আপন ফাউন্ডেশন

অলী আউলিয়াগণের উছিলা নিয়ে প্রার্থনা করা

Date:

Share post:

লেখক – মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন চিশতী

দলিল-১ : হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিত । রাসুলে পাক (সঃ) এরশাদ করেন । তোমরা আমার রহমদীল উম্মতের (অলি আল্লাহগণের) নিকট তোমাদের মকসুদ পুরণের জন্যে সাহায্য চাও । তাহলে তোমরা রিযিক প্রাপ্ত হবে এবং মকসুদপূর্ণ হবে । (তাবরাণী আউসাত ও মিশকাতুল মাসাবীহ)

দলিল-২ : আল্লাহপাক তাঁর রহমত কে একশত ভাগ করে তার এক ভাগ সমস্ত সৃষ্টিকে দিয়েছেন । আর নিরানব্বই ভাগ তিনি দান করবেন হাশরের দিন” ইলমে তাসাউফ পন্থীদেরকে । সুতরাং যে ব্যক্তির কোনো মনোবাসনা থাকে সে যেনো আল্লাহর অলির মাজারে যায় এবং তাদেরকে উছিলা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে । কেননা তাঁরা হচ্ছেন আল্লাহ এবং বান্দার মধ্যে মাধ্যম স্বরূপ। (তাফসীরে মাজহারী)

দলিল-৩ : ‘ইয়া আইয়ুহাললাজিনা আমানুত্তাকুল্লাহা ওয়াবতাগু ইলাইহিল উছিলাতা’ অর্থাৎ হে বিশ্বাসীগণ তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবংতাঁর নৈকট্য লাভ করার জন্য উছিলা তালাশ কর । (সুরা মায়েদা-৩৫ আঃ) উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় প্রখ্যাত মোহাদ্দেস শাহ্ ওয়ালি উল্লাহ (রাঃ) বলেন । ‘আমানু’ শব্দ দ্বারা ঈমান “ইত্তাক্কু” শব্দ দ্বারা আমল এবং ‘উছিলা’ শব্দ দ্বারা পীর মাশায়েখের মাধ্যমে বা তাদের উছিলা নিয়ে জাগতিক ও পারলৌকিক কল্যাণ অনুসন্ধান করা বুঝানো হয়েছে (আল কাওলুল জামিল ১৮ পৃ.)

দলিল-৪ : মজমউল ফতোয়ায় বর্ণিত আছে- যখনই তোমরা কোনো পেরেশানী মুলক বিষয়ে পতিত হও । তখন মাজারস্থ অলি আল্লাহগণের উছিলা দিয়ে আল্লাহর দরবারে সাহায্য প্রার্থনা করো- যেনো তাদের বরকতে তোমাদের দোয়া কবুল হয় ৷ (মজমউল ফতোয়া ১৪১ পৃ.)

দলিল-৫ : সাইয়্যেদ জামাল মক্কী (রঃ) বলেন । আমাকে প্রশ্ন করা হলো কোনো ব্যক্তি বিপদে পড়ে যদি বলে হে আল্লাহর রাসুল । অথবা হে শায়খ আব্দুল কাদির আল্লাহর ওয়াস্তে আমাকে সাহায্য করুন । অথবা হে মওলা আলী মদদ করুন তবে ঐ ব্যক্তি সম্পর্কে শরীয়তের হুকুম কী? তদুত্তরে বললাম । এরূপ সাহায্য প্রার্থনা করা শরীয়ত সম্মত খুবই উত্তম ব্যবস্থা । কোন হঠকারী বা অহংকারী ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ এটাকে অস্বীকার করতে পারবে না ৷ যে ব্যক্তি অস্বীকার করবে সে অলি আল্লাহগণের ফয়েজ ও বরকত থেকে অবশ্যই বঞ্চিত হবে। (ফতোয়ায়ে জামাল মক্কীর সূত্রে আহকামল মাজার-৬০ পৃ.)

দলিল-৬ : শায়েখ আবদুল হক মোহাদ্দেস দেহলবী (ঃ) বলেন- অলি আল্লাহগণের মাজারে গিয়ে অলিদের উছিলা দিয়ে প্রার্থনা করা শরীয়ত মতে জায়েজ (আশআতুল লোমআত)

দলিল-৭ : ইমাম ইবনুল হাজ (রাঃ) বলেন, মাজারস্থ অলি যদি এই পর্যায়ের হয় যে তাঁর কাছে বরকত লাভ করা সম্ভব তাহলে প্রথমে নবী করিম (সঃ) কে আল্লাহর দরবারে উছিলা ধরবে । কেননা তিনিই হচ্ছেন সর্বোত্তম ও মূল উছিলা এবং তিনিই উছিলা ধরাকে বৈধ ও জায়েজ করেছেন । তারপর মাজারবাসী এবং কবর স্থানের অন্যান্য নেক বান্দা এবং আউলিয়াগণকে মনোবাসনা পূরণ এবং গুণাহ মাগফিরাতের জন্য উছিলা বানাবে । তাদেরকে বেশি বেশি করে আল্লাহর দরবারে উছিলা বানাবে। কেননা, আল্লাহপাক তাদেরকে নির্বাচিত করেছেন । তাদেরকে মর্যাদা ও সম্মান দান করেছেন । অলিদের মাধ্যমে দুনিয়াতে যতোটুকু কল্যাণ দান করেছেন তার চেয়েও বেশি দান করবেন পরকালে । (ইছলাহে বেহেশতী জেওর ৪১ পৃ.)

দলিল-৮ : আহকামুল মাজার কিতাবে ফতোয়ায়ে শামীর মোকদ্দমায় ইমাম আবু হানিফা (রঃ) মহাত্ম অধ্যায় হতে ইমাম শাফেয়ী (রঃ) একটি বাণী তুলে ধরেছেন। তা, হলো ইমাম শাফেয়ী (রঃ) বলেন আমি বরকত লাভের উদ্দেশ্যে ইমাম আবু হানিফা (রঃ) এর মাজারে আগমন করে থাকি । যদি কোনো বিষয়ে সমাধান প্রয়োজন হতো তখন আমি দু’রাকাত নামাজ পড়ে তার মাজারে গিয়ে তার উছিলা ধরে আল্লাহ্র দরবারে প্রার্থনা করতাম সাথে সাথে আমার সেই মকসুদ পূর্ণ হয়ে যেতো। (আহকামুল মাজার+ফতোয়ায়ে শামী ১ম খন্ড ১৪৯ পৃ.)

দলিল-৯ : ইমাম আযম আবু হানিফা (রঃ) বলেন মাজারস্থ ব্যক্তির কাছে কিছু চেয়ে বা তাঁর উছিলা ধরে দোয়া করা সুফিয়ানে কেরাম ও ফিকাহবিদগণের মতে জায়েজ বা বৈধ এবং মহিলাদের জন্যেও জায়েজ । (মুসনাদ ২৩৫ পৃ.)

দলিল-১০ : পশ্চিম দেশের লোকেরা ইমাম মালেক (রঃ) কে উছিলা করে আল্লাহর দরবারে দোয়া করতেন । (ওহাবীদের সংশয় নিরশন- ৪৩পৃ.)

নিম্নে বর্ণিত দলিল গুলোতেও মাজারস্থ ব্যক্তিকে উছিলা ধরে দোয়া করা বা কিছু চাওয়া বৈধ বলেছেন- যথা –

১) তাফসীরে মাজহারী ৬ষ্ঠ খন্ড ৩৪৮ পৃ.
২) ফায়সালায়ে হাপ্ত মাসায়েল ২৬ পৃ.
৩) ইছলাহে বেহেশতী জেওর ৪৪ পৃ.
৪) ওহবীদের সংশয় নিরশন ২১ পৃ.
৫) অন্ধের পথ প্রদর্শন ১৪৫ পৃ.

সুতরাং অকাট্য সহি দলিল সমূহ দ্বারা চার মাযহাবের ইমাগণের মতেও মাজারস্থ আল্লাহর অলিগণের উছিলা ধরে মনোবাসনা পূরণের জন্য প্রার্থনা করা বৈধ বা জায়েজ প্রমাণিত হলো ।

লেখক – মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন চিশতী

More Posts

সাবস্ক্রাইব করুন

Related articles