পর্ব ৩৯ এবং পর্ব ৪০ একত্রে
ভাবানুবাদ – লাবিব মাহফুজ চিশতী
পর্ব ৩৯
নিয়মের ঐক্যতা আমাদেরকে এটাই শিক্ষা দেয় যে, জগতের কোনো অপূর্ণতা কখনোই থাকেনা। প্রকৃতি আপন খেয়ালে অপূর্ণ স্থান পূর্ণ করে তোলে। জগতের অংশবিশেষ কখনো পরিবর্তিত হলেও সমগ্রটা কখনো পরিবর্তিত হয়না। একই থাকে। তারতম্য ঘটে বহিরঙ্গে, ভেতরকার অনন্ত জগতে কখনো, কোথাও কোনো পরিবর্তন হয় না, না ঘটে কোনো ছন্দপতন।
একজন চোর যখন পৃথিবী ছেড়ে চলে যায়, তখনি হয়তো জন্ম হয় আরেকজন নতুন চোরের। একইভাবে যখন একজন সৎলোক জগত ছেড়ে চলে যায়, তখনও আরেকজন সৎলোকের জন্ম হয়। এই ঐশ্বরিক নিয়মের ভেতরে সবকিছু এমনভাবেই সামঞ্জস্যশীল থাকে, ঐক্য বজায় থাকে। সত্যিকার অর্থেই জগতে কোনো পরিবর্তন হয়না। যখন গত হন একজন সুফি, তার অনন্ত সেফাতরাশি বিলুপ্ত হয়না, ঠিকই জন্ম নেন আরেকজন সুফি, যিনি পূর্ববর্তী সুফির গুণাবলি ধারণ করেন, কায়েম করেন। এভাবে মৃদু তরঙ্গে চলতে থাকে জগতের সকল নিয়ম, ঐক্য ও ছন্দ।
জগতে কোনো কিছু শূণ্য হয়না। সৃষ্টির চিরাচরিত স্বাভাবিক ছন্দে সকল কিছু চলতে থাকে পূর্ণতার পথে।
পর্ব ৪০
ভালোবাসা ব্যতীত জীবনের কোনো মূল্য নেই। জীবনের জন্য একান্ত অপরিহার্য হচ্ছে নিখাদ ভালোবাস, যা আসলে সম্পূর্ণ ঐশ্বরিক, আর এ ভালোবাসাই নিয়ন্ত্রিত করে সকল জীবনের সকল হিসাব। যখন আপনি ভালোবাসা খুঁজবেন, তখন প্রশ্ন করবেন না যে ভালোবাস কি আধ্যাত্মিক না জাগতিক? স্বর্গীয় নাকি পার্থিব? প্রাচ্যের নাকি পাশ্চাত্যের? মনে রাখবেন বিভেদ কেবলি বিভেদের জন্ম দেয়।
ভালোবাসার কোনো নাম নেই, কোনো সংজ্ঞা নেই। এটি যেমন, তেমনই। নিখাদ, সরল। কোনো বর্ণনা ব্যতিতই এটি সুন্দর, কোনো উচ্চারণ ব্যতিতই একটি শ্রুতিমধূর, কোনো রং ব্যতিতই একটি দর্শনীয়, কোনো স্বাদ ব্যতিতই এটি মধূর, কোনো উপমা ব্যতিতই একটি নিখাদ। ভালোবাস হল জীবনের জল। আর প্রেমিক হলো অগ্নির আত্মা। অগ্নি যখন জলকে ভালোবাসে, তখন এমনকি এই মহাবিশ্বের গতিও বদলে যায়।
শুধু ভালোবাসুন, অযথাই, কোনো কারণ ছাড়াই। এটিই আপনার মুক্তির কারণ হবে।

