লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী
1.
এ পথটি বয়ে চলে, হৃদয়ের অতলে
তীক্ষ তীরের ফলা, ঘূর্ণাবর্ত,
ছোট্ট সীমার অসীমে এক! পৌঁছাই অবশেষে
যেথা অনন্ত আলো! একমাত্র আমিই সত্য!
2.
অসীম সময়ের উন্মাদনায়, শোনা যায়
দূর হতে ভেসে আসা, সুরহীন সুর,
ভোরের দূর্বাশিশিরে, হেটে যায় মুয়াজ্জিন
কন্ঠে বেজে ওঠে ফজরের কোরান, সুমধুর!
3.
আমার এ রঙের বাজার, নিতি ভাঙ্গে গড়ে
দোদুল দোলে সপ্ত ডিঙ্গা – উজান ভাটির তোড়ে!
অজস্র তাঁর আলোর বাহার, পথ দেখায়ে ফের
আমার আঁধার মাঝে সাজায় বাসর, সাত সেতারার নূর!
4.
বিশুষ্ক মম মন-মরুভূমি, উষর-নিরস হিয়া
কেমনে আনিব শান্তিবারিধি, জুড়াইব কি দিয়া?
এস হৃদে মোর, এস চিতচোর, এ তাপিত প্রাণ
পরশে তব হইবে শীতল, ঘুচিবে অকল্যাণ।
5.
আমার পাষাণ মন
প্রাণ প্রতিমা প্রাণে রেখে
বাহিরে অন্বেষণ!
সম্মুখে ত্রিবেণী ধারা
ত্রিমোহনায় মোহনচূড়া
হাতের কাছেই রয় অধরা –
তবু না পাই তাঁর সন্ধান!
6.
শব-পোড়া চাঁদ
এভাবেই উদিত হয়
পচে গলে যাওয়া সমাজের মাথায়!
নফসানিয়াতের নিকষ ভেদী
এভাবেই ফুটে ওঠে নুর! রক্তবর্ণ –
সহস্র শকুনের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে!
7.
কেনো অশ্রুধারে কাঁদিসরে মন
কি খুঁজিস ঐ দিগন্তপারে?
এ দেহ তোর ধূলার খেলা –
জ্যোতির ধারা বয় অন্তরে।
8.
প্রভূর চোখের এক ফোঁটা জল আমি
ঝড়ে পড়ি আদিম এরাদার অন্তরে –
রাতের বুকে আছে এক আলোকিত আধার
সিনাইয়ের গোলাপ ফোটে সে প্রান্তরে!
9.
আত্মমুক্ত ঋষি যারা
সদাচেতন – রূপ নিহারা
মহাভাবে মাতোয়ারা
প্রেমানন্দে রয় বিভোর –
তারে দেখলে মিলে পরমের খবর!
10.
আমি কেমনে ধরি তারে
সে যে রূপের ঘরে স্বরূপ নিধি
আমার সকল জুড়ে!
আমি কেমনে বাঁধি তারে?
লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী
