লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী
1.
অনন্ত সম্ভাবনাময় মানবাত্মার নিত্যময়তায় অবিশ্বাসী শ্রেণী সর্বদাই উন্মুখ চিরন্তন মানব ধর্ম মানবতা বা ইনছানিয়াতকে ধরাধাম হতে বিসর্জন দিতে। যাতে অবাধে প্রতিষ্ঠিত করা যায় পশুবাদ বা হায়ানাতের ‘মৎসন্যায়’। রিপুময় জীবনে খান্নাছ প্রভাবিত স্বভাবে বলবৎ থাকা মানেই হায়ানাতকে আপনত্বে ধারণ করা। যাতে উন্মুক্ত হয় অনন্ত অগ্নি-দরিয়ার পথ বা নরকধাম।
মুক্তির একমাত্র পথ হলো সৃষ্ট স্বভাবকে বিদূরিত করে স্রষ্টার অনন্ত প্রেমোময় স্বভাব বা ফিৎরাতে অধিষ্ঠিত হওয়া তথা মানব সত্ত্বায় ইনছানিয়াতকে জাগ্রত করা। তবেই খুলে যাবে বসন্তের “শান্তির” দুয়ার। আসবে ফাগুনের মৃদুমধুর মলয় প্রবাহ। প্রশান্তিময় হবে প্রাণ। লাভ হবে চিরমুক্তি ।
2.
আমরাতো চেয়েছিলাম সবাইকে প্রেম দিতে!
এ উদ্দেশ্যেই তো এসেছিলেন মুহাম্মদ, কৃষ্ণ, রাম, বুদ্ধ, যীশু, কবীর, নানক সহ সকলেই। সকলেই তো নিজেদের উজার করে দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছিলেন ‘বিশ্বপ্রেম’। মানুষ মোহনায় বিরাজিত পরমাত্মাকে উপলব্ধি করা গেলে প্রতিষ্ঠিত হত ‘বিশ্বপ্রেম’।
কিন্তু, সর্বদাই অজ্ঞানতার পাথরচাপায় এ প্রেমমহিমা আজ মৃতপ্রায়। জগৎব্যাপি অজ্ঞানতার ফলে নিয়ত রচনা করা হচ্ছে বিভেদ বৈষম্যের সূদীর্ঘ ইতিহাস। অজ্ঞানতার অন্ধকার এতটাই প্রবল যে, আল্লাহু আকবার বলে আল্লাহকে করা হচ্ছে পদদলিত। জয় শ্রী রাম বলে রামের বুকে চালানো হচ্ছে ছুরি।
খন্ডিত চেতনাই রুদ্ধ করেছে অনন্ত চেতনার পথ। আর কত আমাদের অজ্ঞানতা?
রচনাকাল – 15/02/2020
লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী