সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী
আপন খবর এর এবারের আয়োজনে প্রিয় পাঠকবর্গের জন্য থাকছে মহান আউলিয়া হযরত বিশর হাফি (র) এর কয়েকটি মূল্যবান বাণীর সংকলন। হযরত বিশর হাফি বাগদাদের এক মহান ওলী ছিলেন। যিনি মদ্যপ অবস্থায় প্রভুর কালাম কে প্রভূত সম্মান প্রদর্শনের জন্য প্রভূ কর্তৃক মনোনীত হন। তিনি এতোটাই খোদাভীরু ছিলেন যে, পরবর্তীতে তিনি সারাজীবন নগ্নপদে জীবন কাটিয়েছেন। তিনি বলতেন, “যে জমীনকে আল্লাহ আমাদের জন্য বিছানা স্বরুপ নির্মাণ করেছেন, তার ওপর আমি জুতা পায়ে কিভাবে চলি?” তিনি আরো বলতেন, “যেদিন আমি প্রভুর দিদার লাভ করেছি, সেদিন আমি নগ্নপদে ছিলাম। তার স্মৃতি রক্ষার্থে আমি সর্বক্ষণ নগ্নপদে থাকি।”
হযরত বিশর হাফির নগ্নপদে চলার ফলে তাঁর প্রতি সম্মানে বাগদাদের কোনো পশু রাস্তায় মলত্যাগ পর্যন্ত করতো না। হযরত খাজা বিশর হাফি (র) ইন্তেকালের ব্যাপারে জানা যায়, একদিন এক লোক একটা গবাদি পশু নিয়ে বাগদাদের রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল। হঠাৎ পশুটি রাস্তায় মলত্যাগ করে। এ দৃশ্য দেখে পশুর মালিকটি হায় হায় করে কেঁদে ওঠে। লোকে তার কাঁদার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিশ্চয় হযরত বিশর হাফি ইহলোক ত্যাগ করেছেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো সত্যিই তাই!
- যে বেশি খায়, বেশি হাসে আর যে কম খায়, কম হাসে, এরা কি সমান? হালাল খাবারও খুব বেশি খাওয়া উচিত নয়।
- তোমরা তোমাদের অর্থ ও জ্ঞান খরচ করবে। নিয়ম হলো, পানিও অচিরেই নষ্ট হয়ে যায়।
- যে ব্যক্তি এ জগতে সম্মানিত হতে চায়, তার তিনটি বস্তু থেকে দূরে থাকা প্রয়োজন। ক.কোনো সৃষ্ট বস্তুর মুখাপেক্ষী হওয়া। খ.কারো দোষ খোঁজা গ.নিমন্ত্রন ছাড়া কারো অতিথি হওয়া।
- পার্থিব যশ-খ্যাতি যার কাম্য, সে পারলৌকিক স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়। লোকের কাছে সুবিদিত হওয়ার বাসনা পার্থিব আসক্তির মূল কারণ।
- যে পর্যন্ত তুমি আর তোমার রিপুর মধ্যে একটি পাঁচিল দাঁড় না করাবে, ততক্ষন ইবাদতের স্বাদ লাভ করা থেকে তুমি বঞ্চিত থাকবে।
- তিনটি কাজ খুব কঠিন। ক.অভাবে দান করা। খ.ভীত অবস্থায় সততা রক্ষা করা। গ.নির্জনে ধর্মনিষ্ঠা বজায় রাখা।
- সন্দেহজনক বস্তু থেকে পরহেজ হওয়া ও মনকে সদা নিয়ন্ত্রনে রাখাই পরহেজগারী।
- আল্লাহ তাঁর বান্দাকে ধৈর্য ও মারেফতের চেয়ে বড় কোনো বস্তু দান করেন নি। মারেফতপন্থীরাই আল্লাহর প্রকৃত বান্দা।
- যিনি তাঁর প্রভুর সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে অন্তরকে পরিচ্ছন্ন রাখেন, তিনিই সুফি সাধক।
- মারেফত পন্থী সেই লোক, যাকে আল্লাহ ছাড়া আর কেউ জানে না, চেনে না এবং সম্মান দেয় না।
- যে সরল অন্তকরণ ও সততার সঙ্গে আল্লাহর ধ্যানে রত হয়, সে নিগ্রহ ভোগ করে।
- আমি কখনো দুনিয়াদারদের সাথে বসা বা তাদের সংসর্গ পছন্দ করি না।
- যদি তোমার মনে কখনো অহংকার আসে, তাহলে তুমি মৌনতা অবলম্বন করো।
“যখন হযরত বিশর হাফি (র) এর বিদায় লগন আসন্ন হয়ে উঠলো তখন তিনি অত্যন্ত বিচলিত ও ভয়ার্ত হয়ে উঠলেন। লোকে তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘আপনি কেনো ভয় পাচ্ছেন? দুনিয়ার সঙ্গে আপনার সম্পর্ক চ্ছিন্ন হচ্ছে বলে?’ তিনি বললেন, না। বরং আমার অস্থিরতা এটা ভেবে যে, এবার আমাকে আল্লাহর দরবারে হাজির হতে হবে।”
অন্তিম শয্যায় বিশর হাফি (র)। এক লোক আসলেন। বললেন তার অভাবের কথা। হযরত বিশর হাফি (র) গায়ের জামাটি খুলে দান করলেন লোকটিকে। নিজে পরে নিলেন অন্য একটি জামা। কিছুক্ষণ পরই মওলার স্বানিধ্যে চির প্রস্থান করলেন মহান আউলিয়া হযরত বিশর হাফি (র)।
সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী