লিখুন

Date:

ফেসবুক
ইউটিউব

আধ্যাত্মিকতা ও সুফিতত্ত্ব বিষয়ক নির্বাচিত কিছু অনুকবিতা

লাবিব মাহফুজ চিশতী

1.
নফস এজিদের বশ্যতা না মেনে,
হোসাঈন সম হায়,
আপনারে বিলাও গুরুর শ্রীচরণে
মরণ কারবালায়।

2.
মোর আত্মার যত মলিনতা আজ
ধুয়ে মুছে সব যাক,
ভেসে যাক ফোরাতের রক্তস্রোতে
সব কলঙ্ক, নাপাক।
জয় হোক আত্মার, আত্মবলিদানে
ত্যাগের কারবালায়,
উঠুক জ্বলিয়া প্রাণে মহাপ্রেমশিখা
চৈতন্যের পানশালায়।

3.
আজো জাগে তৃষা, বিষ-বাণ
শোণিত ধারার পিছল পথে
বিষ-জরজর, যাতনা রথে
চলেছ – অমলিন!
সে তৃষা আজো রন্ধ্রে মোদের
জাগিছে অনুক্ষণ!
হাসনাইন!

4.
তোমরা মহান, নেকীর ভাগাড়ে
শকুন হয়ে আছো পড়ে,
আমি অতি হীন, কাঁদি রাত্রদিন
প্রেমের দায় লইয়া শিরে ।।

5.
তোমরা তো তারে বাহিরে খুঁজো
দৃষ্টি মেলিয়া জগৎ পানে,
আমি তো অন্ধ, দৃষ্টি না যায় দূরে
তাই চেয়ে আছি হৃদয় কোনে!

6.
ধর্মাধর্ম ভূতের কর্ম
বেগার খাটা জীবন ভর,
ওসব ফন্দিফিকির ছেড়ে করগে
মানুষেতে প্রেম আচার…

7.
মাফ চাইবার কি মহাসমারোহ
পাপী না হলে!
তাপী বলেই তো তব এত মিনতি
আপন সত্যরে অবহেলে!

8.
তব চরণে নূপুর হতে
ধরাধামে আমি, যাপি দিবাযামি
প্রতিক্ষণ, তনুমন, তোমাতে সমর্পিতে!
প্রভু, চাই তব চরণে নূপুর হতে!

9.
আওয়ালে নূর মোহাম্মদী
জাহের মুর্শিদ নিরবধী
তরিকতে আছেন হাদী
ভক্তজনরে করতে পার –
বিনা তারের খবর করে
গুরুরূপে নিরিখ ধর।

10.
দায়েমীর ঐ রথে চড়ে
কায়েম থাকো হৃদ মন্দিরে
সারথীরে, অনুরাগে
দীল বোরাকে দাও আসন,
রূপ নেহারে, তূর পাহাড়ে
কাব কাওসাইন, নূর নূরীতন।

11.
প্রভু, ভালোবেসে মোরে আমারই ঘরে
আমাতে লভিলে ঠাঁই –
তবু আমি ত্যাজিয়া তোমারে, মসজিদ মন্দিরে
তোমারে খুঁজিতে যাই!

12.
ওয়াক্ত মেনে নামাজে দাঁড়ায়, বখিল, কৃপন জন
প্রেমিক জনা রহে সর্বদা, মাশুক সম্মুখে দন্ডায়মান!

13.
সবাই শুনে- ঘুমের চাইতে নামাজ উত্তম!
আমি শুনি- প্রেমে পরার পর জেগে থাকা পাপ!
সবাই চায়- সজ্ঞানে স্বরণ তব…
আমি চাই – আত্মবিস্মৃতির অভিশাপ…!

14.
সে এক অপার আকাশ, আমি দিগভ্রান্ত মেঘ হয়ে ভাসি
সে আমায় বাধে সমগ্রতায়, আমি খন্ড হয়ে ফিরে আসি!

15.
মুসার মতো মিলন চাহি না আমি
প্রেমহীন কথোপকথন!
রাখালটির মতো দাও বিরহ আমায়
সুদূর অন্বেষণ!
না হইও তুমি কভূ, প্রভু-খোদা মোর
না হইও মোজেস-নূর!
রাখাল কিশোর সম পূজিবো তোমায়
বন্ধুরূপে উজল করো হৃদয় বাসর!

16.
তুমি আমারে চিনিয়া নিও
যদিও বা হারাই দৃষ্টি আমার
পথে পড়ে রই, ঘোর অন্ধকার
তোমার নামের চির মহিমা দিয়ে
আমারে ডেকে নিও –
অন্ধ আমি, যতই হই পাপীজন
তোমার করুণার বাতি জ্বালিও –
তুমি আমারে চিনিয়া নিও।

17.
হে সাকী মোরে পিলাও শারাব
এসেছি আজ তব নিকুঞ্জ-বনে,
ত্রিভঙ্গ রূপে তব এ দীল শাদাব
বিমোহিত হলাম ঐ নয়ন বানে।
এসেছিলাম তব হাতে পেয়ালা চাহি
দীলের নেয়াজী হলো তব রূপ হেরী,
বুঝিলাম এ প্রাণের আজিজেমান তুঁহি
এশকে ইয়াজদানি, মাশুকে আসরারী।

18.
আহাদিয়াত জাতি নূরে
প্রেম প্রকাশে ‘তিনি’র তরে
এইনা আদম অজুদ ধরে
জাহেরাতে হয় প্রকাশ।
এই মানবেই আদি অন্ত
প্রভূর পরম সুখের বাস।

19.
ভেদী কংস কারার দ্বার
এসো নব যুগাবতার –
এসো অস্তিত্বে, বিপুল সংগ্রামে
হস্তে ধরি – জুলফিকার!
এসো নাথ, নারায়ণ – ভাঙ্গি, অর্গল পাষাণ
আনো আঘাত ভীষণ – মৃত প্রাণের পর!
আজ হউক সবার মোহঘুম দূর!

20.
কে পাপী আর কে পূণ্যবান, করেনিকো ভেদ কভূ!
সকলের অন্তরে গড়েছে প্রেমের, বেসাতি আমার প্রভু!
হয়ে তারি দাস বিভেদ বিষাদ, বুনিতেছি মনে ফের!
ভূলি মহাপ্রেম, হই অমানুষ, করিতেছি অধর্ম সার!

21.
তুমি যেমন প্রভু তোমার সকল দিয়া
আঁকিয়াছো আমার এ রূপের মাধূরী
আমিও তেমনি করে আমার এ দেউলে
যতনে আঁকিবো ফের, ঐ রূপ মনোহারী।

22.
অনন্তকালের স্তব্ধতা (শক্তিশালী রাত্রি) ভেদ করে
দিকে দিকে বেজে উঠলো প্রণয়ের দামামা!
নিশিথ প্রিয়া! তার অবগুন্ঠন ত্যাজি –
সামনে এসে দাড়ালে! ভীত চকিত প্রেমিক প্রাণ –
শাখ-ই-নাবাতের গভীর পরশ-প্রশান্তিতে
হাফিজের বল্গাহারা কাব্যসুন্দরীর মতোই, প্রবাহিত হলো
প্রণয় গাঁথা! মুহাম্মদের অন্তর জুড়ে!

23.
আমার অস্তিত্বে আজ মৃত্যুর পিপাসা
দন্ডদাতা! কেনো তুমি দূরে –
হৃদয় রুধিরাক্ত! চাই নির্মম মৃত্যু
জল্লাদ! তব তলোয়ারে –
দেখি কতো জোর!! পোক্ত বাজু দুটি
কর উত্তোলন! হানো মরণ দংশন শিরে!
সমর্পণের আকুলতা! তৃপ্ত হউক প্রাণ
শাশ্বত গন্তব্যে! মরণ অভিসারে!

24.
অসীম সময়ের উন্মাদনায়, শোনা যায়
দূর হতে ভেসে আসা, সুরহীন সুর,
ভোরের দূর্বাশিশিরে, হেটে যায় মুয়াজ্জিন
কন্ঠে বেজে ওঠে ফজরের কোরান, সুমধুর!

Others Post

আপন খবর - Apon Khobor

আধ্যাত্মিক লেখালেখির প্লাটফর্ম
ফেসবুক পেজ
ইউটিউব
হোয়াটসএপ গ্রুপ
টেলিগ্রাম গ্রুপ