আপন ফাউন্ডেশন

নজরুলের ধর্মচেতনা বিষয়ক বাণী সমাহার

Date:

Share post:

সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী

যুগশ্রেষ্ঠ অলী কাজী নজরুল ইসলাম। কাজী নজরুল ইসলাম এর ধর্মচেতনা মানেই তাঁর আধ্যাত্মচেতনা। যে চেতনাবোধ বিকশিত হয়েছিল তাঁর সমগ্র জীবনব্যাপী লব্ধ বিভিন্ন শ্রেণীর ধর্মজ্ঞানীর সংস্পর্শে। ছোটবেলা থেকেই কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন ধর্মীয় চেতনায় উদারনৈতিক ও সূফিভাবাপন্ন। যেটা পরবর্তী সময়ে ব্যাপকভাবে বিকশিত হয়েছে। আপন খবর এর এবারের আয়োজনে থাকছে কাজী নজরুল ইসলাম এর কিছু ধর্মসম্বন্ধীয় বাণীর সমাহার।

১. আল্লাহকে প্রেমময় রুপে চিন্তা করে তাঁর সান্নিধ্য ও প্রেম লাভ করুন।

২. ধর্ম সত্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

৩. সত্য চিরদিনই বিশ্বের সকলের কাছে সমান সত্য।

৪. আমাদিগকে সীমার মাঝে থাকিয়াই অসীমের সুর বাজাইতে হইবে। নিজের ধর্মকে মানিয়া লইয়া সকলকে প্রাণ হইতে দুবাহু বাড়াইয়া আলিঙ্গন করিবার শক্তি অর্জন করিতে হইবে।

৫. যিনি সত্যিকার স্বধর্মে নিষ্ঠ, তাহার এই উদার বিশ্বপ্রেম আপন হইতে আসে।

৬. আল্লাহ তোমার একমাত্র উপাস্য, কোরআন তোমার সেই ধর্মের, সেই উপাসনার মহাবাণী, -সত্য তোমার ভূষণ, সাম্য মৈত্রী স্বাধীনতা তোমার লক্ষ্য, -তুমি জাগো।

৭. ইসলাম ঘুমাইবার ধর্ম নয়। মুসলিম শীর নত করিবার জাতি নয়।

৮. তুমি সত্য, ইসলাম সত্য, তোমার আমার বা ইসলামের অপমান যে সতের অপমান। তাহা যে সহ্য করে, সে ভীরু- সে ক্ষুদ্র।

৯. ইসলাম এক মহান আল্লাহ ব্যাতিত অন্য কাহারো নিকট শির নোয়ায় না।

১০. যে স্বধর্মে পূর্ণপ্রতিষ্ঠিত হয়নি, তার কর্মক্ষেত্রে প্রবেশের কোনো অধিকার নেই।

১১. নবনীরদ পাহাড়ে পালিয়ে যায় বলেই নদী-স্রোত হয়ে ফিরে আসে। এই উপরের দিকে উড়ে যাওয়া- অর্থাৎ আমাদের পরম প্রভুর ধ্যান করা মানে সময় নষ্ট করা নয়, আমাদেরই না জানা পূর্ণতাকে স্বীকার করা; আমারই অফুরন্ত ঘুমন্ত শক্তিকে জাগাইয়া তোলা।

১২. মাঝে মাঝে পালিয়ে যেতে হয়, একেবারে পগার পার হয়ে গেলে চলবে না। সমুদ্রের জল আকাশে পালিয়ে যায় বলেই বৃষ্টি ধারা হয়ে ফিরে আসে।

১৩. ধর্ম ও কর্মের যোগসূত্রে যদি মানুষ বাধা না পড়ে, তা হলে মানুষকে এমনি চিরদিন কাঁদতে হবে।

১৪. আমরা চাই খালেদ মুসা তারেকের তরবারী, বেলালের প্রেম। এইসব গুণ যদি অর্জন করিতে পারি, তবে জগতে যাহারা আজ অপরাজেয়, তাহাদের সহিত আমাদের নামও সসম্মানে উচ্চারিত হইবে।

১৫. তোমাদেরই মাঝে থেকে বেড়িয়ে আসুক তোমাদের ইমাম। দাঁড়াও তাঁর পতাকা তলে তাহরীমা বেধে।

১৬. এই শতদলকে একটি বোঁটায়, একটি মৃণালের বন্ধনে বাঁধতে পারো তোমরাই। শতধা বিচ্ছিন্ন এই শতদলকে এক শামিল করো, এক জামাত করো- সকল ভেদ-বিভেদের প্রাচীর নিষ্ঠুর আঘাতে ভেঙে ফেলো।

১৭. যে ইসলামের অর্থ আত্মসমর্পন- আল্লাহ তালায় সেই পরম আত্মসমর্পন কার হয়েছে? আল্লাহে পূর্ণ আত্মসমর্পণ যার হয়েছে তিনি এই দুনিয়াকে এই মুহুর্তে ফেরদৌসে পরিণত করতে পারেন।

১৮. তাঁর রহম ও রহমত, কৃপা ও কল্যাণ পেতে হলে আমাদের দেহ মনকে মাঝে মাঝে উপবাসী রাখতে হয়।

১৯. ঈদের নামাজ আমাদেরকে শিখিয়েছে, সত্যিকার কুরবানী করতে পারলেই মিলবে নিত্যানন্দ।

২০. ঈদের উৎসব আনন্দের উৎসব, ত্যাগের উৎসব। আল্লাহর রাহে সবকিছু কোরবানী করার ইঙ্গিতই এই উৎসব বয়ে এনেছে।

২১. উপবাসে দেহ-মনের ভোগের তৃষ্ণা যখন চলে যায়, তখনি ঈদের অর্থাৎ নিত্য-আনন্দের চাঁদ, পরমোৎসবের চাঁদ ওঠে।

২২. আমরা গরু ছাগল কোরবানী দিয়ে খোদাকে ফাঁকি দেবার চেষ্টা করছি। তাতে করে আমরা নিজেদেরকেই ফাাঁকি দিচ্ছি। আমাদের মনের ভেতর যে সব পাপ, অন্যায়, স্বার্থপরতা ও কুসংস্কারের গরু-ছাগল – যা আমাদের সৎবৃত্তির ঘাস খেয়ে আমাদের মনকে মরুভূমি করে ফেলেছে, আসলে কোরবানী করতে হবে সেই সব গরু ছাগলের।

২৩. কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহর নামে সকল ঐশ্বর্য্য, সকল সম্পদ কোরবানী করতে হবে। একটা গরু কোরবানী করেই সবকে ফাঁকি দেওয়া যেতে পারে, কিন্তু আল্লাহকে ফাঁকি দেয়া সম্ভব নয়।

২৪. সকল ঐশ্বর্য্য, সকল বিভূতি আল্লাহর রাহে বিলিয়ে দিতে হবে। ধনীর দৌলত, জ্ঞানীর জ্ঞানভান্ডারে সকল মানুষের সমান অধিকার রয়েছে।

সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী

More Posts

সাবস্ক্রাইব করুন

Related articles