লেখক – মুহাম্মদ কামরুজ্জামান রাজ
সূফিরা হলেন সেই মানুষ, যারা আল্লাহকে সবকিছুর উপর প্রাধান্য দেন, আর আল্লাহও তাদেরকে সবকিছুর উপর প্রাধান্য দেন।
— আবু নসর আস-সাররাজ, ‘কিতাবুল লুমা’।
হযরত যুন-নূন আল-মিসরী (রহমাতুল্লাহি আলাইহি) আরিফ বা আল্লাহওয়ালার পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন –
আরিফ সেই ব্যক্তি, যিনি আধ্যাত্মিক জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টির অধিকারী। তিনি প্রতি মুহূর্তে আরও বিনয়ী হতে থাকেন, কারণ প্রতিটি মুহূর্ত তাকে আল্লাহর আরও নিকটে নিয়ে যায়।
আরিফগণ এমনভাবে দেখেন, যা সাধারণ জ্ঞান, চোখ, তথ্য বা বাহ্যিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নয়। তারা পর্দা ছাড়াই উপলব্ধি করেন।
তারা নিজেদের মধ্যে থাকে না; বরং তারা আল্লাহর মধ্যেই অবস্থান করে। তাদের চলাফেরা আল্লাহর ইচ্ছায় হয়, তাদের কথা আল্লাহর প্রদত্ত হয়, যা তাদের জিহ্বার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। তাদের দৃষ্টি হয় সেই দৃষ্টি, যা আল্লাহ তাদের চোখে দান করেন।
এ কারণেই আল্লাহ তাআলা হাদীসে কুদসীতে বলেছেন –
“আমি যখন আমার কোনো বান্দাকে ভালোবাসি, তখন আমি তার কান হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে শোনে; আমি তার জিহ্বা হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে কথা বলে; আমি তার হাত হয়ে যাই, যার মাধ্যমে সে কাজ করে।”
এই হাদীসে কুদসী সূফিবাদের অন্যতম মূল শিক্ষা। মানুষ নফল ইবাদত, তাকওয়া ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে ধীরে ধীরে নিজের খারাপ গুণাবলী থেকে উপরে উঠে আসে। এরপর আল্লাহর সুন্দর গুণাবলীর ছাপ তার মধ্যে প্রকাশ পেতে থাকে, যতক্ষণ না সে সম্পূর্ণভাবে আল্লাহর জন্য এবং আল্লাহর সাহায্যে জীবনযাপন করতে শুরু করে।

