সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী
বাংলা সাহিত্যের শ্রেষ্ঠতম কবি ও বাঙালী মননে সর্বাধিক প্রভাব বিস্তারকারী কবি কাজী নজরুল ইসলাম। যিনি একাধারে বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বাঙালী কবি, সাহিত্যিক, সঙ্গীত রচয়িতা, সুরকার, প্রাবন্ধিক, উপন্যাসিক, সাংবাদিক, সমাজ ও রাষ্ট্রসচেতন ‘বিদ্রোহী’, ধর্মতত্ত্ববিদ, ও বাংলার জাতীয় কবি ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম ।
সংক্ষিপ্ত তথ্য –
জন্ম – 24 মে 1899 জন্মস্থান – চুরুলিয়া, বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত। (বর্তমান বর্ধমান, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত)। মৃত্যু – 29 আগষ্ট 1976 (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে সমাহিত) ডাক নাম – দুখু মিয়া জাতীয়তা- ব্রিটিশ ভারতীয়, ভারতীয় ও বাংলাদেশী। পেশা – কবি, সাংবাদিক, গীতিকার, সুরকার, নাট্যকার, সম্পাদক। পিতা – কাজী ফকির আহমদ মাতা – জাহেদা খাতুন সন্তান সন্ততি – কৃষ্ণ মুহাম্মদ, অরিন্দম খালেদ, কাজী সব্যসাচী, কাজী অনিরুদ্ধ। উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি – বিদ্রোহী, অগ্নিবীনা, বাঁধনহারা, ধূমকেতু, বিঁষের বাঁশি, গজল, অন্যান্য।
কাজী নজরুল ইসলাম এর অন্যতম কিছু বাণী সংকলিত হলোঃ
1- মিথ্যা শুনিনি ভাই
এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোনও, মন্দির কাবা নাই।
2- হিন্দু না ওরা মুসলিম? এই জিজ্ঞাসে কোন জন?
কান্ডারি বল ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার।
3- অন্ধের মতো কিছু না বুঝিয়া, না শুনিয়া, ভেড়ার মতো পেছন ধরিয়া চলিও না। নিজের বুদ্ধি, নিজের কার্যশক্তিকে জাগাইয়া তোলো।
4- অসুন্দর পৃথিবীকে সুন্দর করতে, সর্ব নির্যাতন থেকে মুক্ত করতেই মানুষের জন্ম।
5- সত্য যদি লক্ষ্য হয়, সুন্দর ও মঙ্গলের সৃষ্টি সাধনা ব্রত হয়, তবে তাহার লেখা সম্মান লাভ করিবেই।
6- পশুর মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়ে লাভ কি? যদি আমাদের গৌরব করিবার কিছু না-ই থাকে?
7- হেথা সবে সম পাপী, আপন পাপের বাটখারা দিয়ে অন্যের পাপ মাপি।
8- বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে, আমরা তখনো বসে
বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজেছি, ফিকাহ ও হাদীস চষে!
9- যদি কোনো ভুল করে থাকো, এ জীবনেই তার সংশোধন করে যেতে হবে। তবেই পাবে আনন্দ আর মুক্তি।
10- বাহিরের স্বাধীনতা গিয়াছে বলিয়া অন্তরের স্বাধীনতাকেও যেনো আমরা বিসর্জন না দিই।
11- অসতী মায়ের পুত্র যদি জারজ পুত্র হয়
অসৎ পিতার সন্তানও তবে জারজ সুনিশ্চয়!
12- মানুষ এনেছে গ্রন্থ, গ্রন্থ আনেনি মানুষ কোনো।
13- আমি এই দেশে, এই সমাজে জন্মেছি বলে শুধু এই দেশের, এই সমাজেরই নই,, আমি সকল দেশের, সকল মানুষের।
14- সত্যকে অস্বীকার করিয়া ভন্ডামি দিয়া কখনো মঙ্গল উৎসবের কল্যাণ প্রদীপ জ্বলিবে না।
15- নুড়ি হাজার বছর ঝর্ণায় ডুবে থেকেও রস পায় না।
16- শোন মর্ত্যের জীব, অন্যেরে যত করিবে পীড়ন, নিজে হবে তত ক্লীব!
17- পুঁথির বিধান পুড়ে যাক তোর, বিধির বিধান সত্য হোক।
18- কান্ডারী এ তরীর পাকা মাঝি মাল্লা
দাঁড়ি মুখে সারিগান, লা শরীক আল্লাহ।
19- ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেলো যারা
জীবনের জয়গান,
আসি অলক্ষ্যে দাড়ায়েছে তারা
দিবে কোন বলিদান!
20- বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ আজি
কেহ রহিবে না বন্দী কাহারও, উঠিছে ডঙ্কা বাজি।
21- মনের পশুরে করো জবাই, পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।
22- জীবনে যাদের হররোজ রোজা, ক্ষুধায় আসে না নিদ
মুমূর্ষ সেই কৃষকের ঘরে, এসেছে কি আজ ঈদ?
23- যে জাত ধর্ম ঠুনকো এতো, আজ নয় কাল ভাঙবে সেতো
যাক না সে জাত জাহান্নামে, রইবে মানুষ নেই পরওয়া।
24- যুগের ধর্ম এই
পীড়ন করিলে সে পীড়ন এসে, পীড়া দেবে তোমাকেই।
25- সত্য যদি হয় ধ্রুব তোর
কর্মে যদি না রয় ছল, ধর্ম দুগ্ধে না রয় জল
সতের জয় হবেই হবে, আজ নয় কাল মিলবেই ফল।
26- শাস্ত্র না ঘেঁটে ডুব দাও সখা, সত্য সিন্ধু জলে।
27- শিহরি ওঠো না শাস্ত্রবিদেরে, করো নাকো বীর ভয়
তাহারা খোদ খোদার ‘প্রাইভেট সেক্রেটারি’ তো নয়!
28- আমরা রচি ভালোবাসার, আশার ভবিষ্যৎ
মোদের স্বর্গ পথের আভাস দেখায়, আকাশ ছায়াপথ।
29- হে দারিদ্র, তুমি মোরে করেছো মহান
তুমি মোরে দানিয়াছ খ্রিষ্টের সম্মান।
30- ফোঁটে যে ফুল আধার রাতে, ঝড়ে ধুলায় ভোর বেলাতে
আমায় তারা ডাকে সাথে, আয়রে আয়।
সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী