হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী
এ সুন্দর পৃথিবী নামক গ্রহের ধ্বংসের মূল তথা অশান্তির সৃষ্টির মূল কর্তা হলো মানব সুরতে বাস করা নরপশুগুলো। তাদের তাপের প্রভাবে নরক যন্ত্রণা ভোগ করছে এ গ্রহের মানুষগুলো। এ ধরনের নরপশু তথা নমরুদ/ফেরাউন/সরদার সউদ/দজ্জাল/অসুরদের থেকে রক্ষা করতেই প্রেরিত পুরুষদের/পরকালপ্রাপ্ত মানুষের /অবতারের/দূর্গার/গুরুর আগমন ঘটছে যুগে যুগে। ধর্মের হিজাব পড়া নরপশুগুলো সেজন্যই যুগে করেছে/করছে। সেজন্যই কোরানে ভক্ত-মুরিদানদেরকে(যারা ঈমান এনেছে) তাদেরকে প্রথমইে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে শয়তানের পথ পরিহার করে চলার জন্য। আর শয়য়তানের/ইভিলের/নারদের গুণ-খাছিয়তে আবৃত লোকটিই হলো মুক্তিকামী মানুষের জন্য প্রকাশ্য শত্রæ শয়তান (কোরান দ্রঃ)।
মূলতঃ শয়তানমুক্ত মানুষটিই হলো খাঁটি মুসলমান, খাঁটি হিন্দু, বৌদ্ধ বা খ্রিষ্টান (আল ইসলামু দ্বীনুল ফেৎরাত)। যারা কোরান বুঝে তারাই এ কথা অবশ্যই স্বীকার করবে। যখনই কারো মানবাত্মার/মনুষ্যত্বের জাগরণ ঘটে তখনই সে আর কোনো সম্প্রদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না, তিনি হয়ে যান সব মানুষের। প্রমাণ চেয়ে দেখুন সমস্ত অলি-আল্লাহদের/সাধু দরবেশদের নিকট, তাদের রঁওযা বা মাজার জিয়ারতে সর্বজাতির মানুষ আগমন করছে। কারণ, ইনছানিয়াত আঠার হাজার মাখলুকাতের ভিতহর নেই, তার বাহিরে, চতুর্থ দায়রায় তার অবস্থান, যেখানে অপবিত্রতার কোনো স্থান নেই। এখানেই জান্নাতিদের বাস। সাম্প্রদায়িকতার/দ্ব›দ্ব-বিভেদ-বৈষম্যের দেয়াল ভাঙলেই মুক্ত মনের মানুষ সৃষ্টি হয়। সর্বধর্মের আড়ালে বাস করা নরপশুগুলো (যারা শয়তানের/ইভিলের নারদের ধর্মে দাখেল হয়ে আছে) তা হতে দিবে না। আর আলেম-মোল্লাদের বা অন্যান্য ধর্মের পুরোহিত, পাদ্রি, ব্রাহ্মণদের অবস্থান তিন জমাতের ভিতর, তাদের নিকট কয়জন যায় তা একটু চোখ মেলে চেয়ে দেখুন। ওরা সম্প্রদায়িকতার চারি দেয়ালে বাধা ষাঁড়, গুতাগুতিই ওদের ধর্ম। এ কথা কেই বিশ্বাস করতেও পারেন আবার নাও করতে পারেন, সবই তকদির।
তাদের ধর্মীয় উন্মাদনার কারনে, উগ্রতা-উচ্ছৃঙ্খলতার কারণ পৃথিবীতে লক্ষ লক্ষ মানুষকে মৃত্যুবরণ করতে হয়েছে/এখন হচ্ছে। সেজন্যই ওহাবী/কওমী আলেম-মোল্লারা বা তাদের সমমনাদের ধর্ম ব্যবসা রক্ষার্থে, মৌলবাদ ইহুদি, খ্রিষ্টানদের দালালি রক্ষার্থে, ব্যক্তিস্বার্থ পূরণাথ্যে আল্লাহর অলিদের প্রতি, তাদের রঁওযা/মাজারের প্রতি অনুষ্ঠানের প্রতি নানা ফতোয়াবাজি, জোর-জুলুম, অন্যায় অত্যাচার করে চলেছে। মূলতঃ ওদের মানব ধর্ম বলতে কিছুই নেই, যা আছে তা হলো পশুত্বের ধর্মাচারণ। ওদের সুরত ধারণ করে/তাদের মুরিদ করে শয়তান/ইভিল/নারদ তাদের জবানে বলছে, ‘নবীজি মারা গেছেন, তার কোনো ক্ষমতা নেই, তিনি মাটির তৈরী, নূরের নয়, তিনি আমাদের মতোই মানুষ-এর বেশী কিছু নয়; কে আব্দুল কাদীর জিলানী, কে খাজা বাবা, কে শাহ্ জালাল? কিসের অলি ওরা সবাই ভন্ড, এরা নিজেরাই পাড় হতে পারবে না আবার আরেকজনকে পাড় করবে কীভাবে?(নাউজুবিল্লাহ্) এ ধরণের অন্ধ-বধিরগণের ধারণা তারাই একমাত্র ধর্ম পথে আছে, তাই তাদের কথা না শুনলে, না মানলে বন্য পশুর আচরণটি প্রকাশ করতে শুরু করে।
সেজন্যই তথ্যমন্ত্রী ড. হাসান মাহমুদ ওহবিী কওমীদেরকে লক্ষ্য করে বলছে, (ভাস্কর্য নিয়ে কথা) “কতিপয় ধর্ম ব্যবসায়ীর নিকট ইসলাম ধর্ম লিজ দেয়া হয়নি (যুগান্তর/১৪-১২-২০২০ ইং) এবং ওরা ইসলাম ধর্ম নিয়ে ভুল ব্যখ্যা করে চলছে (যুগান্তর/২৬-০২-২০২১ ইং)।” চেয়ে দেখুন কারা ভাস্কর্যের বিরোধীতা করেছিল/করছে? ভাস্কর্য আর মূর্তির মধ্যে আসমান-জমিন প্রভেদ মূর্খরা তা বুঝেনি, এ বিষয়ে মোল্লাদের ঐতিহাসিক ধারণা খুবই ক্ষীণ। মূলতঃ অজ্ঞতা, উগ্রতা এবং উচ্ছৃঙ্খল স্বভাবটি প্রকাশ করাই হলো মূল বিষয়, ইহাই তাদের শিক্ষা। যখন ওহবিীরা জাজিরাতুল আরব দখল করে তখনও হাজার হাজার মানুষের রক্তের উপর দাঁড়িয়ে তাদের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত করেছিল। বাংলাদেশকেও ওহাবী রাষ্ট্র বানানোর জন্য মূর্খরা বানর নৃত্য করে চলেছে। আলেম-মোল্লাদের এবং তাদের সমমনাদের বিশ্বাস-ধারণা একমাত্র মাদ্রাসায় পড়লেই ধর্ম জ্ঞানী হওয়া যায়। এ আকিদই তাদেরকে ধর্মান্ধ হতে বাধ্য করেছে। এ ধরনের মিথ্যা অহমিকার কারণেই ওরা অজ্ঞতা-মূর্খতার পরিচয় দিচ্ছে আর মুর্দা হয়ে অন্ধকার কবরে বাস করচে। ওরা যে উলঙ্গ-মুর্দা অন্ধকার কবরে বাস করছে তাও বুঝার হুঁশ-আক্কেল হারিয়ে ফেলেছে। বিগত যুগের আলেম-মোল্লাদের এবং বর্তমানের শত শত আলেম-মোল্লাদের দিকে একটু তাকিয়ে দেখুন তারা মাদ্রাসার বিদ্যা বিসর্জন দিয়ে গুরুর/মুর্শিদের নিকট বায়াত/দীক্ষা নিয়ে সাধনা করে কীভাবে অলিত্বের দরজা লাভ করেছেন, মুক্ত মনের অধিকারী হয়ে মহাপুরুষে অধিরোহণ করছেন।
ইতিহাসে তার হাজার হাজার নজীর রয়েছে, একটু চোখ খুললেই দেখতে পাবেন। আর যদি গিনিপিগের মত চোখ বন্ধ করে রাখেন তবে কিছুই দেখতে বা বুঝতে পারবেন না। আর যদি মাদ্রাসা ব্যবসায়ী হয়ে থাকেন তবে আর এ সত্য কথাটি কখনোই স্বীকার করতে পারবেন না। কারণ, তাহরে মাদ্রাসার ব্যবসা বন্দ হয়ে যাবার করুণ গোঙানীর সুর বাজতে থাকবে। মাদ্রাসার বিদ্যা ত্যাগ না করে কেউ অলিত্বের দরজা লাভ করতে পারে নি এবং পারবে না।
আমার বক্তব্য হলো- “যে মাদ্রাসা মানুষকে পীর/মুর্শিদ/অলি/গুরুমুখি না করে তাদের বিরুদ্ধে নিয়ে যায়, মানুষকে সাম্প্রদায়িকতা হতে বের হয়ে মুক্ত মনের অধিকারী হতে দেয় না, ইনছানিয়াতের দিকে দাবিত করে না তথা মুনষ্যত্বের জাগরণ ঘটায় না, মানুষের প্রতি প্রেম-প্রীতি, ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব বন্ধন সৃষ্টি করে না, অন্যান্য জাতির প্রতি সহানুভূতি সৃষ্টি করে না, ঐক্যতা প্রতিষ্ঠিত করে না, অন্য ধর্মের উপাস্যকে গালি দেয়া শিখায়, তাই হলো শয়তানের মাদ্রাসা/শিক্ষালয়।” তা মূলতঃ কোনো ধর্ম শিক্ষাই অঙ্কুরোদগম হয়। এরাই সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে ফতোয়াবাজি, জোর জুলুমের মতো জঘন্য ক্রিয়া-কর্মে রতো থাকে। কারণ, মাদ্রাসার/আলেম-মোল্লাদের কোরান শিক্ষা হলো আক্ষরিক (মুতাশাবেহাত/তাশাবাহা-যার অর্থ করতে কোরানে নিষেধ করা হয়েছে)- ইহা ইলমুল কালাম; ইহা ধর্ম জ্ঞান অবশ্যই নয়। সেজন্যই তারা বহু মতবাদের ঘূর্ণিপাকে পড়তে বাধ্য। যারা নরপশু, অসুরত্বকে মনের মাঝে লালন পালন করছে তারা কখনো এ সত্য কথাগুলো স্বীকার করবে না, না করাটাই অসুরত্বের প্রমাণ।
কোরান রূপক সাহিত্য, রূপকের আড়ালেই রয়েছে ধর্মজ্ঞান (মুহকামাত)। যে কোরানের মুহকামাত বুঝে নি সে ধর্মজ্ঞানের/কোরানের কিছুই বুঝেনি, কোরানের মুহকামাত বুঝার জন্য আরবী পড়ার কোনো শর্ত নেই, কামেল গুরু/মুর্শিদের স্বানিধ্যের প্রয়োজন। কারণ, নিজকে চিনলে কোরানের মুহকামাত বুঝা হলো। নিজকে চিনলে খোদাকে চেনা যায়- ইহাই কোরান শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। তেইশ বৎসর ওহী কালাম নাযিল হয়েছে মানুষ কি তা বুঝানোর জন্য। যে মানুষ কী তা-ই বুঝেনি/চিনে নি, তার কোরান পড়া মানেন শুধু পাতা উল্টানো ছাড়া আর কিছুই করেনি। তা যতো বড় মাওলানা , মুফতি, মুহাদ্দেস বা মুফাচ্ছেরই হোক না কেনো। আরবী ফারসি ভাষা শিক্ষা করা আর কোরান শিক্ষা করা আসমান জমিন প্রভেদ। একজন ইলমে সিনার অধিকারী/ধর্মজ্ঞানীর/গুরুর নিকট সে ভেদ জেনে নিলেই সব পরিষ্কার হয়ে যাবে। আর মিথ্যা অহংকার-অহমিকার বেড়াজালে আবদ্ধ হলে তা আর কোনো দিনই জানা যাবে না, শুধু বকবক করেই যাওয়া যাবে। স্পষ্ট ভাবেই বলছি, মাদ্রাসায় কখনো কোনোদিনই কোরান শিক্ষা দেওয়া হয় না/হয়নি, শুধু আরবী ভাষাটিই ভাষান্তরসহ শিক্ষা দেয়া হয়- যা কখনো কোরানের জ্ঞান নয়। যে সমস্ত মাওলানা-মুফতিরা মাদ্রাসার বিদ্যা বিসর্জন দিয়ে গুরুর/পীরের/মুর্শিদের নিকট বায়াত গ্রহণ করে ঈমানদার হয়েছে তাদের কালামগুলো পড়ে দেখুন তারা কি বলছে। মাওলানা রুমী (রাঃ) বলেছেন, “আমি কোরানের মগজ উঠিয়ে নিয়েছি, আর অস্থি-চর্ম কুকুরের জন্য ফেলে রেখেছি।”
যারা কোরানের ভেদ বুঝেনি/নিজকে চিনেনি তারা অস্থি-চর্ম নিয়েই ব্যস্ত আছে। যারা কোরানের অস্থি-চর্ম নিয়ে ব্যস্ত আছে তারাই স্বার্থের পরিপন্থী হলে ফতোয়াবাজি, মারামারি, কামড়াকামড়ি, সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টি করে চলছে। তিনি আরো বলেছেন, “আমি এতোদিন মাওলানাই ছিলাম না, যতো দিন না শামছ তাবরেজির গোলামী করেছি।” তাহলে মাওলানা রুমী (রাঃ) বায়াত হওয়ার পূর্বে কোন আলেম ছিলেন, তখন কোন ইলেম ছিল আর শামস তাবরেজি (রাঃ)- এর নিকট বায়াত হয়ে কোন এলেম শিখে তিনি খাঁটি আলেম হলেন এবং কোনটি সত্যিকারের ইলেম/আলেম তা কি বুঝা গেল না? যারা মাদ্রাসার আক্ষরিক বিদ্যার গৌরব করে পীর/ফকিরের সমালোচনা করেন, আপনারা দেখুন তো এ বিদ্যা তো মাওলানা রুমী (রাঃ) এর কম ছিল না। তিনি সব বিদ্যা বিসর্জন দিয়ে অশিক্ষিত/অক্ষরজ্ঞানহীন মহা সাধক হযরত শামছ তাবরেজী (রাঃ) এর নিকট বায়াত হয়ে ইলমে সিনা অর্জন করে খাঁটি আলেম হয়ে গেলেন। আপনারা কি খাঁটি আলেম না খুসকি আলেম তা কি স্পষ্ট হয়ে গেল না?
হাজার হাজার আলেম, মাওলানা, মুফতি, মুহাদ্দেস, মুফচ্ছের রয়েছে যারা মাদ্রাসার বিদ্যা অর্জন দিয়ে পীর/গুরু/মুর্শিদের নিকট বায়াত হয়ে কোরান শিক্ষা করে ইলমে সিনা অর্জন করে খাঁটি আলেম/ইনছানুল কামেলে পরিণত হয়েছেন/হচ্ছেন। মুর্শিদ/গুরু/আল্লাহর অলি/খাঁটি আলেমদের নিকট হতে এ ধরনের হাজারো কালাম প্রকাশ পেয়েছে, আর অজ্ঞ-মূর্খরা তা শুনে নাক সিটকিয়েছে; ইহাই অজ্ঞাত-মূর্খতার পরিচয়।
মাজার বা রঁওযা জিয়ারত আর কবর পূজা আসমান জমিন প্রভেদ তা অজ্ঞ-মূর্খ গোঁয়ার গোবিন্দের দলেরা বুঝে নি। আল্লাহপাক তাদের তকদিরে সে বুঝ জ্ঞান দান করেন নি, দোয়া করি যেন সে বুঝ-জ্ঞান দান করেন। যদি তাদের সামান্যও ধর্মজ্ঞান থাকতো তবে দেখতে পেতো, বুঝতে পারতো যে সমস্ত মাদ্রাসার আলেমরাই (সামান্য কিছু খাঁটি সুন্নী আলেম ব্যতীত) কবর পূজা করছে, কবর পূজার শিক্ষা দেয়ার বা গন্দম খাওয়ার শিক্ষা দেওয়ার জন্য মাদ্রাসা খুলেছে। এরা এতো অন্ধ যে তা বুঝার জন্য কোনো জ্ঞানীর সঙ্গও বিষতুল্য মনে করে, মিথ্যা অহংকার-অহমিকা সর্বদায়ই তাদের মনে বিরাজ করছে, ইহাই অজ্ঞানান্ধকারের বহিঃপ্রকাশ। ফকিররা কোনো দিনই কবর পূজা করে না, তারা রঁওযা বা মাজারে জিয়ারত করে/করছে এবং নিজেকেও রঁওযা বা মাজারে পরিণত করে