খাজা মঈনুদ্দিন চিশতী রহ. এর পবিত্র বাণীসমূহ
১. তোমার হাস্তীর নেকাব সম্মুখ থেকে তু্লে নাও, এরপর লক্ষ্য করো কার সৌন্দর্য্য প্রকাশ পায়।
২. এশকের শান দিয়ে দেহের মরিচা দূরীভুত করো, তারপর প্রাণের আয়নায় প্রাণবন্ধুর সৌন্দর্য্য দেখো।
৩. হাস্তীর পর্দা পুড়িয়ে ফেলো লা ইলাহার আগুনে, তবেই ইল্লাল্লাহর নূরকে পর্দাবিহীন অবস্থায় দেখতে পাবে।
৪. গাফেল হৃদয় কিভাবে বন্ধুর দয়া ও ভালোবাসার আলো জ্বালবে? চেতন হৃদয় ব্যতীত সে নূরের অবরোহন স্থল নেই।
৫. মাটির পর্দা উঠিয়ে প্রাণ বন্ধুর সৌন্দর্য্য দেখো, খোদার নূর অদৃশ্য জগতের অন্তরালে দেখা যায়।
৬. যে হৃদয়ের মরিচাকে ভালোবাসা দিয়ে দূর করেছে, অদৃশ্য জগতের নির্মলতায় সে খোদার নূর দেখেছে।
৭. তোমার চেহারার প্রতিবিম্ব আমার ক্রন্দনরত আঁখিতে ভাসে, যেভাবে সূর্য স্বচ্ছ পানিতে জ্বলজ্বল করে।
৮. আমার হৃদয় পেয়ালার শারাবে আমি আজ মত্ত। অনন্তকাল অব্দি তোমার এশকের স্বাদ হৃদয়ের আশা আকাঙ্খায় পূঞ্জীভূত।
৯. হৃদয়ের আয়নায় যখন তার চেহারা প্রতিবিম্বিত হয়েছে, মনে হচ্ছে দেহ, প্রাণ, শরীর সবই সে।
১০. প্রাণের মাঝে মঞ্জিল করেছে মুহাম্মদ, হৃদয়ের শত দরজা খুলেছে আমাদের প্রিয় মুহাম্মদ।
১১. আহমদের বাগিচায় আমরা ক্রন্দনরত বুলবুল, প্রিয় মুহাম্মদের ওম্মানে (সাগরে) আমরা লুলু ও মারজান।
১২. হে হৃদয়, খোদার সৌন্দর্য মাথার চোখ দেখতে পায়না, হৃদয়ের চোখে এক নজর তাকাও।
১৩. যদি বন্ধুর সাথে থাকো তবে দোযখ হবে বেহেশত। আর বন্ধুহীন জান্নাত তোমার জন্য জাহান্নাম।
১৪. ওয়াহদাতের সাকী চেহারা থেকে নেকাব সরিয়ে ফেলেছে, ফলে পেয়ালা ও শারাব একাকার হয়ে গেছে, একাকার হয়েছে সমুদ্র ও বারিবিন্দু।
১৫. জ্ঞানীর শত বছরের হিসাব হাশরে এক নিঃশ্বাসে শেষ হবে, প্রেমিকের এক নিঃশ্বাসের হিসাব শত হাশরেও শেষ হবে না।
১৬. এশক সমুদ্রের এক ফোটায় মনসুরের রহস্যের প্রকাশ, আশেকের ক্ষমতার পাত্র এর চেয়ে কম ধারণ করেনা।
১৭. হে তৃষ্ণার্ত, গুণাহের উপত্যকায় নৈরাশ্যবাদী হয়োনা, আল্লাহর রহমতের সাগরের ঢেউ এসে পৌঁছেছে।
১৮. জাহেদগণ যেখানে হাজার চিল্লায় পৌঁছায়, এশকের শারাবে মত্ত প্রেমিক সেখানে আহ শব্দেই পৌঁছে যায়।
১৯. বন্ধুকে তাঁর সৌন্দর্যের পোশাকে দেখার অধিকার তোমার আছে, তবে শর্ত হলো আয়নাকে মরিচামুক্ত করা।
২০. বন্ধুর সৌন্দর্য দেখতে চাইলে প্রতিটি অনু পরমাণুর দিকে তাকাও। প্রতিটি অনু এক একটি আয়না, যাতে তাঁর সাক্ষাৎ মিলে।
২১. হৃদয় যখন সকল কিছু পরিত্যাগ করে সম্পূর্ণ খালি হয়, তখনি হকতালার অনুগ্রহ সে হৃদয় অবতরণ করে।
২২. আমার প্রাণ মাটি ও পানির ফাঁদে হয়েছে বন্দী, যদি তুমি ডাকো দেহের বন্দিদশা থেকে মুক্ত হবো আবার।
২৩. হৃদয় প্রতিপালিত হয় এশকের দহন ও বন্ধুত্বের তপ্ত দাগে, যেমন খাঁটি সোনা প্রতিপালিত হয় আগুনের মধ্যে।
২৪. হাকিকতের ফুল বাগানে অপূর্ব যে ফুল, সে ফুল প্রতিপালিত হয় হাজার কাঁটার ভেতরে।
২৫. আমি প্রেমিক, মৃত্যুতে কি ধ্বংস হবে আমার? মিলনের সুসংবাদ যে পায়, তার কিসের ভয়?
২৬. মূর্তির সৌন্দর্যে আমি মূর্তি নির্মাতার সৌন্দর্য দেখেছি। তার নিরঙ্কুশ তাওহীদের পরিবর্তে আমি এখন মূর্তি পূজারী।
২৭. আশেক ও মাশুকের মধ্যে কোনো পর্দা নেই, আমরা প্রাণে প্রাণে মিলে গেছি, দ্বাররক্ষী দূরে রয়েছে।
২৮. এশক আমার হৃদয়ের আয়না থেকে অন্ধকারের মরিচা সরিয়ে দিয়েছে, এখন আমি নিগুঢ় রহস্যাবলী অবগত।
২৯. মাটির মরিচা যখন হৃদয়ের আয়না থেকে সরে যায়, প্রাণ তখন আওয়াজ তোলে, আমরা খোদার নূর।
৩০. প্রেমিক যখন এশকের পথে পা বাড়ায়, এ কদমেই দোজাহান অতিক্রম করে।
৩১. প্রেমিকের নিঃশ্বাসে ভস্ম হয় সপ্তাকাশের পর্দা, এশকের পানি দিয়ে হয় তরিকতের গোসল।
৩২. তোমার ওয়াহদাতের পেয়ালা থেকে আমাকে এ ঢোক দান করো, আমি ফানার ফাঁসিকাষ্ঠে মনসুর হবো।
৩৩. কখনো তুমি চেহরা ঢেকে রাখো, কখনো বিশ্বরূপে নিজেকে প্রকাশ করো। এ রহস্যের দ্রষ্টাও তুমি, দৃষ্ট বস্তুও তুমি, তুমিই দর্শন।
৩৪. ওয়াজেবুল ওজুদের দরগায় উৎসর্গ হও। আর প্রাণের জবানে অবিরাম তার প্রসংশা করো।
৩৫. প্রাণের কারণে দেহ জীবন্ত আর বন্ধুর কারণে প্রাণ জীবন্ত। দেহ চিনে প্রাণকে আর প্রাণ চিনে তার প্রাণের প্রাণকে।
৩৬. তোমার সত্ত্বা উভয় জগতের গালিচা, দোজাহানের রহস্য ও দুই সাগরের মুক্তা।
৩৭. এশকের চোখ দিয়ে আপন সৌন্দর্য যদি তুমি দেখতে, সব ভূলে অস্থির ও উন্মত্ত হয়ে যেতে।
৩৮. যেহেতু আমি তাঁর আয়না, আমার রূপ তারই রূপ থেকে, তাঁর সৌন্দর্য ছাড়া আর কোনো মেসাল দেখিনা।
৩৯. যে প্রেম শারাবের এক ফোটায় তূর পাহাড় শত টুকরা হয়, মিসকিন আশেক কি করে ঠিক থাকতে পারে?0
৪০. আমি জানতে চাইলাম, কে রাখে তোমার সাথে মিলনের যোগ্যতা? বলল, আমিত্বকে যে চ্ছিন্ন করে।
৪১. তার অপরূপ সৌন্দর্য দেখার জন্য ভিন্ন চোখের প্রয়োজন, শোনার জন্য প্রয়োজন ভিন্ন কানের।
৪২. প্রেমের রাস্তার উপত্যকা ও দূর্গম পথ অতিক্রম করো, অলস কিভাবে পৌঁছায় মঞ্জিল মাকসুদে?
৪৩. তোমার হাস্তীর অন্ধকারে রয়েছে আবহায়াত, নিজেকে মৎসের মত আব হায়াতে ছেড়ে দাও।
৪৪. বিচ্ছেদের বন্দীদশায় যখন উপস্থিত হয় মিলনের ভাষা, তখন শুধু ক্রন্দই শোভা পায়।
৪৫. আনাল হক বলার সময় কি মনসুর ছিল? হকতায়ালা ব্যতীত তার আশ্রয় ছিলনা, বন্ধু ছিল ফাঁসিকাষ্ঠ।
৪৬. হৃদয়ের আয়না থেকেই বন্ধুর রূপ প্রকাশ পায়। তোমার অস্তিত্বের জং সেরূপ প্রকাশের অন্তরায়।
৪৭. প্রাণ যখন কয়েদখানা থেকে বেড়িয়ে আসে, তখন তার যাত্রা হয় আরশেরও ওপরে।
৪৮. সবাই আদি দরিয়ায় ওয়াহদাতের মুক্তা খুঁজে বেড়ায়, অথচ খোদা তোমার দেহের ভেতরেই মণি মুক্তা লুকিয়ে রেখেছেন।
৪৯. আমি প্রাণ নই, হৃদয় নই, দেহ নই। তাহলে আমি কি? কখনো প্রাণে, কখনো হৃদয়ে, কখনো দেহে।
৫০. হে পবিত্র পাখি, এশকের বাগিচায় বুলবুলি হও, যদি বাগিচার মঞ্চে পুষ্পের প্রদর্শণী দেখতে চাও।
৫১. তুমি মাবুদি সৌন্দর্যের নূরের প্রকাশ, হায়, যদি আয়না থেকে মরিচা দূরীভূত করতে!
৫২. ফেরেশতারা আদমকে সেজদা করতো না, যদি তারা আদমের ভেতরে মাবুদি সৌন্দর্য না দেখতো।
৫৩. প্রাণ ও হৃদয়ের ওপর থেকে মাটি ও পানির পর্দা তুলে নাও, যাতে তোমার হাস্তী আলোকময় হয়ে যায়।
৫৪. মহিমাময় খোদার দয়া যখন অবারিত, আশ্চর্যের কি আছে যদি বান্দা হয় গুনাহগার?
৫৫. আদি দিবসে আদমের ঘাড়ে তুলে দিয়েছো এশকের বোঝা, আমাকে বন্দী করো তোমার কয়েদখানায়।
৫৬. যে হৃদয়ের আয়না থেকে মুছে যায় সন্দেহের ধুলিকণা, সেখানে সত্যের আদী নূর নিশ্চিতভাবে জ্বলে ওঠে।
খাজাবাবা রহ. এর বাণী – মূল ফার্সী সহ
১. বে চশমে খেরাদ হোসনে দূসত নানম ইয়াদ, বেবীনবে দীদেয়ে মাজনুন জামালে লেইলা
জ্ঞানের চোখ দিয়ে বন্ধুর রূপ দেখা যায় না, তুমি মজনূর চোখে লায়লার সৌন্দর্য্য প্রত্যক্ষ করো।
২. খাওয়াহীকে রখশ বানদার চেহরে মান বেনগর, মান আয়ীনে ইয়ামে নীসত জোদ আযমান।
যদি তাঁর মুখ দর্শন করতে চাও তাহলে আমার চেহারার দিকে তাকাও। আমি তাঁর দর্পন, সে আমার থেকে পৃথক নয়।
৩. সেফাত ও জাত চু আয হাম জুদ নেমী বানাম, বে হারচেমী নিগারাম জোয খোদনেমী বীনাম।
যেহেতু সিফাত ও জাত একে অন্য থেকে পৃথক নয়, কাজেই যা কিছুই দিকেই তাকাই খোদা ভিন্ন কিছুই দেখি না।
খাজাবাবা রহ. এর কাসিদা –
১. শাহ আস্ত হোসাইন, বাদশাহ আস্ত হোসাইন
দীন আস্ত হোসাইন, দীন পানাহ আস্ত হোসাইন
সারদাদ নাদাদ দাস্তদার দাস্তে ইয়াজিদ
হাক্কে বানায়ে লা ইলাহা আস্ত হোসাইন।
হোসাইন রাজা, হোসাইন বাদশাহ, হাসাইন দ্বীন , হোসাইন আশ্রয়। মাথা দিয়েছেন, এজিদের হাতে হাত দেননি। প্রকৃতপক্ষে লা ইলাহার বুনিয়াদ হোসাইন।
২. এইবজে নাবী বারসারে তাজে নাবী
এদদ শাহানশাহ যে তীগনে তোবাজে নাবী
এইতোকে মেরাজে তো বলতার শোদ
ইয়েকমাত আহমদী যে মেরাজে নাবী।
হে নবী দুলাল, তোমার মস্তকেই নবীর মুকুট শোভা পায়। হে সম্রাট, তোমার তরবারী নবীর তরবারীর ন্যায় বিচারের প্রতীক। হে হোসাইন, তোমার মেরাজ হয়েছে অনেক উর্দ্ধস্তরে। আহমদ নবীর মেরাজ থেকে এক স্তর ওপরে।
৩. করীকে হোসাইন এখতিয়ারী কারদী
দার গুলশানে মোস্তফা বাহরী কারদী
আয হী পাইয়াম বারনা ইবাদ ইনকার
ওয়াল্লাহ এ হোসাইন করী কারদী।
হে হোসাইন, যে কাজ তুমি আঞ্জাম দিয়েছো, তা দিয়ে মোস্তাফার ফুল বাগানে বসন্ত এনে দিয়েছো। কোনো পয়গম্বর যে কাজ করার সুযোগ পায়নি, খোদার কসম, হে হোসাইন, সে কাজ তুমি সম্পন্ন করেছো।
৪. ওসফে আলী বে গোফতেগু মোমনে নীসত
গোনজায়েশে বাহরে দার সাবু মোমকে নীসত
মান যতরবে ওজেবীকে দনাম
এলদনাম কে মেসলে উ মোমকেন নীসত।
বর্ণনা করে আলীর প্রশংসা করা সম্ভব নয়, সমুদ্রকে যেমন ঘটিতে ধারণ করা সম্ভব নয়। আমি তার সত্ত্বা সম্পর্কে কীইবা জানতে পারবো, কেবল এটুকু জানি, কেউ তার সমকক্ষ নয়।
জালালুদ্দিন রুমী রহ. এর বাণীসমূহ
১. জুমলা মাশুক আস্ত আশেক পর্দাহী, জিন্দা মাশুক আস্ত আশেক মূর্দাহী।
মাশুকই অস্তিত্ববান, আশেক পর্দামাত্র। মাশুকই জীবিত, আশেক মৃত।
২. মরদানে খোদ গর খোদ না বাশাদ, ও লেকেন আজ খোদ জুদা না বাশাদ।
মানুষকে কে খোদা কয়? মানুষ খোদা নয়, মানুষ থেকে খোদা পৃথক ও নয়।
৩. আল্লাহ আল্লাহ গোফতো আল্লাহ মিশওয়াদ, ইশখুনকার বাওর মরদম শাওয়াদ।
আল্লাহ আল্লাহ জপতে জপতে মানুষ আল্লাহময় হয়ে যায়, একথা কি সাধারণ লোক বিশ্বাস করবে?
৪. আগর গরদী তূদর তৌহিদে ফানী, বা হক্কে ইয়ারবাকী জিন্দেগানী।
ফানা হয়ে যদি তৌহিদ সাগরে ডুব দিতে পারো, তবে বন্ধুরূপে তুমি তার সত্ত্বায় স্থিতিলাভ করতে পারবে।
৫. আশেকী গার যিন সারগার যন সারাসাত, অকেবাত মরবেদন শাহ রাহবারাসাত।
আশেকের প্রেম জাগতিক বস্তুর জন্য হোক বা আল্লাহর জন্য, পরিণামে তা আশেককে আল্লাহ অব্দি পৌঁছে দিবে।
৬. মাযে বলীম ও বল মীরাভীম, মাযে দরইয়াম ও দারই মীরাভীম।
আমরা উর্দ্ধজগত থেকে আরো উর্দ্ধজগতে যাবো, এসেছি মহাসাগর থেকে, আবার মহাসাগরের দিকেই ফিরে যাবো।
৭. তারা বলে প্রেম কি? তুমি বলো বাসনার নির্মল সাধন। যে বাসনা বিমুক্ত হয়নি, তার কোনো বাসনাই নাই।
হযরত খাজা আমীর খসরু রহ. বলেন –
১. মান তো শুদম তো মান শোদী, মানতু শুদম তো জা শুদি
আকশ না গুয়েদ বাদ আজি মান দীগর তু দি গরী।
আমি তুমি হলাম, তুমি আমি হলে। আমি দেহ তুমি প্রাণ। এরপর যেন কেউ বলতে না পারে আমি একজন তুমি আরেকজন।
হযরত মনসুর হাল্লাজ বলেন –
১. আমি যাকে ভালোবাসি সে তো আমিই।
আমাদের দুটি আত্মার এক দেহ।
তুমি যদি আমাকে দেখো তবে তাকেই দেখবে।
আর যদি তাকে দেখো তবে আমাদের দুজনকেই দেখবে।
হযরত ফরিদউদ্দিন আত্তার বলেন –
১. আইন শীন ও ক্বফর আনদার কোতুবে তাফসীর নিসত।
আইন শীন ও কাফের রহস্য তাফসীর গ্রন্থাবলীতে নেই।
আল্লামা ইকবালের কবিতা –
১. বাগে বেহেস্তসে মুঝে হুকমে সফর দিয়া থা কিউ, কারে জাহা দারাজ হ্যায় আব মেরা এন্তেজার কার
রোজে মাহশার মে যব পেশ দফতরে আমল, তু ভি শরমসার না হো, মুঝকো ভি শরমসার না কার।
বেহেস্তের নন্দনকানন থেকে কেন আমাকে এ সফরের আদেশ দিলে? আমার দায়িস্ত সম্পন্ন হতে এখনো অনেক বাকী, সে অব্দি অপেক্ষা করো। নয়তো বিচার দিনে আমার আমল নামা দেখে তুমিও লজ্জা পেয়ো না, আমাকেও লজ্জায় ফেলো না।
২. গুনাহ না করলে আমিই খোদা হতাম। আমার গুনাহ হতে তোমার খোদায়ী প্রকাশ পায়। তোমার রহমত সর্বদা আমার গুনাহর মুখাপেক্ষী। আমি ব্যতিত তুমি কখনো খোদা হতে পারতে না।
৩. কার নেশায় মত্ত হয়ে তুমি পাগলের মত ঘুরছো? তুমি পথ, তুমিই পথিক, তুমিই পথনির্দেশকারী। তুমি বোকার মত ভাবছো তোমাকে কেউ শারাব পান করিয়ে দেবে, তুমিই শারাব, তুমিই পেয়ালা, তুমিই সাকী এবং তুমিই শারাবের মজলিশ।
মানুষের ৫ প্রকার চিত্তবৃত্তি –
১. সংবেদনাত্মক চিত্তবৃত্তি যা ইন্দ্রিয় বাহিত তথ্যাবলি গ্রহণ করে।
২. কল্পনাত্মক চিত্তবৃত্তি যা ইন্দ্রিয় গৃহীত তথ্য রেকর্ড করে এবং প্রয়োজনে বুদ্ধির কাছে পৌঁছে দেয়।
৩. বুদ্ধিবৃত্তিক চিত্তবৃত্তি যা ইন্দ্রিয় ও কল্পনা বর্হিভূত ধারণা যোগান দেয়।
৪. যুক্তিবৃত্তিক চিত্তবৃত্তি যা পরিশুদ্ধ হেতুবাদের উপাত্তসমূহ গ্রহণ করে।
৫. সজ্ঞালব্ধ নবুয়তি চিত্তবৃত্তি যার অধিকারী অলী আউলিয়া নবী রাসুল ও সাধু পুরুষগণ।
ইবনুল আরাবী উল্লিখিত নূরে মোহাম্মদীর নাম সমূহ (আয়ান আস সাবিতা)
১. মুহাম্মদের মূল সত্ত্বা – আল হাকিকাতুল মুহাম্মাদিয়া
২. মূল সত্ত্বা সমূহের মূল সত্ত্বা – হাকিকাতুল হাকিকাত
৩. মুহাম্মদের আত্মা – রুহে মুহাম্মদী
৪. প্রথম প্রজ্ঞা – আল আকল আল আউয়াল
৫. আরশ – সিংহাসন
৬. সর্বশ্রেষ্ঠ শক্তিসম্পন্ন আত্মা – আল রুহুল আজম
৭. সর্বশ্রেষ্ঠ কলম – আল কালামুল আলা
৮. প্রতিনিধি – আল খালিফা
৯. পূর্ণমানব – আল ইনসান আল কামিল
১০. বিশ্বের উৎস – আসলুল আলম
১১. মূল আদম – আদম আল হাকিকি
১২. মধ্যস্থতাকারী – আর বারযাখ
১৩. জীবন স্তর – ফালাকুল হায়া
১৪. সৃষ্টির মূলতত্ত্ব – আল হাককুল মাখলুকুবিহি
১৫. মূল আদিম জড় উপাদান – আল হায়ুলা
১৬. আত্মা – আর রুহ
১৭. কুতুব – আল কুতুব
১৮. সর্বব্যাপী একের দাস – আবদ আল জামি
ক্বাফ শক্তি বা ক্বাফের ৬ শক্তি –
ক্বাইয়ুমুন – চিরস্থায়ী
কুদ্দুসুন – মর্যাদা দানকারী
ক্বাবিউন – চিরঞ্জীব
ক্বাদিরুন – তকদীর বা কর্মবৃত্ত দানকারী
ক্বাহহারুন – অপ্রতিহত ক্ষমতাধর বা ধ্বংসকারী
ক্বাবিদুন –নিয়ন্ত্রক
সূরা নূর – ৩৫ থেকে ৪০, পর্যালোচনা
নূরের ওপর নূর – সুরা নূর ৩৫ আয়াত
অন্ধকারের ওপর অন্ধকার – সুরা নূর ৪০ আয়াত
৩৫ আয়াতে উল্লেখিত ৫ টি উপমা হলো – কুলঙ্গি, কাঁচ, প্রদীপ, বৃক্ষ ও তেল।
মানতিকুত তোয়ায়ের এর ৭ টি উপাত্যকা –
১. তলব (অনুসন্ধান)
২. ইশক (প্রেম)
৩. মারিফাত (জ্ঞান)
৪. ইস্তিগানা (অনাসক্তি)
৫. তাওহীদ (একত্ব)
৬. হাইরাত (বিস্ময়)
৭. ফানা (আত্মবিলয়)
কিমিয়ায়ে সাদতে উল্লিখিত পরিত্যাজ্য ১০ বিষয় –
১. মন্দ স্বভাব
২. অতিরিক্ত কামভাব ও ভোজন লিপ্সা
৩. অতিরিক্ত কথন স্পৃহা
৪. ক্রোধ ও ঈর্ষা
৫. সংসারাসক্তি
৬. অর্থ লিপ্সা
৭. রিয়া
৮. মোনাফেকি
৯. অহংকার
১০. গরুর (মন্দকে ভালো জানা) ও গাফলতি।
ফানার চার স্তর –
১. ফানা ফিন নাস বা ফানা ফিল অজুদ
২. ফানা ফিশ শায়েখ
৩. ফানা ফির রাসুল
৪. ফানা ফিল্লাহ
একটি হাদীস – নূর ও জুলমাত –
রাসুল পাক সা. বলেন, ইন্না লিল্লাহি লা সাবিনা আলফা হিজাবিন মিন নুরিন ওয়া জুলমাতিন।
অর্থ – আল্লাহর সত্তর হাজার নূর ও জুলমাতের পর্দা রয়েছে।

