লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী
1.
যে অনন্ত ব্যাথা ভরা সুখ-
জাগাইতে মোরে বারে বারে ফিরে ফিরে আসে,
মোর জীর্ন শীর্ণ অন্তরে-
মোর অন্তরাত্মা এ ব্যাথা তরে চির পিপাসান্মুখ!
জনমে জনমে যে ব্যাথা,মানবের তরে,
ধরার ধুলায় খুলিয়াছে দ্বার-স্বর্গীয় নিয়ামত
এ যে সেই মহাদান, সৃষ্টি স্বর্গের পথ…
2.
সৃষ্টিতে অনন্তরূপে অন্তহীন এ আমি,
একাকিত্বে একক তত্বে আপনারে প্রণামী-
চরাচরে সর্বাকারে সকল প্রাণে বিরাজমান,
আমার আমি সপ্তসুরে, আপনত্বে লা মাকান!
3.
বাণীর সুধায় মত্ত প্রাণের
নিত্য প্রেমের জলধর,
বাণীরূপ মোর হৃদয় উল্লাস
সুর ঝংকারে দীপ্তকার।
4.
মঙ্গল দীপ জ্বালায়ে দেখি এই অনন্ত রূপ মাধুরী
আজ রূপ সনাতন জগৎ মাঝে, আমারি রূপে উৎসারী।
আপনত্বের এ মহিমা তোমার ধ্যানেই প্রতিষ্ঠিত
আমি আমার সকল দিয়ে, তোমার তরেই নিবেদিত।
5.
এ চাওয়া প্রভু তোমার তরে
হারাবো না আর কালের খেয়ায়,
অনন্ত তোমার অখন্ড ধামে
বাধিয়া রাখ ঐ চরণ মায়ায়।
6.
আনন্দ আনে যে হৃদয়ও অঙ্গনে,
সুধাসিক্ত করে যে সুধারও বর্ষণে,
যে দেয় অমৃত নিরানন্দ প্রানে
তারি তরে মোর সকল পূজাঞ্জলী-
হে মহান তব চরন দিশায়
জ্বালাও নবরবি শিখা আধার আত্মায়
বাধিয়া রাখো মোরে চরণ মায়ায়
সর্বদায়, জ্বেলে রাখো নয়ন দীপালি ।
7.
আমার সত্ত্বাজুড়ে
আমার অনুভূতির প্রতিটি দরজা ঘিরে,
অপরূপ তব রূপ অটলিত রয় –
আমার সকল ধ্যানে, প্রাণে, মনে
পাওয়া, না পাওয়ার বিরহ মিলনে
তোমারই প্রেমোরূপ জাগ্রত সদায় ।
8.
আবারো এলাম ফিরে
মোর হৃদয়হীনার নীড়ে!
যে পাষাণ প্রাণ মোরে জড়ায়ে রাখে,
উন্মত্ত করে, আমারে আমার করে !
যে মোরে ডাকে বারে বারে
ফিরাইতে আমায় আপন দুয়ারে-
ধরার সকল জঞ্জাল হতে, লুকাইতে আপন প্রান
তাইতো অবোধ শিশুসম আমি, তোমাতেই সপিলাম মন।
তোমার অভ্যন্তরে-
তাইতো আসিলাম ফিরে।
9.
চেয়ে আছি…
আকাশ-দীপের পানে…
নভোঃ নীলিমায় তার অন্তহীন যাত্রায়,
সে সাজাবে আমারে তার আলোক শোভায়,
পথ রচিবে সে আপন কাননে…
আপন ও ভূবনে।
10.
তুমি সত্য, তুমি নিত্য, তুমি শ্বাশত, তুমি অনন্ত-
তুমি অনন্য অবধারিত, অনিন্দ্য, তুমি প্রেম মহন্ত!
অনবদ্য, হৃদয় বাদ্য তব বীণা সুরে সদা ব্যাক্ত,
প্রিয় মোর, তব সুরে সুরে, বন্দী; মুক্ত- বিমুক্ত ।
শক্তি কি আছে প্রভু মোর
গাইতে তব গান…
যেনো জনম জনম তব তরে প্রভূ
অটলিত রয় মোর ধ্যান।
লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী