লিখুন

Date:

ফেসবুক
ইউটিউব

আধ্যাত্মিক বাণীসমূহের সংকলন – ৪০ টি করে ৭ অধ্যায়

সংকলক – লাবিব মাহফুজ চিশতী

1. আধ্যাত্মিক বাণী সংকলন

1. মাওলা আলীর প্রতি ভালোবাসাই ঈমান এবং তাঁর শত্রুতাই ‍মুনাফেকী।

2. একশত বৎসর নির্জন এবাদত হতে ছামা বা গানে বেশি ফল লাভ হয়। – হযরত খাজা নাসিরউদ্দিন আবু ইউসুফ আল হুসাইনী র.

3. যার অন্তরকে ছামা বা গান আকৃষ্ট করতে পারে না সে নিশ্চয়ই পতিত স্বভাবের এবং যাবতীয় পশু হতেও ঘৃণিত। – ইমাম গাজ্জালী র.

4. আল্লাহকে বিস্মৃত হওয়াই পৃথিবী এবং তার স্বরণই ধর্ম। – মাওলানা রুমী র.

5. জীবন্ত ঈশ্বর তোমাদের সঙ্গে রয়েছে, তথাপি তোমরা মসজিদ, মন্দির, গীর্জা নির্মাণ করিতেছো ও সর্বপ্রকার মিথ্যা বস্তুতে বিশ্বাস করিতেছো! – স্বামী বিবেকানন্দ

6. যারা আল্লাহর রঙে রঞ্জিত তথা সিবগাতাল্লাহ এ ভূষিত তথা প্রভূসত্ত্বার বৃত্তিতে সিক্ত, তারাই ধার্মিক। – খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী র.

7. ঐ ব্যাক্তিই প্রকৃত প্রেমিক যে ইহকাল ও পরকালের সকল আশা ত্যাগ করে একমাত্র মহান রবের দিকে দৃষ্টি নিবন্ধ রেখেছে। – খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী র.

8. গাফেল হৃদয় কিভাবে বন্ধুর দয়া ও ভালোবাসার আলো জ্বালবে? চেতন হৃদয় ব্যতিত সে নূরের অবরোহন স্থল নেই। – খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী র.

9. এশকের শান দিয়ে দেহের মরিচা দূরিভূত করো, তারপর প্রাণবন্ধুর আয়নায় প্রাণবন্ধুর সৌন্দর্য দেখ। – খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী র.

10. যদি তুমি আসমান ও জমিনতূল্য এবাদত করো, কিন্তু আল্লাহ ও রাসুলের প্রতি যদি দৃঢ় বিশ্বাস না থাকে, তবে তা কবুল হবে না। – হযরত খাজা ওয়ায়েস করণী র.

11. যতদিন পর্যন্ত তোমার লালসার মুখ খোলা থাকিবে, ততদিন পর্যন্ত খোদার তরফ থেকে তোমার অন্তকরণে কোনো ভেদ কথা প্রবেশ করিবে না। – শেখ সাদী র.

12. আমি কোরআনের মূলবস্তু তুলিয়া নিয়েছি, অস্থিচর্ম কুকুরের জন্য ফেলে দিয়েছি। – মাওলানা রুমী র.

13. সৃষ্টির সেবা ব্যতিত ইবাদত নাই। তসবিহ ও জায়নামাজ খোদা প্রাপ্তির নিয়ামক নয়। – শেখ সাদী র.

14. পীরকে খোদা হইতে দুই জানিও না, দুই দেখিও না, দুই ভাবিও না। – মাওলানা রুমী র.

15. মূর্খেরা সব শোনো, মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো। – কাজী নজরুল ইসলাম র.

16. সত্য বল, সুপথে চল ওরে আমার মন। – ফকির লালন শাহ

17. মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি, মানুষ ছাড়া ক্ষ্যাপারে তুই মূল হারাবি। – ফকির লালন শাহ

18. নিরিখ বান্ধরে দুই নয়নে, ভুইলো না মন তাহারে। ঐ নাম ভূল করিলে যাবিরে মারা, পড়বিরে বিষম ফেরে। – ফকির কালু শাহ

19. মুহাম্মদ, ঈসা, মুসা, ইব্রাহিম প্রমুখ নবীগণকে, ওলী আউলিয়াগণকে কৃষ্ণ-বুদ্ধ-মুনি-ঋষি-সাধুপুরুষ গণকে পৃথক পৃথক চিন্তা করা, তারা পূর্বে ছিল এখন নাই এরূপ মনে করা মূর্তি পূজারই নামান্তর। – ফকির চিশতী নিজামী র.

20. আমি আমাকে সম্পূর্ণ রূপে উজাড় করে দিয়েছি হুসাইনের পদতলে। আমি তো তারই গোলাম যে হয়েছে হোসাইনের গোলাম। – হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী র.

21. প্রেমহীন ইবাদতকারী যে স্থানে হাজার রাকাত নামাজ দ্বারা পৌঁছবে, প্রেম মাদকতায় মত্ত ব্যক্তি সে স্থানে এক হুংকারেই পৌছে যাবে। – হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী র.

22. যদি আল্লাহকে দেখতে চাও, তাহলে আমার চেহারার দিকে তাকাও। আমি তাঁর আয়না, সে আমার থেকে পৃথক না। – হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী র.

23. মিথ্যা শুনিনি ভাই, এই হৃদয়ের চাইতে বড় কোনো মন্দির কাবা নাই। – কাজী নজরুল ইসলাম র.

24. আল্লাহর প্রকৃত বন্ধু এক মুহূর্তও তাঁর স্বরণ থেকে বিচ্যূত হয় না। – হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক র.

25. বেদ কোরান বাইবেল গীতা, সকলের মূল মুর্শিদ তোমার, ভজন করো তাঁর রে মন, ভজন করো তাঁর। – খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী র.

26. মুসলমান শব্দের অর্থ আত্মসমর্পণকারী। তিনি যে কোনো ধর্ম-বর্ণ-গোত্রের লোক হতে পারেন। এই মুসলমান হওয়ার জন্য কাউকে ধর্ম ত্যাগ করে নাম পাল্টাতে হয় না। – সদর উদ্দিন আহমদ চিশতী র.

27. দেহ-আত্মা অবিচ্ছিন্ন, ইহকাল-পরকাল অবিচ্ছিন্ন, মোহকামাতুন আয়াতের নূরের কোরান আর আহলে বাইয়াত অবিচ্ছিন্ন। – ফকির চিশতী নিজামী র.

28. যদি নিত্যধামে যেতে থাকে বাসনা, তোমার অনিত্য দেহ থাকিতে নিত্যের করণ হবে না। – খাজা দেওয়ান শাহ রজ্জব আলী চিশতী নিজামী র.

29. যদি তোমার খোদা জ্ঞান তোমার অস্তিত্বকে ভূলাইয়া না দেয়, তবে সে জ্ঞান হতে অজ্ঞানতাই শ্রেয়। – হাকিম সানায়ী র.

30. যদি তাওহীদ সাগরে নিজেকে ফানা করে ডুব দিতে পারো তবেই তুমি চিরজীবনের মতো তোমার মাশুক আল্লাহকে পাবে। জালালউদ্দিন রুমী র.

31. এশক হলো সমস্ত এবাদতের মূল। যার মুর্শিদ নেই তার মুর্শিদ হলো শয়তান। – হযরত জুনায়েদ বাগদাদী র.

32. দুনিয়া পচা লাশ। এর অনুসন্ধানীগণ কুকুর। – হযরত জয়নাল আবেদীন র.

33. না চিনিয়া আপনারে, রইলি রে মন অন্ধকারে, আপন ঘরে ডুবলে পরে যায় তারে চেনা। – হযরত মেছের শাহ র.

34. যে সর্বভূতে অবস্থিত আমাকে উপেক্ষা করিয়া প্রতিমার ভজনা করে, সে যেন ভস্মে ঘৃতাহুতি দেয়। – শ্রী কৃষ্ণ. ভাগবত গীতা 29-21।

35. কামনা-বাসনা দ্বারা যাদের জ্ঞান অপহৃত হয়েছে, তারাই তাদের স্বভাব অনুযায়ী বিভিন্ন কল্পিত দেব দেবীর অর্চনা করে। – শ্রী কৃষ্ণ. ভাগবত গীতা ৭ম অধ্যায়।

36. খোদা তোর হাজির নাজির জান মুছাফির সদায় বর্তমান। – খাজা দেওয়ান শাহ রজ্জব আলী চিশতী র.

37. আমি তুমি হলাম, তুমি আমি হলে। আমি দেহ তুমি প্রাণ। এরপর যেনো কেউ আর বলতে না পারে আমি একজন আর তুমি আর একজন। – হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী র.

38. মাওলা আলী স্বরণ ইবাদত তূল্য।

39. এক পলক দুনিয়ার অনাসক্তি, হাজার বছর ইবাদত অপেক্ষা অধিক মূল্যবান। – হযরত খাজা হাসান বসরী র.

40. যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুতে শান্তি পায় না, সেই আসল ফকির। – হযরত শিবলী র.

2. মারেফতের বাণী সমূহ

1. হয় ভাবো, না হয় ভ্রমণ করো। ভাবুক আর ভ্রমণকারীই জগতের শ্রেষ্ঠ দরবেশ। – শেখ সাদী (র)

2. মূর্খ দের আড্ডা থেকে সবসময় দূরে থাকবে। অন্যথায় তারা তোমাকেও মূর্খ বানিয়ে ছাড়বে। – মাওলা আলী (আ)

3. সমস্তকে ত্যাগ করে তুমি কোনো কামেল ওলীর গোলাম হয়ে যাও। তবেই তুমি ধর্মের প্রকৃত স্বাদ গ্রহণ করতে পারবে। – মাওলানা জালালউদ্দিন রুমী (র)

4. সেই পথ শ্রেষ্ঠ, যেখানে সকল পথের যোগ আছে। – মহর্ষি মনমোহন দত্ত

5. সংসারকে তুচ্ছ তুমি করিবে যখন, গৌরবে সংসার তোমায় করিবে গ্রহণ। – মহর্ষি মনমোহন

6. সমস্ত কিতাব গ্রন্থ যা আছে সব ঐ নদীতে ফেলে দাও। আল্লাহকে পেতে হলে শামস তাবরীজ এর কাছে যাও। – মাওলানা জালালউদ্দিন রুমী (র)

7. যত বেশি নিরব হবে, তত বেশি শুনতে পাবে। – মাওলানা জালালউদ্দিন রুমী (র)

8. আরেফ ঐ ব্যাক্তি, যিনি নিজের হৃদয়কে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ের আকর্ষণ থেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আর প্রতি মুহুর্তে আল্লাহর হাজার হাজার তাজাল্লু তাঁর মাঝে বিকশিত হয়। – হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (র)

9. গতকাল চালাক ছিলাম, তাই পৃথিবীকে বদলাতে চেয়েছিলাম। আজ আমি বিজ্ঞ, তাই নিজেকে বদলাতে চাই। – মাওলানা জালালউদ্দিন রুমী (র)

10. প্রকৃত বুদ্ধিমান সেই, যে নির্জনতা পছন্দ করে। – হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (র)

11. তুমি দুনিয়াও চাও, আবার আল্লাহকেও চাও। এটা নিছক পাগলামী ছাড়া আর কিছু নয়। – হযরত খাজা মঈনুদ্দিন ‍চিশতী (র)

12. ভাবিতে ভাবিতে হলে ব্রহ্ম ভাব, খন্ড জীবে ফুটে ওঠে প্রকান্ড স্বভাব।
নির্জনে থাকিলে হয় ঈশ্বরত্ব বোধ, নির্জনে সাধনা করো, পাইবে প্রবোধ। – মহর্ষি মনমোহন

13. মানুষ থুইয়া খোদা ভজো, এ মন্ত্রণা কে দিয়েছে,
মানুষ ভজো, কোরান খুঁজো, পাতায় পাতায় সাক্ষী আছে। – জালাল উদ্দিন খাঁ

14. মুরিদের পক্ষে পীরের উপস্থিতি ও অনুপস্থিতি উভয় অবস্থাতেই একই প্রকার খেদমত হওয়া উচিত।

15. আল্লাহ প্রেমিকেরা আল্লাহ প্রেমে মত্ত থেকে নিজেকে ভুলে প্রভুর অপরিসীম রূপের ধ্যানে মগ্ন হয়ে যাও। – শেখ সাদী (র)

16. মানুষ যখন আমিত্বের খোলস ত্যাগ করে, তখন নিগুঢ় ভাবে চিন্তা করলে দেখা যায়, প্রেমিক প্রেমাস্পদ সবই এক। – খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (র)

17. হিংসুকদের ভৎস্যনায় চিন্তিত হয়ো না, কষ্ট ও যন্ত্রনা দিয়েই আশেকের হৃদয় প্রতিপালিত হয়। – খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (র)

18. অনেক লোক ভূমির ওপর বিচরণ করে, কিন্তু তারা মৃত। আর অনেক লোক ভূমিগর্ভে শায়িত, কিন্তু তারা জীবিত। – হযরত আবুল হোসেন খেরকানী (র)

19. মহাবিশ্বের সবকিছুর মাধ্যমেই খোদাকে চিনতে পারবে। কারণ, খোদা সমজিদ মন্দির গীর্জাতে সীমাবদ্ধ নন। তবু যদি জানতে চাও, খোদা মূলত কোথায় বাস করে? তবে তাঁকে খোঁজার জন্য একটি জায়গাই আছে। তা হলো, প্রকৃত প্রেমিকের অন্তর। – শামস তাবরীজ (র)

20. প্রকৃত প্রস্তাবে মানব দেহই আসল কিতাব এবং প্রকৃত কাবা। তোমার আপন দেহেই আল্লাহকে অনুসন্ধান করো। – মাওলানা জালালউদ্দিন রুমী (র)

21. এলেম গভীর সাগর সদৃশ। মারেফত উহার তরঙ্গ। – খাজা মঈনুুদ্দিন চিশতী (র)

22. ধ্যান হলো হৃদয়ের বাতি। এটি নিভে গেলে হৃদয়ে আর আলো থাকে না। – ইবনে আতাউল্লাহ (র)

23. মুমিন হচ্ছে সেই, যে কিনা দুনিয়াবী কাজের মাঝেও আল্লাহ হতে গাফেল হয় না। – হযরত সিররী সাকতি (র)

24. ভালো মানুষদের অন্যতম বৈশিষ্ট হলো, তাদের স্বরণ রাখতে হয় না। তাদের স্বরণ এমনিতেই থেকে যায়।

25. আমাদের কর্মের ফল আমাদের দিকেই ফিরে আসে। – মাওলা আলী (আ)

26. খসরু এ প্রেম খেলা, খেলবো সঙ্গে প্রেমিকার! হারি যদি আমি তাঁর, জিতে গেলে সে আমার! – হযরত আমির খসরু (র)

27. হে প্রভু, জান্নাত জাহান্নামের অস্তিত্ব না থাকলে বোঝা যেতো, আপনার ইবাদতকারীর সংখ্যা কতো! – হযরত আবুল হাসান খেরকানী (র)

28. যুক্তিতে না পরলে শক্তিতে দেখে নিবে, এটাই বর্বর নীতি। – হযরত শেখ সাদী (র)

29. বেদ কোরান বাইবেল গীতা, সকলের মূল মুর্শিদ তোমার
ভজন করো তাঁর রে মন, ভজন করো তাঁর। – হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী (র)

30. অচেনারে চিনতে হলে রে, বসো চেনা লোকের সনে,
আল্লাহর আশেকান, বসো অলী আল্লাহর ধ্যানে। – হযরত খাজা দেওয়ান শাহ রজ্জব আলী চিশতী (র)

31. যদি নিত্যধামে যেতে থাকে বাসনা,
অনিত্য দেহ থাকিতে, নিত্যের করণ হবে না। – হযরত খাজা দেওয়ান শাহ রজ্জব আলী চিশতী (র)

32. মেরাজ হয় ভাবের ভূবন, সেথা গুপ্ত ব্যাক্ত হয় আলাপন
না জেনে লালন ভাবের উদ্দীপণ, হলো প্রেম করা মিছে। – ফকির লালন শাহ

33. মানুষ গুরু নিষ্ঠা যার, সর্ব সাধন সিদ্ধ হয় তার। – ফকির লালন শাহ

34. আলিফ লাম মীম তিনের-ই ভেদ, রেখেছেন সাঁই গোপন করে
চিনগা মুর্শিদ ধরে রে মন, জানগা মুর্শিদ ধরে। – হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী (র)

35. মন তোর কপালে খারিজির চিহ্ন, অন্তরে তোর ভূতে ভরা
এই কি মন তোর নামাজ পড়া! – হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী (র)

36. থেকো মন স্বচেতনে, জ্ঞান নয়নে, ঘুমাইও না।
তুই ঘুমাইলে পড়বি ভুলে, হারাবি মূল ষোল আনা। – দেওয়ান খাজা আব্দুর রশিদ চিশতী নিজামী (র)

37. তুমি সেজেছো যে সাজ, করিও সেই কাজ
নইলে পাইবে লাজ, বিচারের দিনে। – দেওয়ান খাজা আব্দুর রশিদ চিশতী নিজামী (র)

38. আমি তুমি হলাম, তুমি আমি হলে। আমি দেহ তুমি প্রাণ। এরপর যেনো কেউ বলতে না পারে, তুমি একজন আর আমি একজন। – খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (র)

39. বসে ধ্যানে দীলের টানে, দূরের বস্তু সামনে কর,
স্বচক্ষে দেখে শুনে, দীল হুজুরী নামাজ পর। – হযরত খাজা দেওয়ান শাহ রজ্জব আলী চিশতী (র)

40. মূল বিচারে থাকে যে জন, দেহ জমি চাষের করণ
মানুষ রূপ করিয়া ধারণ, জমিতে ফলায় সোনা। – হযরত ইয়ার আলম চিশতী (র)

3. সুফি বাণী সংকলন

1. যে কারো বন্দীশালায় বন্দী নয় এবং তার বন্দীশালায় কেউ বন্দী নয়, সেই প্রকৃত সুফি।
– হযরত আবুল হাসান নূরী বাগদাদী রহ.

2. পৃথীবি ছাড়িয়ে দূরতম আকাশের ওপারে আমি স্বর্গ নরক খোঁজার চেষ্টা করি। তারপর আমি একটা গম্ভীর কন্ঠ শুনি, “স্বর্গ নরক তোমার ভেতরেই আছে”।
– হযরত ওমর খৈয়াম রহ.

3. তোমার অন্তরকে সংশোধিত ও পরিশুদ্ধ করো, অবশ্যই প্রতি নিঃশ্বাসে তোমার সাথে আল্লাহর সাক্ষাৎ ঘটবে।
– হযরত বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহ.

4. সম্মুখে যাহাকে দেখিবে তাহাকেই তোমার চাইতে উত্তম মনে করার নামই প্রকৃত বিনয়।
– হযরত খাজা ওসমান হারুনী রহ.

5. শত জ্ঞানী ও বিদ্বানের সমস্ত জীবনের পাপ-পূণ্যের হিসাব হাশরের দিন এক নিঃশ্বাসে শেষ হইবে, প্রেমিকের এক পলকের নেকী বদীর হিসাব শত হাশরেও শেষ হইবে না।
– হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহ.

6. আমার বুকের মধ্যে আমার মুর্শিদের আলোয় ভরপুর। আমি আমার মুর্শিদেরই পূজা করি। আমার মন আমার মুর্শিদেরই ঘর।
হযরত বু – আলী শাহ্ কলন্দর রহ.

7. ওহে দয়াময়! আমি আর বিরহ চাই না। আমাকে তোমার মিলনের জন্য মনোনীত করো। আমি তোমার চিরন্তন বন্ধনে মিশে যেতে চাই।
– কবি হাফিজ সিরাজী রহ.

8. হে প্রভূ! জান্নাত আর জাহান্নামের অস্তিত্ব না থাকলে দেখা যেত তোমার ইবাদতকারীর সংখ্যা কত!
– হযরত আবুল হাসান খেরকানী রহ.

9. আল্লাহর দিকে মুখ করা হয় না ততক্ষন, যতক্ষন না অন্যান্য সকল দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে আনা হয়।
– ইমাম গাজ্জালী রহ.

10. সবচাইতে বেশি সৌন্দর্য রয়েছে উত্তম আচরণের মাঝে। যার আচরণ সুন্দর নয়, তার কোনো সৌন্দর্যই নেই।
– মুহাম্মদ ইবনে হিব্বান রহ.

11. প্রভুর স্মরণে লিপ্ত যারা তারা ইহকাল পরকাল সব ভুলে যায়, তারাই প্রভুর দিদার লাভ করে।
– হযরত মনসুর হাল্লাজ রহ.

12. নিজের সত্ত্বা ভুলতে পারলে, তবেই প্রভুর সাথে মিলিত হওয়া যায়।
– খাজা শেখ ফরিদ রহ.

13. ধ্যান হলো হৃদয়ের বাতি। এটি নিভে গেলে হৃদয়ে আর আলো থাকে না।
– ইবনে আতাউল্লাহ রহ.

14. যারা আদম কাবায় সেজদা করছে তারা আল্লাহর বান্দা। তাদের সেজদাই কবুল হচ্ছে।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

15. গুরু প্রেমে সর্বত্যাগী হও। এমনকি ত্যাগ করো নিজের অস্তিত্বকেও। তবেই তুমি হবে আত্মজয়ী তথা সর্বজয়ী।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী রহ.

16. মানব সুরততে অটল রাখতে হলে নফসানীয়াত খায়েশকে দৃঢ়তার সাথে দমন করো।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

17. দেখবি যদি সাঁই নিরাঞ্জন, মুর্শিদ রূপ ভজে করো অন্বেষণ।
– লালন শাহ ফকি রহ.

18. মানুষ থুইয়া খোদা ভজো, এ মন্ত্রণা কে দিয়েছে
মানুষ ভজো কোরান খুঁজো, পাতায় পাতায় সাক্ষী আছে।
– জালাল উদ্দিন খাঁ রহ.

19. শুদ্ধ জ্ঞান এবং শুদ্ধ প্রেম একই জিনিস। জ্ঞান আর প্রেমের মাধ্যেমেই লক্ষ্যকে পূরণ করা যেতে পারে। তবে এখানে, প্রেম নামক রাস্তাটি বেশি সহজ।
– ঠাকুর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব রহ.

20. হে নবী বলে দিন, নবুয়্যতের বিনিময়ে তোমাদের কাছে আমার আহলে বাইয়াতের প্রতি ভালোবাসা ব্যতীত কিছু চাই না।
– আল কোরআন, শুরা ২৩

21. একশত বৎসর নির্জন ইবাদত হতেও ছামা বা গানে বেশি ফল লাভ হয়।
– খাজা নাসিরউদ্দিন আবু ইউসুফ চিশতী রহ.

22. আমার মাঝে আমি থাকলে পরম আসে না। আর আমার মাঝে আমি না থাকলে আমি সবার তীর্থস্থানে পরিণত হই।
– হযরত আমীর খসরু রহ.

23. জগৎ জুড়ে এক মানুষই বাস করছে। এ ভেদ রহস্য জেনে, আল্লাহর পাক জাতে বাস করাই হল তাওহীদে বাস করা।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

24. যদি মানব সুরতকে চির কায়েম রাখতে চাও, তবে গুরুর স্বভাবে স্বভাবিত হও।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী রহ.

25. প্রভু প্রেমের পথে যে অটল থাকে, প্রেমাগ্নি তার অস্তিত্বকে বিলোপ করে দেয়।
– হযরত খাজা মইনুদ্দিন চিশতী রহ.

26. যখন আমি আমার আমি কে নাই করতে পারি, তখনই পরম নববধূর মতো আমাতে আগমণ করে।
– হযরত আমীর খসুর রহ.

27. হে খোদা, যে বেহেশত বানিয়েছো, ওটা মোল্লাদেরকে দিয়ে দাও। আমি বেহেশত চাই না। শুধু তোমার রহস্যের মাঝে ডুবে থাকতে চাই।
– আল্লামা ইকবাল রহ.

28. প্রকৃত প্রস্তাবে মানব দেহই আসল কিতাব এবং প্রকৃত কাবা। তোমার আপন দেহেই আল্লাহকে অনুসন্ধান করো।
– মাওলানা জালালউদ্দিন রুমী রহ.

29. দেহ আত্মা অবিচ্ছিন্ন, ইহকাল পরকাল অবিচ্ছিন্ন। মোহকামাতুন আয়াতের নূরের কোরান আর আহলে বায়াত অবিচ্ছিন্ন।
– ফকির চিশতী নিজামী রহ.

30. মানুষ থুয়ে খোদা ভজো এ মন্ত্রণা কে দিয়েছে
মানুষ ভজো, কোরান খুঁজো, পাতায় পাতায় স্বাক্ষী আছে।
– জালাল উদ্দিন খাঁ রহ.

31. অচেনারে চিনতে হলে রে
বসো চেনা লোকের সনে, আল্লাহর আশেকান
বসো অলী আল্লাহর ধ্যানে।
– দেওয়ান শাহ রজ্জব আলী চিশতী নিজামী রহ.

32. মানব সুরতকে কায়েম রাখতে হলে নফসানিয়াত খাহেশকে দৃঢ়তার সাথে দমন করো।
হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী রহ.

33. মানুষ হওয়াটাই মানুষের সাধনার একমাত্র লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে পৌঁছাতে প্রয়োজন একজন পূর্ণ মানুষে পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণ।
হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী রহ.

34. শূণ্য থেকে এসেছি, শূণ্যেই ফিরে যাবো। চোখ কান সবসময় খোলা রেখো। কুয়াশায় পথ হারিও না। বন্য প্রাণীর খাবারে পরিণত হইও না।
ইবনুল আরাবী রহ.

35. খোদা প্রেমিকগণের ভাবাবেগের অবস্থা বর্ণনা করা সম্ভব না। কেননা উহা মুমিনদের অন্তরে খোদার রহস্য।
হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ.

36. খোদা প্রেমের পথে যে অটল থাকে, প্রেমাগ্নি তার অস্তিত্বকে বিলোপ করে দেয়।
খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহ.

37. আউলিয়া কেরামগণের পদধূলি দ্বারা চক্ষুকে জ্যোতির্ময় করো। তবে তুমি আদি ও অন্তের সবকিছু দেখতে সক্ষম হবে।
জালালউদ্দিন রুমী রহ.

38. তোমার দরজার সামনে ঘর বানিয়েছি আমি। এবারও কি বলবে যে, আমার ঘরের ঠিকানা জানো না?
মির্জা গালিব রহ.

39. জাগ্রত রুহের অধিকারী তথা কামেল গুরুর প্রেমে আপন ঘরটিকে নূরময় করে তোলো।
আল্লামা ইকবাল রহ.

40. গুরু কে? গুরু হলো স্বয়ং ভগবান। ভগবান না হলে কেউ গুরু হতে পারে না।
বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী রহ.

4. তরিকতের বাণী সংকলন

1. মাওলা আলীর স্বরণ এবাদত তূল্য।

2. শরীরকে শুদ্ধ করো পানি দিয়ে, নফসকে শুদ্ধ করো অশ্রু দিয়ে, বুদ্ধিকে শুদ্ধ করো জ্ঞান দিয়ে এবং আত্মাকে শুদ্ধ করো প্রেম দিয়ে। – মাওলা আলী (আ)

3. তোমার অন্তরকে সংশোধিত ও পরিশুদ্ধ করো। অবশ্যই প্রতি নিঃশ্বাসে তোমার সাথে আল্লাহর সাক্ষাত ঘটবে। – বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র)

4. নফসকে নিয়ন্ত্রন করা একটি পাগলা ঘোড়া নিয়ন্ত্রন করার চাইতেও কঠিন। – হযরত হাসান বসরী (রা)

5. যে দুনিয়াকে সম্পূর্নরূপে ত্যাগ করিয়াছে, সেই প্রকৃত আরেফ। আরেফ লোকটি পৃথিবী আলোকিতকারী সূর্যের ন্যায়। তার আ্যধাত্মিক আলোতে বিশ্ব আলোকিত হয়। – খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (র)

6. ধ্যান ও ইবাদত বন্দেগীর তরবারী দিয়ে যিনি যাবতীয় কামনা বাসনা কেটে ফেলেছেন, তিনিই খাঁটি আরেফ। – হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (র)

7. সাধক যদি হতে চাও, কম খাও, কম ঘুমাও।

8. বেশি পরিমাণে ইবাদাত থাকার চেয়ে বেশি পরিমাণে জ্ঞান থাকা ভাল। আর তোমাদের ধর্মের সবচেয়ে ভাল অংশটুকু হল, করুণা, সহমর্মিতা, মায়া, আত্মনিয়ন্ত্রণ। – মহানবী হযরত মোহাম্মদ (সা.)

9. হে মানুষ! ওঠো! দাড়াও! পতিত হওয়া তোমার স্বভাবজাত নয়। জ্ঞানের আলোকবর্তিকা শুধুমাত্র তোমাকেই দেওয়া হয়েছে যা দিয়ে তুমি সকল অন্ধকূপ এড়িয়ে যেতে পারো। – অথর্ববেদঃ ৮.১.৬

10. আমি আছি তোমার সঙ্গে চিন্তা কেনো তোমার, একবার ডাকো, দেখবে সারা পাবে আমার। – হযরত ঈসা (আ)

11. যে ব্যক্তি মানুষকে ভালোবাসে, সে দুঃখের দ্বারা ঘিওে থাকে এবং যে কাউকে ভালোবাসেনা, তার কোনো সংকট নেই। – গৌতম বুদ্ধ

12. আল্লাহর জিকিরের অর্থ হলো, তাকে স্মরণ করতে করতে অন্য যে কোনো বস্তুকে একদম ভুলে যাওয়া। – ইমাম জাফর সাদিক (র)

13. যে লোক আল্লাহকে চিনছে, তার কাছে কোনো কিছুই গোপন নেই। আর তার মাধ্যমেই আল্লাহকে জানা সম্ভব। – খাজা ওয়ায়েস করণী (র)

14. বহিরঙ্গের আনুষ্ঠানিকতা দ্বারা জান্নাত লাভ করা যায় না। দরকার মনের একাগ্রতা ও কঠোর সাধনা। – হযরত খাজা হাসান বসরী (রা)

15. প্রেমিকের কাছে মারেফতের ছোট একটি বিন্দুও জান্নাতের লক্ষ লক্ষ বালাখানার থেকেও উত্তম। – হযরত বায়েজিদ বোস্তামী (র)

16. সর্বাপেক্ষা জ্ঞানী তিনিই, যিনি আল্লাহর সত্ত্বা বিষয়ে জ্ঞান রাখেন। – হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (র)

17. যদি সহস্র কিতাবও পাঠ করা থাকে তবু তাকে আলেম বলা যাবে না যদি তার ইলমে মারেফত জানা না থাকে । – বড়পির হযরত আবদুল কাদিও জিলানী (র)

18. মানুষ যখন আমিত্বেও খোলস ত্যাগ করে, তখন নিগুঢ় ভাবে চিন্তা করলে দেখবে প্রেম, প্রেমিক ও প্রেমাস্পদ সবই এক। – হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী (র)

19. হে মানবগণ, শীঘ্রই অন্তর্বাহ্যে পবিত্র হইতে চেষ্টা করো। – হযরত কওসার আলী শাহ (র) (জিন্দাশাহ)

20. সদা চৈতন্য যারা, বেঁহুশে রয় না তারা, সদা দেয় রুপের পাহারা সাধু যারা। – দেওয়ান শাহ আব্দুর রশিদ চিশতী (র)

21. আল্লাহ যাহাকে যে অবস্থায় রাখেন সেই অবস্থায় শুকরিয়া আদায় করুন। শুকর সবর ধৈর্য। চোখ-কান খোলা রাখুন-দেখবেন, শুনবেন, বলবেন না। আপনা কাজ করুন। আল্লাহ বাজান বলেন, ভালো থাইকেন, আল্লাহ ভালো রাখবেন। – হযরত লোকমান শাহ দরবেশ (র)

22. শারাব পিয়ো, কিতাব রাখো, কাবার ঘওে তালা দাও, তুমি দেবালয়ে বাস করো গিয়ে, যদি, মাওলার দীদার চাও। – হযরত হারুন-অর-রশিদ (র) (হারুন শাহ)

23. তুমি চাও যদি মানুষে, ভক্তি রসের বাদাম দিয়া যাওনা সরল দেশে। – হযরত ইয়ার আলম চিশতী (র)

24. কাবকাওসিন নসিরাতে নূরের ঝলক দেয় তিনি, মানব দেহ খুজলে পাবি নিশানী। – হযরত গওহার শাহ চিশতী (র)

25. অচেতন রইলে সতী, পালাইবে প্রাণপতি
অসতী করিবে এসে যমদূত হায়,
যার ঘর সেই হওে নিজে মাল চুরি করে
অনর্থক আজরাইলে দোষী প্রমাণ হয়। – হযরত শাহ আব্দুর রহিম ওয়ায়েসী (র)

26. পশুর আচরণ যদি মানুষেতে আসে
তবে তারে শ্রেষ্ঠ বলবে কি মানুষে?
কার্য্যে ও কথায় যখন না থাকিবে ভুল,
পরিগনিত তখনই মাখলুকাত আশরাফুল। – হযরত শাহ পাগল হাসেম আল ওয়ায়েসী (র)

27. জ্ঞান মানুষের মধ্যে ঘেরা-
জাগাইলে জাগিবে জ্ঞান, জাগেনা তপস্যা ছাড়া। – হযরত দেওয়ান সাদেক আলী চিশতী (রঃ)

28. যিনি পরকালের খবর ইহলোকের মানুষদের দিতে পারেন, তিনিই মুর্শিদ। – হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী

29. চির মুক্তি পাবি যদি, কায়মনে তুই মানুষ হ। – হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী

30. যদি নিত্যধামে যেতে থাকে বাসনা, অনিত্য দেহ থাকিতে নিত্যের করণ হবে না। – হযরত খাজা রজ্জব দেওয়ান আল চিশতী নিজামী

31.অচেনারে চিনতে হলে রে, বসো চেনা লোকের সনে
আল্লাহর আশেকান, বসো অলী আল্লাহর ধ্যানে। – হযরত খাজা রজ্জব দেওয়ান আল চিশতী নিজামী

32. বেদ কোরান বাইবেল গীতা, সকলের মূল মুর্শিদ তোমার
ভজন করো তার রে মন, ভজন করো তার। – হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী

33. মানুষ নিজেকে চিনতে পারলে তার স্রষ্ঠাকে চিনতে পারতো। – হযরত মুহিউদ্দীন ইবনুল আরাবী

34. যদি তাওহীদ সাগরে নিজেকে ফানা করে ডুব দিতে পারো, তবেই সারাজিবনের মতো তুমি সেই মাশুক আল্লাহকে পাবে। – হযরত জালালউদ্দিন রুমী

35. ইশকের বেদনা, জ্বালা যন্ত্রণা হাসিমুখে বরণ করে নিতে না পারলে পরমের দর্শন হয় না। – হযরত আমীর খসরু

36. মুহাম্মাদ এবং আহাম্মদ দুটি নামে প্রভুর গোপন ভেদ নিহিত আছে। প্রভুর ভালোবাসায় তুমি সদা সিক্ত। তোমার অস্তিত্বের জন্যই সকল সৃষ্টি। – নূরুদ্দিন মুহাম্মদ জামি

37. যারা আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করছে তারাই আল্লাহর বান্দা। তাদের সেজদাই কবুল হচ্ছে। – হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী

38. যদি তোমার খোদা জ্ঞান তোমার অস্তিত্বকে ভুলাইয়া না দেয়, তবে সে জ্ঞান হতে অজ্ঞানতাই শ্রেয়। – হযরত হাকীম সানায়ী

39. কে ভগবান? আত্মজ্ঞান! – কাজী নজরুল ইসলাম

40. আমিত্ব রূপ অপসারিত হলে অন্তরে খোদার নূর প্রতিফলিত হয়। – বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী (র)

5. আধ্যাত্মিক বাণী সংগ্রহ

1. আরেফ ঐ ব্যক্তি, যিনি নিজের হৃদয়কে দুনিয়া ও আখেরাত উভয়ের আকর্ষণ থেকে মুক্ত রাখতে সক্ষম হয়েছেন। আর প্রতি মুহুর্তে আল্লাহর হাজার হাজার তাজাল্লি তার মাঝে বিকাশিত হয়।
– হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (র)

2. আল্লাহ প্রেমিকেরা, আল্লাহ প্রেমে মত্ত থেকে নিজেকে ভুলে প্রভূর অনন্ত রূপের ধ্যানে মগ্ন হয়ে যাও।
– হযরত শেখ সাদী (র)

3. সবটুকু মন সম্পূর্ণ উৎসর্গ করার পর দেখি পরম আপনরূপে মূর্তমান আমারই মাঝে।
– হযরত আমির খসরু (র)

4. খুদিকে এইরুপ উন্নত করো যে, তোমার প্রতিটি ভাগ্যলিপি লেখার পূর্বে খোদা যেনো তোমায় শুধান, কি তোমার অভিপ্রায়?
– আল্লামা ইকবাল (র)

5. জগতের যত পবিত্র গ্রন্থ ভজনালয়, ওই এক খানি ক্ষুদ্র দেহের সম পবিত্র নয়।
– কাজী নজরুল ইসলাম (র)

6. খোদপ্রাপ্তি মুল সাধনা, রাসুল বিনে কেউ জানে না
জাহের বাতেন উপাসনা, রাছুল দ্বারা প্রকাশিলে।
– লালন শাহ ফকির (র)

7. নিরিখ বান্ধরে দুই নয়নে, ভুইলো না মন তাহারে
ঐ নাম ভুল করিলে যাবিরে মারা, পড়বি রে বিষম ফেরে।
– ফকির কালু শাহ (র)

8. কি সুরত বানাইলে খোদা রূপ মিশায়ে আপনার
এই ছুরত দোজখে যাবে, যে বলে সে গোনাহগার।
– জালাল উদ্দিন খাঁ (র)

9. যদি নিত্যধামে যেতে থাকে বাসনা, অনিত্য দেহ থাকিতে নিত্যের করন হবে না।
– দেওয়ান শাহ রজ্জব আলী চিশতী নিজামী (র)

10. দেহ-আত্মা অবিচ্ছিন্ন, ইহকাল-পরকাল অবিচ্ছিন্ন
মোহকামাতুন আয়াতের নূরের কোরান আর আহলে বায়াত অবিচ্ছিন্ন।
– ফকির চিশতী নিজামী (র)

11. নির্জনে থাকিলে হয় ঈশ্বরত্ব বোধ
নির্জনে সাধনা করো পাইবে প্রবোধ।
– মহর্ষি মনমোহন দত্ত (র)

12. যারা আল্লাহর রঙে রঞ্জিত তথা সিবগাতাল্লাহ এ ভূষিত তথা প্রভুসত্ত্বার বৃত্তিতে সিক্ত, তারাই ধার্মিক।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী (র)

13. আপন সত্ত্বায় সেই পরম সুন্দরকে যেদিন তুমি জাগিয়ে তুলতে পারবে, সেদিন তুমি ইনছান হবে।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী (র)

14. আল্লাহ পাকের গভীর রহস্য তার বন্ধগণের অন্তরে নিহিত থাকে।
– হযরত জুনায়েদ বাগদাদী (র)

15. বেশি বিদ্যার্জন অপেক্ষা কম আদব শিক্ষাও অনেক ভালো।
– হযরত আব্দল্লাহ ইবনে মুবরক (র)

16. আরশ থেকে যমিন পর্যন্ত বিশ্বাসী মানুষের হৃদয় অপেক্ষা অন্য কোনো শ্রেষ্ঠ স্থান আল্লাহ সৃষ্টি করেন নি।
– সাহল ইবনে আব্দুল্লাহ আল তাশতারী (র)

17. যে আল্লাহকে চিনেছে তার কাছে কোনো কিছুই গোপন নেই।
– হযরত খাজা ওয়ায়েস করনী (র)

18. আত্মপরিচয় লাভ করতে পারলে বা মান আরাফার তালিম জানলে সেই অখন্ড আমিকে এই আমিতে দর্শন করা যায়।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী (র)

19. মুর্শিদই তোমার সকল পথের শুরু এবং শেষ। অতএব নিজেকে সদা তাঁর পানে ধাবিত করো।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী (র)

20. আমি মত্ত ও পাগল হয়ে পতঙ্গের মতো তোমার চারদিকে ঘুরছি। হে জ্ঞানের প্রদীপ, আমাকে ধরো এবং তোমার মধ্যে টেনে নাও।
– হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহ.

21. আমি রব কে জিজ্ঞাসা করলাম, প্রভু – তোমার পথ কোনটি? উত্তরে তিনি বললেন, আমিত্ব ভাব ছেড়ে দাও। তবেই আমার দীদার লাভ করতে পারবে।
– হযরত বায়েজিদ বোস্তামী রহ.

22. গুরু প্রেমের রসিক ছাড়া প্রেমের আলাপ করিও না। কারণ, এমন অনেকেই আছে তোমাকে অপমান অপদস্থ করতে দ্বিধা করবে না।
– গাওসে পাক আব্দুল কাদির জিলানী রহ.

23. যখন তোমার দর্শনে রব স্থিত হবে তখন তুমি নিজেকে আর কিছুই দেখতে পাবে না।
– হযরত জুনায়েদ বাগদাদী রহ.

24. যে তার জ্ঞান দিয়ে মনের খারাপ ইচ্ছাগুলো জয় করতে পারে, সে স্বর্গের ফেরেস্তাদের চেয়ে বেশি সম্মানিত বিবেচিত হয়।
– হযরত জালালউদ্দিন রুমী রহ.

25. পৃথীবির যত আয়োজন, সবি প্রেমের জন্য। প্রেমের আকর্ষণেই জগত চক্রাকারে ঘুরছে।
– মির্জা গালিব রহ.

26. মজনুর পায়ের জিঞ্জিরের শব্দ প্রেমের। শুধু জ্ঞানীর শ্রবণ এই সঙ্গীতের মর্ম বুঝতে পারে না।
– হযরত খাজা আমীর খসরু রহ.

27. মোহের শিকলে বন্দী যে হৃদয়, কীভাবে সে স্রষ্টার নিকট পৌঁছাবে?
– হযরত ইবনুল আরাবী রহ.

28. যে বীজ তার খোলস ছেড়ে বেড়িয়ে আসতে আগ্রহী নয়, সে কখনো ফলদায়ী বৃক্ষ হতে পারে না।
– হযরত ইবনুল আরাবী রহ.

29. শূন্য থেকে এসেছি, শূন্যেই ফিরে যাবো। চোখ কান সব সময় খোলা রেখো, কুয়াশায় পথ হারিও না, বন্য প্রানীদের খাবার হইও না।
– হযরত ইবনুল আরাবী রহ.

30. দুনিয়ার মোহ সাগরের লোনা জর। যতই পান করো না কেনো, কখনো এর তৃষ্ণা মিটবে না।
– হযরত ইবনুল আরাবী রহ.

31. ঈশ্বরের জন্য খুশির গান গাও, প্রভুর নামের সেবা করো এবং তাঁর সেবকের সেবক হয়ে যাও।
– গুরু নানক

32. যে মানুষগুলোর মধ্যে ভালোবাসা আছে, তারা সেই সব সৌভাগ্যবান মানুষ, যারা ঈশ্বরকে খুঁজে পেয়েছে।
– গুরু নানক (র)

33. সত্য পালনই প্রকৃত ধর্ম। যারা সত্য রক্ষা করে না, তারা বিধর্মী, তারা অপরাধী। তাদের গতি নরকে। তারা শাস্তি পাবার যোগ্য।
– বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী (র)

34. আত্মনিষ্ঠ যোগ’ই তোদের মুক্তির পথ। ভক্তিই সারবস্তু। মন্ত্রাদি হয় সহায় মাত্র। ভক্তিকে সম্বল করে এগিয়ে চল, তোদেরকে রুখবে কে- রে! তোরা যে আমারই সন্তান।
– বাবা লোকনাথ ব্রহ্মচারী (র)

35. কোরান বোঝা মানে নিজেকে চেনা-জানা। আমাকেই খুঁজে বের করা তথা সেই আমিকে এই আমিতে দেখা।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী (র)

36. আর একটি মানব জনম তুমি নাও পেতে পারো। যদি পারো এ অমূল্য জিবনটিকে মহাজিবনের পূর্ণতা দাও।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী (র)

37. আমার হৃদয়ে প্রেমের ক্ষত। যতই তোমার প্রেমের কথা বলি, কিছুই বলা হয় না।
– হযরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহ.

38. যার দ্বারা প্র্রভুর সাক্ষাৎ লাভ হতে পারে, তাই নামাজ। এটা কঠিন বটে, অসাধ্য নয়।
– খাজা বায়েজিদ বোস্তামী রহ.

39. পৃথীবির যত আয়োজন, সবি প্রেমের জন্য। প্রেমের আকর্ষণেই আসমান চক্রাকারে ঘুরছে।
– মির্জা গালিব রহ.

40. ইশ্বর এক। কিন্তু নাম ও ভাব অনন্ত। তাই যে যে নামেই ডাকুক, সাড়া পান।
– শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব।

6. সুফিবাদের বাণী সংগ্রহ

সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী

1. আমার অন্তর তোমার সৌরভে আজ ভরপুর, যখন আমি নিজেকে পেয়েছি তোমাতে।
– হযরত আমীর খসরু রহ.

2. স্রষ্টার কাছে পৌঁছানোর অনেক পথ আছে। তার মধ্যে আমি প্রেমকে বেছে নিলাম।
– মাওলানা জালালউদ্দিন রুমী রহ.

3. সত্যকে স্বীকার করা সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি ব্যতীত অন্য কারো দ্বারা মোটেও সম্ভব না।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

4. সেফাতে আলিমুনকে হৃদয়ে জাগ্রত করে যে তা কায়েম করে নিয়েছে তথা আল্লাহর এলেমের দরিয়ার ভেতর ডুব দিয়ে আছে, সেই হলো আলেম তথা জ্ঞানী।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

5. পথ আমি নই, পথের শেষের গন্তব্যটাই আমি। হে পথিক, ভিন্ন ভিন্ন পথে আমাকে খুঁজে ফিরো বলে, বিচিত্র রূপে আমাকে দেখতে পাও বলে আমি ভিন্ন কিংবা বিচিত্র নই। আমি অভিন্ন এক অখন্ড সত্ত্বা।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী রহ.

6. আমার অন্তর ভরে আছে প্রভুর প্রেম। সেখানে অন্য কারো ভালোবাসা বা ঘৃণা প্রকাশ করার জায়গা নেই।
– তাপসী রাবেয়া বসরী রহ.

7. আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য জ্ঞানার্জন করো এবং জগতের প্রতি মমতাবান হও।
– বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহ.

8. হিংসুকদের ভৎর্সনায় চিন্তিত হয়ো না। কষ্ট ও যন্ত্রনা দিয়েই আশেকের হৃদয় প্রতিপালিত হয়।
– খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহ.

9. আমি পূর্বে হয়তো তার প্রেমের বর্ণনা দিয়েছি। কিন্তু যখন তার প্রেমকে অনুভব করলাম, তখন বাকরুদ্ধ ছিলাম।
– মাওলানা জালালউদ্দিন রুমী রহ.

10. দেখো সর্বত্রই তাঁর অপার সৌন্দর্য। আমি সর্বদা তাঁর নাম হৃদয়ে রাখি এবং আমি যা করি তাই ইবাদত হয়ে যায়।
– ভক্ত কবির রহ.

11. হাজারো জ্ঞানের বই পড়েছো, কখনো কি নিজেকে নিজে পাঠ করেছো?
– বুল্লে শাহ রহ.

12. শুধু আরবী ভাষা শিখলেই জ্ঞানী হওয়া যায় না, ধার্মিক হওয়া যায় না। গুরু মুর্শিদের নিকট বাইয়াত হয়ে, তাঁর খেদমত করে আল্লাহর অলি হতে হয়।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

13. যে অন্তরে মুর্শিদের প্রতি ঈমান, এশক, মহব্বত নাই, সে অন্তর মৃত।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

14. যা তোমার আপন স্বভাবে অনুপস্থিত, সে বিষয়ে অপরকে উপদেশ দিও না।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী রহ.

15. নিজের সত্ত্বা ভুলতে পারলে, তবেই প্রভুর সাথে মিলিত হওয়া যায়।
– খাজা শেখ ফরিদ রহ.

16. ধ্যান হলো হৃদয়ের বাতি। এটি নিভে গেলে হৃদয়ে আর আলো থাকে না।
– ইবনে আতাউল্লাহ রহ.

17. যে আল্লাহ ছাড়া অন্য কিছুতেই আর শান্তি পায় না, সেই আসল ফকির।
– হযরত শিবলী রহ.

18. ধর্ম একটিই। তা হলো মানব ধর্ম, মানবতা, ইনছানিয়াত।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

19. দুনিয়া পঁচা লাশ, এর অনুসন্ধানীগণ কুকুর।
– ইমাম জয়নুল আবেদিন রহ.

20. আত্মাকে উন্নীত করার জন্য কবিতা আবশ্যক।
– এডগার এ্যালান পো

21. সংগীত হচ্ছে শাশ্বত ভাষা, যার আবেদন দেশ,কাল,পাত্র ভেদে অভিন্ন।
– জে জি বেইনার্ড

22. মসৃষ্টির সেবা ব্যতিত ইবাদত নাই। তসবিহ ও জায়নামাজ আল্লাহ পাওয়ার নিয়ামক নয়।
– শেখ সাদী রহ.

23. আলিফ লাম মীম তিনেরি ভেদ, রেখেছেন সাঁই গোপ করে,
চিনগা মুর্শিদ ধরে রে মন, জাগনা মুর্শিদ ধরে।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

24. হে প্রভু, জান্নাত ও জাহান্নামের অস্তিত্ব না থাকলে জানা যেত যে, তোমার উপাসকের সংখ্যা কত!
– হযরত আবুল হাসান খেরকানী রহ.

25. যেদিন আল্লাহ আমার থেকে আমিত্ব দূর করে দিয়েছেন, সেদিন থেকে জান্নাত আমার জন্য লালায়িত আর জাহান্নাম আমার থেকে ভীতিগ্রস্ত।
– হযরত আবুল হাসান খেরকানী রহ.

26. আল্লাহ আমাকে যে স্থানে তুলে দিয়েছেন, যদি জান্নাত ও জাহান্নামের সে স্থানে যাতায়াত থাকতো, উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত।
– হযরত আবুল হাসান খেরকানী রহ.

27. যে কালেমাকে চিনে কালেমাকেই ধারণ করে আছে, সেই মুক্তিপ্রাপ্ত মানুষ।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

28. নফসানিয়াতের খায়েশ হতে মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত চেতনার আরশীতে তোমাকে তুমি কখনোই দেখতে পাবে না।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী রহ.

29. সৃষ্টিকর্তার প্রেমে আত্মা খুইয়ে দাও। বিশ্বাস করো, এ ব্যাতিত আর কোনো পথ নেই।
– জালালউদ্দিন রুমী রহ.

30. নিজের সত্ত্বা লোপ করে দাও এবং এমনভাবে কর্ম করো যেনো আল্লাহর সন্তোষ লাভ হয়।
– বাহাউদ্দিন নকশাবন্দ রহ.

31. মানুষ থুইয়ে খোদা ভজো, এ মন্ত্রণা কে দিয়েছে
মানুষ ভজো কোরান খুঁজো, পাতায় পাতায় সাক্ষী আছে।
– জালালউদ্দিন খাঁ রহ.

32. মহাজারো জ্ঞানের বই পড়েছো, কখনো কি নিজেকে নিজে পাঠ করেছো।
– বুল্লে শাহ রহ.

33. আমার অন্তর আজ তোমার সৌরভে ভরপুর। যখন আমি নিজেকে পেয়েছি তোমাতে।
– হযরত আমীর খসরু রহ.

34. জাগ্রত রুহের অধিকারী তথা কামেল গুরুর প্রেমে আপন ঘরটিকে নূরময় করে তোলো।
– হযরত আল্লামা ইকবাল রহ.

35. নিজের সত্ত্বা ভুলতে পারলে তবেই প্রভুর সাথে মিলিত হওয়া যায়।
– খাজা শেখ ফরিদ রহ.

36. যারা আদম কাবায় আল্লাহকে সেজদা করছে, তারাই আল্লাহর বান্দা, তাদের সেজদাই কবুল হচ্ছে।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

37. কোরান হলো আল্লাহর নূর, কদিম, কোরান অসীম এবং তা অখন্ডকালের সাথে সম্পৃক্ত রাছুলের আহলে বাইয়েত সহ।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

38. মানব সুরতকে কায়েম রাখতে হলে নফসানিয়াত খায়েশকে দৃঢ়তার সাথে দমন করো।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

39. আত্মশুদ্ধি ও আত্মপরিচয়ের মাধ্যমে যিনি আল্লাহকে চিনেছেন, তিনিই মুমিন।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

40. মযদি তুমি মুর্শিদের অতি নিকটবর্তী হতে চাও তবে সদাই তাঁর রূপ স্বরণে থাকো এবং মানসিক নির্জনতাকে অবলম্বন করো।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী রহ.

7. মারফতের বাণী সমূহ

সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী

1. এই দেল-কাবা ব্যতীত খোদাকে আর কোথাও দেখিতে পারিবে না। যিনি এই দেলকাবায় হজ্জ করিয়াছেন, তাহার হজ্জ সর্বতীর্থে আদায় হইবে।
– আহমদ কওসার আলী শাহ (র) (জিন্দাশাহ)

2. কাবকাওসিন নছিরাতে নূরের ঝলক দেয় তিনি,
মানব দেহ খুঁজলে পাবি নিশানী।
– খাজা গওহার আলী শাহ চিশতী (র)

3. প্রতি কর্মে থাকতে হয় সুন্দর রেসালাত, যার নিকট পরাজিত সকল মাখলুকাত
মানুষের পদতলে যাহার বাসস্থান, সে একদিন লাভ করবে দেবতার সম্মান।
– হযরত পাগল শাহ হাশেম আলী ওয়ায়েসী (র)

4. যদি তোমার খোদা জ্ঞান তোমার অস্তিত্বকে ভুলাইয়া না দেয়, তবে সে জ্ঞান হতে অজ্ঞানতাই শ্রেয়।
– হাকিম সানায়ী (র)

5. খোদা তোর হাজির নাজির, জান মুছাফির, সদায় বর্তমান।
– খাজা দেওয়ান শাহ রজ্জব আলী চিশতী নিজামী (র)

6. জানো কি জামী? সমস্ত জগতের জান হলো মুহাম্মদ। আর মোহাম্মদ (সা) এর জান হলো হুসাইন বিন আলী (আ)
– আল্লামা আবদুর রহমান জামী (র)

7. বসে ধ্যানে দীলের টানে, দূরের বস্তু সামনে কর
স্বচক্ষে দেখে-শুনে, দীল হুজুরী নামাজ পড়।
– খাজা দেওয়ান শাহ রজ্জব আলী চিশতী নিজামী (র)

8. আলিফ লাম মীম তিনেরী ভেদ, রেখেছেন সাঁই গোপন করে
চিনগা মুর্শিদ ধরে রে মন, জানগা মুর্শিদ ধরে।
– খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

9. মইমাম হোসাইন শীতলতম হৃদয়কেও উষ্ণ করেন। হোসাইনের আত্মত্যাগ আধ্যাত্মিক স্বাধীনতাকে তুলে ধরে।
– রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

10. হুসাইনের কতল আসলে ইয়াজিদেরই মৃত্যু। ইসলাম জিন্দা হয় প্রতিটি কারবালার পরই।
– মাওলানা মুহাম্মদ আলী জওহর রহ.

11. ইমাম হুসাইনের ও তাঁর সাথীদের ওপর নিপীড়নমূলক ঘটনা ও হৃদয়বিদারক শাহাদাত যার অন্তরে শোক ও বেদনা সৃষ্টি করে না, সে মুসলমান তো নয়ই, মানুষ নামেরও অযোগ্য।
– মুফতি মুহাম্মদ শফী রহ.

12. সৃষ্টির ভেতরে পাক পাঞ্জাতন চিরন্তন ও শাশ্বতভাবে বিদ্যমান। পাক পাঞ্জাতন না চিনলে আল্লাহকে চেনা যায় না।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

13. ভক্তি বিশ্বাসের পূর্ণতাই আদব। আদবের পরিপূর্ণতাই ইনছান।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী রহ.

14. রহস্যলোকের যে সূর্য আমার মধ্যে আছে, মস্তিষ্কপ্রসূত জ্ঞান দিয়ে তা কিছুতেই বুঝতে পারবে না।
– খাজা ফরিদ উদ্দিন মাসুদ গঞ্জেশকর রহ.

15. পীর ব্যতীত যে আধ্যাত্মিক পথ অতিক্রম করতে চায়, তার জিন্দেগী খতম হয়ে যাবে, তবু মঞ্জিলের সন্ধান পাবে না।
– হযরত ফরিদুদ্দিন আত্তার রহ.

16. খোদার দরজা কভূ বন্ধ হবে না তোমার জন্য, বরং খুলে যাবে আরো সহস্র সুন্দর দরজা।
– মুহাম্মদ আল রুদাকী রহ.

17. এ চাঁদ কিরণে মধূ লুটো আজ, কাল নিশিথের ভরসা কই
চাঁদনী হাসিবে যুগ যুগ ধরি, আমরা আর রবো না সই।
– ওমর খৈয়াম রহ.

18. পথ যখন আত্মায় আগুন জ্বালায়, তখন থেমে থাকা বলে কিছু নেই।
– হযরত হাকিম সানায়ী রহ.

19. গোটা মানবজাতি একটা শরীরেরই অংশ। একই আত্মা ও বীজ থেকে জন্ম তাদের।
– হযরত শেখ সাদী রহ.

20. আমার অস্তিত্বের সবটুকুই তুমি। এমনকি খসরুর অন্তরটাও ও ধর্মটাও।
– হযরত আমীর খসরু রহ.

21. মুহাম্মদই ধর্ম, ধর্মই মুহাম্মদ। মুহাম্মদ হওয়াই মুক্তিলাভ এবং মুহাম্মদই সর্বত্র বিরাজিত।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

22. গভীর অন্তদৃষ্টি দিয়ে তুমি তোমাকে দেখো। যদি হাকিকত লাভে সমর্থ হও, তবে জানতে পারবে তুমিই সেই।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী রহ.

23. আলিফ লাম মীম তিনেরী ভেদ, রেখেছেন সাঁই গোপন করে
চিনগা মুর্শিদ ধরে রে মন, জানগা মুর্শিদ ধরে।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

24. জানো কি জামী, সমস্ত জগতের প্রাণ হলো মুহাম্মদ। আর মুহাম্মদের প্রাণ হলো হুসাইন বিন আলী।
– আব্দুর রহমান জামী রহ.

25. যারা নিজেদের অন্তর সাজাতে ব্যস্ত, বাহিরের সাজ তাদের ঠিক থাকে না।
– হযরত বায়েজীদ বোস্তামী রহ.

26. ইহজীবনে যারা আল্লাহ ছাড়া অন্য বস্তুর প্রতি মোহগ্রস্ত হয়ে আছে, পরজীবনে তাদের জন্য আফসোস ছাড়া কিছুই থাকবে না।
– জালালউদ্দিন রুমী রহ.

27. তোমার ওপর যদি তোমার মুর্শিদের ছায়া না থাকে, তবে শয়তানের ওছওয়াছা তোমাকে সর্বদা অস্থির করে রাখবে।
– হযরত খাজা বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহ.

28. তোমার অন্তরকে সংশোধিত ও পরিশুদ্ধ করো, প্রতি শ্বাসে আল্লাহর সাথে তোমার দীদার ঘটবে।
– হযরত খাজা বড়পীর আব্দুল কাদির জিলানী রহ.

29. কাবা নির্মিত হয়েছে পাথর ও পানি দিয়ে, আর আল্লাহ প্রেমিকদের অন্তর জাগ্রত হয় আল্লাহর নূরের তাজাল্লি দিয়ে।
– জালালউদ্দিন রুমী রহ.

30. বংশ দিয়ে কিছু হয় না। আপনার কর্ম সাধনাই আপনাকে চিরমুক্তির দরজায় পৌঁছে দিবে।
– হযরত খাজা জাফর আস সাদিক রহ.

31. আমার যা কিছু নিজস্ব গৌরব সবি আমি মুছে ফেলেছি। কিছু আল্লাহ প্রদত্ত যা আপনা হতেই প্রতিভাত হয়, তাকে অহংকার বলা চলে না।
– হযরত খাজা জাফর আস সাদিক রহ.

32. সেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে যে অন্যায় করার আগেই পাপের কথা ভেবে নিবৃত্ত হয়।
– হযরত খাজা জাফর আস সাদিক রহ.

33. নফসের পুতুল হোয়ো না, তাহলে জাহান্নাম হবে তোমার অনন্ত আবাস।
– হযরত খাজা জাফর আস সাদিক রহ.

34. ধীরে ধীরে মানুষের কাছ থেকে অপরিচিত হয়ে যাও। কারণ সত্য কিছু মানুষের সাথে বন্ধুত্ব করে না।
– শামস তারবীজ রহ.

35. আত্মপরিশুদ্ধি ও আত্মপরিচয়ের মাধ্যমে যিনি আল্লাহকে চিনেছেন, তিনিই মুমিন।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

36. বিশ্বাস ভক্তি প্রেম, এ তিন তত্ত্বে ইসলামের ভিত্তি। আর এ তিন তত্ত্বের প্রয়োগক্ষেত্র হলো মুর্শিদ।
– হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী রহ.

37. যদি তুমি তৌহিদে বাস করতে চাও, তবে পূর্ণ বিশ্বাসে মুর্শিদের আশ্রয় গ্রহণ করো।
– হযরত খাজা হিমেল শাহ আল চিশতী নিজামী রহ.

38. লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ উপলব্ধি হৃদয়ের এমন একটি অবস্থা যা জিহ্বা দ্বারা প্রকাশ করা যায় না এবং মন দ্বারা চিন্তা করা যায় না।
– ইবনে আতাউল্লাহ রহ.

39. যে ঈশ্বরকে হারিয়েছে, সে কি পেয়েছে? আর যে ঈশ্বরকে পেয়েছে, সে কি হারিয়েছে?
– ইবনে আতাউল্লাহ রহ.

40. হৃদয় যখন শূণ্য হয়ে যায়, তখনি সেখানে মিনার স্থাপন করা হয় আর জ্ঞানের সুলতান সেখানে উপবেশন করেন।
– ইবনে আতাউল্লাহ রহ.

সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী

Others Post

আপন খবর - Apon Khobor

আধ্যাত্মিক লেখালেখির প্লাটফর্ম
ফেসবুক পেজ
ইউটিউব
হোয়াটসএপ গ্রুপ
টেলিগ্রাম গ্রুপ