সংকলন – মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন চিশতী
সিজদা শব্দের অর্থ : ইবাদতের জন্য মস্তক অবনত করা । আনুগত্য স্বীকার করা, নম্রতা ও বশ্যতা স্বীকার করা, আত্মসমার্পন করা, ও কাকুতি মিনতি সহ ষষ্ঠাঙ্গে মাথা নত হওয়া ইত্যাদি অর্থ ও বুঝায় ।
শাস্ত্রবিদগণ সিজদাকে সাধারণতঃ পাঁচ প্রকার উল্লেখ করেছেন । যথা- (১) আবু দিয়াত (২) ফরজিয়াত (৩) এবাহাত (৪) জাওয়াজা ও (৫) তাহিয়াত বা তাজিমী । ইসলামের মধ্যে দু’টি দিক রয়েছে একটি জাহেরী অপরটি বাতেনী সেই লক্ষ্যে কেউ কেউ সিজদাকে মোট দুই ভাগে ভাগ করেছেন । একটি হলো ইবাদতী সেজদা আর অপরটি হলো সম্মানের বা তাজিমী সিজদা । প্রথমত – ইবাদাতী সিজদা। এই সিজদাটি শুধুমাত্র মহান আল্লাহ্ পাকের জন্য নির্দিষ্ট, যা আদায়ের কিছু শর্ত রয়েছে যেমন অজু করা, নিয়ত করা, কিবলামুখী হওয়া, রুকু করা তাশবীহ পাঠ করা এবং ষষ্ঠাঙ্গে মাটিতে কপাল ও নাক রাখা । আর দ্বিতীয় – তাজিমী সিজদা। এই সিজদা আদায়ের কোন অযু কিবলামুখী তাসবীহ পাঠ ইত্যাদি শর্ত থাকে না। ইহা আল্লাহর প্রিয় মোমিন মুত্তাকীন, খাস বান্দাগণের সম্মানের জন্য নির্দিষ্ট । তাজিমী সিজদাটি নিয়ে মুসলিম সমাজে মতভেদ রয়েছে ।
এক শ্রেণীর লোক তাজিমী সিজদাকে শিরক ও হারাম বলে থাকেন, তাদের ফতোয়া হলো আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে মাথা নত করা যাবে না । বিচার্য, অনেক সময় অনেক কাজের প্রয়োজনেই জাতিধর্ম নির্বিশেষে প্রায় সবাই মাথা নীচু করে বা মাথা নীচু হয় তাই বলে সেটাকে সিজদা বলা হয় না এবং বলা যাবে ও না । কারণ আল্লাহ পাকের জন্য নির্দিষ্ট সিজদার নিয়ত ও নিয়ম কানুন রয়েছে । সুতরাং মাথা নীচু হলেই সেটা সিজদা হবে না এবং শিরিক ও হারাম কার্য্য ও হবে না । “ইন্নামাল আমালু বিন্নিয়্যাত” । অর্থাৎ সকল কাজের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের উপর (বুখারী শরীফ) উদাহরণ স্বরূপ বলছি । মুসুল্লীগণ যখন মসজিদের ভেতরে নামাজ আদায় করে। তখন পিছনের কাতারের লোকদের সিজদা সামনের কাতারের লোকদের পায়ের পেছনে পড়ে, মসজিদের টাইলস বা মেঝেতে মাথা নত করা হয়, তবে এটা কি শিরক হবে ? অবশ্যই হবে না । কেননা আমাদের নিয়ত হলো আল্লাহকে সিজদা দেওয়া । কাজেই অনুধাবন করতে হবে যে, ইবাদতের জন্যে সিজদা এক মাত্র আল্লাহ্ পাকের প্রাপ্য । আর ইবাদতের জন্যে না হয়ে শুধুমাত্র (দলিল মতে) সম্মান সূচক সিজদা করা হয় উহাই তাজিমী সিজদা । যা অবশ্যই বৈধ ছিল । এখনো তা বৈধ বা জায়েজ আছে । তাজিমী সিজদা সম্পর্কে পবিত্র কোরআন হাদিস, ইমাম মজুতাহিদ ও পীর মাশায়েখগণের দলিল পেশ করছি।
পবিত্র কোরআনের দলিল
(১) সুরা বাকারা-৩৪নং আয়াত
(২) সুরা ইউসুফ- ১০০নং আয়াত
(৩) সুরা- আরাফ ১২০নং আয়াত
(৪) সুরা- হিজর ৩০নং আয়াত
(৫) সুরা বনি ইসরাঈল ৬১ নং আয়াত
