পর্ব ১১ এবং পর্ব ১২ একত্রে
ভাবানুবাদ – লাবিব মাহফুজ চিশতী
পর্ব ১১
সন্ধানকারী হও প্রেমের। সে প্রেম তোমাকে সর্বান্তকরনে বদলে দেবে। প্রেমের মাহাত্ম্য এমনই যে, সে প্রেমিকের মধ্যে প্রেমাস্পদের জন্য এমন আকুলতা তৈরি করে, প্রেমিক মুহুর্তে হয়ে ওঠে উন্মাদ। ভুলে যায় একমাত্র মাশুক ব্যতিত সকল কিছু। পতঙ্গ সম আকুল হয়ে ওঠে প্রেমানলে আত্মহুতি দিতে। অনুসরণকারী হও সে প্রেমের, যে প্রেমই পারে তোমাকে তোমার অভীষ্ট পানে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যেতে।
যারা প্রেম বাদে জগতে অন্য কিছু খুঁজে বেড়ায়, জেনে রেখো, তারা শেষ অব্দি কিছুই পাবে না। জগত নামক মায়া মরীচিকার পেছনে ছুটতে ছুটতে জীবন প্রদীপ স্তিমিত হয়ে আসবে, তবু প্রেমরুপ দর্শন হবে না। না হবে পরমতমস্তের সাথে মধুর মিলন।
হে অন্বেষী! সন্ধান করো একমাত্র প্রেমের। যখনি তুমি প্রেমের সন্ধান শুরু করবে, দেখতে পাবে তোমার ভিতরে এবং বাইরে দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তোমার সকল কিছু দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে ও উত্তমরুপে সজ্জিত হচ্ছে মাশুক আগমনের প্রতীক্ষায়। স্বাগত জানাও সে সুন্দরকে। প্রেমের প্রাপ্তিতেই যাকে আপনায় লাভ করবে তুমি।
প্রেমান্বষন-ই প্রেমময়ের সাথে মিলিত হওয়ার একমাত্র উপায়।
পর্ব ১২
আলোর পাশেই অন্ধকারের অবস্থান। ভালোর সাথেই থাকে মন্দ। সৃষ্টির চিরাচরিত এ নিয়মেই আধ্যাত্মিক গুরুকেন্দ্রিক সাধন জগতে উদ্ভুত হয়েছে ভন্ড ও স্বার্থলোভী পন্ডিত শ্রেণির। যারা গুরু বা মুর্শিদের লেবাস গায়ে জড়িয়ে ভক্ত বানিয়ে করে চলেছে রমরমা ব্যবসা ও স্বার্থ হাসিল। এসব ভূয়া গুরুদের চিনে নিতে হবে যাতে সাধন মার্গে কোনো প্রতারণার স্পর্শ না থাকে।
পারমার্থিক পথ পরিক্রমায় একমাত্র পথপ্রদর্শক ও সহায় হলো দয়াময় মুর্শিদ বা গুরু। যদি আত্মিক পথ পরিক্রমণে গুরু বা মুর্শিদ-ই হয় ভন্ড ও প্রতারক, সেক্ষেত্রে ভক্তের ধ্বংস বা অবনতি তো হবেই। তাই সাধনপথে আগে গুরু নির্ধারণ আবশ্যক এবং কামেল বা সত্য গুরু লাভ-ও একটি বড় সাধনা বৈ কি!
প্রকৃত হেদায়েতকারী তো সেই মহাত্মা যিনি স্বয়ং রব কর্তৃক নিযুক্ত এবং তিনি হবেন রবের পূর্ণ শক্তির যথাযথ প্রকাশ ও প্রভুর সকল গুণসমূহের সংরক্ষণকারী। যার থাকবে না কোনো স্বার্থ, ভক্তের প্রভুপ্রাপ্তি ব্যতিত। যিনি জাগিয়ে তুলবেন ভক্তের সুপ্ত পরমাত্মিক সত্যকে। মুর্শিদ তো খোদার স্বচ্ছ আর্শী যার ভেতর দিয়েই প্রভুর নূর বর্ষিত হয় ভক্তের উপরে।
ভক্তের জন্য সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হলো মুর্শিদ প্রাপ্তি। কারন মুর্শিদ প্রাপ্তিতেই সে প্রাপ্ত হবে হেদায়াত ও প্রভুকে।
খোদার বর্তমান রূপটিই মুর্শিদ বা গুরু।