আপন ফাউন্ডেশন

খাজা আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক এর বাণী

Date:

Share post:

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক (রহ.) ছিলেন ইসলামের তাবেঈ যুগের এক বিরলপ্রজ আলোকিত সাধক, যিনি বাহ্যিক জ্ঞানের উচ্চতাকে অন্তরের জ্ঞানের গভীরতার সঙ্গে মিলিয়ে এক পরিপূর্ণ ইসলামী ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠেন। তিনি শুধু একজন ফকীহ বা মুহাদ্দিসই ছিলেন না, বরং ছিলেন একজন পরিশুদ্ধ হৃদয়ের আরেফ, যার আত্মা সবসময় আল্লাহর নৈকট্য ও সন্তুষ্টির জন্য আকুল ছিল। তাঁর জীবনচর্যায় আমরা দেখতে পাই সচ্চরিত্র, গভীর তাকওয়া, দুনিয়া থেকে বিমুখতা (যুহদ), নিঃস্বার্থতা ও আত্ম-সংযমের অনুপম দৃষ্টান্ত। তিনি বলেন, “আত্মশুদ্ধি ছাড়া জ্ঞানের আলো কখনো অন্তরে প্রবেশ করে না।” সুফি সাধনার ভাষায়, তিনি ছিলেন একজন “সালিক” – যিনি জ্ঞানের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে, আমলের মাধ্যমে পথ পাড়ি দেন এবং আত্মিক উপলব্ধির মাধ্যমে পরিপূর্ণতা লাভ করেন। তাঁর জীবন এমন এক মঞ্জিলের নির্দেশনা দেয়, যেখানে বাহ্যিক ইলম ও অন্তরের ইশ্ক এক বিন্দুতে এসে মিলিত হয় – আর সেই বিন্দুটি হলো, আল্লাহর প্রতি নিখাদ ভালোবাসা ও আত্মসমর্পণ।

1. আল্লাহর প্রকৃত বন্ধু এক মুহুর্তও তাঁর স্বরণ থেকে বিরত হয় না।

2. বেশি বিদ্যার্জন অপেক্ষা কম আদব শিক্ষা অনেক ভালো।

3. ধ্যানের মাধ্যমে অন্তরের ব্যাধি নিরাময় হয়।

4. আল্লাহর প্রতি লক্ষ্য রাখো। সর্বদা এভাবে চলো যেন তুমি আল্লাহকে সম্মুখে দেখছো।

5. কাপড়ের ওপর কালি হলো আলেমদের জন্য সুগন্ধির ন্যায়।

6. আমাদের অন্তর যদি শুদ্ধ হতো তাহলে আল্লাহর জিকিরে আমরা কখনোই ক্লান্তিবোধ করতাম না।

7. যখন কোনো ব্যক্তি আলেম বলে মনে করে তখনি সে জাহেল হয়ে যায়।

8. আমি তিরিশ বছর ব্যয় করেছি আদব শিখতে এবং বিশ বছর ব্যয় করেছি জ্ঞানার্জনে।

9. যে জ্ঞান বিতরণে কৃপনতা করে সে তিনভাবে পরিক্ষার সম্মুখিন হয়। প্রথমত মৃত্যুতে তার ইলেম বিলীন হয়ে যায়, দ্বিতীয়ত সে ইলম ভূলে যায় আর তৃতীয়ত সে রাজা বাদশাহদের মাধ্যমে পরীক্ষার সম্মুখীন হয়।

10. মানুষের জন্য সর্বাপেক্ষা উত্তম হলো অধিক জ্ঞান ও বুদ্ধি থাকা।

More Posts

সাবস্ক্রাইব করুন

Related articles