(৬) সুরা কাহাফ ৫০নং আয়াত
(৭) সুরা ত্বাহা ১১৬নং আয়াত
(৮) সুরা ছোয়াদ ৭৩নং আয়াত
এখানে স্মর্তব্য, যে উপরিউক্ত আয়াতে যে সব সিজদার কথা বলা হয়েছে তাছিল মহান আল্লাহ্ পাকের আদেশ এবং নিছক সম্মান বা তাজিমী সিজদা ।
প্রিয় পাঠক : কোরআন শরীফের বহু আয়াত দ্বারা তাজিমী সিজদা জায়েজ প্রমাণিত হলো ।
হাদিস শরীফ এর দলিল
কদম বুছি বা পদ চুম্বন এর সপক্ষে যতগুলো হাদিস উল্লেখ করা হইয়াছে সে সকল হাদিস সমূহই তাজিমী সিজদার ক্ষেত্রে বৈধ দলিল কেননা কদম বুছি বা পদ চুম্বন করতে গেলে আদব মহব্বত ও সম্মানের সাথে মাথা নত করতে হয় । যাহা তাজিমী সিজদার অন্তর্গত । তার পরেও কয়েকটি হাদিস পাঠক সমাজে উপস্থাপন করছি।
হাদিস-১ : হযরত ইবনে খোজাইমা ইবনে সাবেত (রাঃ) তাঁর চাচা হতে বর্ণনা করেন যে ঘুমন্ত ব্যক্তি যেভাবে স্বপ্ন দেখে তিনি অনুরূপ স্বপ্ন দেখেছেন যে, তিনি রাসুলুল্লাহ (সঃ) এর কপাল মোবারকে সিজদা মহানবী (সঃ) কে এ কথাটি বলা হলে, নবীজি বললেন তুমি স্বপ্নটি বাস্তবায়ন করো । এই বলে নবী করিম (সঃ) চিৎ হয়ে শুয়ে পড়লেন এবং ইবনে খোজাইমার চাচা আবু খোজাইমা হুজুর (সঃ) এর কপাল মোবারকে সিজদা করলেন । (মেসকাত স্বপ্ন পূর্ব)
হাদিস-২ : একবার মহানবী (সঃ) কয়েকদিন অনাহারে ছিলেন । তিনি মসজিদে এসে উপবেশন করলেন । অতঃপর হযরত আবু বকর (রাঃ) আসলেন এবং বসলেন তারপর হযরত ওমর (রাঃ) এসে বসলেন রাসুলুল্লাহ (সঃ) যখন জানতে পারলেন একই কারণে তারাও ঘর হতে বের হয়েছে । তখন হুজুর (সঃ) বললেন তোমরা আমার সাথে তার নিকট চলো । এই বলে হুজুর (সঃ) তাদেরকে নিয়ে আবুল হুসাইন আনছারী (রাঃ) এর বাড়ীতে গেলেন । রাসুল (সঃ) বললেন আমরা কেন এসেছি জান কী ? তিনি বললেন হুজুর আপনি বলুন । হুজুর (সঃ) বললেন তুমি বলেছিলে যে আমার জন্য খেজুরের শীষ রেখেছো । এখন উহা আন আমরা সকলে খাবো একথা শুনে খুশীতে হযরত আবুল হুসাইন আনছারী (রাঃ) নবীজির কদম মোবারকের উপর লুটে পড়লেন । ( মুকতুবাতে সদী ৩ খন্ড ৬৯-৭০) ।
হাদিস-৩ : একদা রাসুলে করিম (সঃ) হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহর বাড়ীতে দাওয়াত খেতে যাবেন বিধায় । তিনি একটি বকরী জবেহ করেছিলেন ঐ দিনই বকরী জবেহ কিভাবে করেছেন তা দেখাতে গিয়ে হযরত জাবেরের বড় ছেলে ছোট ছেলেকে জবেহ করে মেরে ফেলে । তাঁর মা এ দৃশ্য দেখে দৌড়িয়ে কাছে গেলে বড় ছেলে ভয়ে ছাদে উঠে যায় এবং সেখান থেকে পড়ে গিয়ে সেও মারা যায় । খানা খাওয়ার পূর্ব মুহূর্তে রাসুলুল্লাহ (সঃ) এ ঘটনা জানতে পেরে ছেলেদের জন্যে আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন এবং সাথে সাথে দুই ছেলেকেই আল্লাহ পাক জীবিত করে দিলেন ঐ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে হযরত জাবের এবং তাঁর স্ত্রী হুজুর (সঃ) এর পদ তলে সিজদা করলেন (শাওয়াহেদুন নবুয়ত ১০৮-৯পৃ.)
হাদিস-৪ : আবু দাউদ তায়ালিসী (রহ) বলেছেন । মক্কার বাসিন্দা জাফর ইবনে ওসমান আল কুরাইশী (রহ) বলেন মুহম্মদ ইবনে আব্বাস ইবনে জাফর (রাঃ) কে আমি দেখেছি হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করেছেন এবং তাতে সিজদা করেছেন । তারপর আমাকে বলেছেন তোমার মামা ইবনে আব্বাস (রাঃ) কে আমি দেখেছি তাকে চুমু খেতে এবং তাতে সিজদা করতে এবং ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন ওমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) কে আমি দেখিছি তাকে চুমু খেতে এবং তাতে সিজদা করতে (আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৫ম খন্ড ২৬২ পৃ.) ।
অত্র হাদিস দৃষ্টিতে প্রতীয়মান হয় যে আল্লাহর নির্দেশিত যেকোন পবিত্র স্থান ও বস্তুকেও তাজিমী সিজদা দেওয়া জায়েজ আছে । “আল্লাহ পাক এরশাদ করেন : অতঃপর বায়তুল মুকাদ্দিসের দরজা দিয়ে সিজদাবনত মস্তকে প্রবেশ কর এবং বল আমাদের গুনাহ মাফ করা হোক (বাকারা ৫৮) এ আয়াত থেকে জানা গেল যে পবিত্র স্থান তথা বায়তুল মোকাদ্দাস এ আল্লাহ পাক মাথা নত করে প্রবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছেন । প্রমাণ হলো মাথা নত করলেই সেটা শিরক হবে না । শিরকের সংজ্ঞা জেনে ফতোয়া দেওয়া উচিত ।
ইমাম ও মুজতাহিদগণের তাজিমী সিজদা সপক্ষে মতামত
(১) তাফসীরে হক্কানী ৬ষ্ঠ খন্ড ৪৫ পৃ.
(২) তাফছিরে ফতুহুল আজিজ ১ম খন্ড ২৪৮ পৃ.
(৩) আশয়াতুল লুমাত (মেশকাতের শরার ১ম খন্ড)
(৪) ফতওয়ায়ে কাজী খান ৪র্থ খন্ড ৩৭৮ পৃ.
(৫) ফতওয়ায়ে আলমগীরী ৫ম খন্ড ৩৭৮ পৃ.
(৬) ফতওয়ায়ে আজিজিয়া (১৩২২হিঃ) ২য় খন্ড ২২১ পৃ.
(৭) ফতওয়ায়ে শামী ৪৪৪ পৃ.
(৮) জাওয়াহেরুল বিহার ১ম খন্ড ১৫২ পৃ.
(৯) মাদারেজুন নবুয়াত ১ম খন্ড ৪৪৮ পৃ.
(১০) মেশকাতুল মাসাবিহ ৩৯৬-৪০৮ পৃ.
(১১) তালবীহ ১৭৮ পৃ.
(১২) জামেনুর ৬৩ পৃ.
(১৩) মাদারেজুন নবুয়াত ২য় খন্ড ৩৯৪ পৃ.
(১৪) মমতাজুল ফতওয়া ১১২ পৃ.
(১৫) খাসায়েছুল কোবরা ১ম খন্ড ৩৪৫ পৃ.
(১৬) আল বিদায়া ওয়ান নিহায়া ৪৩৭/৩৮পৃ.
(১৭) তাফসীরে মোয়ালেমাত তানজীল ২১-২২ পৃষ্টা
(১৮) তাফসীরে মাদারেক ৪১ পৃ.
(১৯) তাফসীরে আবীছ সাউদ ১০৭ পৃ.
