লিখুন

Date:

ফেসবুক
ইউটিউব

জীবন-বিচিন্তা বিষয়ক নির্বাচিত কিছু অনুকবিতা

লাবিব মাহফুজ চিশতী

1.
কত আশা করে বসেছিলাম ভাগ্যলিপি দেখবো বলে,
সে সুযোগ কই? এসেছি যে পথে সে পথে নিয়ত, যাচ্ছি চলে!

2.
তব ঐশ্বর্য কি লিখিবো আমি লাজে মরি ওগো প্রিয়া,
বলি যবে তোমার সৌন্দর্য অপার, দীনতা আমার উঠেগো ফুটিয়া!

3.
মানুষ কেন বেঁচে থাকে, জানো?
কারণ- বেঁচে থাকা।
মানুষ কেনো মরে যায়, জানো?
কারণ- বেঁচে থাকা!
জীবন আমায় বাঁচিয়ে রাখে ক্ষণকালের জন্য,
মৃত্যু আমায় বাঁচিয়ে রাখবে চিরকালের জন্য!

4.
মোমবাতিটি জ্বলে যাবে নানা রঙে
শত সাহারার অভিসার-সাগর জলে,
এক ফোঁটা প্রেম বড়ই প্রয়োজন
শিশিরের কণা হয়ে, তপ্ত জীবন মূলে!

5.
তব পদতলে বহে মোর স্বপ্ন সাগর
আমি মগ্ন উজানস্রোতে,অথৈ পাথার!
অকূলে ভাসায়ে ভেলা, দিগন্তরেখায়
বেলা-অবেলায়,আঁকি ‘স্বপ্ন’ আমার!
না নিও সরায়ে প্রিয় – যুগল চরণ –
স্বপন ভাঙিলে হবে আমার মরণ!

6.
নগ্ন অভিসারে নিমগ্ন প্রাণ
অযাচিত প্রেমভার!
লিপ্ত অনুক্ষণ তাইতো সহি,
বিকর্ণ জ্বালাতন – দেহমনে –
আমারে এবার ফিরায়ে লও
আমার ‘আমি’র সনে!

7.
কেউ তো আসুক
হয় স্বপ্ন, নয়তো ঘুম
নয়তো একরাশ প্রতিক্ষার দীর্ঘ অমনিবাস –
শুধু শুধু জেগে থাকা
রাত তো জেনে যাবে
যতনে লুকায়ে রাখা – সব হা’হুতাশ!

8.
বুকে কাঁদে সাত সাহারার জল!
অতলান্তিক সলিল ফুরায় – সলজ দাবানল!
আমি আশীষে তোর ধ্বংসলোকে
অভিশাপে স্বর্গসুখে!
ভালোবাসার পাক-বিপাকে –
কাটাই মহাকাল!
বুকে আমার সদায় কাঁদে – সাত সাহারার জল!

9.
আসিও তুমি
চিনিয়া যাইও মোর হৃদ মরুভূমি!
শুধু মরিচিকা, দিগন্ত দাহিকা
বাতাসে হুতাশ, অনল বাহিকা
পথহীন, নিতি ম্লান, দিবস যামী!
যুঝিও প্রিয় ক্ষুদ্রতা মোর, ক্ষুদ্র আমি!

10.
স্বর্গীয় সুখের বেদনায়
নীলাভ বদন মোর রহে নিত্য বিষাদময়-
যেজন করে সদা স্বর্গেরে সৃজন
আপনারই বক্ষে লুকায় তাহার জগতের সব বেদন!

11.
তবু যেনো মোরে না ফিরাইও আর
মিনতি রাঙা চরণে তোমার,
এমনি করে মোরে অনিবার
বাধিও বিরহ-মিলনে বাধিও –
যতনে বা যাতনায়; চরণেই রাখিও!

12.
বাঁধি আমি কোন মোহনায় ঘর!
কেনো জনম জনম আসি আমি, শত দুঃখ সুখে ভাসি –
এইতো আমার পরম তীর্থ, আমি আমার পর!
আমায় আমি খুঁজে ফিরি খুঁজি আমার ঘর।

13.
প্রভু – পাপ পূণ্য, জ্ঞান অজ্ঞান থাকুক তোমার ঘরে,
আমি জন্মঅন্ধ পথের কুকুর অবাঞ্ছিত, দ্বারে!
ভালো লয়ে, মন্দ লয়ে তোমার ঘরের লেনাদেনা,
আমি ভক্তিদ্বারে বাধা ওগো শক্তিতে পথহীনা!

14.
বলো কতোটা সাধিলে পাইবো তোমায়
কতটা বাসিলে ভালো?
বলো কতটা আঁধারে ডুবিলে আমি
তুমি আনিবে রূপের আলো??
আমি ততটাই আঁধারে ডুবিবো
ততটাই তোমারে সাধিবো।

15.
নিষ্ঠুর ঈগল তুই!
সমর্পণের শিখরচূড়ায় –
প্রণয়-বন্ধুত্বে হাত পা বাধা বলে
ঠুকরে-ছিড়ে খাবি কলিজা!
তবু যুগে যুগে – প্রেমিক প্রমিথিউস দের –
এতেই যে চির কল্যাণ, চির শান্তি!

16.
অস্তিত্বের বিষম যন্ত্রণা তুমি দেবে আমায়?
আমিতো আলেয়া নই! স্বয়ং অগ্নিজাত!
পুড়তে পুড়তে শিখেছি –
কিভাবে আলোকিত হতে হয়!
দহন! সেতো তোমার কাছে যন্ত্রণা
আর আমার কাছে অস্তিত্বের আনন্দ!

