আত্মিক- হৃদয় ঘটিত। হার্দ্য।

আত্মোপম- নিজের মতো।

আত্যান্তিক- অত্যাধিক, খুব বেশি, অশেষ।

আদত- আসল, খাটি, প্রকৃত, সমগ্র।

আদমি- মানুষ, ব্যক্তি, লোক।

আদল- সাদৃশ্য, আভাস।

আদান- গ্রহন করা।
আদিখ্যেতা- বাড়াবাড়ি, ভান, ন্যাকামি।

আদিগন্ত- দিগন্ত পর্যন্ত।

আদিত্য- দেবতা।

আদ্য- আদিম, প্রথম।

আদ্যা- আদিভূতা, প্রকৃতি, মহামায়া, পরমেশ^রী।

আদ্যোপান্ত- প্রথম থেকে শেষ।

আধার- যে ধারন করে। আশ্রয়।

আধি- মানসিক পীড়া, দুশ্চিন্তা। মনঃপীড়া।

আধিকারিক- অধিকার সম্পর্কিত, যার অধিকার আছে।

আধূত- ঈষৎ কম্পিত।

আধৃত- গৃহিত, আশ্রয় দেয়া হয়েছে এমন।

আন- অন্য, ভিন্ন, আলাদা।

আনক- ঢাক, ভেরী, মৃদঙ্গ, শব্দযুক্ত মেঘ।

আনকা- নতুন, অভিনব, অদ্ভুত, অপরিচিত।

আনকোরা- সম্পূর্ন নতুন, টাটকা, অমলিন, অব্যবহৃত।

আনত- অবনত, ঈষত নত, প্রণত।

আনদ্ধ- চামড়া দিয়ে মুখ বন্ধ করা বাদ্যযন্ত্র যেমন মৃদঙ্গ, ঢোল, তবলা।

আনন- মুখ।

আনন্ত্য- অনন্তের ভাব, অসীমতা, অন্তহীনতা।

আনয়ন-নিয়ে আসা।

আনহি- অন্যপ্রকারে, অন্যত্র।

আনাড়ি- অপটু, অনভিজ্ঞ, মুর্খ।

আনীত- আনা হয়েছে এমন।

আনীল- ঈষত্ নীল, নীলাভ।

আনুপূর্বিক- পরম্পরা অনুযায়ী, ক্রম অনুযায়ী।

আনূপ- জলময়। জল ভালোবাসে এমন।

আনোখা- অচেনা, অপরিচিত। বেঠিক।

আন্তর- অন্তর বা মন সংক্রান্ত। আন্তরিক, মনোগত।

আন্তরীক্ষ, আন্তরিক্ষ- আকাশ সম্বন্ধীয়, আকাশ থেকে আগত।

আপ- নিজে, আপনি। আপন।

আপণ- বিপণি, দোকান, হাট।

আপন্ন- আপদগ্রস্ত, বিপন্ন।

আপামর- সকলে, কাউকে বাদ না দিয়ে, উচ্চ নিচ নির্বিশেষে।

আপেক্ষিক- তুলনামুলক, অপেক্ষাকৃত, সাপেক্ষ।

আপ্ত- প্রাপ্ত, লব্ধ, পাওয়া গেছে এমন। অভ্রান্ত, প্রামানিক। আপন। নিজের।

আপ্লব- প্লাবিত, অবগাহন, স্নান।

আপ্লুত- সম্পূর্ণ সিক্ত, স্নাত।

আফতাব- সূর্য।

আব – বল।

আবছা, আবছায়া- অস্পষ্ট প্রকাশ, আভাস, ছায়ার মতো।

আবরু- মর্যাদা, সম্ভ্রম, শ্লীলতা, ইজ্জত,পর্দা, আবরণ, চোখের পর্দা।

আবর্ত- ঘূর্ণন, আলোড়ন, পরিক্রমন, ঘূর্ণিপাক, আবর্তন।

আবলুস- কঠিন কালো কাঠবিশেষ।

আবহ- বহন করে বা বয়ে আনে এমন, সংগীত, নেপথ্য।

আবাহন- মন্ত্র দ্বারা দেবতাকে আমন্ত্রন, দেবতাকে আবির্ভাবের জন্য আহ্বান।

আবির- রং মেশানো অভ্রের চূর্ণ, সিদুর।

আবিল- কলুষিত, পঙ্কিল, ঘোলা, অস্বচ্ছ।

আবীত- আবৃত, ঢাকা, পরিহিত। উপবীত, যজ্ঞসূত্র, পইতে। পৈতা।

আবেশ- বিহ্বলতা, ভাবাবেগ, অনুরাগ, আচ্ছন্নতা।

আব্রহ্ম- ব্রহ্ম থেকে শুরু করে সামান্য পর্যন্ত, সব।

আভরণ- ভূষণ, অলংকার, গয়না।

আভা- দীপ্ত, প্রভা, চাঁদের আলো।

আভোগ- সংগীতের শেষ ভাগ, উপভোগ, পূর্ণতা, বিস্তার।

আমূল- মূল পর্যন্ত বিস্তৃত, সম্পূর্ন। আগাগোড়া।

আয়ত- বিস্তৃত, চওড়া, টানাটানা।

আয়ুধ- অস্ত্র, অস্ত্রশস্ত্র, প্রহারের যন্ত্র।

আয়েন্দা- ভবিষ্যত, আগামী সময়।

আরক্ত- ঈষত রক্তবর্ণ, রক্তাভ। আরক্তিম।

আরণ্য- আরণ্যক- বন্য, বনজাত, অরণ্যসম্বন্ধীয়।

আরতি- গভীর আসক্তি, একান্ত অনুরাগ, পূজা, আরত্রিক,দেবমুতি বরন।

আরশি- আর্শী- আয়না, দর্পণ।

আরুঢ়- আরোহন করেছে এমন। অধিষ্ঠিত।

আরোপ- অধ্যাস, এক বস্তুতে আরেক বস্তুর গুন আরোপ। অর্পণ। স্থাপন।

আর্তি- যন্ত্রনা, কাতরতা, পীড়া, দুঃখ।

আর্দ্র- ভেজা, সজল, নরম।

আর্য- আর্যাবর্তের সম্মানিত ব্যক্তি, গুরুজন, মান্য।

আর্হত- অর্হৎ, জৈনধর্মসম্বন্ধীয়, বুদ্ধবিশেষ, জৈন।

আল্পনা- আলপনা- পূজার মন্ডপ, দেবস্থান, মঙ্গলচিত্র।

আলবত- অবশ্যই, নিশ্চয়ই।

আলম্ব- আলম্বন, অবলম্বন, আশ্রয় নেয়া।

আলয়- বাড়ি,গৃহ।

আলিহিয়া বিলাবল- সংগীতের প্রাতঃকালীন রাগবিশেষ।

আলুলিত- আলুলায়িত- এলোমেলো।

আলেয়া- প্রহেলিকা, মিথ্যা মায়া।

আলোয়ান- গায়ের গরম চাদর।

আশক- আশেক- প্রেমিক, প্রণয়ী।

আশকারা- প্রশ্রয়।

আশাবরি- সংগীতের প্রাতঃকালীন রাগিণীবিশেষ।

আশিস- আশীর্বাদ।

আশী- সাপের বিষদাত। যার দাতে বিষ থাকে।

আশু- দ্রুত, সত্ত্বর, শীঘ্র, অবিলম্বে।

আশোয়ার- অশ্বারোহী যোদ্ধা।

আসক্ত- অনুরক্ত, অনুরক্তি, প্রবণতা, লিপ্ততা।

আসা- লাঠি, রাজদন্ড।

আসিক্ত – ভেজা, সিক্ত।

আসুর – অসুরসম্বন্ধীয়, আসুরিক।

আস্ত – সমগ্র, সব, গোটা, অভগ্ন, সমুদয়, প্রকৃত, পুরোপুরি।

আস্তীর্ণ – বিছানো, প্রসারিত, সমাকীর্ণ, ছাওয়া, আস্তৃত।

আস্য – মুখ।

আহুত – আহুতি, হোমের সামগ্রী।

আহূত – নিমন্ত্রিত।

আহৃত – সংগৃহীত, সঞ্চিত, আয়োজিত।

আহেলি – খাঁটি, নতুন, আনকোরা।

আহ্নিক – নিত্য বন্দনা, উপাসনা, দৈনিক, প্র্রাত্যহিক।

ইনকার – অস্বীকার, অগ্রাহ্য করা।

ইনকিলাব – বিপ্লব, আমূল পরিবর্তন।

ইনসলভেন্ট – দেউলিয়া।

ইনাম – পুরষ্কার, বখশিশ।

ইন্তাজার – অপেক্ষা, ইন্তেজার।

ইন্তিজাম – ব্যবস্থা, সুব্যবস্থা।

ইন্দু – চাঁদ, সুধাকর, চন্দ্রমুখী, চাঁদের মতো মুখ, শিব।

ইমন – সংগীতের রাত্রকালীন রাগ।

ইরাবান – সমুদ্র।

ইলশে-গুড়ি – গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি।

ইল্লত – নোংরামি, কলঙ্ক, কলুষ।

ইস্তামাল – ব্যবহার, অভ্যাস, অনুশীলন।

ইস্তাহার – বিজ্ঞপ্তি, প্রচার পত্র, বিজ্ঞাপন।

ঈপ্সা – লোভ।

ঈশান – শিব, মহাদেব, উত্তর পূর্ব কোণ।

ঈশিতা – ঈশিত্ব, ঈশ্বরত্ব, ঈশ্বরের মহিমা। প্রভূত্ব।

উচাটন – উৎকন্ঠা, ব্যাকুলতা।

উচ্চকিত – উদ্বিগ্ন, উৎকন্ঠিত, চমকিত।

উচ্ছল – দোলায়িত, প্রাণবন্ত। উছল, উদ্বেলিত, উচ্ছসিত।

উচ্ছিন্ন -উৎপাটিত, উন্মূলিত, বিনাশপ্রাপ্ত।

উজবুক – মূর্খ, আহাম্মক।

উজ্জীবন – নবজীবনসঞ্চার, উজ্জীবিত করা। চেতনাদীপ্ত করা। সঞ্জীবিত।

উটজ – পর্ণকুটির, কুঁড়েঘর।

উড়ন-চন্তী – অপব্যয়ী, অমিতব্যয়ী।

উতকীর্ণ – খোদাই করা হয়েছে এমন।

উতরোল – অশান্ত, বিক্ষুব্ধ, কোলাহল, গন্ডগোল।

উতল – ভাবাবেগে আকুল, চঞ্চল, উতলা।

উত্তরঙ্গ – তরঙ্গময়, তরঙ্গবিক্ষুব্ধ। উথল, স্ফীত, উচ্ছলিত।

উত্তরা – পার হওয়া, উপনীত হওয়া।

উত্তরীয় – উড়ানি, চাদর।

উত্তরোত্তর – পরপর, ক্রমশ, ক্রমাগত।

উত্তুঙ্গ – অতি উঁচু।

উদগ্র – তীব্র, সুউচ্চ, উর্ধ্বাভিমুখ।

উদগত – উদ্ভূত, উৎপন্ন। উদ্ভব, উত্থান, উদয়, নির্গত, উদ্গম, উদ্গত।

উদম – উলঙ্গ, দুরন্ত, উদ্দাম, মুক্ত।

উদয় – উদয়ন, উদ্রেক, প্রকাশ, উৎপত্তি।

উদলা – অনাবৃত, নগ্ন।

উদাত্ত – মহান, গম্ভীর, গাঢ়। উদার, উচ্চ, বদান্য, উদারচিত্ত।

উদাস – উদাসিন, আসক্তিহীন, আকুল, এলোমেলো।

উদীচী – উত্তর দিক।

উদীর্ণ – উদ্গত, নির্গত, উৎপন্ন।

উদো – নির্বোধ, কান্ডজ্ঞানহীন।

উদ্দীপ্ত – জ্বলে উঠেছে এমন। প্রজ্বলিত, জ্বলন্ত, আলোকিত, উত্তেজিত, অনুপ্রাণিত।

উদ্বন্ধন – গলায় দড়ি বাধা, ফাঁসির দড়ি।

উদ্বর্ত – উদ্বৃত্ত, অতিরিক্ত।

উদ্বাস্তু – বাসভূমি থেকে বিচ্যুত।

উদ্বাহু – উর্ধ্ববাহু, হাত উঁচু।

উদ্ভাস – প্রকাশ, বিকাশ, দীপ্তি, শোভা। উন্মীলন, উন্মেষ।

উন-পাঁজুরে – পাঁজর দুর্বল যার, দুর্বলচেতা, হতভাগ্য।

উন্নদ্ধ – উর্ধ্বে বদ্ধ।

উন্নাসিক – অবজ্ঞায় নাক উঁচু এমন, সব কিছুকেই তুচ্ছ করে এমন।

উন্নিদ্র – বিনিদ্র, নিদ্রাহীন।

উন্নেতা – উন্নতকারী।

উন্মগ্ন – ডুবজল থেকে উত্থিত, ভেসে আসা।

উনমন – উন্মনা, উদাস।

উপগত – সমাগত, উপস্থিত, জ্ঞাত।

উপচার – পূজোর সামগ্রী।

উপচ্ছায়া – অপচ্ছায়া, অনিষ্টকর ছায়া।

উপদ্রূত – বিপন্ন, অত্যাচারিত।

উপনয়ন – গুরুর কাছে আনা। যজ্ঞোপবীত ধারনের সংস্কার।

উপপত্তি – যুক্তি, প্রমাণ, মীমাংসা, সমাধান।

উপরম – নিবৃত্তি, বৈরাগ্য, সমাপ্তি।

উপল – শিলা, প্রস্তর, পাথরের টুকরো, মূল্যবান পাথর।

উপাংশু – একান্তে, নির্জনে।

উপাখ্যান – কাল্পনিক কাহিনী, রুপকথা। পুরাকাহিনী।

উপাগত – সমীপে বা নিকটে আগত, উপস্থিত। উপাগম।

উপাত্যয় – নিয়ম লঙ্ঘন, মৃত্যু।

উপার্থন – সম্মতি, রাজি হওয়া, প্রার্থনা।

উপেত – সংযুক্ত, মিলিত, সম্মুখে আগত।

উপোষণ – উপবাস, অনাহার, অভুক্ত, উপবাসী।

উপ্ত – বপন করা হয়েছে এমন।

উমদা – চমৎকার, সুন্দর, পছন্দসই।

উমর – বয়স।

উমা – হিমালয় ও মেনকার কন্যা, পার্বতী, দুর্গা, গৌরী।

উমেদ – আশা, আকাঙ্খা, প্রত্যাশা।

উমেশ – উমার স্বামী বা শিব।

উরস – বক্ষস্থল, বুক।

উর্দি – সেনাবাহিনীর নির্দিষ্ট পোষাক।

উর্বশী – সুন্দরী শ্রেষ্ঠা ও অনন্তযৌবনা অপ্সরাবিশেষ।

উলু – মঙ্গলধ্বনিবিশেষ, হুলুধ্বনি।

উল্কা – বায়ব্য আলোক।

উল্বন – তীক্ষœ, প্রচন্ড।

উল্লম্ব – খাড়া, খাড়াভাবে রয়েছে এমন।

উল্লুক – নির্বোধ, অভদ্র, বেকুব।

উল্লোল – বৃহৎ তরঙ্গ, বিরাট ঢেউ।

উষসী, ঊষসী – উষা, প্রভাতকাল। প্রভাতি, সুন্দরী, রুপবতী।

উষ্ণীষ – পাগড়ি, কিরীট।

উর্ণনাভ – মাকড়সা।

ঊর্মি – ঢেউ, তরঙ্গ। উর্মিল।

ঊষর – অনুর্বর।

ঋক – নক্ষত্র, প্রাচীন পর্বত, ভল্লুকরাজ জাম্ববান। চন্দ্র।

ঋজু – সোজা, সরল, অবক্র, অকপট, সহজ, সরল।

ঋত – সত্য, পরম সত্য, পরব্রহ্ম, দীপ্ত।

ঋতি – গতি, গমন, পথ।

ঋত্বিক – পুরোহিত, যাজক।

ঋদ্ধ – ঐশ্বর্য্যশালী, গুণশালী, সমৃদ্ধি, উন্নতি।

ঋভু – দেবতা, দেবত্বপ্রাপ্ত মানুষ।

একরার – স্বীকার, কবুল। প্রতিজ্ঞা।

একহারা – ছিপছিপে, কৃশ, রোগা।

একাত্মবাদী – এককবাদী।

একান্তর – একটির পর একটি করে বাদ দেয়া হয়েছে এমন।

এক্সচেঞ্জ – বাণিজ্যসংক্রান্ত বিনিময়।

এক্সপ্রেস – দ্রুতগামী রেলগাড়ী বা অন্য গাড়ী।

এনকোর – বাহবা।

এনতার, এন্তার – অজস্র, প্রচুর, দেদার, অবিরাম।

এসরাজ, এস্রাজ – সেতার ও সারেঙ্গির মিশ্রনে তৈরী ছড়ি দিয়ে বাজানোর তারযন্ত্র।

এসেন্স – গন্ধসার, সেন্ট, তরল সুগন্ধদ্রব্য।

এস্টেট – জমিদারি, ভূসম্পত্তি।

ঐক্যতান – সমস্বর, কনসার্ট, সুরের মিলন।

ঐন্দ্রজালিক – ইন্দ্রজালবিদ্যায় পারদর্শী, ইন্দ্রজাল বা জাদু সম্বন্ধীয়।

ঐন্দ্রিয়ক – ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য, প্রত্যক্ষ।

ঐরাবত – সম্রদ্রমন্থনে উত্থিত এবং দেবরাজ ইন্দ্রের বাহন হাতি।

ওজঃ – তেজ, বল, দীপ্তি।

ওজস্বল – দৃপ্ত, বলশালী, বলিষ্ঠ। ওজস্বী। উদ্দিপক, বলবান।

ওয়াপস – ফেরত।

ওর – অন্ত, পার, সীমা।

ওলাইচন্ডী – কলেরা রোগের অধিষ্ঠাত্রী দেবী

ঔজ্জ্বল্য – উজ্জ্বলতা, দীপ্তি, প্রখরতা, চাকচিক্য।

ঔতপাতিক – উৎপাত করে যে, উপদ্রবসূচক।

ঔদরিক – পেটুক, পেটসর্বস্ব।

ঔদ্ধত্য – উদ্ধত আচরণ।

ঔপমিক – উপমাবিষয়ক, উপমা দেয়া হয়েছে এমন।

ঔপল – পাথর সংক্রান্ত।

কংস – শ্রীকৃষ্ণের মামা। দুরাত্মা ।

কটাল, কোটাল – জোয়ার। পূর্ণ জোয়ার।

কড়ঙ্গ – নারকেলমালার ভিক্ষাপাত্রবিশেষ, জলপাত্র বিশেষ।

কড়চা – জীবনী, দিনলিপি। রোজনামচা।

কথক – পাঠক।

কনক – সোনা, স্বর্ণ। কাঞ্চন। স্বর্ণবর্ণ, সোনার তৈরী।

কপনি – কৌপিন, ল্যাঙট।

কপোত – পায়রা, কবুতর, বাজপাখি।

কপোল – গন্ড, গাল।

কবরী – খোঁপা, বেণী, নারীর কেশবিন্যাস।

কমন্ডলূ – সন্যাসীদের ব্যাবহৃদ মাটির বা কাঠের ধাতব জলপাত্র বিশেষ।

কমনীয় – মনোহর, রমনীয়, সুন্দর, বাঞ্ছনীয়, কাম্য। কমনীয়া

কমবখত – হতভাগ্য।

কমরেড – বন্ধু, সহযোগী, আন্দোলনের সাথী।

কমল – পদ্ম, জল, পদ্মের মতো সুন্দর আঁখি।

কমলিনী – পদ্মিনী, রাধা, রাইকমলিনী।

কমলে কামিনী – দুর্গা।

কমিউনিজম – মার্কস প্রবর্তিত সাম্যবাদ।

কর – কিরণ, রশ্নি, হাত।

করিতকর্মা – কর্মকুশল, চৌকস।

কর্ণ – নৌকার হাল, অরিত্র, মাঝি, কান্ডারী।

কলাপ – আভরণ, অলংকার।

কলেবর – শরীর, দেহ।

কল্কি, কল্কী – বিষ্ণুর শেষ বা দশম অবতার।

কল্পতরু, কল্প-দ্রুম, কল্প-বৃক্ষ – কামনাপূরণকারী, দেবতরু, পতিতপাবন।

কল্লোল – শব্দকারী তরঙ্গ, মহাতরঙ্গ, পরমানন্দ, কলরব, কোলাহল।

কসরত – ব্যায়ামের কৌশল, কায়দা।

কহো, কহ – বলো।

কাঁকন – কঙ্কন, স্ত্রীলোকের হাতের অলংকার।

কাকলি – কাকলী, মধূর অস্পষ্ট ধ্বনি, কলধ্বনি।

কাটমোল্লা – জ্ঞানহীন সংকীর্ণমনা মুসলমান পুরোহিত।

কাদম্বর – মদ্যবিশেষ, আখের গুড়। কাদম্বরী

কাদম্বিনী – মেঘপুঞ্জ।

কানন – বন, অরণ্য, উপবন, বাগান।

কানাই – কৃষ্ণ।

কান্ত – স্বামী, কমনীয়, মনোহর, লাবণ্য, শোভা। কান্তি।

কান্তার – নিবিড় অরণ্য, ঘন বন, দুর্গম পথ।

কাপালিক – শ্মশান বাসী বামাচারী তান্ত্রিক। সন্ন্যাসী।

কাপ্তান – জাহাজের অধ্যক্ষ।

কাফ্রি – আফ্রিকান নিগ্রো জাতি।

কাফি – সংগীতের সন্ধ্যাকালীন রাগিনী বিশেষ।

কারিকা – ছন্দোবদ্ধ ব্যাখ্যা, শিল্পকর্ম, কর্মসম্পাদিকা।

কারুণ্য – করুণার ভাব, দয়াগুন, অনুকম্পা।

কালাকাল – সুসময় ও দুঃসময়। শুভ ও অশুভ সময়।

কালাগুরু – কৃষ্ণ।

কালাগ্নি – প্রলয়অগ্নি।

কালতিক্রম, কালাতিপাত, কালাত্যয় – সময়ক্ষেপন, সময়যাপন, সময় কাটানো।

কালান্তক – কালের লোপকারী, প্রলয়ংকর।

কালাপাহাড় – ধর্মান্তরিত হিন্দু ব্রাহ্মন যিনি বহু মন্দির ধ্বংস করেন।

কালিক – সাময়িক, সময়সম্পর্কিত, সময়োপযোগী।

কালিনী – দুঃখিনী, শোকার্তা।

কালিন্দী – যমুনা নদী।

কালিয়া – শ্রীকৃষ্ণ। কালা।

কাসিদ, কাসেদ – দূত।

কিংকর, কিঙ্কর – ভৃত্য, চাকর, অনুচর।

কিঞ্জল – ফুলের কেশর, পরাগ।

কিন্নর – দেবলোকের গায়কজাতি বিশেষ, সুকন্ঠবিশিষ্ট।

কিরীট – মুকুট, শিরোভূষণ।

কিশলয় – নবপল্লব, নতুন পাতাযুক্ত শাখা।

কিসমত – ভাগ্য, অদৃষ্ট, বরাত।

কুঞ্জ – উপবন, লতাবেষ্টিত স্থান, বৈষ্ণবদের আশ্রম।

কুন্ড – গর্ত, কৃত্তিম গহ্বর।

কুন্তল – চুল, কেশ।

কুবলয় – নীলপদ্ম, পদ্মফুল।

কুম্ভ-কর্ণ – ঘুমকাতুরে।

কুরব – বদনাম।

কল-কুন্ডলিনী – দেহামধ্যে বিরাজিত শিবশক্তি।

কুলীন – উচ্চবংশীয়।

কুশপুত্তলিকা – ব্যাক্তির প্রতীকস্বরুপ কুশ দ্বারা নির্মিত মুর্তি।

কুহক – মায়া, ইন্দ্রজাল, ভেলকি, প্রতারণা।

কুহর – গর্ত, গহ্বর, ছিদ্র।

কুহেলিকা – কুহেলী, কুয়াশা, কুজ্ঝটিকা।

কূজন – পাখির ডাক। অব্যক্ত মধূর ধ্বনি।

কৃচ্ছ্র – শারীরিক ক্লেশ, কষ্ট। কষ্টসাধ্য ব্রত।

কৃতাঞ্জলি – যুক্ত কর, দুই হাত জোড় করে অঞ্জলি।

কৃত্ত – কর্তিত।

কেউটে – মারাত্মক বিষধর।

কেতক, কেতকী – কেয়াফুল বা তার গাছ।

কেতন – পতাকা, ধ্বজা, নিশান। কেতু।

কেলি – প্রমোদ, বিহার, ক্রীড়া, কৌতুক।

কেলে – কালো।

কেশব – কৃষ্ণ।

কৈলাস – শিবের বাসস্থান। হিমালয়ের উত্তরস্থ পর্বতবিশেষ।

কোকনদ – লাল পদ্ম, লাল শালুক।

কোড়া – চাবুক, কশা, বেত।

কোদন্ড – ধনুক।

কোপিত – ক্রুদ্ধ, রোষিত, রাগী, ক্রোধী।

কোবিদ – পন্ডিত, দক্ষ, পারদর্শী।

কোয়াক – হাতুড়ে ডাক্তার, অপ্রশিক্ষিত কারিগর।

কোয়েল – কোকিল, কোয়েলা।

কোরক – কুঁড়ি, মুকুল, কলিকা।

কোরাস – সমবেত কন্ঠ বা যন্ত্রসংগীত। সমবেদ ধ্বনি।

কোশিশ – বিশেষ চেষ্টা, প্রয়াস, প্রযতœ।

কোহিনুর – মহামূল্য হীরক বিশেষ। গৌরবস্বরুপ ব্যক্তি।

কৌপিন – কপনি, ল্যাঙট।

কৌমুদি – জোৎস্না, চাঁদের আলো ।

কৌলীন্য – কুলমর্যাদা, কুলীনত্ব, আভিজাত্য।

কৌস্তভ – নারায়ণের বক্ষভূষণ, সমুদ্রমন্থনে প্রাপ্ত সুপ্রসিদ্ধ মণি।

ক্রন্দসী – আকাশ ও পৃথিবী, স্বর্গ-মর্ত।

ক্রন্দিত – রোদনকারী, রুদিত, রোদন।

ক্রান্ত – অতিক্রান্ত, ব্যাপ্ত, সঞ্চারিত, অতীত।

ক্রান্তি – সংক্রমন।

ক্রূর – নির্দয়, হিংস্র, খল, অশুভকর।

ক্লিন্ন – ক্লেদাক্ত, ক্লেদযুক্ত।

ক্লীব – পৌরুষহীন ব্যক্তি, ব্যক্তিত্বহীন পুরুষ, নপুংসক, ভীরু, অক্ষম।

ক্লৈব্য – ক্লীবত্ব, কাপুরুষতা।

ক্ষন্তা – যে ক্ষমা করে।

ক্ষাত্র – যুদ্ধ সম্বন্ধীয়, দেশরক্ষা, সামর্থ্য।

ক্ষান্ত – নিরস্ত, নিবৃত্ত, বিরত।

ক্ষারিত- স্রাবিত, অপবাদগ্রস্ত, দূষিত।

ক্ষিতি – পৃথিবী, মাটি, ভূমি।

ক্ষীরোদ – ক্ষীরসমুদ্র।

ক্ষেত্রী – ক্ষেত্রের মালিক, স্বামী, পতি।

ক্ষেম – শুভ, মঙ্গল, কল্যাণ।

খচরামি – খচ্চরের মতো ব্যবহার। ইতরামি। বদমায়েশি।

খঞ্জন – চঞ্চল স্বভাবের লেজ নাচানো ছোট পাখিবিশেষ। খঞ্জনা।

খঞ্জর – দুই দিকে ধারবিশিষ্ট ছোরা।

খড়গ – খাঁড়া, প্রাণী বলি দেবার তরবারিবিশেষ।

খতরা – বিপদ, ভয়, গোলযোগ।

খত্তাল – কাঁসার তৈরী বাদ্যযন্ত্রবিশেষ।

খদ্দর – হাতে কাটা কার্পাস সুতোয় প্রস্তুত বস্ত্র।

খপুষ্প – আকাশকুসুম, অলীক পদার্থ।

খয়ের খাঁ – স্তাবক, মোসায়েব।

খর – গাধা, অশ্বতর, রামায়ণোক্ত রাক্ষসবিশেষ।

খর্ব – খাটো, বেঁটে, ছোট, হীন।

খাক-সার – দীন সেবক, অকিঞ্চন।

খাকি – ছাই রঙ।

খানে-জাদ – ভৃত্য, দাসীপুত্র।

খাস-নবিশ – রাজা বা জমিদারের নিজস্ব মুনশি বা সচিব।

খিন্ন – খেদযুক্ত, দুঃখিত, ক্লান্ত, অবসন্ন।

খেলাত – রাজদত্ত সম্মানসূচক পোশাক।

খিস্তি – অশ্লীল গালাগালি।

খুবসরত – পরম সুন্দর বা সুন্দরী।

খুশবু – সুগন্ধ, ভালো গন্ধ।

খেদোক্তি – দুঃখপ্রকাশ, কান্নাকাটি।

খেলাপ – অন্যথাচরণ, ব্যত্যয়।

খোর-পোষ – অন্নবস্ত্র।

গনন – আকাশ, নভোমন্ডল।

গঞ্জন, গঞ্জনা – তিরষ্কার করা, লাঞ্ছিত করা। অবজ্ঞা।

গড় – প্রণাম, দন্ডবত হওয়া, প্রণিপাত। প্রণত হওয়া।

গন্ড – গাল, কপোল।

গতায়ু – আয়ু ফুরিয়ে গেছে এমন।

গতাসু – মৃত, যার অসু বা প্রাণ গত হয়েছে।

গত্যন্তর – অন্য গতি বা উপায় ।

গন্ধর্ব – দেবযোনিবিশেষ, স্বর্গের গায়ক শ্রেণি, স্বভাব গায়ক।

গন্ধলি – গাঁদা ফুল।

গবচন্দ্র – নিরেট বোকা। গরুর মতো বোধশক্তি হীন। গবা। গবেট। গর্দভ।

গরজ – স্বার্থ, প্রয়োজন ।

গরব – গর্ব এর কোমল রুপ।

গরিমা – মাহাত্ম্য, গৌরব, গর্ব।

গরুড় – পক্ষিরাজ, বিষ্ণুর বাহন।

গরুত – পাল, নৌকার পাল।

গর্হিত – অতীব নিন্দিত। নিন্দনীয়।

গলিজ – নোংরা, পচা।

গহন – নিবিড়, গভীর, দুর্গম, দুরুহ।

গাং, গাঙ – নদী, বড় নদী।

গাঁথন – রচনা, গঠন, নির্মাণ।

গাগরি – কলসি।

গাণপত্য – গনেশসম্বন্ধীয়, গনেশ পূজক।

গান্ডীব – অর্জুনের ধনুক। গান্ডিব।

গালিচা – কার্পেট, পশুলোমে প্রস্তুত বস্ত্রবিশেষ যা ঘরের মেঝেতে পাতা হয়।

গালিম – বিজয়ী। গালিব।

গিরিশ – মহাদেব, কৈলাস গিরিতে শয়ন করেন বলে। গিরীশ, হিমালয়, শিব।

গীতল – গাওয়ার যোগ্য।

গুণ্ঠন – অবগুণ্ঠন, ঘোমটা, আবরন, বেষ্টন।

গুবরে পোকা – স্থাবর পোকা, গোবর পোকা।

গুবাক – সুপারি গাছ।

গুল-জার – শোভাময়, জাঁকজমকপূর্ণ, সরগরম। জমজমাট।

গুল-বদন – গোলাপের মতো কোমল অঙ্গ।

গুলাল – আবির, ফাগ।

গেরুয়া – গৈরিক বর্ণযুক্ত। সন্ন্যাসীদের পরিধেয়।

গেলাপ – ওয়াড়, আবরণ। গিলাফ।

গেহ – গৃহ।

গৈরিক – স্বর্ণ, গেরুয়া বসন।

গোঠ – গোচারণভূমি।

গোদাবরী – দক্ষিন ভারতের নদীবিশেষ।

গোদারণ – লাঙল।

গোধূলি – সূর্যাস্তকাল। বিকালবেলা। শেষজীবন।

গোপ – গোয়ালা জাতি, গোপালক।

গোপাঙ্গনা – গোপকূলবধূ, গোপনারী।

গোপাল – গোয়ালা, রাখাল, রাজা।

গোপী – গোয়ালিনি, গোপবধূ। গোপিনী।

গোবর্ধন – বৃন্দাবনের প্রসিদ্ধ পাহাড়।

গোবিন্দ – বিষ্ণু, কৃষ্ণ।

গোবেচারা – গরুর মতো নিরিহ।

গোমতী – অযোধ্যার নদী।

গোরা – গৌরবর্ণ, শ্রীচৈতন্য। গৌর। গৌরাঙ্গ।

গোলন্দাজ – যে সৈনিক কামান ছোঁড়ে।

গোলোক – বৈকুণ্ঠ, বিষ্ণুলোক, স্বর্গে নারায়নের বাসস্থান।

গোষ্ঠ – গবাদি পশু থাকার জায়গা। গোচারণভুমি।

গোস্তাকি – ঔদ্ধত্য, বেয়াদবি, গোস্তাখি।

গৌরী – গৌরবর্ণা নারী। দুর্গা।

ঘট – ছোট কলস, মঙ্গলঘট।

ঘড়িয়াল – ধূর্ত, ধড়িবাজ।

ঘাগর, ঘাঘর – ঘাগরা, ঘাঘরা, ঘুঙুর। কিঙ্কিণী।

চকিত – চমকিত, ভয়চঞ্চল।

চকোর – পাখি যে জোৎস্না পান করে তৃপ্ত হয়। চকোরী, চকোরিণী।

চক্র – চাকা, কালচক্র, সুদর্শন চক্র।

চঞ্চরীক – ভ্রমর, পুনঃপুনঃ ভ্রমনকারী।

চঞ্চু – পাখির ঠোট।

চন্ড – ভীষণ, প্রচন্ড।

চন্ডী – দুর্গার রুপবিশেষ।

চতুরঙ্গ – হস্তী, অশ্ব, রথ, পদাতিক এই চার শাখাবিশিষ্ট।

চতুরানন – চার মুখ যার। ব্রহ্মা ।

চাতাল – চত্বাল, উঠান।

চন্দন – সুগন্ধ কাঠ বা গাছ।

চন্দ্রাংশু – চাঁদের কিরণ, জোৎস্না। চন্দ্রাতপ। চন্দ্রালোক। চন্দ্রিমা। চাঁদনী।

চন্দ্রানন – চাঁদের মতো সুন্দর মুখ।

চন্দ্রাবলী – রাধার প্রিয় সখি।

চপল – অস্থির, চঞ্চল, চপলা।

চয়ন – আহরন করা, সংগ্রহ।

চাতক – কোকিল জাতিয় পাখি। যা কেবল মেঘের জল ই পান করে।

চামেলি – মল্লিকা বা মালতী জাতিয় ফুল।

চারণ – কুলকীর্তিগায়ক, স্তুতিগায়ক, স্তুতিপ্রচারক।

চারু – সুন্দর, মনোরম, সুদর্শন। ললিত।

চার্বাক – নাস্তিক মুনিবিশেষ, লোকায়ত মতের জনক।

চালিয়াত – যে ব্যক্তি নিজের সম্বন্ধে মিথ্যা বড়াই করে বেড়ায়।

চাহন – চাহনী, ইচ্ছা, প্রার্থনা, অবলোকন, দেখা, দৃষ্টিপাত।

চিকণিয়া – চিকন, মনোহর।

চিকুর – কেশ, চুল, কেশগুচ্ছ, কেশদাম, চুলের গোছা।

চিক্কুর – তীব্র বিদ্যুৎ বা বজ্র।

চিৎশক্তি – চৈতন্যশক্তি, পরম জ্ঞান। ইন্দ্রিয় অগোচর জ্ঞান।

চিত – চিত্ত, চয়ন করা হয়েছে এমন, রচিত, সঞ্চিত। জ্ঞান, চৈতন্য। পরাজিত।

চিত-চোর – মনকে যে হরন করে। প্রেমিক।

চিত্র – ছবি, আলেখ্য, প্রতিকৃতি, নকশা।

চিত্র-কর্মা – অদ্ভুত কাজ করে এমন।

চিত্রকূট – রামায়ণোক্ত পর্বতবিশেষ।

চিত্রগুপ্ত – যমরাজের অধীন সর্বজীবের পাপপূণ্যের হিসাবরক্ষক।

চিত্রভানু – সূর্য, অগ্নি।

চিত্রা – নক্ষত্রবিশেষ।

চিত্রিণী – কামশাস্ত্রে বর্ণিত চার প্রকার নারীবিশেষ।

অন্য – হস্তিনী, শঙ্খিনী, পদ্মিনী।

চিদম্বর – আকাশবত্ নির্লিপ্ত পরব্রহ্ম, চৈতন্যরুপ আকাশ, মনোরুপ পরব্রহ্ম। চিদাকাশ।

চিদাত্মা – চৈতন্যরুপ আত্মা, জ্ঞানময় আত্মা, পরব্রহ্ম।

চিদানন্দ – চৈতন্য ও আনন্দের স্বরুপ যিনি, পরব্রহ্ম। চিন্ময়, শিব।

চিদাভাস – চৈতন্যের আভাস, জ্ঞানের দীপ্তি। চৈতন্যের প্রতিবিম্বস্বরুপ জীবাত্মা।

চিদ্রুপ – চৈতন্যস্বরুপ জ্ঞানময় আত্মা।

চিন্তক – চিন্তাকারি, যে চিন্তা করে।

চিন্ময় – চৈতন্যময়, জ্ঞানময়, পরমেশ্বর।

চিবুক – দুই ওষ্ঠের নিন্মদেশ, থুতনি।

চির – নিত্য, সর্বদা, সদা, অনন্ত, সমস্ত, আবহমান, আজীবন। চিরন্তন।

চিরাগত – চিরাচরিত, চিরায়িত, আবহমান কাল ধরে চলিত।

চীবর – সন্ন্যাসীদের বা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধেয় বস্ত্রবিশেষ।

চীর্ণ – ছিন্ন, খন্ডিত, বিদীর্ণ।

চুনুরি – রঙিন শাড়ী।

চুম্বন – চুমু, চুমা। চুম্বী।

চূড়া – শিখর, শীর্ষদেশ, শৃঙ্গ, টিকি, মণি।

চেতক – চেতনা দানকারী, উদ্বোধক, কর্তব্যনিয়ামক।

চৈতন্য – চৈতন, হুশ, সংজ্ঞা, বাহ্যজ্ঞান, বোধ, চেতনা, অনুভূতি।

চৈতালি – চৈত্রমাসে উৎপন্ন ফসল বা রবিশস্য। বসন্তবায়ু, চৈত্রমাসকালীন ভাবাবেগ।

চৈত্য – পূজার স্থান, যজ্ঞ স্থান, মন্দির বা সৃতিস্তম্ভ।

চৈত্রী – চৈত্রপূর্ণিমা।

চ্যুত – ভ্রষ্ট, পতিত, বিতাড়িত, বহিষ্কৃত, পতন, হানি, নাশ।

ছন্দ – প্রবৃত্তি, ঝোঁক, অভিপ্রায়। পদ্যবন্ধ, পদ্য রচনারীতি, রচনার তাল ।

ছন্দে-বন্দে – কলেকৈাশলে, পাকেপ্রকারে।

ছন্দোবদ্ধ – ছন্দে গ্রথিত, পদ্যরীতিতে রচিত।

ছন্ন – আচ্ছাদিত, আচ্ছন্ন, লুপ্ত, নষ্ট, অপসারিত, উচ্ছন্নে গেছে এমন।

ছবি – দ্যুতি, দীপ্তি, শোভা, কান্তি। চিত্রিত মূর্তি, প্রতিমূর্তি, আলেখ্য।

ছলনা – ছলন, কপটতা, শঠতা, প্রতারণা। ছলা, ধোঁকা। মন ভুলানো হাবভাব বা কৌশল।

ছলাত্ – নদীর তটে ঢেউয়ের শব্দ।

ছাঁচ – ফর্মা, ধরন, সাদৃশ্য, আদল।

ছান্দ – বন্ধন।

ছান্দসিক – ছন্দজ্ঞানী, ছন্দ সম্পর্কে জ্ঞাত ব্যক্তি।

ছিদাম – কৃষ্ণসখা শ্রীদাম এর নামের বিকৃত রুপ।

ছিনা – সিনা, বুক, বক্ষস্থল, বুকের পাটা। ছাতি।

ছিরি – শ্রী, কান্তি, রুপ, ধরন।

ছুতমার্গ – ছুঁত, ছোয়াছুয়ির বিভেদ।

ছেদ – ছেদন, বিচ্ছিন্ন করা, বিরাম, ভাগ, খন্ড, অধ্যায়, পরিচ্ছেদ, নাশন, কর্তন, খন্ডিত।

জংশন – দুটি রাস্তার মিলনস্থল।

জগজ্জন – পৃথিবীর মানুষ। জগদ্বাসী, জগতী।

জগজ্জননী – জগতের মাতা, জগন্মাতা, দুর্গাদেবী, পরমেশ^রী। জগদম্বা। জগদ্ধাত্রী। জগন্ময়ী। জ¦ালামালিনী।

জগজ্জয়ী – পৃথিবী জয়কারী, দিগি¦জয়ী। জগদ্বরেণ্য। জগন্মোহন।

জগত – পৃথিবী, ভুবন, বিশ^। জগন্মন্ডল।

জগতি – জগৎকর্তা, ঈশ্বর, পরমেশ্বর, জগতগুরু। জগদীশ, জগন্নাথ, জগদীশ্বর। জগদ্বন্ধু। জগন্নিবাস। জগন্ময়।

জগদ্দল – পৃথিবীকে দলন করে এমন, সরানো বা নাড়ানো যায় না এমন গুরুভার।

জঙ্গম – গতিশীল, অস্থাবর, প্রানবিশিষ্ট।

জঞ্জাল – আবর্জনা, আগাছা, অবাঞ্ছিত, ঝঞ্ঝট, উপদ্রব।

জঠর – উদর, পেট, পাকস্থলি, গর্ভাশয়, উদর।

জড় – চেতনাহীন, নিষ্ক্রিয়, মূর্খ, অজ্ঞান, অচেতন। আড়ষ্ট।

জড়িমা – জড়ত্ব, আড়ষ্টতা, জড়তা, নিশ্চেষ্টতা, আচ্ছন্নভাব, ঘোর। স্বপ্নজড়িমা।

জনয়িতা – জন্মাদাতা, পিতা, জনক।

জনার্দন – জন নামক অসুর নিধনকারী, বিষ্ণু।

জন্মাবধি – আজন্ম, জন্মকাল থেকে।

জবরজং – এলোমেলো, বিশৃঙ্খল, বেমানান, বিসদৃশ।

জমদগ্নি – অগ্নি ভক্ষনকারী। ক্রোধী, পরশুরামের পিতা।

জমপেশ – জম্পেশ, উত্তম, তোফা, খুব উপভোগ্য। জমিয়ে করা হয় এমন।

জয়ন্ত – শিব, মহাদেব, ভীমের ছদ্মনাম। জয়পাল।

জয়ন্তী – পতাকা, নিশান, দুর্গা, জয়া, পার্বতী, শিবপতœী।

জয়োস্ত – জয় হোক, জয়তু।

জরজর – অতিশয় ক্লিষ্ট, জীর্ণ, জারিত। জরত, জরদ্গব, জরাগ্রস্ত। জর্জর।

জরথুস্ত্র – জরথুস্ট্র – প্রাচীন ধর্মপ্রচারক, পারসিক ধর্মগুরু।

জরদ – হলদে, পীতবরণ।

জরদ্গব – জরাগ্রস্ত ষাঁড়, স্থবির লোক।

জরুর – নিশ্চয়, অবশ্যই, প্রয়োজন, দরকার।

জল – বারি, সলিল, উদক, অম্বু, নীর, বুষ্টি, আঞ্চ, শীতল, শান্ত,তরল।

জলদ – শীঘ্র, সত্বর, দ্রুত। জলদি।

জলাঞ্জলি – বিসর্জন, সম্পূর্ণ পরিত্যাগ। অপচয়।

জলাধার – জলাশয়, জলপাত্র।

জলাধিপ – সমুদ্র, বরুণ। জলাধিপতি।

জহর – বিষ।

জহরত – মণি, বহুমূল্য পাথর, রত্ন।

জহরি – জহুরি, যে জহরতের বা মণিমুক্তার ব্যবসা করে।

জহিন – বুদ্ধিমান, চালাক, সমঝদার।

জহ্নু – পৌরানিক রাজর্ষিবিশেষ। কন্যা, তনয়া।

জগন্ত – জাগ্রত, জেগে আছে এমন। জাগর্তি, জাগা, জাগরিত।

জাজ¦ল্য – উজ্জল, জাজ্জন্যমান।

জাড়ি – পাত্র, ভান্ড, আধার।

জাতক – জন্মেছে এমন।

জাত্যাভিমান – বংশ অহংকার।

জানকী – সীতা, জনকরাজার কন্যা।

জাফরি – চৌকো ছিদ্রযুক্ত বেড়া, জালতি।

জাবর – গরু মোষের চর্বিত চর্বণ। জাবর কাটা। একই কথা বারবার।

জামিয়ার – পুরোটা ফুল তোলা দামি শালবিশেষ।

জালিক – প্রতারক, ব্যাধ, মাকড়সা।

জাহ্নবী – গঙ্গাদেবী, জহ্নুমুনির কন্যা।

জিউ – দেব।

জিঞ্জির – শিকল, কারাবাস।

জিয়নকাঠি – রুপকথার প্রাণসঞ্চারের মন্ত্রপুত কাঠিবিশেষ, বাঁচাবার উপায়বিশেষ।

জিয়ন্ত – জীবন্ত, সজীব, জীবিত।

জীবন্মুক্ত – জীবিতাবস্থাতেই মুক্ত।

জীবন্যাস – মন্ত্রবলে দেবপ্রতিমাদির প্রাণপ্রতিষ্ঠা।

জীমূত – মেঘ, পর্বত। মেঘের ডাক।

জুজু – কল্পিত অশরীরী পিশাচ।

জুবিলি – জয়ন্তী উৎসব।

জেরবার – নাকাল, বিপর্যস্ত।

জোশ – উদ্দীপনা, উৎসাহ।

জোহার – প্রণাম, অভিবাদন।

জ্ঞানাঙ্কুর – জ্ঞানসঞ্চার।

জ্ঞানাঞ্জন – তত্ত্বজ্ঞানরুপ কাজল যার দ্বারা চোখের অন্ধত্ব দুর হয়।

ঝংকার – ঝঙ্কার, ঝনঝন শব্দ, ঝনৎকার, গুঞ্জন, তর্জন, ঝংকৃতি।

ঝঞ্ঝা – ঝঞ্ঝাক্ষুব্ধ, ঝঞ্ঝানিল, ঝঞ্ঝাবর্ত, ঝঞ্ঝাবাত।

ঝরিত – ঝরে পড়েছে এমন, ক্ষরিত, গলিত।

ঝাঁঝর – ঝাঁজর, কাঁসর, কাঁসার তৈরী বাদ্যযন্ত্রবিশেষ।

ঝামর – ঝামার মতো বিবর্ন, মলিন, মলিন চুলবিশিষ্ট।

ঝালর – কাপড়ের প্রান্তদেশে কারুকার্য।

ঝিলমিল – জানালার খড়খড়ি বা তক্তা, ঝলমল, ঝিলিক। ঝিলিমিলি।

ঝুলন – দোলন, ঝুলে থাকা অবস্থা।

টইটম্বুর – পরিপূর্ণ, কানায় কানায় ভরা।

টং – উঁচু মাচা, মাচান, টোং। টঙ।

টংকার – টঙ্কার, ধনুকের শব্দ।

টগবগ – ফুটন্ত জলের শব্দ, ঘোড়ার দ্রুতগতির শব্দ, উৎসাহ উদ্দীপনার সঙ্গে।

টগর – সাদা ফুলবিশেষ।

টনিক – শক্তিবর্ধক ওষুধ,যাতে গায়ের, মনের জোর বাড়ে এমন

টলমল – অস্থির আন্দোলিত, উচ্ছলিত।

টিপ্পনী – ব্যাখ্যা, ভাষ্য, মন্তব্য, টীকা।

টোপর – দেব দেবীদের মাথার শোলার টুপি।

ঠগ – ঠগি, ঠগি দস্যু, ভারত প্রসিদ্ধ ডাকাত সম্পদায়।

ঠিকুজি – সংক্ষিপ্ত কোষ্ঠী, জন্মপত্রিকা।

ডঙ্কা – জয়ঢাক, ঢেঁটরা।

ডমরু – ডমডম করে বাজে এমন বাদ্য, ডুগডুগি। ডম্বরু, ডম্বুর।

ডম্বর – আড়ম্বর, ঘটা।

ডাগর – বড় চোখ, মুল্যবান, উৎকৃষ্ট।

ডামাডোল – ব্যাপক ও তীব্র গন্ডগোল বা বিশৃঙ্খলা।

ডাহুক – জলচর পাখি।

তকত – তক্ত, তখত, সিংহাসন, গদি।

তট – তীর, কূল, স্থল, উঁচু স্থান।

তন্ডুল – চাল।

তত্তাবত – সেই থেকে, সেইসব, সেইসমস্ত, সেই সমুদয়।

তত্ত্ব – স্বরুপ, যথার্থ রুপ, ব্রহ্ম, সুসমন্ধ জ্ঞান। পারমার্থিক জ্ঞান, খোঁজ। চিন্তা।

তথৈব – সেই প্রকারই, সেই রকমই।

তদন্য – তা থেকে ভিন্ন।

তদাত্মক – তদ্গত, নিবিষ্ট।

তদাত্মা – তৎস্বরুপ, তার সঙ্গে অভিন্ন।

তদানীন্তন -তৎকালীন।

তদ্ভাব – তার বিশেষ ভাব, তার ধর্ম, প্রকৃতি বা অবস্থা।

তনয় – পুত্র, ছেলে।

তনয়া – মেয়ে, কন্যা।

তনিমা – সূক্ষতা বা মনোরম কৃশতা।

তনিষ্ঠ – অতি অল্প বা সামান্য। অতি কৃশ।

তনু – তনূ, দেহ, মুর্তি, দেহের কান্তি বা সৌন্দর্য।

তন্ত্রী – বাদ্যযন্ত্রের তার, বীণা।

তন্দ্রা – নিদ্রার আবেশ, পাতলা বা হালকা ঘুম।

তন্বী – তনু অঙ্গ যার, কৃশাঙ্গী, যার দেহ কৃশ কিন্তু মনোরম।

তন্মনা – একাগ্রচিত্ত, তদ্গত চিত্ত, অভিনিবিষ্ট।

তন্ময় – অন্য সব ব্যাপারে নির্লিপ্ত থেকে একটি বিশেষ ব্যাপারে অভিনিবিষ্ট।

তন্মাত্র – তন্মাত্রা – ক্ষিতি, অপ, তেজঃ, মরুত, ব্যোম এবং এদের পাঁচ গুন শব্দ, স্পর্শ, রুপ, রস, গন্ধ।

তপ – তপঃ, কঠোর সাধনা, তপস্যা, যোগ, ব্রত।

তপন – সূর্য।

তপস্বী – সন্ন্যাসী। তাপস, মুনি, যোগী।

তপোধন – তপোনিধি, তপস্বী, মুনি, ঋষি।

তপোবন – মুনিঋষিদের তপস্যার সহায়াক নির্জন ও শান্ত বন।

তপোময় – ঈশ্বর, পরমেশ্বর, তপস্যাপ্রধান। তপস্যায় নিরত।

তপোমুর্তি – তপস্যা বা ধ্যান ই যার মুর্তি।

তপোলোক – সপ্তলোকের অন্যতম ।

তমস – তমসা, নদীবিশেষ, অন্ধকার। তমিস্র।

তমস্বান – অন্ধকারময়, অন্ধকারাচ্ছন্ন।

তমাল – গাবজাতিয় গাছবিশেষ, তমালিকা, তমালিনী। তমলুক, তমালী।

তর – বিভোর, চুর।

তরঙ্গ – ঊর্মি, লহরী, জলের ঢেউ।

তরণ – পার হওয়া, উদ্ধার হওয়া ।

তরণি – তরণী, নৌকা, যার সাহায্যে পার হতে হয়।

তরস – বেগ, গতি, গতিশক্তি।

তরাস – ভয়, শঙ্কা।

তরিত্র – অরিত্র, মাঝি।

তসবির – ছবি, প্রতিকৃতি।

তসরিফ – সম্ভ্রমসূচক উক্তবিশেষ, মনের উদারতা।

তসলিম – মুসলমানি প্রথায় অভিবাদনবিশেষ, সালাম, নমষ্কার।

তস্কর – চোর, অপহরক।

তহমত – অপবাদ, মিথ্যা অপবাদ।

তাউস – তায়ুস, ময়ূর, ময়ুরের মুখযুক্ত এসরাজজাতীয় বাদ্যবিশেষ।

তাকত – শক্তি, সামর্থ্য, ক্ষমতা।

তাজিম – সম্মান, মর্যাদা।

তাঞ্জাম – সুসজ্জিত, চতুর্দোলা পালকিবিশেষ।

তাড়ক – তাড়কা কারী, জ্বালাতনকারী।

তান্ডব – উদ্দাম নৃত্ত, প্রলয়ঙ্কর ব্যাপার। প্রলয়কালে শিবের উদ্দাম নৃত্য।

তাতল – উত্তপ্ত।

তাদাত্ম্য – নিবিড় ঐক্য, অভেদ, কিছুর সঙ্গে একাত্মতা।

তান – সংগীতের রাগবিস্তার, সুরের আলাপ, সুরেলা ধ্বনি।

তাপ – উষ্ণতা, জ্বর, ক্রোধ, রাগ, দুঃখ, পীড়া।

তাপিত – তাপপ্রাপ্ত, উত্তপ্ত, ক্লিষ্ট, সন্তপ্ত, দুঃখিত।

তামস – ঘোর অন্ধকার, তাসসিক, তমোগুনের প্রভাব।

তাম্বুল – পান।

তারক – উদ্ধারকারী, রক্ষক, পারকর্তা, কর্ণধার, ভেলা।

তিতিক্ষা – ক্ষমা, সহিষ্ণুতা।

তিথি – চন্দ্রদিন, শুভ সময়।

তিমিত – সিক্ত, ভেজা, নিশ্চল, স্থির, স্থিমিত, প্রায় নিভে এসেছে এমন।

তিমির – অন্ধকার, ঘন অন্ধকারে আবৃত।

তির্যক – বাঁকা, কুটিল, তেরছা, কোনাচে।

তিলক – দেহের নানা স্থানে চন্দন প্রভৃতির ফোঁটা বা ছাপ।

তিলেক – তিলমাত্র, সামান্য অংশও।

তিলোত্তমা – অসুর বধের জন্য ব্রহ্মার নিদের্শে বিশ^কর্মা নির্মিত অপ্সরা।

তীর্থংকর – তীর্থঙ্কর, জৈন ধর্মগুরু, সিদ্ধপুরুষ।

তুঁহুঁ – তুমি, তুঁ, তুই।

তুঘলকি – খামখেয়ালিপুর্ণ কাজ।

তুঙ্গ – উঁচু, উন্নত, উত্তুঙ্গ।

তুঝ – তোমার।

তুন্দ – তুন্দি, ভুড়ি, পেট, তুন্দিভ, তুন্দিল, মোটা উদর।

তুরগ – তুরঙ্গ, তুরঙ্গম, ঘোড়া, অশ^।

তুরীয় – তুর্য, চতুর্থ, উৎকর্ষপ্রাপ্ত, মায়ার অতীত, হিরণ্যগর্ভ, পরব্রহ্ম।

তুষানল – জ্বলন্ত, তুষের আগুন চাপা থেকেও যা দীর্ঘকাল জ্বলতে থাকে।

তুহিন – তুষার, হিম, বরফ। অত্যন্ত শীতল।

তূবর – তূবরক, গোঁফদাড়িবিহীন পুরুষ, মাকুন্দ।

তৃষা – তৃষ্ণা, আকাঙ্খা, পিপাসা, পিয়াস।

তেঁদড় – ত্যাঁদড়, ধুরন্ধর, অত্যন্ত বেয়াড়া, বেহায়া, নির্লজ্জ, ধৃষ্ট। তেঁদড়ামি, দুষ্টামি।

তেজ – তেজঃ, জ্যোতি, দীপ্তি, প্রভা, আলোক, তাপ, শক্তি, বিক্রম, প্রভাব, পৌরুষ।

তেজস্বান – তেজস্বী, তেজোময়, জ্যোতির্ময়, দীপ্তিমান, বিক্রমশালী, বীর্যবান, তেজি।

তেপান্তর – জনহীন বিশাল মাঠ।

তোফা – চমৎকার, অতি সুন্দর, অত্যন্ত ভালো, অতি উপাদেয়।

তোয়াজ – মনোরঞ্জন, সন্তোষসম্পাদন। আরাম, খাতির।

তোরণ – সিংহদ্বার, সদর প্রবেশদ্বার, ফটক।

তৌর্য – তূর্যধ্বনি।

ত্বরিত – ত্বরান্বিত, বেগ বাড়ানো হয়েছে এমন, ক্ষিপ্র, শীঘ্র, দ্রুত।

ত্যক্ত – পরিত্যাগ বা পরিহার করা হয়েছে এমন, বর্জিত, বিরক্ত, উত্ত্যক্ত, বিরক্ত, জ¦ালাতন।

ত্রাণ – বিপদ, উদ্ধার, রক্ষা, নিষ্কৃতি, মুক্তি।

ত্রাহি – ত্রাণ করো, রক্ষা করো, বাঁচাও, আপদমুক্তির জন্য চিৎকার।

থিতু – স্থিত, স্থির, নিশ্চল।

থির – স্থির এর কোমল রুপ।

থিসিস – গবেষণাপত্র। তত্ত্ব।

দক্ষিণান্ত – পুরোহিতকে দক্ষিণাদান পূর্বক পূজাদি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি।

দক্ষিণাবর্ত – দক্ষিন বা ডান দিকে পাক খেয়ে গেছে এমন।

দক্ষিণাবহ – দখিনা বাতাস, দক্ষিণ হতে প্রবাহিত বায়ু।

দঙ্গল – দল, ভিড়, কুস্তি।

দন্ড – লাঠি, ডান্ডা, শাস্তি, খেসারত, জরিমানা, শাসন।

দত্ত – অর্পিত, প্রদান করা হয়েছে এমন।

দধীচ – দধীচি, যে মুনি অসুর নিধনে স্বীয় অস্থি দিয়েছিলেন।

দনুজ – অসুর, দৈত্য।

দরদী – দরদিয়া, সমব্যথী, মরমী।

দরাজ – মুক্ত, খোলা, অকৃপন, উদার, প্রশস্ত।

দরিয়া – বড় নদী। সমুদ্র।

দর্প – অহংকার, দম্ভ। দর্পিত। দাম্ভিক।

দর্পণ – স্বচ্ছ কাচের ফলকবিশেষ, আয়না, আরশি, মুকুর।

দর্শয়িতা – প্রদর্শক, যে দেখায়, প্রকাশক।

দলমাদল – বিষ্ণুপরের সুবিখ্যাত ঐতিহাসিক কামান।

দলিত – মর্দিত, মাড়ানো হয়েছে এমন, পিষ্ট, দমিত, নিপীড়িত।

দশানন – রাবন।

দস্তর – প্রথা, রীতি। কায়দা, ধরন।

দহল – দগ্ধ করলো, দাহ করলো।

দাক্ষিণ্য – অনুগ্রহ, দয়া, ঔদার্য, সারল্য, সৌজন্য।

দাত্যূহ – ডাহুক বা ডাক পাখি, চাতক।

দাদন – অগ্রিম প্রদত্ত মূল্য বা মূল্যের অংশ।

দানেশ-মন্দ – পন্ডিত বা জ্ঞানী ব্যাক্তি।

দামামা – ঢাকজাতিয় রণবাদ্য।

দামাল – দুর্দান্ত, অতি দুরন্ত। অশান্ত।

দামিনী – বিদ্যুৎ।

দামোদর – কৃষ্ণ, বিষ্ণু।

দারা – পত্নী। স্ত্রী।

দারু – কাঠ, কাঠের পাত্র। কাঠের মুর্তি।

দালিয়া – গমের সুজি।

দাশ – ধীবর, জেলে।

দাস্য – দাসের ভাব, দাসের অবস্থা, দাসত্ব। সেবকভাবে উপাসনা।

দাহ – দহন, জ্বলন, জ্বালা, উত্তাপজনিত জ্বালা। সন্তাপন, সন্তাপ।

দিওয়ানা – বিবাগী, উদাসী, পাগল।

দিগঙ্গনা – দিকসমূহের অধিষ্ঠাত্রী দিব্যাঙ্গনা, দিগ্বধূ। দিগ্বলয়, দিগ্বালিকা। দিগঙ্গনা।

দিগ্জ্ঞান – দিকসমুহের অবস্থান সম্বন্ধে জ্ঞান, কান্ডজ্ঞান, সামান্য জ্ঞান।

দিগ্ দর্শন – দিক নির্ণয়, প্রদর্শন, অভিজ্ঞতা।

দিগভোলা – বাহ্য বিষয়ে নিরাসক্ত বা উদাসীন, আত্মভোলা। দিঙ্মূঢ়।

দিগভ্রম – দিগভ্রান্তি, তাল ঠিক না রাখা।

দিগম্বর – দশ দিক যার অম্বর বা আবরণস্বরুপ, উলঙ্গ, বিবস্ত্র। বিবসনা। দিগ্বসন।

দিঠ – দিঠি, দৃষ্টি, চক্ষু।

দিতি – দৈত্যদের মাতা।

দিনাঙ্ক – তারিখ, দিনসংখ্যা।

দিনাতিপাত – দিন কাটানো। দিনযাপন।

দিনান্ত – দিনের শেষ।

দিবা – দিনমান, দিনের বেলা, দিবালোক, দিনমানে।

দিব্য – আকাশসম্বন্ধীয়, স্বর্গীয়, অলৌকিক, মনোহর, সুন্দর।

দিয়াড়া – দ্বীপ, চর, চড়া।

দিয়াড়ি – প্রদীপ, মশাল, বাতি, দিয়ালি, দীপালি।

দিশি – দিক, চারিদিক, সব দিক।

দীধিতি – কিরণ, আলোক।

দীন – অত্যন্ত অভাবগ্রস্ত, দরিদ্র, কাতর, দুঃখী, হীন।

দীপ – প্রদীপ, বাতি, সলতে। দেউটি। দীপবর্তিকা।

দীপক – শোভাকর, দীপ্তিকর, প্রজ্বালক, উদ্দীপক, প্রকাশক, প্রদীপ।

দীপন – দীপ্ত করা, আলোকিত করা,প্রজ্বলিত করা, প্রজ্বালন, উদ্দীপ্ত করা।

দীপাধার – প্রদীপ রাখার পাত্র। পিলশুজ।

দীপান্বিতা -দেওয়ালি উৎসব, আলোকযুক্তা।

দিপাবলি – দীপালি, দেওয়ালী, প্রদীপসমুহ, কালীপুজার রাতে দীপমালা সজ্জিত উৎসব।

দীপিকা – জোৎস্না, প্রদীপ।

দীপিত – প্রজ্বলিত, জ্বালা হয়েছে এমন।

দীপ্ত – জ্বলন্ত, জ্বলছে এমন, আলোকিত।

দীপ্তাংশু – প্রখর, সূর্য।

দীপ্তি – আলোক, দ্যুতি, প্রভা, তেজ, শোভা।

দীপ্র – দীপ্তিশালী, উজ্জ্বল, ভাস্বর।

দীর্ণ – বিদারিত, ভাঙা, ফাটা, জীর্ণ।

দুঁহু – দুঁহা, দুঁহুঁ, দোঁহা, উভয়, দুই, দুইজন।

দুন্দুভি – দামামাজাতীয় প্রাচীন রণবাদ্য।

দুরন্ত – অশান্ত, দামাল, ভীষণ, দুর্দম।

দুরভি – অতিকষ্ট।

দুরাচার – দুর্বৃত্ত, পাপিষ্ঠ।

দুর্গতি – দুর্দশা, দুরবস্থা, নিগ্রহ, পীড়ন।

দুর্গম – দুর্বোধ্য, দুর্জ্ঞেয়, দুর্লভ।

দুর্জন – দুষ্ট, খল ব্যক্তি, মন্দ লোক। দুর্বৃত্ত।

দুর্জ্ঞেয় – জানা শক্ত এমন, দুর্জ্ঞেয়।

দুর্দম – দুর্দান্ত, উদ্দাম, দুরন্ত। দুর্বিনীত।উদ্ধত। দুর্মদ। দৃপ্ত, উদ্ধত।

দুর্নিবার – দুর্নিবার্য, নিবারন বা রোধ করা শক্ত এমন। দুর্বার। দুর্দমনীয়।

দুর্ভর – গুরুভার, বহন করা শক্ত এমন, দুঃসহ।

দুর্মর – কিছুতেই বদলায় না এমন।

দুর্লঙ্ঘ্য – লঙ্ঘন করা যায় না এমন।

দুলারি – দুলালি, আদরিণী। দুহিতা।

দুলাল – স্নেহের পাত্র, আদরে প্রতিপালিত পুত্র।

দুস্তর – পার হওয়া দুঃসাধ্য এমন।

দূতী – স্ত্রী দূত, সংবাদবাহিকা।

দৃক – চক্ষু, দৃষ্টি, জ্ঞান।

দেউরি – সদর প্রবেশপথ, তোরণ, ফটক।

দেউল – মন্দির, দেবালয়, শিবালয়, দেবকূলগৃহ।

দেউলিয়া – নিঃস্ব।

দেদার – প্রচুর, বিস্তর, অনেক।

দেদীপ্যমান – জাজ্বল্যমান, জ্বলজ্বল করছে এমন।

দেবকী – দৈবকী, কৃষ্ণের মা।

দেবান্তক – দেবতার হত্যাকারী।

দেশনা – উপদেশ, শিক্ষা।

দেশাচার – প্রচলিত দেশজ প্রথা।

দেশান্তর – অন্য দেশ।

দেহারা – মন্দির।

দৈন্য – দীনতা, দারিদ্র, অভাব, কার্পণ্য।

দোদুল – ক্রমাগত কাঁপছে বা দুলছে। দোলায়মান। দোদুল্যমান।

দোর – দ্বার, দুয়ার, দরজা।

দোর্দন্ড – দন্ড বা লাঠির মতো শক্ত, ভুজদন্ড, দুর্দান্ত।

দোসর – সহযোগী, সহায়, ভাগীদার।

দোহারা – রোগাও নয় আবার মোটাও নয়।

দৌলত – সম্পদ, ঐশ্বর্য্য।

দ্বাপর – হিন্দু পুরাণে কথিত তৃতীয় যুগ।

দ্বারকা – কৃষ্ণ কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত নগরী।

দ্বীপ – চারিদিকে জলবেষ্টিত স্থলভাগ।

দৈরথ – দুই রথীর যুদ্ধ, সম্মুখ সমর।

দ্যুতি – দীপ্তি, প্রভা, ঔজ্জ্বল্য, কিরণ, শোভা।

দ্যোতক – সূচক, ব্যঞ্জক, পরিচায়ক।

দ্যোতনা – ইঙ্গিত, ব্যঞ্জনা, প্রকাশ।

দ্রাক্ষা – আঙুর ফল, আঙুর লতা, আঙুরের রসে প্রস্তুত মদ।

দ্রুম – বৃক্ষ, গাছ।

দ্রৌপদী – রাজা দ্রুপদের কন্যা।

ধকল – ধাক্কা, কাজের চাপ।

ধনি – রমণীকে সম্বোধনকালে ব্যবহৃত শব্দবিশেষ। সুন্দরী, যুবতী।

ধন্দ – ধন্ধ, সংশয়, খটকা, সন্দেহ, ধোঁকা, ধাঁধা।

ধন্বন্তরি – অতিশয় সুচিকিৎসক।

ধবল – সাদা, শুভ্র।

ধমনি – ধমনী, রক্তবাহী নাড়ি।

ধরণী – পৃথিবী, ধরা। ধরিত্রী।

ধাউড় – কপট, শঠ প্রবঞ্চক।

ধাতা – বিধাতা, কর্মফলদাতা, সৃষ্টিকর্তা, নির্মাতা।

ধানশ্রী – সংগীতের রাগবিশেষ।

ধাম – বাসস্থান, গৃহ, স্থান, পবিত্র স্থান, আধার।

ধামালি – রঙ্গ, কপট ঝগড়া, চতুরালি, ছলনা।

ধী – বুদ্ধি, মেধা, জ্ঞান, মতি।

ধীর – মন্থর, মৃদু, অচঞ্চল, স্থির, শান্ত, নম্র, প্রশান্ত।

ধুপ – ধুপছায়া।

ধুলট – সংকীর্তনের পর ধুলো বা ধুলোয় গড়াগড়ি দেয়া।

ধূর্জটি – জটাধারী গঙ্গা।

ধূসর – ঈষত্ পাংশুবর্ণ, ছাই রং, পাংশুল, বৈচিত্রহীন।

ধূত – ধারন বা গ্রহন করেছে এমন। ব্রতধারী।

ধ্বজ – পতাকা, নিশান। ধ্বজা।

ধ্রুপদ – উচ্চাঙ্গ সংগীতের পদ্ধতিবিশেষ। গুরুগম্ভীর, চিরায়ত, ক্লাসিকাল।

ধ্রুব – নিশ্চিত, বদ্ধমুল, খাঁটি, যথার্থ। নিত্য।

নওবত – নহবত, সানাই, ঐকতান বাদ্য, বিদের বাজনা।

নওরোজ – পারসিক মতে বছরের প্রথম দিন।

নওল – নবন, নবীন, নওলকিশোর।

নচিকেতা – অগ্নি, বৈদিক ঝষিবিশেষ।

নট – নর্তক, অভিনেতা, শিব, নটেশ্বর, নটোবর।

নটিনী – নর্তকী, বাইজি, বারাঙ্গনা, গনিকা।

নদের চাঁদ – নদিয়ার চাঁদ বা গৌরবস্বরুপ ব্যক্তি। নবদ্বীপচন্দ্র।

নধর – সুপুষ্ট, হৃষ্টপুষ্ট, সরস, কমনীয়, তাজা।

নন্দিত – আনন্দিত, আহ্লাদিত।

নন্দিনী – কন্যা, দুহিতা।

নপুংসক – ক্লীব, হিজড়া, খোজা, ছিন্নমুষ্ক।

নবাগত – সদ্য, নতুন আগত, সদ্যজাত। নবোঙ্কুর, নবোদয়। নবোদিত।

নভঃ – আকাশ, গগন।

নভোনীল – আকাশের নীল রং, নীলিমা, আশমানি।

নমস্য – প্রণম্য, পূজনীয়।

নমিত – প্রণমিত, নোয়ানো হয়েছে এমন। আনত, দমিত।

ন যযৌ ন তস্থৌ – কর্তব্য স্থির করতে না পেরে অস্থির থাকা।

নয়ন – চোখ, নেত্র, গোচর,নয়না। নয়নী। সুনয়নী, ত্রিনয়ন।

নয়নানন্দ – নয়নাভিরাম, প্রিয়দর্শন, সুন্দর।

নলিন – পদ্ম, পদ্মিনী, পদ্মের ঝাড়।

নলিনাক্ষ – পদ্মের মতো চোখ যার।

নস্যাত – তুচ্ছ, বাতিল, উপেক্ষা।

নাইটিংগেল – সুমিষ্ট কন্ঠস্বরবিশিষ্ট ছোট পাখি।

নাইয়া – নেয়ে, নাবিক, মাঝি।

নাকারা – ছোট ঢাকজাতিয় বাদ্য।

নাকাল – জব্দ, শ্রান্ত। নিগ্রহ, নাকানি-চোবানি, বিলক্ষন। নাচার, নিরুপায়, নাস্তানাবুদ, নাজেহাল, লাঞ্ছিত।

নাগর – প্রণয়ী, প্রিয়জন, নায়ক, রসিক, প্রণয়িনী, নাগরী।

নাগা – উলঙ্গ সন্ন্যাসী সম্প্রদায় বিশেষ। নাঙ্গা।

নাগাড় – ক্রমাগত, অবিশ্রান্ত।

নাট – নৃত্য, অভিনয়, লীলা, রঙ্গকৌতুক।

নাথ – প্রভূ, স্বামী, অধিপতি, রক্ষক, পালক।

নাদ – ধ্বনি, গর্জন।

নান্দী – দেবতার স্তুতি। মঙ্গলাচরণ পাঠ।

নারঙ্গি – কমলালেবু বা তার গাছ।

নাশ – ধ্বংস, লোপ, ক্ষয়, মৃত্যু, প্রলয়। নিপাত, নিপাতন।

নাস্তি – সত্তাহীনতা, অবিদ্যমানতা, রিক্ত।

নাহক – অনর্থক, মিছিমিছি। অন্যায়, অনুচিত।

নিংড়া – নিংড়ানো, নিঙারী।

নিকষ – কষ্টিপাথর, কষণ চিহ্ন, নিকষিত, পালিশ করা।

নিকার – অপমান, অবমাননা, লাঞ্ছনা, তিরষ্কার, পরাজয়।

নিকাল – বিতাড়ন, দূর করা, দূরীভূত, বিতাড়িত।

নিকুচি – দফারফা, নিকাশ, শেষ।

নিকুঞ্জ – পুঞ্জ, লতাপাতার ঝোপ।

নিকৃত – পরাভূত, অপমানিত, তিরষ্কৃত, নিপীড়িত।

নিকেতন – নিকেত, আলয়, আবাস, গৃহ।

নিক্কণ – বীণা, নূপুর প্রভৃতির তীক্ষ্ণ ও মধুর ধ্বনি। ঝংকার।

নিগড় – বেড়ি, শৃঙ্খল, শিকল।

নিগম – বেদ, শাস্ত্রবিশেষ, নির্গমন, পথ।

নিগূঢ় – একান্ত গুপ্ত, দুর্জ্ঞেয়, জটিল, রহস্যময়।

নিচয় – সমুহ।

নিচোল – আচ্ছাদন বস্ত্র, চাদর, উত্তরীয় বস্ত্র।

নিঝুম – সম্পূর্ণ নীরব, নিস্পন্দ।

নিটোল – টোল পড়েনি এমন, সুডৌল, সুগোল, নিখুঁত, নির্দোষ।

নিতল – অতি তল, যার তল পাওয়া যায় না।

নিথর – স্থির, নিশ্চল, নিস্পন্দ।

নিদাঘ – গ্রীষ্মকাল, উত্তাপ।

নিদান – মূল কারণ, অন্তিম, চরম, শেষ, অন্তত, বিপদ।

নিদিধ্যাস – নিদিধ্যাসন, নিরন্তর অনুধ্যান বা বিচার, একতানে ধ্যান।

নিধন – সংহার, বিনাশ, ধনহীন, নিঃস্ব।

নিধান – আধার, ভান্ডার, আগার, নিধি।

নিধি – রত্ন, ধন, ভান্ডার। নির্জর।

নিধুবন – রমন, মৈথুন, বৃন্দাবনের নিধু নামক স্থানের বন, রাধাকৃষ্ণের কেলিকানন।

নিনাদ – শব্দ, গর্জন, চিৎকার।

নিপট – অত্যন্ত, নিতান্ত, নিশ্চিত। লম্পট।

নিপতন – নিচে পতন।

নিবদ্ধ – আবদ্ধ, বদ্ধ, গ্রথিত।

নিবন্ধ – প্রবন্ধ, গ্রন্থ, পুস্তক, তালিকা, গীত।

নিবর্ত – নিবৃত্ত, ক্ষান্ত, বিলম্বিত।

নিবহ – সকল।

নিবিড় – অতি ঘনিষ্ঠ, গভীর, ঘন, গহন, নিচ্ছিদ্র, জমাট, সান্দ্র, গাঢ়, দৃঢ়, শক্ত।

নিভৃত – অপ্রকাশিত, গুপ্ত, অন্তরাল, নির্জন, বিজন, জনহীন।

নিমিত্ত – হেতু, কারণ, উদ্দেশ্য, উপলক্ষ, প্রয়োজন।

নিমিষ – নিমেষ, পলক, চোখের পাতা, মুহুর্তকাল।

নিয়ত – অপরিবর্তনীয়, স্থির, নিয়মিত, সংযত, সর্বদা, প্রত্যহ, প্রায়।

নিয়ন -বাতি, গ্যাসে জ্বালানো বাতি।

নিরঞ্জন – কলঙ্কহীন, নির্মল, পরব্রহ্ম, শিব, দেবতা।

নিরত – ব্যাপৃত, নিযুক্ত, অনুরক্ত, নিবিষ্ট।

নিরতীত – অতীত হয়ে যায়নি এমন।

নিরন্ত – নিরন্তর, যার অন্ত নেই, অন্তহীন, নিরবচ্ছিন্ন, অবিরাম, নিবিড়, অনবরত।

নিরবদ্য – অনবদ্য, অনিন্দনীয়, নিখুঁত, নির্দোষ। নির্মল। নিষ্পাপ, অমলিন, বিশুদ্ধ।

নিরবধি – সীমাহীন, শেষহীন, নিরন্তর।

নিরুপম – উপমারহিত, তুলনাহীন, অতুলনীয়।

নিরূপন – নির্ধারন, নির্ণয়, অবধারন, ধার্য করা, নির্ণীত।

নিরেট – ফাঁপা নয় এমন, জমাট, কঠিন, দৃঢ়।

নিরোধ – অবরোধ, বাধা, নিবারণ, নিয়ন্ত্রন, সংযম।

নির্ঘন্ট – সূচি, বিষয় কার্য ক্রম তালিকা।

নির্ঝর – ঝরনা, পাহাড়ের জলধারা, উৎস, প্রবাহ।

নির্দ্বন্দ্ব – শীতোষ্ণ, অনুরাগ দ্বেষ, দন্দ্ব থেকে মুক্তি। নির্বিবাদ, নির্বিরোধ।

নির্ধন – ধনহীন, দরিদ্র।

নির্ধূত – বিকম্পিত, বিধূত, বিদূরিত, বিতাড়িত, নাশিত।

নির্নিগড় – নিগড়হীন, শিকলহীন, বাধাহীন, অবাধ, মুক্ত।

নির্নিমিখ – পলকহীন, নিমেষহীন, পলক না ফেলে। নির্নিমেষ। অনিমেষ।

নির্বাণ – নিভে যাওয়া, বিলুপ্তি, অবসান, বিলয়, মুক্তি, মোক্ষ, পরম সুখ।

নির্বিকল্প – বিকল্পহীন, অভ্রান্ত, নিঃসংশয়, নিশ্চিত, পূর্ণজ্ঞান।

নির্বিকার – বিকারহীন, পরিবর্তনহীন, মানসিক চাঞ্চল্যহীন, নির্লিপ্ত, উদাসীন।

নির্বেদ – অনুতাপ, আত্মগ্লানি, নৈরাশ্য, বৈরাগ্য।

নির্মায়িক – মায়াহীন নির্মম, নির্দয়।

নির্মাল্য – দেবতাকে নিবেদিত পুষ্পাদি, দেবতার আর্শিবাদি ফুল বা প্রসাদ।

নিলয় – আলয়, গৃহ, আধার, হৃদের ক্ষুদ্র গহ্বরবিশেষ।

নিশাত – সুতীক্ষ্ন, অত্যন্ত ধারালো। নিশিত।

নিশিগন্ধা – রজনীগন্ধা।

নিশিথ – রাত, অর্ধরাত্রি, গভীর রাত্রি। নিশা। নিশীথিনী। নিশুতি, নিষুতি।

নিষিক্ত – সম্পূর্ণ ভেজা, অত্যন্ত ভেজা, ক্ষরিত।

নিষুপ্ত – গভীর নিদ্রায় মগ্ন। নিদ্রামগ্নতা।

নিষ্ঠা – দৃঢ় আস্থা, ভক্তি, মনোযোগ, অনুরাগ।

নিষ্ণাত – কুশল, নিপুন, পটু, পারদর্শী।

নিষ্প্রতিভ – প্রতিভাহীন, উজ্জ্বলতাহীন, ম্লান, জড়বত। নিষ্প্রদীপ, নিষ্প্রভ, নিস্তেজ।

নিসর্গ – প্রকৃতি, স্বভাব, সৃষ্টি, প্রাকৃতিক।

নিহার – নিহারা, নেহারা, নিরীক্ষন করা, দেখা। দর্শন।

নীড় – পাখির বাসা, আশ্রয়।

নীপ – কদম ফুল বা তার গাছ। নীপবন।

নীর – জল, বারি।

নীলা – মুল্যবান নীলবর্ন পাথরবিশেষ, নীলকান্তমণি।

নীলাচল – নীলাদ্রি, নীল বর্ণের পর্বত।

নীলাঞ্জন – নীল বা কৃষ্ণনীল কাজল, মেঘের ঘননীল অঞ্জনবত বর্ণ।

নীলাভ – নীল আভা যার। নীলিমা। নীলত্ব,

নীলাম্বর – নীল রঙের আকাশ, নীল বস্ত্র।

নীলাম্বরী – নীল রঙের শাড়ি।

নীলাম্বু – নীলাম্বুধি, নীল রঙের জল। সমুদ্র।

নীলোতপল – নীল রঙের পদ্মফুল।

নূতন – নতুন, নবীন, তরুণ, অভিনব।

নূপুর – পায়ের অলংকার বিশেষ, ঘুঙুর, শিঞ্জিনী।

নৃ – মানুষ, মানব, নর।

নেউল – বেজি। সাপে-নেউলে।

নোঙর – শিকল বা কাছির সাথে বাধা লোহার অঙ্কুশ বিশেষ, নৌকা বাধার যন্ত্র।

পইতা – যজ্ঞসূত্র, উপবীত।

পঙতি – সারি, শ্রেণী, লেখার লাইন।

পঞ্চানন – পাঁচ মুখ বলে, শিব।

পঞ্চায়ুধ – তরবারি, শক্তি, ধনুক, বর্ম, পরশু এই পাঁচ অস্ত্র।

পঞ্চালিকা – মাটি, ধাতু বা কাঠ দিয়ে তৈরী পুতুল।

পঞ্জর – পাঁজর, বুকের খাঁচা, পিঞ্জর।

পদ্ম – কমল, পঙ্কজ, উৎপল।

পদ্মশ্রী – বোধিসত্ত্ববিশেষ।

পদ্মাক্ষ – পদ্মের মতো চোখবিশেষ। পদ্মলোচন।

পদ্মাবতী – মনসাদেবী, পদ্মা নদী।

পন্থ – পথ। উপায়, ধারা, রীতি।

পয়মাল – ধ্বংস, নষ্ট।

পরন্তপ – শত্রুদমনকারী, অরিন্দম।

পরবশ – পরাধীন, অন্যের প্রতি বশ্যতা।

পরম – প্রথম, প্রকৃত, শ্রেষ্ঠ, প্রধান, সর্বাতীত, চরম। পরমা। পরা।

পরমার্থ – অভীষ্টতম বস্তু, শ্রেষ্ঠ কাম্য বস্তু, সত্য, ধর্ম, ব্রহ্মধ্যান, ধর্মচিন্তা।

পরস্পর – পরম্পরা, ধারা, অনুক্রম, পরপর, ধারাবাহিক, ক্রমাগত।

পরশ্রী – অন্যের সমৃদ্ধি বা সৌভাগ্য।

পরাগ – ফুলের রেণু, পুষ্পরজ, কেশর।

পরাতপর – শ্রেষ্ঠ অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ। সর্বশ্রেষ্ঠ, পরমেশ্বর।

পরান্তক – সৃষ্টির সংহার কর্তা।

পরিগ্রহ – বিশেষভাবে গ্রহন। স্বীকার।

পরিনির্বাণ – মোক্ষ, ভববন্ধন থেকে মুক্তি।

পরিপ্লুত – সম্যক প্লাবিত, সিক্ত, নিমজ্জিত।

পরিবৃত – সম্যক পরিবেষ্টিত। আবৃত।

পর্ণ – গাছের পাতা, পর্ণকুটির, পর্ণশয্যা, তাম্বুল, পান, পাখির পালক।

পলাশ – লাল ফুল, কিংশুক।

পল্বল – ক্ষুদ্র জলাশয়।

পল্লব – পাতা, কিশলয়, কচি পাতা। পল্লবী।

পশলা – একবারের বর্ষণ।

পসার – ব্যবসায়ে খ্যাতি।

পহিল – প্রথম, নবীন, প্রথমেই।

পাংশু – ছাই, পাঁশ, দোষ, ধূসর, ম্লান।

পাঁচিল – দেওয়াল। প্রাচীর।

পাখোয়াজ – মৃদঙ্গ, ঢোলের মতো বাদ্য।

পাঞ্চজণ্য – শ্রীকৃষ্ণের শঙ্খ।

পাঞ্জর – পঞ্জর, দেহ, শরীর।

পাণি – হাত, বীণাপাণি।

পাথার – বিস্তীর্ণ জলরাশি।

পানসি – ছোটো নৌকা।

পান্থ – পথিক, পথভ্রমনকারী।

পান্না – সবুজ রঙের দামি মণিবিশেষ।

পাপিয়া – কোকিল জাতিয় সুনণ্ঠ পাখি।

পামর – পাপিষ্ঠ, নরাধম, নীচ, মূর্খ।

পারত্রিক – পরলোকসংক্রান্ত, পারলৌকিক।

পারমিতা – বৌদ্ধধর্মের বুদ্ধত্ব অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় দশগুনের অদিষ্ঠাত্রী দেবী।

পারাপার – নদী ইত্যাদির দুই তীর। পারাবার।

পারাবত – পায়রা, কবুতর। কপোত।

পারিজাত – সমুদ্রমন্থনে উৎপন্ন স্বর্গীয় গাছ বা তার ফল।

পারুল – লালচে রঙের সুগন্ধি ফুলবিশেষ বা তার গাছ।

পার্থ – অর্জুন, সাথী।

পার্বতী – হিমালয় কন্যা উমা বা দুর্গাদেবী।

পাশব – পাশবিক, পশুসম্বন্ধীয়, পশুর মতো।

পাসরন – বিস্মরন।

পাসরা – বিস্মৃত হওয়া। পাসরি।

পিউ – পাপিয়ার ডাক। পিউ কাহা।

পিঙ্গল – আগুনের মতো রঙ, কপিল বর্ণ।

পিনাক – শিবধনু, ত্রিশুল, পিনাকী, শিবের বাদ্যযন্ত্র।

পিলসুজ – দীপাধার, শামাদান।

পীত – হলুদ রঙ, পীতধড়া, পীতবাস, পীতাম্বর, কৃষ্ণের পরিহিত বস্ত্র।

পীয়ূষ – অমৃত, সুধা।

পুচ্ছ – লেজ।

পুঞ্জ – স্তুপ, রাশি, সমূহ, সঞ্চিত।

পুন্নাগ – শ্বেতপদ্ম, শ্বেতহস্তী, নরশ্রেষ্ঠ।

পুরঃসর – অগ্রসর, সম্মানপুরঃসর, প্রণামপুরসর।

পুরন্ত – পরিপুষ্ট, নিটোল, ভরতি।

পুরন্দর – ইন্দ্র, কৃষ্ণ। পুরুহূত।

পুরন্ধ্রী – গৃহিণী, প্রবীণা, কুলনারী। পুরাঙ্গনা।

পুরবি – সংগীতের অপরাহ্নকালীন রাগিনীবিশেষ।

পুরবৈয়াঁ – পূর্ব দিক থেকে প্রবাহিত, পূর্বের।

পুরহর – শিব।

পুরাকাল – প্রাচীন কাল। পুরাগত।

পুরোদস্তুর – পুরোপুরি, সম্পূর্ণ।

পুলক – রোমাঞ্চ, শিহরন, আনন্দ, হর্ষ।

পুলিন – সৈকত, নদীর বালুকাময় তীরের যে অব্দি জোয়ারের জল উঠে।

পুশিদা – লুকানো, অন্তরালবর্তী, গোপন, গুপÍ।

পুষ্কল – প্রচুর, পর্যাপ্ত।

পূরয়িতা – পূর্ণকারী, পরিপূর্ণকারী।

পূর্ণেন্দু – পূর্নচন্দ্র, পূর্ণিমা রাত্রির চাঁদ, পূর্ণিমা।

পূষণ – সূর্য।

পেখন – দর্শন, প্রেক্ষন, দেখা। পেখা।

পেখম – ময়ূর ইত্যাদির ছড়িয়ে দেয়া লেজ।

পেন্নাম – প্রণাম এর আঞ্চলিক রুপ।

পেলব – অত্যন্ত কোমল, মৃদু, ক্ষীণ, ভঙ্গুর।

পৌর্ণমাসী – পূর্ণিমাতিথি, বৃন্দাবনের অধিষ্ঠাত্রী দেবী।

প্রগলভ – দাম্ভিক, উদ্ধত, ধৃষ্ট।

প্রগাঢ় – অত্যন্ত গভীর।

প্রগ্রহ – লাগাম, বল্গা, বাধবার দড়ি।

প্রচিত – চয়ন বা সংগ্রহ করা হয়েছে এমন, সঞ্চিত।

প্রজাত – উৎপন্ন, প্রজাতা, জন্ম।

প্রজ্ঞা – জ্ঞান।

প্রণত – প্রণাম বা নমষ্কার করেছে এমন।

প্রণম্য – প্রণামের যোগ্য, যাকে প্রনাম করা উচিত।

প্রণয় – প্রেম, ভালোবাসা, অনুরাগ, প্রীতি, সৌহার্দ, বন্ধুত্ব।

প্রতত – বিস্তীর্ণ, দূরপ্রসারী।

প্রতনু – অতি ক্ষুদ্র, সূক্ষ, সরু।

প্রতর – তরণ, পার হওয়া।

প্রতিম – তুল্য, সদৃশ, অগ্রজপ্রতিম, প্রাণপ্রতিম।

প্রতীচী – পশ্চিম দিক, পাশ্চাত্য দেশসমুহ।

প্রতীত – বিশ্বাস জন্মেছে এমন। প্রত্যয়, প্রতীতি।

প্রতুল – প্রাচুর্য, শ্রীবৃদ্ধি। প্রচুর।

প্রত্ন – প্রাচীন, পুরাতন।

প্রত্যগাত্মা – পরমাত্মা, অন্তর্যামী।

প্রত্যগ্র – নতুন, তরুণ, টাটকা, তাজা।

পত্যনীক – শত্রুভাবাপন্ন, বিরুদ্ধ।

প্রত্যুষ – প্রভাত, উষা, ভোর।

প্রদীপ – দীপ, আলো, উজ্জলতা, তেজ।

প্রদৃপ্ত – অতিশয় দৃপ্ত, গর্বিত। সতেজ।

প্রদোষ – সুর্যাস্তের সময়, সন্ধ্যা, সায়ংকাল, রাত্রির প্রথম ভাগ।

প্রদ্যোত – দীপ্তি, আভা, রশ্মি, কিরণ, উদ্ভাসিত, প্রকাশিত।

প্রপঞ্চ – বিস্তার, মায়া, প্রবঞ্চনা, সংসার, ভ্রম, অসত্য।

প্রপন্ন – আশ্রয়প্রার্থী, শরণাগত।

প্রপাত – যেখানে নির্ঝর পতিত হয়, জলপ্রপাত, জলধারার পতন।

প্রবর – শ্রেষ্ঠ, অত্যৎকৃষ্ট, ঋষি। প্রবীর, মহাবীর, প্রধান, বলবান।

প্রবহ – প্রবাহ, স্রোত, প্রবাহিত হচ্ছে এমন।

প্রবুদ্ধ – জ্ঞানপ্রাপ্ত, উদ্বুদ্ধ, চেতনাপ্রাপ্ত, জাগরিত, মহাজ্ঞানী।

প্রব্রজ্যা – সন্ন্যাস অবলম্বন করে পরিভ্রমন।

প্রভঞ্জন – ঝড়, প্রবল বায়ু।

প্রভব – কারন, উৎস, উৎপত্তি, প্রভাব।

প্রমথ – শিবের অনুচর যারা নাচ গানে পারদর্শী।

প্রমদা – সুন্দরী যুবতী, সুন্দরী, রমণী।

প্রমা – গভীর জ্ঞান, স্থির প্রতীতি।

প্রমিত – নিশ্চিত, নির্ধারিত, জ্ঞানত, প্রমাণিত, পরিমিত।

প্রমীলা – তন্দ্রা, অবসাদ, নারী, তেজী স্ত্রীলোক।

প্রমূর্ত – স্পষ্টভাবে মূর্ত বা অভিব্যক্ত।

প্রসূন – ফুল, মুকুল, কুঁড়ি, ফল।

প্রহত – আঘাতপ্রাপ্ত, তড়িৎপ্রহত, তরঙ্গপ্রহত, ঝঞ্ঝাপ্রহত।

প্রহরণ – অস্ত্র, প্রহার।

প্রহসন – হাস্যরসাত্মক নাটক, খেলো।

প্রহেলিকা – ধাঁধা, হেঁয়ালি, প্রহেলী।

প্রহ্লাদ – আনন্দ, প্রমোদ, শব্দ, হিরণ্যকশিপুর পুত্র।

প্রাংশু – উন্নত, উঁচু, দীর্ঘকায়।

প্রাকার – প্রাচীর, দেওয়াল।

প্রাগুক্ত – পূর্বোক্ত, পূর্বে উল্লিখিত।

প্রাঞ্জল – সরল, সহজবোধ্য, স্বচ্ছ, পরিষ্কার।

প্রাণারাম – প্রাণে যে সুখ ও শান্তি দান করে।

প্রোপাগান্ডা – প্রচার।

ফল্গু – আবির, ফাগ, ধারা, প্রবাহ, ফল্গুধারা।

ফুল্ল – প্রস্ফুটিত, পূর্ণপ্রকাশিত, প্রফুল্ল।

ফেরেব – প্রবঞ্চনা, জুয়াচুরি।

বঙ্কিম – বাঁকা, ঈষত্, বাঁকা, কুটিল।

বল্মিক – উইঢিপি।

বল্লভ – পতি, স্বামী, প্রণয়ী, প্রিয়।

বহ্নি – অগ্নি, চিতা, আগুন, জলন্ত, প্রজ্বলিত, শিখা।

বাচস্পতি – বাকপটু, বাগ্মী ব্যক্তি, বিদ্বান, পান্ডিত্য।

বাড়ব – সমুদ্রোত্থিত অগ্নি, বাড়ববহ্নি।

বাতাবরণ – পরিবেশ, আবরন।

বাতায়ন – জানালা, গবাক্ষ, অয়ন।

বায়ব – বায়বীয়, বায়স্য, বায়ুজাত, বায়ুসংক্রান্ত।

বিতনু – সুন্দর, কমনীয়, রোগা, কাবু।

বিতরণ – বিতরো, বিলিয়ে দেয়া।

বিতান – চন্দ্রাতপ, চাঁদোয়া, মন্ডপ, পুঞ্জ, নিচয়, তাঁবু, যজ্ঞবেদী।

বিথার – ছড়ানো, আলুলায়িত, পরিব্যপ্ত, পরিপূর্ণ, বিস্তার।

বিদ্রুম – পদ্মরাগমণি, প্রবাল, পলা, কিশলয়।

বিধু – চন্দ্র, চাঁদ।

বিধৃত – ধরা, ধারন করা হয়েছে এমন, সযত্নে ধৃত।

বিনায়ক – গণনায়ক, শিক্ষক, গুরু, বুদ্ধদেব।

বিনোদ – সন্তোষ, আনন্দিতকরণ, প্রিয়, সুন্দর, বিনোদিনী।

বিপিন – অরণ্য, বন।

বিপ্রতীপ – প্রতিকূল, সম্পূর্ণ বিপরীত।

বিবর্ত – ঘূর্ণন, ভ্রমন, পরিবর্তন, পরিনাম, ভ্রম, মায়াবাদ।

বিবশ – অসাড়, অবশ, নিশ্চেষ্ট, বিহ্বল।

বিভা – প্রভা, দীপ্তি, কিরণ, সৌন্দর্য।

বিভাব – আলম্বন, উদ্দীপন, প্রেরণা, উদ্দীপনা, মহত্ত্ব।

বিভাস – উজ্জল প্রকাশ , বিভাসা, দীপ্ত হওয়া।

বিভু – পরমেশ্বর, প্রভূ, আকাশ।

বিভূতি – ভগবানের ঐশ্বর্য, শক্তি, সমৃদ্ধি।

বিভোর – বিভোল, মুগ্ধ, আত্মহারা, আবিষ্ট, অচেতন

বিমল – নির্মল, অকলুষিত, স্বচ্ছ, পবিত্র।

বিলয় – প্রলয়, বিনাশ, ধ্বংস, বিলোপ।

বিলোল – চপল, চঞ্চল, লাস্যযুক্ত।

বিষাণ – পশুশৃঙ্গ, শিং দিয়ে তৈরী বাদ্যযন্ত্র, প্রলয়বাদ্য।

বিহগ – বিহঙ্গ, বিহঙ্গম, পাখি, আকাশচারী।

বীণা – সপ্ততার যুক্ত বাদ্যবিশেষ।

বীত – অতীত, বিগত, অপগত, অনাসক্ত, বীতরাগ, বীতকাম, বীতশোক।

বীথি – বীথিকা, বীথী, সারি, পংক্তি।

বুজ-দিল – কাপুরুষ, ভীরু।

বুজ-রুক – পান্ডিত্যের ভানকারী, প্রতারক।

বেণু – বাঁশ, বেণুবন, বাঁশের সারি।

বেতমিজ – অশিষ্ট, অভদ্র, অবিনীত, দুর্বিনীত।

বেদন – বোধ, ব্যথা, যন্ত্রনা, অনুভূতি, মনস্তাপ, দুঃখ।

বেভুল – বিহ্বল, বিবশ, অভিভূত, বিভ্রান্ত, সংশয়।

বেলেল্লা – উচ্ছৃঙ্খল, লম্পট, নির্লজ্জ, বখাটে, মাতাল।

বেসাত – বেসাতি, পণ্যদ্রব্য, পসার।

বৈতরণি – বৈতরণী, যমদ্বারের নিকটস্থ নদী, পার ঘাটার নদী।

বৈভব – ঐশ্বর্য, বিভব, মহিমা, বিভুতি।

বোরাক – স্বর্গের বাহন, পক্ষীরাজ।

ব্যবচ্ছেদ – বিশ্লেশন, খন্ড খন্ড ভাগকরন, শবব্যবচ্ছেদ।

ব্রত – তপস্যা, সংযম, ধর্মকার্য।

ব্রাত্য – পতিত, ব্রতভ্রষ্ট, যথাসময়ে উপনয়ন হয়নি এমন।

ভক্ত – ভক্তিমান, প্রীতিযুক্ত, অনুরক্ত।

ভগবান – ঐশীগুন, ঈশ্বরত্ব, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য।

ভঞ্জন – দূরীকরণ, নিবারন, নিরসন।

ভদ্রসন – বাস্তুভিটা, বসতবাড়ি।

ভবন শিখী – গৃহপালিত ময়ুর।

ভবার্ণব – ভবসমুদ্র, সংসাররুপ সমুদ্র।

ভাতি – উজ্জলতা, কান্তি, শোভা, আবির্ভাব, প্রকাশ, উদয়, নিশাভাতি, প্রদীপভাতি।

ভৈরব – শিব, রুদ্রমূর্তি, ভীষন।

ভৈরবী – শৈবসন্নাসিনী, ভীষণা।

মগন – মগ্ন, নিমজ্জিত, অন্তঃপ্রবিষ্ট, বিভোর।

মঞ্জরি – মঞ্জরী, কিশলয়যুক্ত কচি ডাল, অঙ্কুর, মুকুল, নবমঞ্জরী, মুকুলিত।

মঞ্জিমা – শোভা, সৌন্দর্য, মনোজ্ঞতা।

মঞ্জীর – নূপুর।

মঞ্জু – সুন্দর, মনোহর। মঞ্জুল, মধুর।

মতি – বুদ্ধি, জ্ঞান, স্বরণশক্তি, প্রবণতা, অনুরক্তি, চিত্ত, মন, মনের ভাব। মানস।

মদির – মত্ততাজনক, আবেশ জাগানিয়া।

মন মোহিনী – চিত্তাকর্ষক, মনকে মুগ্ধ করে এমন। মনোজ্ঞ, সুন্দর। মনোরম।

মনোরথ – মনোবাসনা, মনের ইচ্ছা, অভিলাষ, সংকল্প।

মন্দাকিনী – স্বর্গের গঙ্গা।

মন্দানিল – ধীরে প্রবাহিত বায়ু, মৃদু বাতাস।

মন্দার – স্বর্গীয় বৃক্ষবিশেষ বা তার ফুল, মাদারগাছ। মান্দার গাছ, শিমুল গাছ।

ময়ূখ – কিরণ, রশ্মি, জ্যোতি।

মরকত – সবুজ রঙের দামি পাথর। পান্না।

মরমী – মরমীয়া, মর্ম বুঝে যে।

মর্মর – শুকনো পাতার ধ্বনি।

মলয় – স্বর্গীয় উদ্যান, নন্দনকানন, মলয়পর্বত থেকে আগত ¯িœগ্ধ বাতাস।

মহন্ত – মহান্ত, মোহন্ত, সন্ন্যাসী, নবধা ভক্তিযুক্ত কৃষ্ণভক্ত।

মহী – মহি, পৃথিবী, মহীমন্ডলে।

মহুয়া – বৃক্ষবিশেষ, মউল গাছ, মউল ফুল, যার রস দিয়ে মাদক প্রস্তুত হয়।

মাদল – ঢোল। মৃদঙ্গ।

মর্সিয়া – শোকগীতি, মহররমের শোকগীতি।

মার্গ – পথ, উপায়, সাধনা প্রনালী, ধর্মপথ।

মালঞ্চ – ফুলের বাগান।

মালতী – সুগন্ধ সাদা ফুলবিশেষ বা তার লতা, জাতিপুষ্প চামেলিফুল।

মাশুক – প্রেমাস্পদ।

মাস্তুল – নৌকায় পাল খাটাবার কাঠের দন্ড।

মির্মির – চোখের পলক, অপলক দৃষ্টি, সজীব দৃষ্টি, নির্ভার।

মুদগর – গদা, মুগুর, অস্ত্র। মুষল, দন্ড।

মুনিম – বদান্য, উদার, দানশীল।

মুরছা – মুর্ছা, মুরছিত, মুর্ছিত।

মুশায়রা – কবিদের সম্মেলন।

মুসাফির – পথিক, ভ্রমনকারী।

মূক – বাকশক্তিহীন, বোবা।

মূর্ছনা – সুরের মধূর কম্পন।

মৃণাল – পদ্মের ডাঁটা, কন্দ।

মৃণ্ময় – মাটির তৈরী। মেটে।

মেনকা – হিমালয় পত্নী, স্বর্গের অস্পরীবিশেষ।

মোতিয়া – বেলিজাতীয় ফুলবিশেষ।

মৌতাত – নেশার আমেজ, আবেশ, নেশা স্পৃহা।

ম্লান – মলিন, বিশীর্ণ, ক্ষীণ, নিস্প্রভ, বিষন্ন, কান্ত।

যতী – তপস্বী, সন্ন্যাসী, সংযত, জিতেন্দ্রিয়।

যুগল – একজোড়া, দুটি।

যূথিকা – যূথি, জুঁইফল।

রমা – লক্ষীদেবী, প্রিয়া, সুন্দরী নারী।

রাখি – মঙ্গলসূত্র।

রাত – রাত্রি, রাতি, রাতিয়া। রাত্তির, রাত্র।

রাতুল – রক্তবর্ণ, রাঙা।

রাহি – পথচারী।

রাহু – অসুর, শত্রু।

রুদ্র – শিব, ক্রুদ্ধ শিব। প্রলয়মূর্তি।

রুধির – শোণিত, রক্ত।

ললিত – সুন্দর, চারু, মৃদু, মনোরম, কমনীয়, কোমল, লাস্য, বিলাস। লালিত্য, কান্তি, মধুরতা।

লহর – ঢেউ, প্রবাহ, শ্রেণী, সারি। লহরা। লহরী।

লহু – রক্ত।

লালিমা – লাল আভা, রক্তিমা।

লীলা – কেলি, প্রমোদ, হাবভাব।

শরাব – শারাব, মদ।

শর্বরী – রাত, রজনী।

শশ – চাঁদের কলা বা অংশ।

শার্দূল – বাঘ।

শালি – হৈমন্তিক ধান, শালিধান।

শাশ্বত – নিত্য, চিরন্তন, অবিনশ্বর।

শিয়র – শয়নকারীর মাথার দিক, নিকট।

শৌভিক – জাদুকর, ঐন্দ্রজালিক।

শ্যাম – মেঘবর্ণ, কৃষ্ণবর্ণ, ঘন নীলবর্ণ, ফরসা নয় এমন।

শ্লোক – পদ্য বা পদ্যের অংশ।

সংকাশ – নিকট, সমীপস্থ। জবাকুসুমসংকাশ।

সংকুল – পরিপূর্ণ, সমাকীর্ণ।

সংগুপ্ত – সুরক্ষিত, অতিশয় গুপ্ত বা গোপন।

সংবর্ত – মহাপ্রলয়, প্রলয়কালীন মেঘ। প্রদীপের শিখা।

সংবিত – সম্বিৎ, চেতনা, জ্ঞান।

সংরক্ত – অনুরাগরঞ্জিত, কামার্ত।

সংরাগ – তীব্র অনুরাগ বা প্রেম, আসক্তি। সংসক্ত। সক্ত। সানুরাগ।

সংশপ্তক – যুদ্ধে জয়লাভ অথবা মৃত্যু এই শপথকারী সৈন্য, নারায়ণী সেনা।

সংহত – সম্যক মিলিত, ঐক্যবদ্ধ বা একত্রীভূত, সুদৃঢ়, জমাট, ঘনীভূত।

সকরুণ – সদয়, কৃপাযুক্ত, অতি করুণ।

সঙ্গিন – কঠিন, গুরুতর, বিপজ্জনক।

সচ্চিদানন্দ – নিত্যজ্ঞানসুখরুপ ব্রহ্ম, পরমেশ্বর, সদানন্দ।

সঞ্জাত – উৎপন্ন, সৃষ্ট।

সঞ্জীবন – জীবনসঞ্চার, জীবন্ত করা, জীবনদায়ী, প্রাণসঞ্চারক।

সতীর্থ – একই সময়ের একই গুরুর ছাত্র, সহপাঠী, সহাধ্যায়ী, একই শ্রেণীর ছাত্র।

সন্দর্ভ – রচনা, প্রবন্ধ, নিবন্ধ, গ্রন্থ, সংগ্রহ।

সন্দর্শন – সম্যক দর্শন বা অবলোকন। সাক্ষাৎ।

সন্দীপন – প্রজ্বালন, উৎসাহিত করা, প্রজ্বালক, সন্দীপিত।

সন্মার্গ – সৎ পথ বা উপায়।

সপ্রতিভ – প্রতিভান্বিত, দীপ্তিময়, প্রভাযুক্ত, সংকোচমুক্ত, চটপটে।

সফেদ – সাদা, শ্বেত, শুভ্র।

সফেন – ফেনাযুক্ত। মাড়যুক্ত।

সম্বুদ্ধ – সম্যক জ্ঞানপ্রাপ্ত, চেতনাপ্রাপ্ত, বুদ্ধাবতার।

সম্বোধি – সম্যক জ্ঞান, পূর্ণ জ্ঞান। সম্যক চেতনা।

সম্ভূত – উৎপন্ন, জাত।

সম্মূঢ় – নির্বোধ, অজ্ঞান, অতিময় মোহযুক্ত।

সরণি – পথ, রাস্তা, চলন।

সরসিজ – পদ্ম। সরোজ, পদ্মিনী, কমলিনী।

সলিল – জল, বারি।

সাকি – প্রিয় ব্যাক্তি, সুরা পরিবেশনকারী।

সাকিন – নিবাস, বাসস্থান, ঠিকানা।

সাজাত্য – একজাতীয়তা, এক ধর্মিতা, এক বিধাতা।

সাতত্য – নিরন্তরতা, বিরামহীনতা।

সান্ত্রী – প্রহরী, রক্ষী, সৈনিক।

সায়র – সমুদ্র, সরোবর।

সারঙ্গ- বিচিত্র চক্রচিহ্নযুক্ত হরিণবিশেষ , চিতল হরিণ।

সারঙ্গী- সারেঙ্গী, ছড় দিয়ে বাজাতে হয় এমন বেহালাজাতীয় বাদ্য।

সারথি- রথচালক।

সারস- জলা জমিতে বিচরণকারী বকজাতীয় বড়ো পাখিবিশেষ।

সারস্বত- সরস্বতীসম্বন্ধীয়। বিদ্বান।

সারূপ্য – সমরূপতা, ঈশ্বরের সমান রূপ প্রাপ্তি।

সারেং- স্টিমার বা জাহারেজ প্রধান মাঝি বা পরিচালক।

সার্থ – সঙ্গী, সমূহ, জন্তসমূহ, পশুর দল।

র্সাথ- বণিকসমুহ, ধনবান, পথপ্রদর্শন।

সার্ব- সর্বহিতকর, চিরস্থায়ী, সর্ববিদিত।

সার্ষ্টি – সমান গতি বা শক্তি লাভ, ঈশ্বরের সমান শক্তি লাভ।

সালোক্য- ঈশ্বরের সাথে একলোকে বাস।

সাশ্রু- অশ্রুপূর্ণ।

সাষ্টাঙ্গ – জানু,চরণ,হস্ত,বক্ষ,মস্তক,চক্ষু,দৃষ্টি ও বাক্য দ্বারা কৃত প্রণাম।

সাহংকার- অহংকারপূর্ণ।

সাহজিক- স্বাভাবিক, স্বভাবসিদ্ধ।

সিংহাব-লোকন- সিংহের প্রস্থানের সময় বারবার পিছনে তাকানো

সিঁথি- সিঁথা, সীমন্ত, মাথার কেশের মাঝখানের সরু রেখা

সিকতা- বালি

সিক্ত- ভেজা।

সিতাভ- সাদাটে, সাদা।

সিন্ধু- সমুদ্র, সাগর।

সিরজা- সৃজন করা, নির্মাণ করা, তৈরী করা, উদ্ভাবন করা।

সুমিতি- শোভন ও সামঞ্জস্যপূর্ণ পরিমাণ।

সুরভি- সুগন্ধ, সৌরভ।

সুরেশ্বর- মহাদেব, শিব, ইন্দ্র।

সুক্ত- ঋকের সমষ্টি, বেদ স্তোত্র, সত্বচন।

সূদন- বধ, হনন।

সূনৃত- সত্য অথচ প্রিয় বাক্য

সৃতি- পথ, গমন, গতিপথ।

সেঁউতি – নৌকার জল সেচকার পাত্রবিশেষ।

সেঁজুতি- সন্ধ্যাপ্রদীপ, সন্ধ্যার দ্বীপ প্রজ্জলন।

সেজ- শয্যা, বিছানা।

সেতাব- শীঘ্র, জলদি।

সেবন্তী- সেমন্তী, সেউঁতি ফুল।

সেরেস্তা- দফতর, কার্যালয়, অফিস।

সোপান- সিঁড়ি ।

সোম- চন্দ্র, তীর্থ।

সোমত্ত- যৌবনপ্রাপ্ত, বিবাহের উপযুক্ত।

সোয়াস্তি- শান্তি, উদ্বেগহীনতা, আরাম, উপশম।

সোরাই- জলের কুঁজো।

সোসর- সর্বপ্রকারে সমান, সদৃশ।

সোহম- আমিই ব্রহ্ম।

সৌকর্য- সহজসাধ্যতা, সুবিধা।

সৌদামিনী-বিদ্যুৎ, তড়িত।

সৌবর্ণ- স্বর্ণনির্মিত। সুবর্ণময়।

সৌভিক- ঐন্দ্রজালিক, জাদুকর।

সৌমনস্য- প্রসন্নতা, প্রীতি।

স্বকৃত- নিজের দ্বারা কৃত।

স্বগত- আত্মগত, নিজের দ্বারা নিজে উক্ত।

স্বপদ- নিজের অধিকার।

স্বর্লোক- স্বর্গ।

স্বস্ত্যয়ন- আপদশান্তি পাপমোচজন অভীষ্টলাভ ইত্যাদি কামনায় পূজা।

স্বাধ্যায়- বেদপাঠ, শাস্ত্রাধ্যয়ন।

স্বাহা- দেবোদ্দেশে অগ্নিতে প্রদত্ত ঘৃতাহুতি।

স্বোপার্জিত- নিজের দ্বারা অর্জিত।

স্মর্তব্য- স্বরণ।

স্মিত- মৃদুহাসি।

স্রক – মালা, হার।

স্রস্ত – স্খলিত, বিচ্যূত, ক্ষরিত, বিগতিলত, শিথিল।

হড়পা- নদীতে হঠাৎ যে বান আসে।

হতোদ্যম- উদ্যমহারা, ভগ্নোৎসাহ।

হর- প্রত্যেক, হররোজ।

হর-করা- সংবাদ বাহক।

হর্ষ- আনন্দ, পুলক।

হলাহল- দেবাসুরকর্তৃক সমুদ্রমন্থনে উত্থিত তীব্র বিষ।

হাভাত- অন্নহীন দশা, ভাগ্যহীন ব্যক্তি।

হার্দিক- হৃদয়সমন্ধীয়, হৃদগত, আন্তরিক।

হিন্দোল- দোল, ঝুলন।

হিম- শীত, তুষার।

হিয়া- হৃদয় এর কোমল রূপ।

হিরণ- স্বর্ণ, হেম, সুবর্ণ।

হিরণ্ময়- স্বর্ণনির্মিত, স্বর্ণবর্ণ।

হিল্লোল- তরঙ্গ, দোলন, আন্দোলিত।

হুহুং-কার- গর্জন, সিংহনাদ।

হৃদ্য- হৃদয়গ্রাহী, প্রিয়।

( কাব্য অভিধান – সমাপ্ত )

সংকলন : লাবিব মাহফুজ চিশতী
সম্পাদক – লাবিব মাহফুজ চিশতী
চেয়ারম্যান – আপন ফাউন্ডেশন

More Posts

সাবস্ক্রাইব করুন