লাবিব মাহফুজ চিশতী
1.
হৃদয়ের হাহাকার, মরমের মর্মর
নয়নের তৃষা আনে যে ভালোবাসা,
জগতের প্রতি পলে বিরাজে সে প্রেম
হৃদয়ে হৃদয়ে জ্বালে পরম তিয়াসা।
2.
তুমি মোহিত করে রাখো পরাণ আমার
নয়নের সীমানায় নাই বা রহিলে,
বাহুর বাঁধনে তোমায় না পেলে ক্ষতি কি
জাগিয়া উঠিও মোর পরাণ কাঁদিলে।
3.
যদি নিশার শেষে, ভালোবেসে
সুর সাধো মোর গানে,
আমিও সকল ছাড়ি, রইবো পড়ি
তোমার আলিঙ্গনে!
4.
হে পথিক প্রবর, তোমায় ডাকি নিরন্তর
স্থির হয়ে বসো প্রাণের, এ নৃত্ত সভায়,
এসো আবার ডুবে যাই শ্যাম রূপের প্রেমে
বাহু তুলে নাচি গাই প্রেমোন্মত্ততায়।
5.
নয়ন ফিরাও তুমি আলোর পানে
হৃদয়ের আলো দিয়া গড়িয়া নয়ন,
আধার নয়ন হেথা না পারে চাহিতে
নূরের তাজাল্লী ধরে নূরময় যে প্রাণ।
6.
প্রেমিক! যে সয়ে রয় বিদগ্ধ অন্তর
জনমের বঞ্চনা, কলঙ্ক পাথার
বিরহ এক আকাশ
অভিমান ব্যাথাপাশ
নিত্যাভিলাষ শুধু রুপের নিহার!
প্রেম স্নিগ্ধ! শান্তি! কিন্তু –
প্রেমিকের ব্যাথার অধিকার!
7.
নীড় হারা পাখি সম সুরগুলো মোর,
মন্দ্র তারে কাঁপে আকুল, বেদনা বিধুর!
প্রিয়, কত আর? তোমা পানে চেয়ে থাকা প্রাণ-
কাঁদিবে কূলে দাড়ায়ে, ব্যাথা পারাবার!
8.
প্রেমের মরূতে আমি ভীতু পরিযায়ী
সূদুর সলিল পানে নিরখিয়া আছি,
আসুক সাইমুম, দিগন্ত ব্যাপী
হারাই আবারো, খুব কাছাকাছি!
9.
আঁখিতে জাফরি সম ঝুলে তিয়াসা
প্রদোষে সালতি বাসে, কৌমুদীর ভাষা!
মৃণাল চয়ন হেরী, নয়ন অভিরাম –
ব্যাকুল শম্বরও প্রাণ, চাহে ভালোবাসা!
10.
সে পলকে আসে, পলকে হারায়
অখিল হৃদয় সলিল ধারায়,
আমি নিরবধী, অভিমানী হায়
কেঁদে ভরি বুক- যাতনারাশি –
একবার যদি বলতো! ভালোবাসি!
11.
তুমি দেখা দিবে বলে
তোমারে দেখার যোগ্য করে আমার এ নয়ন গড়িলে!
আমি অন্ধ তাই
নিজের অজান্তে বারেবারে আমি নিজেরেই দেখে যাই!
মূর্খ বলে কথা!
তোমার আমার ব্যাবধান আজো বলে বেড়াই যথাতথা!
12.
মনের দরে মন কেনা যার
শ্যামের প্রেমের জ্বালা সেই জানে,
সে বয় রাধা সম কলঙ্কভার
মন হারানোর বৃন্দাবনে।
13.
প্রভু –
যে যাহা চায়, তারে তাহা দাও
শুধু তোমারে যে চায়, তারে অঝোরে কাঁদাও।
14.
আমি বাস করি অনুভূতির শহরে
তার বিচরণ সাত সমুদ্রের ওপারে!
15.
আমি বলি স্বপ্ন বাসর
তোমরা বলো রাত,
আমি দেখি রূপের প্রদীপ
তোমরা দেখো চাঁদ!
16.
যদি ভালোবেসে হই পাপী,
কে বলে এ পাপ? এ পাপ মুলুকে
আমি সকলেরে যাবো ছাপি!
17.
একটা আকাশ চাই! হৃদয়ের বেলাভূমে –
তীর্যক ভালোবাসা নিপতিত হোক, গোধূলীর লাল খামে!
18.
হাসিটু্কু জানে আমি কতটুকু ক্ষত
লুকায়ে রাখি এই বুকে অবিরত!
কতটুকু ব্যাথা মোর,নিশুতিরাত জানে
হারাহিয়া জানে মোর,সমর্পণের মানে!
19.
হৃদয় যদি আকুল হয়
বাহির কি আর বাঁধে,
সকল কাজই পূণ্য হেথা
যেথা পরাণ তারে সাধে।
20.
পেয়েও তারে পাইনি আজো
আর কি করে পাবো তায়?
কেমনে তারে ধরবে আঁখি
নয়ন মাঝে যে লুকায়??
21.
প্রভু –
দোযখ জ্বালায় জ্বলবো আমি
তুমি যদি রহ সাথে,
কি হবে দিয়া সুখ সুধা-রাশি
তুমি হীনা জান্নাতে!
22.
আমি কেমনে ধরি তারে
সে যে রূপের ঘরে স্বরূপ নিধি
আমার সকল জুড়ে!
আমি কেমনে বাঁধি তারে?
23.
হৃদয় অঙ্গনে ওগো, অঞ্চিত সুন্দর
আনিওনা কভূ আর অণীক যন্ত্রণার!
ধূসর ধূত এ প্রাণ, নমিত তোমায়
কেনো তায়! দাও অত্যয়, অজস্র, অঝোর?
24.
অঞ্জলী মোর না ফিরাইও আর
না ভাঙ্গিও মোর, সাধ-অধিবাস-
অন্তিক অপাঙ্গে মোর রহিও অবিরল
অর্হ-প্রণয় সাথে, হৃদে অহর্নিশ!

