লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী
1.
যুগল চরণ পাইবার আশে
যে বাধা রয় গুরুর দেশে,
দয়াময় তার উদ্দেশ্যে, নাযিল করে প্রেমরতন
গুরু পানে চলো পাগল মন।
2.
এ তিয়াস কভূ মিটেনা সখি
ও রূপ হেরী আঁখিপাতে,
এ জ্বালার কভূ নাহি উপশম
হারালে প্রিয় এক মুহুর্তে।
না পারি বলিতে, এ দহন জুড়াতে
অবিরাম বহমান নয়ন বারি-
কেমনে পশিব, হৃদয়ে বাধিব
স্বরূপে রাখিব, আপন ছাড়ি।
3.
আসো মোর স্মৃতি হয়ে
স্মরণ কুঠুরী বেয়ে
নাই দিলে পরশ বুকে, তিয়াসা বাড়াইও
প্রিয় হয়ে, ব্যাথা হয়ে, নয়নে রহিও।
স্মরণ পাড়ের সুদূর বনেই, থাকো তুমি প্রিয়
প্রেম নিয়ে না এলে বুকে, ব্যাথা দিয়েই যেও।
4.
এ সখি হামারী মহাপ্রেম হেম
জীবন যৌবন সঁপিনু তারে,
সেহি রূপ শতদল, ফুটিলু নয়ানে
চন্দন সুবাসিত, নন্দন মুকুরে।
এহি মোর মরম, পরমও আকুল
তুয়া পদ প্রণতীতে রাখিও সদায়
চরণের দাসী হৈয়া, রহিব নিতি
সতত রাধামন, শ্রীরণও ছায়।
5.
যারে খুঁজে খুঁজে হারা হলাম
ধরার সকল ধন,
সে অমৃত মোর নিকুঞ্জে করে
সদায় বিরাজন।
সেতো পরানেরও পতি আমার
অকূলেরও কূল,
সে পরমও মরমও নিধি
দয়াল, দয়াল।
6.
ফুটিল প্রাণের শতদল যার
হৃদয় পদ্মে সদা বিমোহিত ভারি,
হেরী অপরূপ আপন ও স্বরূপ
নিরালায়, নিরবধী, সম শুকসারি।
সে মহাপ্রাণ, খুলে ত্রিনয়ন
সদা মশগুল সেই রূপ দরিয়ায়
তার অনন্ত উদাস হিয়া, ধরার সকল ত্যাজি
শুধু আপনাতে রহে যে, মগনও সদায়।
7.
মোরে প্রভাতের মতো নির্মল করো
নদীর মতো উচ্ছল করো
আকাশের মতো উদার করো
ভয়হীন করো প্রাণ –
তোমার তরে বানাও প্রেমিক
হে মোর ভগবান।
8.
যে কথা হৃদয় অনুরাগে হায়
বয়ে যায় অজানায় সুদূর দূরে,
সে স্মৃতির মিনারে, স্বরণ দুয়ারে
সদা চিন্ময়, না বলায়, অব্যক্ত, অতৃপ্ত পাথারে।
9.
আসো মহামিলনের মহাতীর্থে
যেথা প্রেম বিরাজ করে প্রতিটি অনু পরমাণু তে।
প্রেম ভেসে বেড়ায় ইথারে।
যেথা স্বয়ং প্রেমময় নিজেই প্রেমদাতা
প্রতিটি মানবের –
অন্তরের গহীন বিজন কুঠরীতে।
10.
শ্যামের প্রেমে মজিয়ে মন
শ্রী রূপ মঞ্জরে যার সদা আবাহন
সেই তো রাধার মনের বনের
আপন অভিলাষী,
আঠার দন্ড নিশার ঘোরে
প্রাণ ভাসে যার ভাব জোয়ারে
সেই ললিতার বাহু-ডোরে
শ্রী চরণের মোহন দাসী।
লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী