লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী
অনন্ত অখন্ড ইচ্ছাশক্তিতে মহান জাতপাক নিত্যময়তার প্রকাশ অভিলাষে স্বয়ং নিয়ত প্রকাশিত ও বিকশিত হয়ে চলেছে শাশ্বত জগতের পলে পলে। অর্থাৎ সৃষ্টি স্বতঃপ্রাপ্ত অবিনশ্বর সত্ত্বার স্বপ্রবৃত্ত বহিঃপ্রকাশ ও সত্ত্বা পরিব্যাপ্ত। অনন্ত সৌন্দর্যের আঁধার জাত কদিম তাঁর শব্দ, স্পর্শ, রুপ, রস, গন্ধে সদা মোহিত রাখে সমগ্র সৃষ্টিকে। আহাদ তত্ত্বের অভেদ জ্ঞানে সকল কিছুকে একত্বের চাদরে মুড়িয়ে তিনি স্বয়ং বয়ে চলেছেন মহাকালে, বস্তু ও গুণশক্তির অমোঘ কার্যকারণের নিয়মে।
অনন্ত চৈতন্যের স্বতঃপ্রকাশরূপ এ ধরায় কোথাও দ্বিতীয় কোনো সত্ত্বার অবস্থিতি নেই। নেই কোনো অসৎ স্বভাব বা সংকীর্ণ অহং বোধের কোনো অস্তিত্ব। মানবীয় গুণ তথা প্রভুগুণ হারিয়ে মানুষ যখন দাখিল হয় পশুত্বে, বিচ্যুত হয় নিত্যময়তা থেকে, আচ্ছন্ন হয় অজ্ঞানতায়, তখনই সে ভোগ করে নরক যন্ত্রণা। অর্থাৎ সে বন্দী হয় এক একটি ক্ষুদ্র আমিত্বে বা অজ্ঞান আমিত্বের মাঝে। হারিয়ে ফেলে নিজেকে।
জ্ঞান আমিত্বের জাগরণ তথা নিত্যসত্ত্বায় চিরসমাধিপ্রাপ্তি বা নির্বাণ লাভের বাসনায় মানুষটি আবার ফিরে যেতে পারে পূর্বধামে, নিত্যের দেশে। নিত্যসত্ত্বায় বা মুক্ত সত্ত্বায় অবস্থিত ব্যক্তিটিই মুক্ত।
আহাদ স্বরূপধারী মহাপ্রভু পঞ্চ উপাদান সমন্বিত মানবদেহ নৌকা নিয়ে মুক্তির বারতা হাতে ডেকে ফিরছেন পতিতদের। জানিয়ে দিচ্ছেন আপন খবর। মুক্তির খবর। নিজেকে ফিরে পাওয়ার বার্তা। বাতলে দিচ্ছেন শাশ্বত অমর লোক প্রাপ্ত হওয়ার উপায়। প্রভুগুরু সকলের সহায় হোক।
রচনাকাল – 06/11/2017
লেখক – লাবিব মাহফুজ চিশতী