সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী
বাঙালী চিত্তকে প্রবলভাবে নাড়া দেয়া এক শক্তিশালী কলম হলো কাজী নজরুল ইসলাম। যিনি তাঁর জীবন সাধনার বিনিময়ে বাঙালী জাতিকে করেছেন জাগ্রত। শিখিয়েছেন কিভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে হয়। কাজী নজরুল ইসলাম এক বিদ্রোহী চেতনার নাম, বিপ্লবী নেতার নাম, এক প্রেমিকের নাম, এক সাম্যবাদী মহাপুরুষের নাম। আপন খবরের এবারের আয়োজনে থাকছে কাজী নজরুল ইসলাম এর ৫০ টি জীবনঘনিষ্ট বাণী বা উক্তির সমাহার।
১. মানুষকে মানুষ ছুঁলে স্নান করতে হয়, মানুষের এতো বড় অবমাননাকর শাস্ত্র সৃষ্টি হয়েছিল বলেই আমাদের এই দুর্দ্দশা।
২. ঐশ্বর্য্যই সকল অকল্যাণের হেতু।
৩. আগুনের তৃষ্ণা কত প্রবল!
৪. কপালে সুখ লেখা না থাকলে সে কপাল পাথরে ঠুকেও লাভ নেই। ওতে কপাল যথেষ্টই ফোলে, কিন্তু ভাগ্য একটুও ফোলে না।
৫. শুধু হাতে লজ্জা সারা হৃদয় দিয়েও ঢাকা যায় না।
৬. সন্ধ্যার নামাজ- যেনো মৃত দিবসের জানাযা সামনে রেখে তার আত্মার শেষ কল্যাণ-কামনা।
৭. এক একজন মানুষের চোখে মুখে এক একটা জিনিস থাকে, যার জন্য তাকে দেখামাত্রই মনটা খুশি হয়ে ওঠে, ‘তুমি’ বলে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করে। শ্রী, লাবণ্য, সুষমা- এর কোনো একটা নাম দিয়ে ওর মানে করা যায় না।
৮. রাত্রির আকাশের মতোই অসীম দুর্জ্ঞেয় রহস্যভরা এই পৃথিবীর মানুষ।
৯. ক্ষুধার জ্বালা যে কি জ্বালা, তা যদি একটি দিনের জন্যও বুঝতিস, তাহলে পৃথিবীর কোনো পাপীকেই ঘৃণা করতে পারতিস না।
১০. এই পৃথিবীটা যেনো সুন্দরের মেলা।
১১. জোর করা হাসি, বুকের সলতে জ্বালিয়ে প্রদীপের আলো দেওয়ার মতো।
১২. বিরহের ব্যাথায় জানটা যখন পিয়া পিয়া বলে ফরিয়াদ করে মরে, তখনকার আনন্দটা এতো তীব্র যে, তা একমাত্র বিরহীর বুকই বোঝে, তা প্রকাশ করতে আর কেউ কখনো পারবে না। দুনিয়ার যত রকম আনন্দ আছে, তার মধ্যে এই বিচ্ছেদের ব্যাথাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বেশি আনন্দময়।
১৩. পাওয়ার ব্যাথাটাই হচ্ছে সবচেয়ে অরন্তুদ!
১৪. কখনো মনে করি পাওয়াটাই বড়ো, পাওয়াতেই স্বার্থকতা। আবার পরক্ষণেই মনে হয়, না – না পাওয়াটাই পাওয়া। ওই না পাওয়াতেই সকল পাওয়া সুপ্ত রয়েছে।
১৫. মানুষ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব। তাদের মারবার জন্য এসব কি কুৎসিত নিষ্ঠুর উপায়! এতো বুদ্ধি মানুষ অন্য কাজে লাগালে তারা ফেরেশতার কাছাকাছি একটা খুব বড় জাত হয়ে দাড়াতো।
১৬. সত্য-সৌন্দর্য বাইরে নয়, ভেতরে। দেহে নয়, অন্তরে।
১৭. মানুষ যে কত বড় ঘা খেয়ে অবিশ্বাসী নাস্তিক হয়, তা যে নাস্তিক হয়, সেই বোঝে।
১৮. একটা ভালো কাজ করে যে আনন্দ আর আত্মপ্রসাদ মনে মনে লাভ করা যায়, তা অনেকখানি নষ্ট করে দেয় বাইরের প্রশংসায়।
১৯. বাইরের যুদ্ধের চেয়ে ভিতরের যুদ্ধ কত দুরন্ত, দূর্বার! রণজিৎ অনেকেই হতে পারে কিন্তু মনজিৎ ক’জন হয়।
২০. এদেশের জোৎস্না এক উপভোগ করার জিনিস। পৃথিবীর আর কোথাও বুঝি জোৎস্না এতো তীব্র আর প্রখর নয়।
২১. মুক্তির আনন্দটা বড় নিবিড় বেদনায় ভরা।
২২. পবিত্র জিনিসেরে পূজা পবিত্র জিনিস দিয়েই হয়। কলূষ যা, তা দিয়ে পূতঃকে পেতে গেলে পূজারীর পাপের মাত্রা চরমে গিয়ে পৌঁছে।
২৩. শিকল সোনার হলেও তা শিকল।
২৪. যুগ যুগ জীবন তো এই মৃত্যুর ই বন্দনা গাইছে। সহস্র প্রাণের উদ্বোধনই তো তোমার মরণের স্বার্থকতা।
২৫. নিজে মরিয়া জাগানোতেই তোমার মৃত্যু যে চিরজাগ্রত অমর।
২৬. মৌনী পাহাড় কথা কয় না। কিন্তু সে যেদিন কথা কয়, সেদিন সে হয়ে উঠে অগ্নিগিরি।
২৭. চোখে এক কণা বালি পড়লেই যদি চোখ এতো জ্বালা করে, চোখে যার চোখ পড়ে তার যন্ত্রনা বুঝি অনুভূতির বাইরে।
২৮. নদীর স্রোতই যেনো সত্য। অসহায় দুই কূল এ ওর পানে তাকিয়ে আছে। অভিলাষ নাই- আছে শুধু অসহায় অশ্রু চোখে চেয়ে থাকা।
২৯. হৃদয়েরই রহস্যই মানুষকে করেছে চির রহস্যময়। পৃথীবিকে করেছে বিচিত্র সুন্দর।
৩০. চাঁদে কলঙ্ক আছে বলেই তো চাঁদ এতো আকর্ষণ করে। রামধনু মিথ্যা বলেই ত অতো সুন্দর। যৌবন ভুল করে পাপ করে বলেই ও ওর ওপর এতো লোভ, ও এতো সুন্দর।
৩১. যুদ্ধ জয় আর হৃদয় জয় – সমান সহজ নয়।
৩২. কুহেলিকারও একটা আকর্ষণ আছে।
৩৩. বিরাট সুন্দরকে দেখতে হলে দূর থেকেই দেখতে হয়। নইলে ওর পরিপূর্ণ রুপ চোখে পড়ে না।
৩৪. হৃদয়ের রণভূমিতে যে জয়ী হয়, শত যুদ্ধজয়ের সেনাপতির চেয়েও সে বড়।
৩৫. সুন্দরের হাতের পরাজয় কি পরাজয়?
৩৬. সুন্দর হাতের ছোঁয়ায় লোহার শিকল সোনা হয়ে উঠবে।
৩৭. স্বপ্নলোক এতো ক্ষণিক বলেই এতো সুন্দর।
৩৮. সাগর কত জোরে টানলে, নদী পাহাড় জঙ্গল ভেঙ্গে তার বুকে ছুটে আসে তা নদী ছাড়া কেউ বুঝবে না।
৩৯. প্রেমের ফুল এ ধুলিতলে হয়ে যায় ম্লান, দগ্ধ, হতশ্রী।
৪০. যেখানে দুঃখের বরষা, বজ্রপাতও হয় সেইখানে।
৪১. আত্মা অবিনশ্বর, আত্মাকে কেউ হত্যা করতে পারে না।
৪২. মানুষ ইচ্ছা করলে সাধনা দিয়ে, তপস্যা দিয়ে ভুলকে ফুলরূপে ফুটিয়ে তুলতে পারে।
৪৩. নিজেকে উন্নত করার চেষ্টা করো, স্বয়ং বিধাতা তোমার সহায় হবেন।
৪৪. যাকে স্নেহ করি, তার অন্যায় টাই বুকে সবচেয়ে বেশি বাজে।
৪৫. মানুষ কাছে থাকলে তাকে ঠিক বুঝে উঠবার অবসর হয়ে উঠে না।
৪৬. কেন এই কলহ, কেন এই কুৎসিত সংগ্রাম, কেন এই অশান্তি? কবে মানুষ, মানুষ হবে?
৪৭. যে স্নেহে, যে ভালোবাসায় অভিমান জাগাতে পারে, রাগ জন্মাতে পারে, সে স্নেহ-ভালোবাসা কত বড়-উচ্চ, একবার ভাবো দেখি।
৪৮. ফুল শুকিয়ে গেছে, কিন্তু কাটা তো আছে। ফুল থাকলে বুকে মালা হয়ে থাকতো। এখন কাঁটা- কেবল পায়ের তলায় বিধবে।
৪৯. তৃষাতুর চাতক যখন “ফটিক জল ফটিক জল” করে কেঁদে কেঁদে মেঘের কাছে এসে পৌঁছে, আর নিদারুন মেঘ তার বুকে বজ্র হেনে দিয়ে বিদ্যুৎ হাসি হাসে, তখন কেন মনে করি, এ মেঘের বড়ই নিষ্ঠুরতা।
৫০. যে প্রাণের দরদ বোঝে না, সে বেদরদীর কাছে চোখের জল ফেলা আর ব্যথায় এমন অভিভূত হয়ে পড়ার মতো দুর্নিবার লজ্জা আর অপমানের কথা আর কি থাকতে পারে?
কবি কাজী নজরুল ইসলাম এর বাণীসমুহ নিয়মিত পড়তে আমাদের সাথেই থাকুন।
সংকলন – লাবিব মাহফুজ চিশতী