আপন ফাউন্ডেশন

আহলে বাইত এর নামের পাশে (আঃ) ব্যবহার

Date:

Share post:

সংকলন – মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন চিশতী

আহলে বাইত পাক পাঞ্জাতন এর নামের শেষে আলাইহিস সালাম সংক্ষেপে (আঃ) ব্যবহার নিয়ে মতভেদ বিদ্যমান। এক শ্রেণীর লোকদের অভিমত আলাইহিস সালাম কেবল নবী রাসুলগণের নামের শেষে ব্যবহার করা জায়েজ অন্য কারো নামের শেষে ব্যবহার জায়েজ নাই । অপর পক্ষ কোরআন হাদীসের দলিল দ্বারা আহলে বাইতের নামের শেষে (আঃ) ব্যবহার বৈধ বা জায়েজ প্রমাণ করেছেন । নিম্নে প্রমাণিত দলিল দ্বারা আলোকপাত করা হলো । আলোচনার প্রারম্ভে আহলে বাইত পাক পাঞ্জাতন সম্পর্কে কিঞ্চিত ধারণা থাকার দরকার যেমন ‘আহল’ অর্থ অধিবাসী এবং ‘বাইত’ অর্থ ঘর । তাহলে “আহলে বাইত” অর্থ মহানবী (সঃ) এর ঘরের অধিবাসী । ‘পাক’ অর্থ পবিত্র বা পরিশুদ্ধ এবং ‘পাঞ্জাতন’ অর্থ পাঁচটি শরীর ।

কাজেই পাক পাঞ্জাতন মানে পবিত্র পাঁচটি শরীর বা ব্যক্তি তথা (১) হযরত মুহম্মাদ (সঃ) (২) হযরত আলী (আঃ) (৩) হযরত ফাতেমা (আঃ) (৪) হযরত ইমাম হাসান (আঃ) ও (৫) হযরত ইমাম হোসাইন (আঃ) । সুরা আহযাব ৩৩ নাম্বার আয়াতে “তাতহির” মোতাবেক রাসুলুল্লাহ্ (সাঃ) এর আহলে বাইত আলী ফাতেমা হাসান ও হোসাইন পবিত্র চারজান এবং রাসুলে পাক (সঃ) কে নিয়ে হলো পাক পাঞ্জাতন । সৃষ্টির মূল ধারক বাহক হলো পাক পাঞ্জাতন এবং তাঁর নবুয়তী ছুরত হলো উক্ত পাঁচজন । তাদের বেলায়তীরূপ সমগ্র সৃষ্টিব্যাপী স্থিত আছে এবং তাঁদের সেই স্থিত বস্থা হতে উপস্থিত রূপ হলো নবুয়তী সুরত । যাদেরকে ভাল বাসাই হলো ঈমানের মূল ভিত্তি (সুরা শুরা- ২৩ আয়াত)

“আলাইহিস সালাম” শব্দের অর্থ – তাঁর উপর শান্তি বর্ষিত হোক । ইহা একটি উত্তম প্রার্থনা । যেমন আমরা (মুসলমান) সবাই একে অপরকে সালাম দিয়ে থাকি । এখন আলাইহিস সালাম যদি শুধুমাত্র নবী রাসুলগণের নামের পাশেই ব্যবহার জায়েজ অন্য কারোর জন্যে জায়েজ না থাকতো তাহলে হযরত হাওয়া (আঃ) হযরত মরিয়ম, হযরত খিজির, হযরত লোকমান, ইমাম মাহাদী এবং জিবরাইল, মিকাইল, ইসরাফিল ও আজরাইল তিনাদের নামের শেষে (আঃ) শব্দটি ব্যবহার করা হতো না, কেননা উনারা কেউই নবী রাসুল নন । প্রমাণ হলো নবী রাসুল ছাড়াও অন্যান্যদের নামের শেষে (আঃ) ব্যবহার বৈধ বা জায়েঝ । পবিত্র কোরআনে আল্লাহপাক, মুমিন, পরহেজগার ও বেহেশতীদের সালাম দিয়েছেন যেমন- সুরা ইয়াসিন ৫৮ নং আয়াত । সুরা ত্বহা ৪৭ নং আয়াত । সুরা আরাফ ৪৬ নং আয়াত দ্রষ্টব্য ।

আমরা সালাতে তাশহুদ বৈঠকে দরূদ শরীফ পাঠকালে আলে মোহাম্মদ অর্থাৎ আহলে বাইত পাক পাঞ্জাতনকে সালাম দিচ্ছি (বুখারী শরীফ কিতাবুত তাফসীর ৪৪৩৪নং হাদিস) সকল মাযহাব অনুসারীগণ ইমাম মাহদী (আঃ) এর নামের শেষে আলাইহিস সালাম লিখা বা বলা জায়েজ এতে একমত পোষণ করেছেন এ ব্যাপারে কারো কোন বাধা নেই । কেন নেই ? তিনিতো নবী বা রাসুল নন । সঠিক উত্তর খুজে নিলেই আহলে বায়েতের নামের সাথে (আঃ) ব্যবহারের দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে ।

লক্ষ্য করুনঃ (ক) হাদিস শরীফে বর্ণিত আছে সাঈদ ইবনে মুসাইয়্যে বলেন, আমরা উম্মে সালামাহ (রাঃ) এর সাথে “ইমাম মাহদী” নিয়ে আলোচনা করছিলাম তিনি বলেন রাসুল (সঃ) এরশাদ করেছেন “মাহদী” হবে ফাতেমার বংশ ধর । (ইবনে মাজাহ হাদিস নং ৪০৮৬)। (খ) হযরত উম্মে সালামাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত । তিনি বলেন আমি মহা নবী (সঃ) কে বলতে শুনেছি যে মাহদী আমার ঔরসজাত ফাতিমার বংশ থেকে হবে (আবু দাউদ শরীফ, কিতাবুল মাহদী) । বিচার্য, ইমাম মাহদী নবী বংশের হওয়ার কারণেই তাঁর নামের শেষে “আলাইহিস সালাম” ব্যবহার করা হয়, তাহলে আহলে বাইতের শানে (আঃ) ব্যবহার হবে না কেন ?

যে সকল ওলামায়ে কেরাম আহলে বাইতের নামের সাথে আলাইহিস সালাম ব্যবহার করেছেন তার কিছু দলিল তুলে ধরছি ।
১। বুখারী শরীফের কিতাবুল ফাজায়েলে সাহাবাহ অধ্যায়ের বাবুল মানাক্কিবে ফাতিমাত্ব শীর্ষক পর্বে (৩৭/৬২নং অধ্যায়) হযরত ফাতিমার নামের শেষে (আঃ) ব্যবহার করা হয়েছে । (পর্ব নাম্বার ৫৯/২৯ ও ৪১/১২) বুখারী শরীফ ।
২। কিতাবুল মানাক্কিবিত তিরমিজি এর ফাজলি ফাতিমাতা বিনতি মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহিমা ওয়া সাল্লাম উপপর্ব (কিতাব নম্বর ৫০ বাব নম্বর ৬১ তিরমিজী শরীফ) ।
৩। উক্ত তিরমিজি শরিফের ‘মানাকিব আল হাসান ওয়াআল হুসাইণ আলাইহিমা ওয়াসাল্লাম, শীর্ষক আলোচনার শিরোনামেই এই শব্দের ব্যবহার করা হয়েছে (তিরমিজি শরিফ) ।
৪ । মানাক্কিবে ফাতেমা, আল্লামা ড. তাহেরুল ইসলাম আল কাদরী পৃষ্ঠা নং ৪,৬,৮,১১,১৭,২০,২১ ও ২৪ ।
৫। রাহাতুল কুলুব, শায়েখ আব্দুল হক মোহাদ্দেসে দেহলভী পৃষ্ঠা নং-২৮, ১০৭, ১৬১, ১৮৪ ও ১৯৪ ।
৬। মাদারেজুন নবুওয়াত- ২য় খন্ড ৫৪৫ নং পৃষ্ঠা ।
৭ । ফাতওয়ায়ে আজিজি- ১ম খন্ড ৮৪ ও ২৩৪ নং পৃ ।
৮। তারিখে তাবারী ৬ষ্ঠ খন্ড- ১৯৪, ২১৬, ২৩৩,ও ২৬৯ নং পৃ ।
৯। সহীহ আল বুখারী ( ডাঃ মুহাম্মদ মুহাসিন খান সালাফী) আহলে হাদিস ৫ম খন্ড- হাদিস নং ৫৫ ও ৯১ (ইসলামিক ইউনিভারসিটি আল মদীনা আল মুনাওয়ারা আরবী, ইংরেজি অনুবাদ) ।
১০। সফরনামা (রোম, মিশর, শাম) আল্লামা শিবলী নুমানী দেওবন্দী পৃষ্ঠা নং ১২০, ১৬১, ১৮৪ ও ১৯৪ ।
১১। তাফছিরে মাজহারী ২য় খন্ড ১০৬ পৃষ্ঠায় হযরত আলী (রাঃ) এর নামের সাথে (আঃ) ব্যবহার করা হয়েছে ।
১২। ইমাম হাকেম নিছাপুরী (রঃ) একটি সহি হাদিসের শেষে উল্লেখ করেন হযরত হাসান ইবনে আলী আলায়হুমাছ ছালাম (আল মোস্তাদরাক ৫ম খন্ড ১৭৬৩ পৃ.)
সুতরাং প্রমাণিত হলো যে আহলে বাইতের নামের শেষে আলাইহিস সালাম বলা কোরআন হাদিস দ্বারা বৈধ বা জায়েজ ।

সংকলন – মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন চিশতী

More Posts

সাবস্ক্রাইব করুন

Related articles