17.
প্রণয়ে যেজন নত
তার প্রণয় মধূর – আনত শির
জগতে উন্নত!
উদ্ধত যে প্রাণ –
তার বিপুল তনু – স্বর্গদ্বারে
না পায় পরিত্রাণ!
প্রেমিক! প্রণয়ডোরে –
বাঁধো আজি আপন! নম্রভারে!

18.
সুখবিলাসী জীবন আমি চাইনা কোনো দিন,
দিও তীব্র দুঃখের দহন আমায়, ভেজা দুনয়ন!
জানি নয়নবারির পিছল পথে, ফোটে তোমার ফুলের কলি!
তাই একজীবনের সবটুকু সুখ দিলাম জলাঞ্জলি!

19.
আমার জীবন ততটাই সত্য, আমি যতটা উন্মাদ-
আমার জীবন ততটাই সত্য, আমি যতটা ভাঙি বাঁধ!

20.
যখন বুকে বাজে উজান বাঁশি
উত্তাল ছন্দে স্বর্গ রাশি –
আছড়ে পড়ে ঘুম হরনী
নিশিথীনির কূলে;
আমি হতাশ নদী সাঁতরে ফিরি
স্বরণে তাঁর মরণ তরী –
বাইতে থাকি নিরবধী স্বর্গসুধা ফেলে!
সুখের নয়গো স্বর্গ আমার
নিতি ভাসায় বিষবাদলে!

21.
যখন আমার জোৎস্না দেখা – ফুরাবে
যখন সজল নয়ন ভিজায়ে দিয়ে,
বাদল ধারা লুকাবে!
তখনো রাখিস যতনে!
হয়তো তখন থাকবো না আর- নয়নে
থাকবো না আর শেষ নিশিথের
বুকের আলিঙ্গনে!
তখনো এমনি রাখিস বেঁধে- পরাণে!
রাখিস যতনে!

22.
ভুলিয়াছি পথ, আমার পূর্বরথ
ফিরিবো কি ফের, আমি’র দ্বারে?
এযে ভগ্নদশা, শুধু যাওয়া আসা
জিবনে মরণে, বাধিতেছে মোরে!

23.
আমার অস্তিত্বে আজ মৃত্যুর পিপাসা!
দন্ডদাতা! কেনো তুমি দূরে –
হৃদয় রুধিরাক্ত! চাই নির্মম মৃত্যু
জল্লাদ! তব তলোয়ারে –
দেখি কতো জোর!! পোক্ত বাজু দুটি
কর উত্তোলন! হানো মরণ দংশন শিরে!
সমর্পণের আকুলতা! তৃপ্ত হউক প্রাণ
শাশ্বত গন্তব্যে! মরণ অভিসারে!!

24.
কন্টক পুষ্প দিয়ে সাজাবো তোমায়
বিরহ নদীর কূলে, আধো জোছনায়!
মুক্তির কারা দ্বারে, বাধিবো শক্ত করে
রাইবো তেমনি জেগে ধুলির ধরায়!
সুদূর স্বপন দিয়ে ধরিবো তোমায়!

25.
আমার ভাগ্য লেখা হোক –
আমি চিরকাল, বিরহ প্রেমের
অযাচিত পরিব্রাজক!

26.
চাই পথের ধারের পান্থশালা, ভর পেয়ালা, শারাব -সাকী!
চাই না যেতে মন্দির মসজিদ, লোভের বুলি! প্রেমের ফাঁকি!
বে-দীল প্রিয়ার পরশ তরে, বেহেশত-দোযখ পায়ে ঠেলি!
জনমভরা নয়নধারা-য়, লইযে দীলের দেউল তুলি!
আমি এক চুমুকের নেশায় কাটাই, হাজার জনম – পলক আঁখি!

27.
যেদিন শূণ্য বীণা বাজবে আবার
ভগ্ন দেউল সাজবে আবার
রাঙবে আবার নতুন উষা
নূতনাদিত্য নব প্রাণ –
আমিও সেদিন নতুন স্রোতে
ভাসাবো মোর তরীখান!

28.
ওগো মোর পাপের কারিগর!
আপন নেশায় আপনি মেতে
আপন সীমায় – চিত্তপাতে –
পাপের তরী বাঁধলে ঘাটে
সেধে মোর দেহের কূল-ধার!
আমায় পাপী করে, পাপহরণী –
হলে – প্রবুদ্ধ-সুন্দর!
আমার প্রাণ- সীমন্ধর!!

29.
আমি হিয়ায় রেখে রূপ সরোবর
কোন ঘাটে আর নোঙর করি,
আমি প্রাণে বেঁধে প্রাণ-প্রতিমায়
কোন দেউলে খুঁজে ফিরি?

30.
এ পথটি বয়ে চলে, হৃদয়ের অতলে
তীক্ষ তীরের ফলা, ঘূর্ণাবর্ত,
ছোট্ট সীমার অসীমে এক! পৌঁছাই অবশেষে
যেথা অনন্ত আলো! একমাত্র আমিই সত্য!

31.
আমার এ রঙের বাজার, নিতি ভাঙ্গে গড়ে
দোদুল দোলে সপ্ত ডিঙ্গা – উজান ভাটির তোড়ে!
অজস্র তাঁর আলোর বাহার, পথ দেখায়ে ফের
আমার আঁধার মাঝে সাজায় বাসর, সাত সেতারার নূর!

32.
প্রভূর চোখের এক ফোঁটা জল আমি
ঝড়ে পড়ি আদিম এরাদার অন্তরে –
রাতের বুকে আছে এক আলোকিত আধার
সিনাইয়ের গোলাপ ফোটে সে প্রান্তরে!

Others Post

আপন খবর - Apon Khobor

আধ্যাত্মিক লেখালেখির প্লাটফর্ম
ফেসবুক পেজ
ইউটিউব
হোয়াটসএপ গ্রুপ
টেলিগ্রাম গ্রুপ