এই বর্ণনার সাথে তাফসীরে বাইযাবী ও তাফসীরে কবীর একমত পোষণ করেছেন । উপরোল্লেখিত প্রসিদ্ধ তাফছির ফতওয়া ও সহি গ্রন্থ সমুহে তাজিমী সিজদা বৈধ বা জায়েজ বলেছেন ।
অলীগণ তাজিমী সিজদা দিয়েছেন ও গ্রহণ করেছেন তার দলিল
(১) গুণিয়াতুত তালেবীন ৬৫১ পৃ. (২) বাহজাতুল আসরাব (বাংলায় গাউছুল আযম) ৩৬ পৃ. (৩) আনিসুল আরওয়াহ ১৪-৪৮ (৪) মসনবী শরীফ ২য় খন্ড ৭৪-৭৫ পৃ. (৫) দলিলুল আরেফীন ১২৮-১২৯-১৫২-১৫৩ পৃ. (৬) ফাওয়ায়েদুস সালেকীন ১৯৬ পৃ. (৭)রাহাতুল কুলুব ৯৪ পৃ. (৮) রাহাতুল মহিব্বীন ৭০-১২৮ পৃ. (৯) আনওয়ারে আউলিয়া ১৬৭ হতে ১৭০ পৃ. (১০) ফাওয়ায়েদুল ফাওয়াদ ৪০ পৃ. (১১) লাতায়েফে আশরাফী ২য় খন্ড ২৯ পৃ. (১২) মাকতুবাত ২য় খন্ড ৬৫ পৃ. (১৩) তারিখে ফেরেস্তা ৪২ পৃ. (১৪) তাযকেরাতুল আউলিয়া (শায়খ ফরীদ উদ্দীন আত্তার) ১ম খন্ড ৩৮-৩৯-৪৯-১৩৮ পৃষ্ঠা (১৫) সুফী শব্দকোষ ১০০-১পৃ.)। ভেবে দেখুন, মহান আল্লাহর অলীগণের পক্ষ হতে এ ধরণের হাজারো দলিল পেশ করা যেতে পারে। ইন্শাল্লাহ । তবে যারা মানতে রাজী নন, তাজিমী সিজদা, নাম শুনলে কিংবা দিতে দেখলে শরীরে এলার্জি শুরু হয়ে যায় তাদেরকে বুঝানো মুস্কিল? পবিত্র কোরআন শরীফে হযরত আদম (আঃ) কে ফেরেস্তাগণের সিজদা করার প্রসঙ্গ (সুরা বাকারা ৩৪ নম্বর আয়াত)। হযরত ইউসুফ (আঃ) কে তাঁর পিতা মাতা ও ভাইদের সিজদা করার প্রসঙ্গ (সুরা ইউসুফ ১০০ নং আয়াত) হযরত মুসা (আঃ) কে যাদু করের সিজদা প্রসঙ্গ (সুরা আরাফ ১২০ নং আয়াত) ও জুনদা ইবনে আমর ছয় হাজার অনুসারী সহ হযরত সালেহ (আঃ) কে সিজদা দেওয়ার দলিল (তাফসীরে ফতহল আজিজ ২৮৪ পৃ.) ইত্যাদি স্পষ্ট প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও যারা তাজিমী সিজদা শিরক ফতওয়া দেয় আল্লাহ্ তাদের হেদায়েত দান করুন ।
তাজিমী সিজদার বিপক্ষদের বক্তব্য
মানুষ হয়ে মানুষকে সিজদা করা হারাম, শিরক, কবিরা গুনাহ্ ইত্যাদি । সিজদার পক্ষে যখন কোরআনে উল্লেখিত দলিল গুলো পেশ করা হয়- তখন তারা বলে উহা তখনকার যুগে বৈধ বা জায়েজ ছিল । বর্তমান হুজুর (সঃ) এর শরিয়তে জায়েজ নাই । এই বয়ান যদি সঠিক বলে মেনে নেওয়া হয় তবে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর হুকুমে ফেরেশতা ও পূর্বের নবী রাসূলগণকে তাজিমী সিজদা প্রদান ও গ্রহণ করে শিরক ও কবিরা গুনাহ্ করেছেন (নাউজুবিল্লাহ) । সমস্ত নবী রাসুল গনই মাসুম তথা নিস্পাপ । যুগে যুগে আল্লাহ্ নবী রাসুল গনকে দুনিয়াতে প্রেরণ করেছেন সকল প্রকার অন্যায় অবিচার শিরক বিদাত দূরীভূত করে সাম্য শান্তি ও তৌহিদ প্রতিষ্ঠার জন্য আর সেখানে তারাই শিরক করেছেন ? এ কথাটি ভাবাই মস্ত বড় অন্যায় । আল্লাহ পাকের বিধানে সমস্ত নবী রাসুলগণের শরীয়াতে শিরক, কুফর, ঈমান, আকীদার সংজ্ঞা গুলি খন্ডিত বিষয় নয় । আল্লাহ পাক বলেন : ওয়ালান তাজিদা লিসুন্নাতিল্লাহি তাবদিলা অর্থাৎ অতঃপর আল্লাহর বিধানের কোন পরিবর্তন নাই । (সূরা আহযাব ৬২ নং আয়াত) । পূর্বে যাহা জায়েজ ও হালাল ছিল বর্তমান উহা নাজায়েজ ও হারাম হবে এরকম পরিবর্তনশীল বিধান আল্লাহর নয় । পবিত্র কোরআন সূরা আহযাবের ৬২নং আয়াত হতে তাহাই প্রমাণিত হলো ।
আলোচ্য প্রসঙ্গে সঠিক সিদ্ধান্ত এই যে আল্লাহ্ ও তার রাছুল প্রতিবাদহীন ভাবে যে সব রীতিনীতি বা ঘটনা বর্ণনা করেছেন তা মেনে চলা আমাদের জন্য আমাদের রাসুলের শরীয়তের মতোই বাধ্যতামূলক (ইমাম আবু হানিফা) তাফসীরে কাশশাফ, মাদারিক, কবির, খাযেন, বাইযাবী, আহমদী ও মঈনুদ্দীন ইত্যাদি গ্রন্থ সমূহে এবং সকল ফিকাহবিদগণ একমত যে হযরত আদম (আঃ) ও হযরত ইউসুফ (আঃ) এর প্রতি সিজদাটি ছিল “তাজিমী সিজদা” যেহেতু ইহা কোরানে বর্ণিত পূর্ববর্তী নবীদের ঘটনা এবং এ ব্যাপারে কোন নিষেধাজ্ঞা আয়াত নাযিল হয়নি এবং কোন “খবরে মুতাওয়াতির বা হাদিসে মুতাওয়াতার” নেই বিধায় পূর্ব নবীদের তাজিমী সিজদা এখনও জায়েজ রয়ে গেছে । প্রিয় আশেকান অধমের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টায় তাজিমী সিজদা প্রসঙ্গে যে সকল দলিল আদিল্লা পেশ করলাম । এতে যদি সত্যানু সন্ধানীদের কিঞ্চিত উপকার হয় তবেই শ্রম সার্থক হবে বলে আশা বাদি । পরিশেষে আমার মহাত্মন মুর্শিদ কেবলা জানের রচিত সুফী শব্দকোষ পুস্তকের উদ্ধৃতি দিয়ে শেষ করছি । সবদিক বিবেচনা করে এই মতামত দেয়া যেতে পারে যে তাজিমী সিজদার বহুল প্রচলন যেহেতু সমাজ স্বাভাবিক ভাবে মেনে নেয় না বিধায় স্থানকাল পাত্র ভেদে তাজিমী সিজদার প্রচলন সতর্ক ও সীমিত পরিসরে চলতে পারে । (শাহ্সুফী ডক্টর ফকীর আব্দুর রশীদ চিশতী ” সুফী শব্দ কোষ ১০১ পৃ.)
হে আল্লাহ সকলকে সঠিক পথে চলার তৌফিক দিন আমিন । “ওয়া লিল্লাহে ইজ্জাতু ওয়ালি রাসুলিহী ওয়াল্লি মোমেনীনা ওয়া লাকিন্নাল মুনাফেকীনা লাইয়ালামুন”
অর্থাৎ : এবং ইজ্জত আল্লাহর জন্য রাসুলের জন্য এবং মুমিনদের জন্য । কিন্তু মুনাফিকগণ তা বুঝে না (সুরা মুনাফিকুন : ৮ নম্বর আয়াত)
সংকলন – মাওলানা মোফাজ্জল হোসাইন চিশতী