নিবার শিক্ষা নিচ্ছে এবং তাতে তারা তা প্রাপ্ত হচ্ছে বিধায় ঈমানদারগণ/ভক্ত-মুরিদান, আশেকানগণ ওরশ পালন করছে। অজ্ঞ-মূর্খ এ সমস্ত আলেম-মোল্লাগণ যুগে যুগেই নবী-রাছুল অলিদের বিরোধীতা করেছিল/করছে। অন্যান্য ধর্মের ছদ্মাবরণেও এ সমস্ত ধর্ম সন্ত্রাসীরা বাস করছে। তাদের কামড়াকামড়িতে মানব সমাজে নাভীশ্বাস উঠে গেছে। এ কথা কেই বিশ্বাস করতে পারেন আবার বিশ্বাস নাও করতে পারেন সবই তকদির। তবে আগতকাল এসে তার প্রমাণ উপস্থাপন করবে, সেদিন চোখ খুলে যাবে, সবই দেখতে পাবেন-বুঝতে পারবেন। কোরান মহা জ্ঞানভান্ডার তা কখনো সম্প্রদায়িকতা সমর্থন করে না, তাহলে আর কোরানের সার্বজনীনতা থাকে না। কোরানের আক্ষরিক ব্যাখ্যা-বয়ান করে কোরানকে সাম্প্রদায়িকতার পোশাক পড়িয়েছে তারা।
৬শত হিজরীর পূর্বে মাদ্রাসার শিক্ষা অনেকটা অলি-আউলিয়াদের অনূকুলেই ছিল, ৬শ হিজরীর পরে সে সমস্ত শিক্ষা পরিবর্তন করে অন্ধ-গোঁড়া মৌলবাদী শিক্ষার প্রচলন করা হয়েছে-যা আল্লাহর অলিদের/দ্বীনে মুহাম্মদীর সম্পূর্ণ বিপরীত। বর্তমানে আল্লাহর অলিদের শিক্ষা, আকিদা, আচারানুষ্ঠানের সাথে মাদ্রাসার শিক্ষা, আকিদা আকাশ-জমিন প্রভেদ সৃষ্টি হয়েছে। তাতে তাদের শিক্ষা-আকিদার ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য, প্রচার ও প্রসারের জন্য পীর/গুরু/অলিদের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে ফতোয়াবাজি, জোর-জুলুম, নির্যাতন এমনকি প্রয়োজনে গুরু/অলিদের হত্যা পর্যন্ত করছে। ইহাই ছিল ব্রিটিশ গোয়েন্দা মি. হামফ্রেশের নির্দেশ।তিার জন্য পড়ে দেখতে পারেন ‘পরহেজগারীর আড়ালে ওরা কারা!!!’, “মি. হামফ্রের ডাইরি, ওহাবী পরিচয়, নজদ পরিচয়, ওহাবীদের আসল পরিচয়, ওহাবী মাযহাবের হাকীকত, যায়যালা- এ ধরনের খাঁটি সুন্নি আলেমদের লেখা আরো অনেক কিতাব রয়েছে। এ সমস্ত পথভ্রষ্ট ওহাবীদের ভ্রান্তিপূর্ণ ঈমান-আকিদা হতে বের হয়ে এসে মুক্ত মনের অধিকারী তথা ইনছানিয়াতে দাখেল হতে হলে একমাত্র অলি-আউলিয়াদের পথেই ধাবিত হতে হবে, তাদের শিক্ষাকে গ্রহণ করে নিতে হবে। সুরা ফাতেহায় তাদের পথে চলার/থাকার জন্যই প্রার্থনা করা শিক্ষা দিয়েছেন খোদা নিজেই। একমাত্র আল্লাহর অলিদের পথই হলো সিরাতিম মুস্তাকিম। আলেম-মোল্লাগণ সিরাতিম মুস্তাকিমের নাম শুনেছে কিন্তু দেখেনি কি জিনিস সিরাতিম মুস্তাকিম। মুক্ত মনের মহা সাধক হযরত খাজা গরীবে নেওয়াজহ (রাঃ) প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব বন্ধন, সেনহ-মমতা, সম্যগুণ তথা ফিৎরাতে আহসান দ্বারা ভারতবর্ষে ইসলাম প্রচার করেছিলেন। সমস্ত আল্লাহর অলিগণই এ পথে দ্বীনে মুহাম্মদী প্রচার-প্রসার ঘটিয়েছেন, এখনো প্রচার করছেন।
পাশাপাশি মাদ্রাসার আলেম-মোল্লাগণ যুগে যুগে তার বিরোধীতা করে আসছে, ফতোয়াবাজি, জোর-জুলুম করছে। ইতিহাসে তার ভুরি ভুরি নজীর রয়েছে, এখনো আছে। দ্বীনে মুহাম্মদী/দ্বীন ইসলামের তরিকাকে বিকৃত করার জন্য তাদের দলের মাদ্রাসার বিদ্যাধীকারী কিছু মৌলবাদীদেরকে পীর বা অলি বলে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। তাদের মধ্যে ইলমে মারেফাতের বিন্দুমাত্র চিহ্ন নেই, না জানে তারা কালেমার তাহকিক, সম্বল শুধু মাদ্রাসার আক্ষরিক বিদ্যা-ইলমুল কালাম। আমাদের দেশে এ ধরনের ইমিটেশন মার্কা পীর/অীরলর অভাব নেই। ওরা কোরান-হাদিসের আক্ষরিক বিদ্যাকে ধর্ম জ্ঞান বুষিয়ে নিজেরাও পথভ্রষ্ট হচ্ছে, অন্যকেও পথভ্রষ্ট করছে। মাওলানা মজিবুর রহমানের লেখা ‘তাজকেরাতুল আউলিয়া’ বইটির ৫ম খন্ডের মধ্যে দেখতে পাবেন সাত জন ওহাবী খারেজীকে (গোঁড়া এবং ওহাবী আকিদা ত্যাগ করতে না পারার কারণে তাদের জীর হাজি ইমদাদুল্লাহ সাবেরী তাঁর তরিকা হতে তাদেরকে খারিজ করে দিয়েছিলেন। সেই কথা গোপন করে এ ওহাবী মোল্লাগণ সাবেরী তারিকা প্রচার করে চলেছে) অলি বলে প্রচার করে দিয়েছে।
যাক, বর্তমানে মানুষের মন এক প্রকার যান্ত্রিক পর্যায়ে চলে গেছে। আগের মতো এক অন্যের প্রতি দয়া-মায়া, প্রেম-ভালোবাসা, স্নেহ-মমতা, ভ্রাতৃত্ব-সৌহার্দ্যভাব দেখা যায় না। যুবসমাজ নষ্ট হচ্ছে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায়, গ্রামের পরিবেশ এখন পুরোটাই কলুষিত হয়ে গেছে। আদব-নম্রতা সবই বিলুপ্তির পথে দ্রুত ধাবিত হচ্ছে। হিংসা-বিদ্বেষ, অহংকার, প্রতারণা, অন্যায়-অবৈধ উপার্জন দ্রুত গতিতে বেড়ে চলছে। যুবসমাজ নৈতিকতা হারিয়ে হারিয়ে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে, মুরুব্বীদের প্রতি শ্রদ্ধাভক্তি এক প্রকার উঠেই গেছে। অল্প বয়মের ছেলেরা রাজনৈকিত ছত্রছায়ায় জোর-জুলুম করছে, বিচার আসনে বসছে, টাকা উপার্জনের অবৈধ পথে দ্রুত গতিতে ধাবিত হচ্ছে। কিছু অভিবাবক আছে ওরাও ওদের ছেলেদের এ ধরনের পরিণতি দেখে গৌরব অহংকার করছে, তার ছেলে নেতা হয়েছে, বিচারক হয়েছে, ইহাইও পাপেরই ফল। কারণ, ওরা ধর্মানুষ্ঠান পালন করলেও ধর্মকে ধারণ করেনি/অর্জন করেনি। কারণ, ধর্ম কি তা মূলতঃ ওরা বুঝেইনি বিধায় পুণ্যার্জন হয়নি তাই মানুষ হতে পারছে না। তার মূল কারণ, মাদ্রাসার আলেম-মোল্লাগণের, মসজিদের মৌলবীদের আক্ষরিক শিক্ষা-আকিদায় ডুবে অন্ধ-অনুমানে অন্ধকারে দৌঁড়িয়ে নিজেদের আত্মা হারিয়ে (সুরা আনআম-১২) তাদের অজান্তেই অজ্ঞ-মূর্খ, গোঁড়া মৌলবাদে পরিণত হয়ে নিজেদেরই ক্ষতি করছে আসফালা সাফেলিন হচ্ছে। তাতে তাদের কোনো পুণ্য লাভ তো হচ্ছেই না, বরং পাপে নিমজ্জিত হচ্ছে, তারই বহিঃপ্রকাশস্বরূপ নৈতিকতার অধঃপতন। সেই পাপের ফলেই আলেম-মোল্লাগণ ধর্মকে তেহাত্তর ফেরকায় বিখক্ত করে একে অন্যের প্রতি ফতোয়ার কাঁদা ছোড়াছুড়ি করছে, দ্বন্দ্ব-বিভেদ, জোর-জুলুম, মারামারি, কাটাকাটি করছে, কামড়াকামড়ি করছে, মানুষ হত্যা করছে। তাদের এ ধরনের ক্রিয়া কর্মে সাধারণ মানুষ চরমভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছে। সঠিক কোনো দিক নির্দেশনা পাচ্ছে না। কারণ, মাদ্রাসার আলেমরা বহুমুখী ঈমান-আকিদায় বিশ্বাসী, দ্বন্দ্ব-বিভেদের ঘূর্ণিপাকে ঘুরপাক খাচ্ছে, তাদের মধ্যে ঐক্যতা নেই। ভুল অংকের ফল কখনো একটি হয় না, বহু-ই হয়। এ ইয়াজুজ-মাজুজদের ইশারাই রাছুল যুগে যুগে দিচ্ছেন। তাদের বিভিন্ন মতবাদের-আকিদার শিক্ষায় আক্রান্ত ইসলাম ও সমাজ। এ সত্য কথাটি তুলে ধরলেই ওরা তাদের আদিম চরিত্রটি প্রকাশ করে গোঁয়ার গোবিন্দের প্রেত নৃত্য শুরু করে। তাই বলছি, ওরা শান্তিবাদী নয়, মুক্ত মনের নয়, মহা মন সৃষ্টি করতে পারেনি, সে পথে যেতেও রাজি নয় শুধু আক্ষরিক বিদ্যা বা কিছু ইলমুল কালামকে ধর্ম জ্ঞান বুছেঝে আর ধর্মের আনুষ্ঠানিকতাকেই ধর্ম কর্ম বুঝেছে বিধায় দ্রুত অন্ধকার কবরের দিকে ধাবিত হচ্ছে। তাই বলা হচ্ছে, ‘আল হাক্কু মুররুণ।’ তারই বহিঃপ্রকাশস্বরূপ অন্ধ-মূর্খ আলেম-মোল্লাদের ফতোয়াবাজির দৌরাত্ম্য বেড়ে চলছে, ধর্ম জ্ঞানীদের উপর জোর-জুলুম চলছে, তাদেরকে হত্যা করা হচ্ছে।
রাছুল বলেন, “কেয়ামতের পূর্বে ‘ইলেম’ উঠিয়ে নেয়া হবে।” আর তা হবে ধর্ম জ্ঞানী আল্লাহর অলিদেরকে উঠিয়ে নেয়ার মাধ্যমে। তখন থাকবে শুধু মাদ্রাসার আক্ষরিক বিদ্যার/ইলমুল কালামের অধিকারী পন্ডিতগণ(মাদ্রাসার আলেমগণ), ওরা কামড়াকামড়ি করবে/করছে। রাছুলের ভাষায় ওরা আসমানের নিচে এবং জমিনের উপরে সবচেয়ে নিকৃষ্ট চরিত্রের অধিকারী হবে, মসজিদ পাকা হবে মানুষের ঈমান কাঁচা হবে, কোরানের অক্ষর থাকবে তার কোনো জ্ঞান থাকবে না (সুনানে বাইহাকী, মেশকাত)। তাদের ফাঁদে পড়ে মানুষ পথ ভ্রষ্ট হবে। ওরা এক এক জনে এক এক মতবাদ (যার যার ফেরকার কথা বলবে, তার মধ্যে কওমী ওহাবী ফেরকাটি উগ্র, গোঁড়া, ফতোয়াবাজ, ওরাও নানা দলে বিভক্ত। বারো আনা মসজিদ-মাদ্রাসাই ওহাবীদের দখলে। তার সঙ্গে জড়িত মোল্লাপীর বা রাজনৈতিক পীরেরা) শিক্ষা দিবে, প্রচার করবে এবং যার যার মতে ওয়াজ করার ফলে সমাজে দ্বন্দ্ব-বিভেদ সৃষ্টি হবে/হচ্ছে। সাধারণ মানুষ মৌলবী কোন ফেরকার লোক তা চিনতে না পেরে তাদেরকে দিয়ে ওয়াজ করাবে তাতে দ্বন্দ্ব বিভেদ আরো চরম আকার ধারণ করবে/করছে। ফতোয়াবাজি করবে/করছে, উত্তেজনামূলক বক্তব্য দিয়ে সমাজে দ্বন্দ্ব বিভেদ সৃষ্টি করবে/করছে, দলাদলি-মারামারি করবে/করছে। শুধু ওয়াক্তিয় নামাজকে, বৎসরে এক মাস রোজা, মক্কায় গিয়ে হজ্জ করাকে, অর্থের যাকাতকে আর শুধু মৌখিক কালেমা পাঠকেই একমাত্র দর্ম কর্ম মনে করবে/করছে ( ইহাই ইয়াজিদের মতাদর্শ-শিক্ষা)।
সুনামগঞ্জের শাল্লায় মার্চের ১৯ তারিখে (২০২১ ইং) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনকে কেন্দ্র করে হেফাজতের নেতা মৌলবী মামুনুল হক ও মৌলবী বাবুনগরীর উত্তেজনামূলক বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর বন্য পশুর মতো (নরুপশুই) আক্রমণ, ভাংচুর, লুটপাট এবং হত্যাকান্ড চালিয়েছে তাদের মতাদর্শে উজ্জীবিত জঙ্গি মৌলবাদীরা। এর পূর্বে শাপলা চত্ত্বরেও আরো ভয়ংকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছিল। মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ, অন্যান্য রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজ এ সমস্ত নরপশুগুলোকে গ্রেফতার করার জন্য সরকারের নিকট দাবী জানিয়েছেন। বিষয়টি এমন যে, বিএনপি নামক চুলায় কওমী হেফজতের কাড়াই বসিয়ে জামায়াতে মুওদুদীর লাকড়ী জ্বেলে দিয়েছে, আর হেফাজতের মৌলবাদী মোল্লারা টগবগ করে জ্বলছে আর তান্ডব চালাচ্ছে। ৭১’এর স্বাধীনতার পর জামায়তে মওদুদীরা মৌলবী ইলিয়াছের তাবলিগ জামাতের হিজাবের আড়ালে লুকিয়ে ছিল এবং সেখান থেকে ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ লাভ করে তারা আবার সংগঠিত হয়ে মন্ত্রিত্বের দরজা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল।
বর্তমানে জামায়াতের রাজনীতি নিষিদ্ধ। ওরা আবার ২০১০ ইং সালে হেফাজতের হিজাব পড়ে আত্মপ্রকাশের ধান্ধায় তান্ডবলীলা করে চলছে। আওয়ামী-লীগ সরকারের সতর্ক এবং কঠোর দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে ওরা নিজেদেরকে বাঁচানোর জন্য কেউ দলের সমালোচনা করছে, কেই পদত্যাগ করছে, কেউবা হেফাজতের বিচার চাইছে। ধর্ম জ্ঞানশূন্য মির্জা ফখরুল বলছে, “আলেমে দ্বীনকে’ কে গ্রেফতার করা হচ্ছে, তিনি তাদের পক্ষে আছেন। ধর্মীয় নেতা আলেম-ওলামাদেরকে নিঃশর্ত মুক্তি দাবী করছেন। কতটুকু ধর্ম জ্ঞান শূন্য হলে এ ধরনের কথা বলতে পারে। সেজন্যই মির্জা ফখরুল শুধু জুব্বা-টুপিধারীকেই ‘আলেমে দ্বীন’ বুঝেছেন। ‘আলেমে দ্বীন’ কাকে বলে সে সম্পর্কে তার হুঁশ-আক্কেলও নেই। তাদের ঘাড়ে মৌলবাদি ভূতে আছর করেছে বিধায়ই বিএনপির আজ এমন করুন পরিণতি, লেজে গোবরে অবস্থা। তাতেও তাদের হুঁশ-আক্কেল জাগেনি। বলা হয় গন্ডারের গায়ে গুলি লাগলে নাকি দুই ঘন্টা পরে লাফ দেয়, কিন্তু ফখরুল সাহেবদের ১০ বৎসরেও হুঁশ-আক্কেল জাগেনি। আপনারা যাদের কাঁধে চড়ে ক্ষমতায় যেতে চাচ্ছেন তারাই আপনাদেরকে টেনে হেচড়িয়ে নামিয়ে ময়লার স্তুপে নিক্ষেপ করে দিবে। এ দেশকে আফগানিস্তান বানানোর ধান্ধায় আছে। ধর্মের হিজাব পড়ে লক্ষ লক্ষ মুসলমানকে হত্যা করার ইতহিাস যারা রচনা করছে। আমার মতে কোনো আলেমকে গ্রেফতার করা হয়নি, হয়েছে আলেমের ছদ্মবেশে ধর্মান্ধ সন্ত্রাসীদেরকে, জালেমদেরকে।
যারা স্বীয় সআর্থেদ্ধারের জন্য ধর্মের নামে, ধর্মের ছদ্মবরণে অসুরত্বের শক্তি প্রদর্শন করে চলছে। এ ধরনের আরো বহু ঘটনা মৌলবাদী জঙ্গিরা ঘটিয়ে চলছে ধম্যের হিজাব পড়ে। এই তো ৫ই এপ্রিল’২১ হেফজতের নেতা মৌলবী মামুনুল হক ঝর্ণা নামে এক বিউটি পার্লারের নারীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও এক রিসোর্টে আসার ঘটনায় লঙ্কাকান্ড বাঁধিয়েছে। এ ধরনের আরো এক নারীর সাথে তার গোপন সম্পর্কের কথা মিগিয়ায়/খবরের কাগজে এসেছে, তা বিশ্ববাসী দেখেছে/ফোনালাপ শুনেছে। এখন এক নম্বর, দুই নম্বর, তিন নম্বর-নম্বরওয়ালা স্ত্রী বের হচ্ছে। কিন্তু সোনারগাঁও ধরা পড়ার আগে কি কোনো নম্বরের স্ত্রীর কথাই তার প্রথম স্ত্রী বা তার পরিবারের কেহই জানতো? জানতো না তার দলীয় কোনো লোকজনও। তাও প্রথম স্ত্রী ব্যতিত বাকি স্ত্রীদের কোনো কাবিন নামা (রেজিস্ট্রি) নেই বলে নিজেই স্বীকার করছে (যুগান্তরসহ সব পত্রিকায় প্রকাশ পেয়েছে)। এর মানে চুক্তি বিবাহ (মুতা বিয়ে), তারা যা হারাম বলছে, তা আবার তারাই করছে! সুবিধাবাদীরা এখন ইজ্জত হেফাজত করার জন্য বলছে, ইহা তার ব্যক্তিগত ব্যপার। এ বিষয়টি নিজেদের বেলায় এখন যে ফতোয়ার আমদানি করছে তা অন্যদের বেলায় হলে তা অন্যরকম ফতোয়া দিয়ে ওরা অপপ্রচার, তান্ডব চালাতো- যা ওদের সহজাত প্রবৃত্তি। হেফাজতের নেতারা বেকায়দায় পড়ে এখন বলছে, ইহা তার ব্যক্তিগত ব্যপার। জেল হতে বের হলে বা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হেফাজতের নেতারা হয়তো বলেই ফেলবে- ইহা ষড়যন্ত্রমূলক ঘটনা, আসলে কিছুই হয়নি।
এ সমস্ত ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার জন্য হেফাজতের নেতারা এখন ইজ্জত হেফাজত করার বিভিন্ন দাওয়াই’ও প্রয়োগ করে চলছে। হতে পারে হেফজতের ইজ্জত হেফাজত করার জন্য, অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে চেষ্টা করছে। কিন্তু মাছটি এত বড় এবং বেয়ারা যে তা শাক দিয়ে ঢাকা যাচ্ছে না। মৌলবী মামুনুল হক উচ্চস্বরে চিৎকার করে বক্তব্য দিয়ে মানুষকে বুঝাতে চাচ্ছে, সে-ই একমাত্র সঠিক পথে আছে, সে-ই একমাত্র ধর্ম জ্ঞানের অধিকারী আর বাকি সবাই কচু!!! ইহাই অজ্ঞতা-মূর্খতার পরিচয়। এত মহাজ্ঞানীই যখন মৌলবী মামুনুল হক তবে একটি কাজ করে বিশ্বের মুসলমানদেরকে তাক লাগিয়ে দেয়া হোক দেখি! আর সে কাজটি হলো “৭২ ফেরকার (এক কাতার মুক্তিপ্রাপ্ত, ৭২ কাতার হতে বের হয়ে এসে এক কাতার সৃষ্টি হচ্ছে। তারা আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে ঈমান এনেছে, পিতৃধর্মের অনুসারী নয়) লোকদেরকে একটি ফেকরাকয় পরিণত করে দেখিয়ে দিন? তা আপনি/আপনারা কোনো দিনই পারবেন না, আপনার সাথে এ বিষয়ে আমার চ্যালেঞ্জ রইলো। আপনার মতো তাদের মধ্য হতে ও নিজেরাই সঠিক বলে দাবী করে উচ্চস্বরে চিৎকার করছে, মহিষের গর্জ্জন করেছে। আর বড়ার (আমের আটি) মন্ত্র পাঠ করছে, “আমার বাঁশি বাইজো, আর কারো বাঁশি বাইজো না।” আর যার যার ফেরকার সাইনবোর্ডটি উপরে তুলে ধরার প্রতিযোগীতায় লিপ্ত ছিল/আছে। তাদের মধ্যেও আপনাদের মতো লক্ষ লক্ষ মুফতি, মুফাচ্ছের, মুহাদ্দেস রয়েছে।
তারা এক অন্যকে পথভ্রষ্ট বলে গালা-গালি করছে, কাফের-ফাসেক বেদআতি বলে ফতোয়াবাজি করছে, মারামারি, খুনাখুনি করছে। আপনিও তার মধ্যে একজন। সুতরাং আপনার অবস্থান কোথায় তা আশা করি এবার বুঝতে পারেছেন, যদি সামান্যও হুঁশ-আক্কেল থেকে থাকে! অন্যান্য ফেরকার মধ্যেও আপনার/আপনাদের মতো লক্ষ লক্ষ আলেম-মোল্লারা সত্য সত্য বলে বৃথা চিৎকার করে তাদের সাইনবোর্ডটি উপরে তুলে ধরার প্রতিযোগিতায় রতো ছির/আছে। আপনি এবার নিজের বিবেকের সিদ্ধান্ত নিয়ে বলুন আপনি/আপনারাও কতটুকু সত্য, কোন ফেরকায় আছেন। আপনিও ফেরকাবন্দির চারি দেয়ালে খোঁয়ারে বাধা ষাঁড়ের মতো নিস্ফল অস্ফালন করছেন। চেয়ে দেখুন আপনি/আপনারা যে ফেরকাই দাবী করবেন, আপনাদের বিপরীত ফেরকা রয়েছে। সুতরাং এ সমস্ত মহিষের নিস্ফল গর্জন ছেড়ে অলি আউলিয়াদের পথে ধাবিত হয়ে সুন্দর একজন মানুষ হতে চেষ্টা করুন; আদব-নম্রতা-ভদ্রতা প্রকাশ করুন। আপনার/আপনাদের মধ্যে অজ্ঞতার মিথ্যা মিথ্যা অহংকার-অহমিকা, হিংসা, দলাদলি, মারামারি করার যে আগুনটি (নারুল্লাহি মুকাদ্দাতু) দাউ দাউ করে জ্বলছে, তারই প্রভাবে উগ্রতা, উচ্ছৃঙ্খলতা মাদ্রাসার ছোট ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও দেখা দিচ্ছে, পথভ্রষ্ট হচ্ছে। আপনাদের ভুল শিক্ষা-আচরণে শত শত ছোট ছেলেরা পথভ্রষ্ট হচ্ছে, আক্রান্ত হচ্ছে, মারা যাচ্ছে। হিংসা-প্রতিহিংসার অগ্নি যারা দীলে পোষণ করছে তারাই অগ্নিপূজক হিসেবে চিহ্নিত হবে। আলেম-মোল্লা আর অলিআল্লাহর/ফকিরের মধ্যে রয়েছে আসমান-জমিন প্রভেদ- এ বুঝ জ্ঞান আপনাদের কতটুকু আছে তা আপনাদের ভাব-ভাষা-বক্তব্য হতেই বুঝা যাচ্ছে।
এ সব কামড়াকামড়ি থেকে বের হয়ে এসে একজন মুর্শিদের/গুরুর খেদমতে আত্মনিয়োগ করে নিজেদের বাস্তবে মুক্তি জগতে নিয়ে যেতে চেষ্টা করুন। আদব-নম্রতা, ভদ্রতা, প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ববন্ধন সুন্দর আচরণ শিখতে চেষ্টা করুন এবং মানুষের সাথে সে ধরনের ব্যবহার করুন, সে যে ধর্মেরই হোক। জানি, এ ধরনের আচরণ করতে আপনাদের মহা কষ্ট হবে। কারণ, এধরনের শিক্ষা নেয়ার মাদ্রাসায় আপনারা নিজেরাও পড়েন নি, শিক্ষা নেন নি, শিক্ষা দেন ও না। তা আপনাদের ঈমান-আকিদা, আচার আচরণ হতেই স্পষ্ট প্রমাণিত। ওয়াজ নামক আওয়াজে আপনার মতো মহিষের গর্জ্জন সাড়ে তের শত বছর পূর্ব হতেই শুরু হয়েছে, এখনো কেরছেন; আর কত দিন এ ধরনের চিৎকার করবেন? আপনাদের এ সমস্ত আচরণের ফলাফল এক সত্য সনাতন ইসলামকে তেহাত্তর তালি পোশাক পড়িয়ে জোকার সাজিয়ে অন্যান্য জাতির সামনে তুলে ধরেছেন, পবিত্র ইসলাম ধর্মকে কলঙ্ক করছেন। আর কী করতে চান? তারপরও আপনাদের বোকামিপূর্ণ মহিষের গর্জ্জনসম আস্ফালন বন্ধ হচ্ছে না? বোকায় বুঝে না সে কতো বড় বোকা। আপনার/আপনাদের ভাবখানা “মুই কী হনু রে।” আপনি/আপনারা কিছুই হন নি, হয়েছেন সত্যভ্রষ্ট। সত্যকে স্বীকার করা সত্যনিষ্ঠ ব্যক্তি ব্যতীত আর কারো দ্বারা মোটেও সম্ভব নয়।
খাজা রজ্জব দেওয়ান এর একটি গানের তাফসীর
হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী

