আপন ফাউন্ডেশন

মহানবী সা. সকল মানুষের কবরে হাজির হন

Date:

Share post:

লেখক – মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন চিশতী

আল্লাহর নবী (দঃ) প্রত্যেকটি মানুষের কবরে দেখেন ও সেখানে উপস্থিত থাকেন। মনকির নকীরের সাওয়ালের সময় আল্লাহর হাবীব (দঃ) প্রত্যেকের কবরে হাজির হয়ে যায়। (তিরমিজি ১ম জি, ২০৪ পৃ. মেসকাত শরীফ ২৪ পৃ. মেরকাত শারহে মেসকাত ১ম খন্ড ৩১৩ পৃ.)

মাইয়্যেতের চোখের পর্দা সরিয়ে দেওয়া হবে ফলে সে নবী করিম (দঃ) কে সরাসরি দেখতে পাবে। (মেরকাত শরহে মেসকাত ১ম খন্ড ৩১৩ পৃ. মেসকাত শরীফ ২৪ পৃ.)। অর্থাৎ মৃত ব্যক্তির কবর ও প্রিয় নবীজির মাঝের পর্দা উঠিয়ে দেওয়া হবে, ফলে সে প্রিয় নবীজিকে সরাসরি দেখতে পাবে। (আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রঃ) মেরকাত শরহে মেসকাত ১ম খন্ড ৩১৩ পৃ.)

আল্লামা কাজী ছানাউল্লাহ পানিপাথি (রাঃ)উল্লেখ করেন : আজরাইল (আঃ) এর সামনে সারা দুনিয়া একটি থালার পিঠের মত। তিনি যেখানে খুশি সেখান থেকে রুহ কবজ করতেপারেন (হাদিস)। যেমনিভাবে আল্লাহর ওলীদেরও এই ক্ষমতা বিদ্যমান রয়েছে। তাঁরা একই সময়ে একাদিক জায়গায় যাইতে পারে। (তাফসীরে মাজহারী ৩য় খন্ড ২৭৩ পৃ.)

আল্লামা ইসমাইল হাক্কী (রঃ) ও ইমাম ফখরুদ্দিন রাজী (রঃ) বর্ণনা করেন : মালাকুল মওতের জন্যে সমস্থ ভূমন্ডল থালার পিঠের মত। তাঁর ইচ্ছানুযায়ী সেই থালা থেকে নিতে পারে। (তাফসীরে রুহুল বয়ান, তাফসীরে খাজেন, তাফসীরে কবীর)

আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রঃ) তদীয় কিতাবে উল্লেখ করেন : ওলীগণ একই মুহূর্তে কয়েক জায়গা বিচরণ করতে পারেন এবং একই সময়ে তারা একাধিক শরীরের অধিকারী হতে পারেন। (মেরকাত শরহে মেসকাত )

আল্লামা ইসমাইল হাক্কী (রঃ) বর্ণনা করেন হুজ্জাতুল ইসলাম আল্লামা ইমাম গাজ্জালী (রঃ) বলেন : আল্লাহর রাসুল (দঃ) সাহাবীগণের রুহ সমূহকে সাথে নিয়ে ভূপৃষ্টের যেখানে খুশি সেখানে ভ্রমণ করেন, এ অবস্থায় অনেক আউলিয়াগণ তাকে দেখেছেন। (তাফছিরে রুহুল বয়ান, ১০ম খন্ড, ১১৩ পৃ.)

আল্লামা ইমাম জালালুদ্দিন ছিয়তী (রাঃ) বলেন : নিশ্চয় আল্লাহর নবী (দঃ) দেহ ও রুহ সহকারে জীবিত এবং তাঁর তছররুফ করার ক্ষমতা আছে এমনকি তিনি জমীনের যেখানে খুশি সেখানে ভ্রমণ করতে পারেন (আল হাবী লিল ফাতুয়া, ২য় খন্ড ১৮০ পৃ. তাফছিরে রুহল মায়ানী, ২১তম খন্ড, ২৮৬ পৃ.)

আল্লামা কাজী ছানাউল্লাহ পানিপাথি (রঃ) আরোও বলেন : নিশ্চয় আল্লাহ তা’লা তাঁর প্রিয় বান্দাদেরকে ইন্তেকালের পর কুওয়াতের দেহ দান করেন। ঐ ক্ষমতা দিয়ে তাঁরা পৃথিবীর যেখানে খুশি সেখানে ভ্রমণ করেন, ফলে আপনজনদের সাহায্য করতে পারেন ও শত্রুদেরকে পর্যদুস্ত করতে পারেন (তাফছিরে মাজহারী, ১ম খন্ড ১৬৯ পৃ.)

আল্লামা মোল্লা আলী ক্বারী (রঃ) আরো বর্ণনা করেন : পবিত্র আত্মার অধিকারীগণের রুহ্ সমূহ তাদের ইন্তেকালের পরে উপরের জগতের সাথে মিশে যায়। ফলে তাঁদের চোখের সামনে কোন পর্দা থাকেনা, অত:পর তারা সব কিছু দেখতে পায় যেমনটি উপস্থিত ব্যক্তিকে দেখা যায় (মেরকাত শরহে মেসকাত ৩য় খন্ড ১১ পৃ.)

আল্লামা ইমাম কুস্তলানী (রঃ) উল্লেখ করেন : আল্লাহর নবী (দঃ) এর হায়াত ও মওতের মাঝে কোন পার্থক্য নেই (মাওয়াহেবুল্লাদুন্নিয়া, ২য় খন্ড, ৩৮৬ পৃ.)

তাই বলা যায় আল্লাহর হাবীব হুজুর (দঃ) আল্লাহ প্রদত্ত ক্ষমতায় হাজির-নাজির। আর হুজুর (দঃ) শরিয়তে জীবিত কালিন যেমনি ক্ষমতাবান ছিলেন তেমনি ইন্তেকালের পরেও ক্ষমতাবান।

লেখক – মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন চিশতী

More Posts

সাবস্ক্রাইব করুন

Related articles