সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী
ইচ্ছার স্বাধীনতা বিষয়ক ২৪ টি আয়াত
১. তাওহীদ জ্ঞান যাদের নেই তাদের অন্তরে রয়েছে ব্যাধি। আল্লাহ তাদের ব্যাধি আরো বৃদ্ধি করেছেন এবং তাদের জন্য শাস্তি। বাকারা ১০
২. আল্লাহ ইচ্ছা করলে তারা পরস্পর যদ্ধে লিপ্ত হতো না, কিন্তু আল্লাহ তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। বাকারা ২৫৩
৩. আল্লাহ জালিম সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। বাকারা ১৫৮
৪. আল্লাহ কাফির সম্প্রদায়কে সৎপথে পরিচালিত করেন না। বাকারা ২৬৪
৫. আল্লাহ কারো ওপর কষ্টদায়ক বোঝা চাপিয়ে দেন না, যা সে বহন করতে অক্ষম। ভালো উপার্জন করলে পুরষ্কার ও মন্দ উপার্জন করলে শাস্তি ভোগ করে। বাকারা ১৮৬
৬. প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর অধীন। আল ইমরান ১৮৫, আনকাবুত ৫৭
৭. আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পবিত্র করেন এবং তাদের ওপর সামান্য পরিমাণ জুলুমও হবে না। আননিসা ৪৯
৮. অঙ্গিকার ভঙ্গের জন্য আমরা তাদের ওপর শাস্তি প্রদান করেছি এবং তাদের হৃদয় কঠিন করে দিয়েছি। মায়িদা ১৩
৯. আল্লাহ ইচ্ছা করলে তাদের সকলকে সৎপথে পরিচালিত করতে পারতেন। আনআম ৩৫
১০. অদৃশ্যের কুঞ্জি তারই কাছে রয়েছে, তিনি ব্যতীত কেউ তা জানেনা। জলে স্থলে যা কিছু আছে, তা তিনিই অবগত। তাঁর অজ্ঞাতসারে গাছের একটা পাতা পড়ে না, মৃত্তিকার অন্ধকারে কোনো শষ্যকণাও অঙ্কুরিত হয়না, রসযুক্ত অথবা শুষ্ক মন কোনো বস্তু নেই যা সুস্পষ্ট কিতাবে লিপিবদ্ধ নেই। আনআম ৫৯
১১. আল্লাহ তোমার অনিষ্ট করতে চাইলে তা মোচনকারী তিনি ব্যতীত আর কেউ নেই। তিনি তোমার মঙ্গল চাইলে অন্য কেউ তার অনুগ্রহ প্রতিরোধও করতে পারে না। ইউনুস ১০৭
১২. আল্লাহ চাইলে তোমাদের সকলকে এক উম্মতভুক্ত করতে পারতেন। কিন্তু তিনি যাকে চান পথভ্রষ্ট হতে দেন এবং যাকে চান তাকে হেদায়েত দান করেন। নাহল ৯৩
১৩. আল্লাহ কোনো জাতির অবস্থা পরিবর্তন করেন না যে পর্যন্ত না তারা নিজেদের অবস্থা নিজেরা পরিবর্তন করে। রাদ ১১
১৪. তোমার সৎকর্ম করো নিজেদের মঙ্গলের জন্য এবং অসৎ কর্ম করলেও নিজেদের অনিষ্টেরই জন্য করবে। বনি ইসরাইল ৭
১৫. আজ তোমার কিতাব পাঠ করো। আজ তোমার হিসাবের জন্য তুমিই যথেষ্ট। বনি ইসরাইল ১৪
১৬. যারা সৎপথ অবলম্বন করে তা নিজেদের ভালোর জন্যই করে। যারা পথভ্রষ্ট হয় তারা নিজেদের ধ্বংসের জন্যই হয়। বনি ইসরাইল ১৫
১৭. বলো, এ সত্য তোমার রবের তরফ থেকে প্রেরিত, সুতরাং যার ইচ্ছা ঈমান আনুক এবং যার ইচ্ছা অস্বীকার করুক। কাহাফ ২৯
১৮. যারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে তাদের পুরষ্কার অবধারিত। যারা উত্তম কর্ম করে আমি তাদের প্রতিদান নষ্ট করিনা। কাহাফ ৩০
১৯. আল্লাহ যাকে নূর দান করেন না তার জন্য কোনো নূর নেই। আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পরিমিত রিযিক প্রদান করেন। তিনি তাদের কর্মফল পূর্ণমাত্রায় দিবেন। নূর ৩৭, ৩৯, ৪০।
২০. আল্লাহ তাদের প্রতি কোনো জুলুম করেননি। তারাই তাদের নিজেদের ওপর জুলুম করেছিল। আনকাবুত ৪০
২১. আমি ইচ্ছা করলে প্রতিটি ব্যক্তিকে সৎপথে পরিচালিত করতে পারতাম। সিজদাহ ১৩
২২. কেউ জানে না তার জন্য নয়ন প্রীতিকর কি লুকিয়ে রাখা হয়েছে তার কৃতকর্মের পুরষ্কার স্বরূপ। সিজদাহ ১৭
২৩. তোমাদের যে বিপদ ঘটে তা তোমাদের কৃতকর্মের ফলে। শূরা ৩০
২৪. পৃথিবীতে অথবা ব্যক্তিগতভাবে তোমাদের ওপর যে বিপদ আসে আমি তা সংঘটিত করার পূর্বেই লিখে রেখেছি। হাদীদ ২২
তকদীর বিষয়ক ১৬ টি আয়াত
১. তোমাদের কাছে যে কল্যাণ আসে তা আল্লাহর কাছ থেকে এবং যে অকল্যাণ ঘটে, তো তোমার নিজের কারণে। নিসা ৭৯
২. আমরা তাদের ওপর জুলুম করিনি, তারা নিজেদের ওপরই জুলুম করেছে। হুদ ১০১
৩. প্রতিটি বস্তুর ভান্ডার আমাদের কাছে এবং আমরা পরিজ্ঞাত পরিমাণে সরবরাহ করি। হিজর ২১
৪. আমরা প্রত্যেকের ভাগ্য তার কাঁধে বেঁধে দিয়েছি। বনি ইসরাইল ১৩
৫. কোনো জাতিই তার নির্ধারিত কালকে ত্বরান্বিত করতে পারে না, বিলম্বিত করতেও পারে না। মুমিনুন ৪৪
৬. তিনি সমস্ত কিছু সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের ভাগ্য নির্ধারিত করেছেন। ফুরকান ২
৭. যখন আমি পীড়িত হই তখন তিনিই আমাকে আরোগ্য দান করে, খাদ্য ও পানীয় দান করেন। শুআরা ৭৯,৮০
৮. তারা (রাসুলগণ) বললো, তোমাদের দূর্ভাগ্য তোমাদের সাথে আছে। ইয়াসিন ১৯
৯. সূর্য তার গন্তব্যের দিকে ধাবমান, এটা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত তকদীর। ইয়াসিন ৩৮
১০. সে সৎপথে চলে, তা নিজের কল্যাণের জন্যই, যে বিপথগামী হয়, তাও নিজের ধ্বংসের জন্যই। জুমার ৪১
১১. তোমাদের ওপর যে বিপদ আপদ আপতিত হয়, তা তোমাদের নিজেদের কর্মের ফল। শুরা ৩১
১২. যে সৎকর্ম করে তা নিজের কল্যাণের জন্যই। কেউ মন্দ করলেও তার প্রতিফল সেই ভোগ করবে। জাসিয়াহ ১৫
১৩. মানুষ যার জন্য চেষ্টা করে তা ব্যতীত আর কিছুই পায় না। ক্বামার ৩৯
১৪. নিশ্চয় আমরা প্রত্যেক বস্তুকে তকদীর অনুযায়ী সৃষ্টি করি। ক্বামার ৪৯
১৫. তিনি মানুষকে শুক্রবিন্দু থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের তকদীর নির্দিষ্ট করেছেন। আবাসা ১৯
১৬. তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, পূর্ণতা দিয়েছেন, তকদীর দিয়েছেন এবং তিনিই হিদায়াত দান করেন। আলা ১,২,৩
তকদীর সম্পর্কে স্টিফেন হকিংয়ের বক্তব্য :
মানুষের জন্মের প্রাথমিক পর্যায়ে পুরুষের শুক্রাণু ও নারীর ডিম্বানু মিলিত হয়। পুং শুক্রাণুর সেক্স ক্রোমোজমের সিম্বল XY এবং স্ত্রী ক্রোমোজমের সিম্বল XX এ দুটোর মিলনের ফলে যে জাইগেট তৈরী হয় তার ভেতর DNA (Deoxyribo Nucleic Acid) ও RNA (Ribo Nucleic Acid) থাকে। এ জাইগেট ধীরে ধীরে পূর্ণাঙ্গ কোষে পরিণত হয়। এ কোষের ঘরকে বলা হয় মাইক্রোকন্ড্রিয়া এবং কোষের যাবতীয় জৈবিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে প্লাজমা মেমব্রেন। কোষের ভেতরে থাকে সাইটোপ্লাজম ও নিউক্লিওপ্লাজম। সাইটোপ্লাজমে অবস্থিত বিভিন্ন জড়বন্তুকে বলা হয় অরগাস্টিক পদার্থ এবং এর তরল অংশকে বলা হয় হায়ালোপ্লাজম। এ কোষটি অতি সুক্ষ আঠালো পদার্থ দ্বারা বেষ্টিত থাকে। এ আঠালো পদার্থ এত ক্ষুদ্র যে, একটা বালুকণার কোটি ভাগের এক ভাগও নয়। এটা এত আঠালো যে পৃথিবী থেকে চাঁদে টেনে নিলেও এর ইলাস্টিসিটির অভাব হবে না, চিড় ধরবে না। এ অতি ক্ষুদ্র আঠালো পদার্থটির ভেতরে গাণিতিকভাবে মানুষের ভাগ্য লেখা আছে। মানুষের সারা জীবনের সকল কিছু বিস্তারিত লিপিবদ্ধ আছে সেখানে যা মানুষের জানা অসম্ভব।

