আপন ফাউন্ডেশন

আউলিয়ায়ে কেরামগণের দৃষ্টিতে সামা কাওয়ালী

Date:

Share post:

সামা মাহফিল মানে শুধু গান গাওয়া নয়, বরং রূহানী প্রেম, ধ্যান, যিকর ও তাওবার এমন এক মিলনমেলা যেখানে আত্মা প্রভুর দিকে উড়ে যেতে চায়। ইসলামি ইতিহাসে বহু মহান আউলিয়া, সুফি সাধক ও প্রেমিকগণ সামার মাধ্যমে আত্মার পরিশুদ্ধি, ওয়াজদ (ধ্যানাবিষ্টতা) এবং আল্লাহর কুরবত অর্জনের পথ দেখিয়েছেন।

এই লেখায় আমরা একত্রে সংগ্রহ করেছি ইতিহাসবিখ্যাত সুফিদের সামা ও রূহানী সংগীত বিষয়ক মূল্যবান বাণী ও অভিমত — যেগুলো আমাদের হৃদয়, চিন্তা ও আত্মাকে জাগিয়ে তুলতে পারে।

খাজা মইনুদ্দীন চিশ্তী (রহ.)

“যে সংগীত হৃদয়ে আল্লাহর প্রেম জাগায়, সে সংগীত নামাজের চেয়েও ফজিলতপূর্ণ।”

“সামা হচ্ছে এমন এক দীপ্তিময় আয়না, যেখানে হৃদয় পরিশুদ্ধ হয়ে প্রভুর প্রতিবিম্ব দেখে।”

হযরত নিজামুদ্দীন আউলিয়া (রহ.)

“সামা হৃদয়ের আয়না — যিনি হৃদয় দিয়ে শোনেন, তিনিই প্রভুর সৌন্দর্য উপলব্ধি করেন।”

“আমরা সামা মাহফিলে আল্লাহর প্রেমে ডুবে যাই; এতে না আছে নাফস, না আছে দুনিয়ার মোহ।”

তাঁর দরবারে নিয়মিত সামা অনুষ্ঠিত হতো। তাঁর মুরীদ হযরত আমীর খুসরো (রহ.) নিজেই অনেক সামা রচনার কবি ও গায়ক ছিলেন।

হযরত বাবা ফরিদ গঞ্জে শাকর (রহ.)

“যে সামা হৃদয়কে নরম করে, চোখে অশ্রু আনে, অন্তরে আল্লাহর ভয় সৃষ্টি করে — তা ইবাদত।”

“নাফস যখন গান শোনে, সে তা ভোগে; কিন্তু রূহ যখন শোনে, সে তাওবা করে।”

মওলানা রূমী (রহ.)

“সংগীত হচ্ছে সেই সিঁড়ি, যেটি আত্মাকে নীচ থেকে তুলে এনে উপরের দিকে নিয়ে যায়।”

“ধ্বনি ও তানপুরার সুরে রূহ আল্লাহর আহ্বান শুনতে পায় — ওরে প্রেমিক, ঘরে ফিরে আয়!”

“সামা সেই আগুন, যা অন্তরে আল্লাহর প্রেমের জ্বালা জ্বালিয়ে দেয়।”

সুলতানুল আশেকীন বায়াজিদ বিস্তামি (রহ.)

“আমি এমন সামা চাই যা আত্মাকে জাগিয়ে তোলে, যা আত্মার কান্না ‘আহ’ হয়ে ওঠে।”

“যখন সঠিক ভাবে সামা হয়, তখন তা কেবল গান থাকে না — তা হয়ে যায় প্রেমিকের আর্তনাদ।”

হযরত জুনায়েদ বাগদাদি (রহ.)

“সামা সেই শব্দ যা নাফসের দরজা বন্ধ করে রূহের জানালা খুলে দেয়।”

“যে সামা নাফসকে বাড়িয়ে তোলে, তা ফেতনা; আর যে রূহকে জাগিয়ে তোলে, তা হিদায়ত।”

হযরত আবু হামীদ আল-গাযযালী (রহ.)

“সামা যদি অন্তরে খোদাভীতি ও প্রেমের অনুভূতি সৃষ্টি করে, তবে তা নামাজের মতই ইবাদত।”
(ইহইয়াউ উলুমিদ্দীন, কিতাবুস সামা)

“যে সামা মানুষকে আল্লাহর স্মরণে ডোবায়, তা হারাম নয় বরং রূহানী চিকিৎসা।”

বাণীব্যাখ্যা
“সামা হৃদয়ের আয়না”পরিশুদ্ধ হৃদয় আল্লাহকে দেখতে পায়
“সামা নামাজের মত ইবাদত”নিয়ত সঠিক হলে এটি আত্মার আরাধনা
“সামা নাফসকে নয়, রূহকে খাওয়ায়”দুনিয়াবী মোহ নয়, আত্মিক তৃপ্তি দেয়
“ওয়াজদ ও তাওবা সামার ফল”আত্মশুদ্ধির এক অনন্য মাধ্যম
উপসংহার

আউলিয়াগণের জীবনে সামা কেবল সংস্কৃতি নয়, ছিল আত্মার জাগরণের এক মহাসমুদ্র। তাঁরা এটি ব্যবহার করতেন মানুষের হৃদয়ে আল্লাহর প্রেম ঢেলে দিতে, আত্মাকে রূহানী জাগরণে উদ্বুদ্ধ করতে। তাই বুঝতে পারি, যথাযথ নিয়ত, শুদ্ধ সংগীত, পবিত্র পরিবেশ ও রূহানী হৃদয় নিয়ে সামা মাহফিল আয়োজন করা ইসলামের গভীর আধ্যাত্মিক ঐতিহ্যেরই অংশ।

আপনার জন্য পরামর্শ

যদি আপনি সামা মাহফিল আয়োজন করেন বা অংশগ্রহণ করেন:
নিয়ত হোক শুধুই আল্লাহর প্রেম ও যিকরের জন্য।
গান হোক রূহানী ভাষায়, হারাম বা অশ্লীলতা মুক্ত।
পরিবেশ হোক পবিত্র, শ্রোতাও হোক প্রস্তুতপ্রাণ।

More Posts

সাবস্ক্রাইব করুন

Related articles