আপন ফাউন্ডেশন

Date:

দ্বীনে মুহাম্মদী ও আহলে বাইয়্যেত

ফেসবুক পেজ
ইউটিউব চ্যানেল

লেখক – কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী

দ্বীনে মুহাম্মদী ও আহলে বাইয়্যেত অবিচ্ছিন্নভাবে আছে। আহলে বাইয়্যেতের মাধ্যম ছাড়া দ্বীনে মুহাম্মদী প্রতিষ্ঠিত করা সম্ভব নয়। আর দ্বীনে মুহাম্মদী কায়েম না হলে মানব সুরত ভেঙ্গে জাহান্নামী সুরত নিয়ে দোযখে বাস করতে হবে। শাস্ত্রে বর্ণিত কালাম হলো- অন্যান্য নবীদের অনেক উম্মতের চেহারা পরিবর্তন হয়েছে। কিন্তু উম্মতে মুহাম্মদীর সুরত পরিবর্তন বা বিকৃত হবে না। এর কারণ কি? কারণ, যারা উম্মতে মুহাম্মদী তারা মুহাম্মদী দ্বীনকে ধারণ করেছে তথা স্বীয় সত্তায় কায়েম করেছে বিধায় তাদের চেহারা পরিবর্তন হবে না। অর্থাৎ তারা আল্লাহর সুরতে কায়েম হয়ে আছে। “দ্বীনে মুহাম্মদী হলো যে দ্বীনকে ধারণ করলে মানব সুরত কায়েম থাকে।” অর্থাৎ হায়ানী আত্মার জগত থেকে বের হয়ে ইনসানী আত্মাতে কায়েম হয়ে যাওয়া।

দ্বীনে মুহাম্মদীই হলো ইসলাম। এজন্যই বলা হচ্ছে- “ইয়া আইউহাল্লাজিনা আমানুদ্খুলু ফিসসিলমি কাফফাতান” অর্থাৎ- হে তোমরা যারা ঈমান এনেছ! ইসলামের মধ্যে পরিপূর্ণ রূপে দাখেল হও তথা প্রবেশ করো বা ইসলামে কায়েম থাকো (সুরা বাকারা- ২০৮)।

‘মানুষের এক নাম মুহাম্মদ।’ মুহাম্মদের দ্বীনের ভিত্তি হলো মিল্লাতে ইবরাহীম। “মিল্লাতে ইবরাহীম হলো আল্লাহকে দেখে বিশ্বাস করা।” কাজেই যারা আল্লাহর অনুমতি নিয়ে ঈমান আনে নি তারা ঈমানদার নয়, মুসলিম নয়। আর ঈমানদার না হলে দ্বীনে মুহাম্মদীর মধ্যে দাখেল হওয়ার কোনো সিষ্টেম নেই। যারা আল্লাহর অনুমতি নিয়ে ঈমান এনেছে তাদের প্রথম কাজই হলো আগুন বস্তুর নফস আম্মারার ফেলগুলো তথা শয়তানের গুণখাছিয়ত হতে বের হয়ে যাওয়া (সুরা বাকারা- ২০৮)। আগুন বস্তুর আত্মা হায়ানী। পশু আত্মার সিরাতের মাঝে অসংখ্য সুরত নিহিত আছে যারা ঐ সিরাত ধারণ করছে মৃত্যুর পর তাদের মানব সুরতকে পরিবর্তন করে দোযখী সুরতে তথা পশুর সুরতে কায়েম করে দেয়া হবে অর্থাৎ সুরত বদল করে দিবে।

উম্মতে মুহাম্মদীগণ সেই শয়তানের ফেল হতে মুক্ত হওয়ার সাধনায় কামিয়াবী বিধায় উম্মতে মুহাম্মদীগণের সুরত পরিবর্তন হবে না। আল্লাহর সিরাত হতে মানুষের সুরত সৃষ্টি আবার হায়ানী সিরাতের কারণে সুরত বদল হয়ে যাবে তথা আসফালাস্ সাফলিন হবে (সুরা তীন)। সুতরাং বলা যায় যারা হায়ানী আত্মার ফেলগুলো মনের মধ্য হতে দূর করে দিয়ে ইনসানীয়াত কায়েম করেছে বা করার সাধনা করছে একমাত্র তারাই হলো উম্মতে মুহাম্মদী এবং তারাই দ্বীনে মুহাম্মদীতে কায়েম আছে। কারণ, ইসলাম হলো স্বভাব ধর্ম (আল ইসলামু দ্বীনুল ফেৎরাত)।

হায়ানীয়াত হতে ইনসানীয়াতে কায়েম হওয়া মানব ধর্ম তথা ইসলাম বা দ্বীনে মুহাম্মদী। যারা দ্বীনে মুহাম্মদীতে কায়েম আছে তারাই খফির ঘর মুহাম্মদ এবং সে ঘরের বাসিন্দা চারজনকে ধারণ করেছে তথা মানব সুরত কায়েম করেছে তথা আল্লাহর সুরতে কায়েম হয়ে আছে।

কোরানের কালাম হলো “সিফ্গাতাল্লাহ্” অর্থাৎ আল্লাহর রং তথা ঈশ্বরের রং (সুরা বাকারা- ১৩৮)। এ রং হলো আল্লাহর ফেৎরাত বা সিরাত- যা আল্লাহর রহমতপূর্ণ সপ্তগুণ। ইহাই ফেৎরাতে আহসান এবং আল্লাহর ফেৎরাত বা সিরাত হতেই মানুষ সৃষ্টি। আল্লাহর সিরাত আল্লাহরই সুরত প্রকাশ করে। যেহেতু সৃষ্টি মানেই অবিকল প্রকাশ আর মানুষ হলো আল্লাহর সৃষ্টি, কাজেই মানুষ আল্লাহর অবিকল প্রকাশ। ইহাই হলো আহসান সুরত। এই সুরত হেফাজত করাই মানুষের সাধনা। এজন্য কোরানের কালাম হলো- “ফেৎরাতাল্ লাহিল্লাতি ফাতারান্ নাসা আলাইহা” (সুরা রুম- ৩০) অর্থাৎ আল্লাহ যেই প্রকৃতির (ফেৎরাতের) উপর মানবজাতিকে সৃষ্টি করেছেন, তা-ই তো তাদের জন্য আল্লাহর একমাত্র ফেৎরাত। আল্লাহর সেই ফেৎরাত হারানোই পাপ আর সেই ফেৎরাত ধারণ করাই হলো পুন্য, ধর্ম। পুণ্যের ফল মানব সুরতে কায়েম থাকা তথা ইল্লিনে বাস করা। ইল্লিন এবং সিজ্জিন মুর্কারাবুন ব্যক্তিগণ দেখতে পাবে (সুরা মুতাফ্ফিফিন- ২১)।

যারা দ্বীনে মুহাম্মদীতে দাখেল হয় নি বা উম্মতে মুহাম্মদী নয় তারা ইল্লিন-সিজ্জিনের পরিচয় পাবে না, শুধু অনুমান-কল্পনায় একটি ধারণা রাখবে। ইল্লিন হলো জান্নাতী জীবন এবং এরাই নগদ বা বর্তমান জান্নাতে বাস করছে (ইয়া আইউহাতুন্নাফসুল মুৎমাইন্নাহ্- সুরা ফজর- ২৭)। মুহাম্মদের সাথেই তার আহলে বাইয়্যেত আলী, ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন কায়েম আছেন- এদেরকে আঁকড়ে থাকাই ধর্ম-কর্ম (সুরা ইমরান- ১০৩)। মুহাম্মদের আহলে বাইয়্যেত ছাড়া সৃষ্টির অস্তিত্ব সম্ভব নয়, আল্লাহর কালাম প্রকাশও সম্ভব নয়। দ্বীনে মুহাম্মদীতে কায়েম না হলে আহলে বাইয়্যেত হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হবে এবং আল্লাহর কালামও নাজিল হবে না বা কালিমুন প্রকাশ হবে না। কারণ, আল্লাহর মতলেক কালাম হুসাইনের জলিতে প্রতিঘাত হয়ে নাতেক হচ্ছে।

মানব সুরতকে কায়েম করতে না পারলে মানুষ প্রথমেই যা হারাবে তা হলো আল্লাহর কালাম বা বাকশক্তি তথা স্বরসতী মানুষের সাথে থাকবে না তথা স্বরসতী উঠে যাবে। মুহাম্মদ হতে হুসাইন এবং হুসাইন আছেন মুহাম্মদী সুরতে। শেষে মুহাম্মদ-হুসাইন এক অজুদ। এজন্যই রাছুলের কালাম হলো- “হুসাইন মিন্নি ওয়া আনা মিনাল হুসাইন” অর্থাৎ হুসাইন আমা হতে এবং আমি হুসাইন হতে। প্রথম মুহাম্মদ হতে হুসাইন পরে হুসাইন হতে মুহাম্মদ। মুহাম্মদ এবং হুসাইনের অপূর্ব মিলন ঘটে মানুষ মোহনায় এসে এবং সেই পাক মানুষে আল্লাহর কালাম জারি আছে। আল্লাহপাক যা দেখতে চেয়েছেন মুহাম্মদের (সাঃ)-এর মাঝে তা দেখার সাথে সাথে নবুয়ত খতম করলেন তথা সৃষ্টির বিবর্তন থেমে গেলো।

হাদিসের কালাম হলো- রাছুল (সাঃ) দু’টি জিনিস রেখেছেন। এক আল্লাহর কালাম- যা কোরান, দ্বিতীয়ত তার পবিত্র আহলে বাইয়্যেত। এরা কখনো বিচ্ছিন্ন হবে না (মেশকাত- ৫৮৯২-৯৩ নম্বর হাদিস) এবং তা চিরবর্তমান। যারা কোরান আর সুন্নাহ্ বুঝাচ্ছে তারা দ্বীনে মুহাম্মদীর লোক তথা উম্মতে মুহাম্মদী নয়। এরা কোরান থেকে আহলে বাইয়্যেতকে আলাদা করছে তথা খন্ডন করছে। অন্ধ-মূর্খরা বুঝে নি কোরান আর আহলে বাইয়্যেত অবিচ্ছিন্ন অবস্থায় চিরবর্তমানে বিদ্যমান। যারা কোরান খন্ডন করেছে তারা আহলে বাইয়্যেত হতে বিচ্ছন্ন হয়ে গেছে এবং এর পরিণাম হলো দোযখ ভোগ করার জন্য কর্ম লেবাস বদল হয়ে যাবে। যারা আল্লাহর কালামের খন্ডন করেছে তারাই আল্লাহর কৌফিয়তের সম্মুখীন হবে তথা দোযখগামী হবে (সুরা হিজর- ৯৭)।

এই কোরান নবীর আহলে বাইয়্যেত যোগে নাজিল হচ্ছে। এই কোরান কাগজে থাকে না। ইহা আল্লাহর নাজিলকৃত নুরী কোরান তথা আরবী কোরান (সুরা জুখরুফ- ৩)। আর কাগজে লিখিত কোরান- যা কিসসা কোরান বলে বিধৃত আছে তা আল্লাহপাক নিজেই খন্ড খন্ড করে তেইশ বৎসরে নাজিল করেছেন (সুরা দাহর- ২৩)। সুতরাং কোরান খন্ড করা মানে আহলে বাইয়্যেত হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া তথা নিজেকে হারিয়ে ফেলা বা দোযখে নিক্ষেপ করা। কাজেই যে মানুষ দোযখী হবে তার কর্ম লেবাস বদলের কারণে আল্লাহর পাক কালাম তথা আল্লাহু কালিমুন উঠে যাবে। যার দীলে আল্লাহর কালাম আছে সে কখনো দোযখে যাবে না।

এটা মাদ্রাসা হতে কোরান মুখস্তকারী নয়, যাদেরকে তথাকথিত মুসলিম সমাজ কোরানে হাফেজ বলে জানে। এই ধরণের আড়াইশত কোরানে হাফেজ (মুখস্তকারী) ইয়াজিদের দলেও ছিল। এখন আছে লক্ষ লক্ষ। তারা মুসলমান কি না, জারজ কি না (হায়ানী আত্মার অধিকারী) তা জানা বুঝা দরকার। আরবী কোরান আল্লাহপাক নিজেই শিক্ষা দেন (সুরা রহমান)। এই কোরান কোনো মাদ্রাসায় শিক্ষা দেয়া হয় না, তারা এই কোরানের খবরও জানে না। “ফী কিতাবুম্ মাকনুনিন” এর মধ্যে সাতটি নুরের ফলকে ঐ কিতাব লিপিবদ্ধ আছে।

যারা পবিত্র তারা ব্যতীত ঐ কিতাব কেহ পাঠ করতে পারে না, স্পর্শও করতে পারবে না (ওয়াকিয়া- ৭৯)। নবীর আহলে বাইয়্যেত যোগে ঐ কিতাব নাজিল হচ্ছে। “নাজিল হচ্ছে নূরী সাত অক্ষরে আর তা লেখা হচ্ছে নুরী তিরিশ অক্ষরে।” আল্লাহ যাকে কোরান শিক্ষা দেন তখন তাঁর সে বান্দা আল্লাহকে চিনতে পারে এবং একমাত্র আল্লাহরই ইবাদত করে, সেজদা করে। চোখ খুলে দেখো রব রহমান আল্লাহ কিভাবে তার বান্দাদেরকে তাঁর পাক কালাম শুনাচ্ছেন। সে কালাম শ্রবণে ঈমানদারগণ খাঁটি ইনসানে পরিণত হচ্ছেন (সুরা রহমান- ৩)।

আল্লাহর সে বান্দাগণই একমাত্র বলতে পারেন- “ইয়্যাকানাবুদু ওয়া ইয়্যাকানাস্তায়িনু।” অর্থাৎ আমরা একমাত্র তোমারই ইবাদত করি এবং একমাত্র তোমারই সাহায্য প্রার্থণা করি (সুরা ফাতেহা- ৪)। ইয়াজিদ আল্লাহর এ কালাম শুনতে পাবে না, বরং সে এ কালামের অস্বীকারকারী হবে। কারণ, সে আহলে বাইয়্যেত হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। যারা আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে ঈমান এনেছে (সুরা ইউনুছ- ১০০) তারাই দ্বীনে মুহাম্মদীতে দাখেল হয়েছে, যারা দ্বীনে মুহাম্মদীতে দাখেল হয়েছে তারাই আহলে বাইয়্যেতকে ধারণ করে মুক্তি লাভ করছে। যারা আহলে বাইয়্যেত হতে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে তারা আল্লাহর কালাম কোরান শ্রবণ করতে পারবে না। যারা আল্লাহর কালামের শ্রবণ হতে দূরে থাকবে তারা অবশ্যই দোযখগামী হবে। সুতরাং মানব জাতির মুক্তির জন্য মুহাম্মদ (সাঃ) এবং তাঁর পাক আহলে বাইয়্যেতকে ধারণ করতেই হবে। দ্বীনে মুহাম্মদী তথা ইসলামই একমাত্র মানব মুক্তির ধর্ম।

এই ইসলাম গন্ডীভূত কোনো ধর্ম নয়, ইহা মানব জাতির মুক্তির বিধান। রাম, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, ঈসা, মুসা যতো আছে সবার অস্তিত্বে এক মুহাম্মদই আছে এবং এক মুহাম্মদকে ধারণ করেই এই মানব মুক্তির বিধান তথা দ্বীনে মুহাম্মদী প্রচার করছে। প্রত্যেক মানুষের সাথেই পবিত্র আহলে বাইয়্যেত জড়িত আছে।

তারা দ্বীনে মুহাম্মদীতে কায়েম হয়েই মানবরূপে প্রেরিত বা অবতার হচ্ছে। একই পবিত্র সত্তার প্রবাহিত রূপ এরা। পাক মানুষ তথা প্রেরিত বা অবতার বহু হয়ে এক অখন্ডকালে স্থিত হয়ে আছে। প্রেরিত বা অবতার যারা তারা এখন-তখন নয় তারা অখন্ডকালে স্থিত আছে, যুগে যুগেই তারা বর্তমান। তারা বহু হয়েও এক হয়ে অখন্ডকালে অবস্থান করছে। অখন্ডকালে স্থিত হচ্ছে আহলে বাইয়্যেতকে ধারণ করেই। অন্ধ-মূর্খদের দ্বারা যুগে যুগে ধর্ম এবং ধর্ম শাস্ত্রের অপব্যাখ্যা করা হয়েছে তথা মুতাশাবেহাত বা রূপক-কাঠামো দ্বারা ধর্ম প্রচার করা হয়েছে, ধর্ম কিতাবের মুহকামাত বুঝে নি। মুহকামাত বুঝলে দ্বন্দ্ব নিরসন হতো, ঐক্যতায় পৌঁছতে পারতো। মুহকামাত না বুঝার ফলে ধর্ম বিভক্ত হচ্ছে এবং ধর্মশাস্ত্র জাতি-গোত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ হচ্ছে এবং শত শত দল উপদলে মানুষ বিভক্ত হয়ে শেষে ধর্মের নামে অত্যাচার-নির্যাতন, ফতোয়াবাজি, মানুষ হত্যা চালাচ্ছে।

হুসাইনের প্রতিপক্ষ ইয়াজিদ। হুসাইন আর ইয়াজিদের দ্বন্ধ- এটা কোনো অতীত ঘটনা নয়। যেহেতু ধর্ম জ্ঞান হলো আত্মার জ্ঞান তথা আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং সমস্ত ধর্মশাস্ত্র আত্মার জ্ঞান হতেই আগত। কাজেই আধ্যাত্মিক জ্ঞান বা আত্মার জ্ঞানে জ্ঞানী ছাড়া ধর্মশাস্ত্র আর কারো বুঝার সাধ্য মোটেও নেই। এজন্যই আলেম-মোল্লাগণ ধর্ম জ্ঞানী নয়, বরং শাস্ত্র বিদ্যায় অন্ধ-মূর্খ। মহররম মাস কোনো অতীত-ভবিষ্যতের বিষয় অবশ্যই নয়, তা চিরবর্তমান। মহররম হতেই আগত মহররমের দশ। এখানেই হুসাইনের শহীদের স্থান। এই দশই আশারায়ে মোবাশ্শারা।

মহররম মাস হতেই হয় সৃষ্টির সূচনা। কোরানে বর্ণিত বারো মাস চিরন্তণ, শাশ্বত মাস এবং এই বারো মাস মিলে এক বৎসর। এই বৎসরের সুরত-শেকেল আছে। ইহা জাগতিক কোনো মাস নয়। কোরানের মুহকামাত বুঝলে তা জানা যায়। যারা হুসাইনকে চিনে তারা ইয়াজিদকেও চিনে। তবে দ্বীনে মুহাম্মদীতে যারা আছে তারাই একমাত্র চিনবে হুসাইনকে এবং ইয়াজিদকে। ইয়াজিদের অনুসারী হলে কভু হুসাইনকে চিনা সম্ভব নয়। আর হুসাইনকে না চিনলে আল্লাহর কালামকে ধারণ করা মোটেও সম্ভব নয়।

যারা আল্লাহর কালামের হেফাজতকারী নয় তারা মানব সুরত হারাবে মানে দোযখী হবে। আর দোযখীদেরকে তাদের চেহারা দেখে চিনা যাবে অর্থাৎ তাদের মানব সুরত পরিবর্তন হয়ে যাবে (সুরা রহমান- ৪১)। আল্লাহর কালামের হেফাজতকারীগণই হলেন কোরানে হাফেজ। আর কোরানে হাফেজগণ জান্নাতী মানুষ। তারা বহু হয়ে এক মানে “হিজবুল্লাহ”।

রাছুল (সাঃ)-এর কালাম- “তোমাদের মধ্যে ঐক্যতা সৃষ্টি করা নামাজ, রোজা, সদকার চেয়েও উত্তম”। এই ঐক্যতা সৃষ্টিকারীগণই হলো “হিজবুল্লাহ” তথা আল্লাহর দল। এই হিজবুল্লাহগণই আল্লাহর রজ্জু তথা আহলে বাইয়্যেতকে ধারণ করে চির মুক্তির দেশে অবস্থান করছে। যারা আহলে বাইয়্যেতকে অস্বীকার করছে তারা মূলতঃ নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করছে এবং কোরানের মুহকামাত তারা মোটেও বুঝে নি। যে কোরানের মুহকামাত বুঝে নি সে আল্লাহর কালামের কিছই বুঝে নি। যারা কোরানের মুহকামাত বুঝে তারা আহলে বাইয়্যেতকে বর্তমান চিনতে পারবে।

কোরান বিশ্বাস করা ফরজ, আহলে বাইয়্যেতকে বিশ্বাস করাও ফরজ। কোরান বিশ্বাস করলো আহলে বাইয়্যেত বিশ্বাস করলো না, তারা কুফরী করলো। আমাদের অধিকাংশ আলেম সমাজ এই কুফরীতেই লিপ্ত আছে। ইহাই তাদের অন্ধত্বের পরিচয়, মূর্খতার পরিচয়। এই সমস্ত মূর্খদের বিষবাষ্পে আক্রান্ত আজ মুসলিম সমাজ। পাকিস্তানের জাতীয় কবি আল্লামা ইকবাল বলছেন- “সবাই বলে মুসলমানরা নির্যাতিত হচ্ছে। আমি বলি কোথায়? সব দেখি মুসলিম বেশে বানর নৃত্য করছে!”

এ কথা অতীত নয়, বর্তমান। চোখ খুলে তাকালেই দেখা যাবে ধর্মের ছদ্মাবরণে বাহাত্তর কাতারই মুসলিম বেশে উলঙ্গ বানর নৃত্য করছে। এরাই হুসাইনের মোকাবেলায় দাঁড়িয়ে আছে। একবার মাওলা আলীকে নিয়ে খেজুর বাগানে হাটতে গিয়ে রাছুল (সাঃ) চিৎকার করে কেঁদে উঠলেন। মাওলা আলী (আঃ) কান্নার কারণ জিজ্ঞাসা করলে রাছুল (সাঃ) বললেন- “আলী আমি যখন থাকবো না তখন তোমাদের উপর অনেক অত্যাচার নির্যাতন আসবে। তুমি ধৈর্যের সাথে তার মোকাবেলা করিও। মাওলা আলী বললেন- ইয়া রাছুলুল্লাহ! এরা কি নিরাপত্তাসহকারে থাকবে? রাছুল (সাঃ) বললেন, হ্যাঁ! এরা ধর্মীয় নিরাপত্তা সহকারে বাস করবে” অর্থাৎ তারা ধর্মের ছদ্মাবরণে বাস করবে।

বুঝা দরকার রাছুলুল্লাহ (সাঃ) ওফাত লাভের সাথে সাথেই সেই ভবিষ্যত বাণী বাস্তবায়ন হয়েছিল। কারা রাছুল (সাঃ)-এর আহলে বাইয়্যেতের উপর অত্যাচার-নির্যাতন করেছিল! এই ষড়যন্ত্রের নেতৃত্ব কে কে দিয়েছিল! ইতিহাসে তার যথেষ্ট নজীর রয়েছে। এই ধর্মের ছদ্মাবরণে বাস করা এবং তাদের দ্বারা ধর্ম জ্ঞানীদের উপর অত্যাচার-নির্যাতন চালানোর কার্যটিও বর্তমান। ধর্ম জ্ঞানীরা নির্বাসিত, অন্ধ-মূর্খদের রাজত্ব চলছে মুসলিম সমাজে। হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান এবং মুসলমান সবার মাঝেই এই অন্ধ-মূর্খ জঙ্গী জঞ্জালগুলো ধর্মের ছদ্মাবরণে বাস করছে। এরা তখন আর এখন মিলে যুগে যুগেই বর্তমান বাস করছে। তুরস্কের জাতির পিতা কামাল পাশা এই ধরণের ধর্মান্ধ- মূর্খ মৌলবাদীদের দাওয়াত করে নিয়ে জাহাজে করে সমুদ্রের হাজার মাইল ভিতর নিয়ে নির্বাসন দিয়েছিলেন আর ঘোষণা করেছিলেন ঐ দ্বীপের কয়েকশত মাইলের মধ্যে যেনো কোনো জাহাজ না ঢুকে, তাহলে জাহাজ ধ্বংস করে দেয়া হবে। এভাবে তিনি ধর্মান্ধদের বিভ্রান্তি ও কুসংস্কার থেকে দেশকে রক্ষা করেছিলেন।

মাওলানা রুমী ঐ সমস্ত অন্ধ-মুর্খদের, মুর্দাদের, উলঙ্গদের পথ হতে বের হয়ে জিন্দা মানুষ শামছ তাবরীজের গোলামী করে জিন্দা হয়ে উঠলেন। জিন্দা হওয়ার আনন্দের বহিঃপ্রকাশ স্বরূপ তিনি সর্বক্ষণ সঙ্গীত আর নৃত্যের মধ্যেই দিন কাটিয়েছেন। তিনি বলছেন- “ইবাদতের বিভিন্ন পথ রয়েছে, আমি বেছে নিয়েছি গান আর নৃত্য”। যে গান-বাজনাকে তিনি এক সময় হারাম জানতেন, হারাম ফতোয়া দিতেন, চোখ খোলার পর, জিন্দা হওয়ার পর, মাওলানা হওয়ার পর, নিজেকে ফিরে পাবার পর তথা ঈদ পূণর্মিলনের পর তিনি সেই গান-বাজনা আর নৃত্যকেই তার ইবাদত হিসাবে গ্রহণ করে নিয়েছেন। যদিও উলঙ্গ অন্ধ-মূর্খদের তা মোটেও পছন্দ হয় নি, এখনো হয় না অর্থাৎ এরা যুগে যুগে বর্তমান এবং জ্ঞানীদের মোকাবেলায় অবস্থান করছে। এরা জ্ঞানী নয়, অন্ধ-মূর্খ-বধির এই জন্যই জ্ঞানীদের বিরোধীতা করছে।

বুঝা দরকার যখন তিনি ‘ওয়াহেদ আল্লাহ্’ তখন তিনি ‘আমি’। যখন ওয়াহেদ হতে পাকপাঞ্জাতনস্বরূপ হাস্তিতে বিকশিত হন তখন তিনি ‘আমরা’। কোরানের বহু জায়গায় এই ‘আমরা’ কথাটি আল্লাহপাক ব্যবহার করেছেন। ‘আমরা’ বহু বচন হলেও বহু নয়। মুহাম্মদসহ পাকপাঞ্জাতন। অর্থাৎ আল্লাহর হাস্তি পাকপাঞ্জাতন আর পাকপাঞ্জাতনের নাস্তি আল্লাহ। একই বহু এবং বহুই এক।

যারা পাকপাঞ্জাতন চিনে না বা মানে না তারা মূলতঃ আল্লাহকেই অস্বীকারকারী এবং জাহান্নামী। কোরানুল করিম সমস্তটাই মুহাম্মদ এবং তাঁর পবিত্র আহলে বাইয়্যেতের পরিচয় তুলে ধরছে- এ ভেদ-রহস্য একজন জ্ঞানীর নিকট বুঝে নিলেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

যখন নিজেকে চিনতে যাবে তখন পাকপাঞ্জাতন চিনতে পাবে, যখন পাকপাঞ্জাতন চিনবে তখন আল্লাহকেই চিনতে পারবে।

আর আল্লাহকে দেখাই উম্মতে মুহাম্মদীর ছালাত। আর খফির ঘর মুহাম্মদের মাঝে তথা বাকি চারজন তার ঘরের অধিবাসী তথা আহলে বাইয়্যেত। এখানেই ছালাতে খফি ধারাবাহিকতায় এসে হুসাইনী অজুদে মুহাম্মদী সুরতে, ছালাত আহসান সুরত নিয়ে জহুর হচ্ছে। এই জন্যই মুহাম্মদ পাঁচটি ছালাতের অধিকারী এবং মুহাম্মদী সুরতে ছালাত রয়েছে। এই হিজাবে মুহাম্মদীর মাঝেই আল্লাহ আছেন। রাছুলের সতের সুন্নাতের একটি হলো “জুয়িলাত র্কুরাতু আইনী ফিস্সালাত” অর্থাৎ ছালাতে আমার চক্ষু শীতল হয় অর্থাৎ ছালাতটি দেখে শান্তি পাই। পাকপাঞ্জাতনস্বরূপ পাঁচটি ছালাত প্রতিষ্ঠিত আছে মুহাম্মদী অজুদের মাঝে। সেই ছালাতগুলো হেফাজত করার হুকুম আসছে কোরানে (সুরা বাকারা- ২৩৮)। বেলায়েতের আহলে বাইয়্যেতের নবুয়তী রূপই হলো আলী, ফাতেমা, হাসান এবং হুসাইন (আঃ)। এরা হলো উম্মতে মুহাম্মদীর কান্ডারী, নূহ নবীর নৌকা বা নাজাতের কিস্তি। বোখারীর হাদিস হতেও ইহা প্রমাণিত। এজন্যই রাছুল মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর পবিত্র আহলে বাইয়্যেতকে আঁকড়িয়ে ধরার নির্দেশ দিচ্ছেন তার উম্মতদেরকে।

যারা তার পাক আহলে বাইয়্যেতকে আঁকড়িয়ে ধরেছে তারাই মুক্তি পেয়ে যাচ্ছে, অন্যেরা পথভ্রষ্ট। একদিন হুসাইন আঃ রাছুলের জুব্বা গায়ে দিয়ে দেখলেন বিশাল এক অগ্নি সাগর। সে অগ্নি সাগরের মাঝে অসংখ্য লোক পড়ে মারা যাচ্ছে। আর কিছু সংখ্যক লোক একটি নৌকায় চড়ে নির্বিঘ্নে সাগর পাড়ি দিচ্ছে। সে নৌকাটিই হলো পাকপাঞ্জাতনের নৌকা। যারা এ নৌকায় আরোহণ করছে একমাত্র তারাই নাজাত পাচ্ছে। এজন্যই রাছুল (সাঃ) বলছেন- “মাছালা আহলে বাইয়্যেতী কামাছালা সাফিনাতুন্ নূহ, মান দাখালা ফানাজ্জী” অর্থাৎ আহলে বাইয়্যেতের মাছাল বা উদারহণ হলো নূহনবীর নৌকার মতো, যে এই নৌকাতে আরোহণ করবে সে-ই নাজাত পাবে।

ইয়াজিদের দল কখনো এ নৌকায় আরোহণ করতে পারবে না, নৌকায় আরোহণ করতে হলে দ্বীনে মুহাম্মদীতে দাখেল হতে হবে তথা আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে ঈমান আনতে হবে, আহলে বাইয়্যেতের সাথে অবিচ্ছিন্ন থাকতে হবে। যারা আল্লাহ পরিষদের একজন মানুষের নিকট বা পরকাল প্রাপ্ত একজন মানুষের নিকট তথা অবতার বা প্রেরিত রাছুলের নিকট আনুগত্য বা বায়াত গ্রহণ করলো তারাই আল্লাহর অনুমতি সাপেক্ষে ঈমান আনলো। মুহাম্মদ (সাঃ)-এর কালো চাদরের নীচে বাস করছে তাঁর আহলে বাইয়্যেত।

আল্লাহপাক তাদেরকে পবিত্র বলে ঘোষণা দিয়ে সুরা আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াতটি নাজিল করেছেন বিধায় রাছুল (সাঃ)-সহ তাদেরকে পাকপাঞ্জাতন বলা হয়। আয়াতটি হলো- “ইন্নামা ইউরিদুল্লাহা লে ইউজহেবা আনকুমুর রেজসা আহলাল বাইয়্যেতি ওয়া ইউ তাহ্হেরাকুম তাত্হিরা” অর্থাৎ অবশ্যই আল্লাহর ইচ্ছা যে, আহলে বাইয়্যেত হতে সকল প্রকার অপবিত্রতা দূর করতে এবং পরিপূর্ণরূপে পুত পবিত্র রাখতে যতোটুকু রাখার হক তার আছে। এই আয়াতকে “আয়াতে তাত্হির” বা পবিত্রতার আয়াত বলা হয়। এই নৌকা এবং চাঁদর যারা উম্মতে মুহাম্মদী হবে তারা চিনবে এবং ঐ নৌকাতে আরোহণ করে মুক্তিপ্রাপ্ত হবে বা নাজাত লাভ করবে, ভবিষ্যতে (মৃত্যুর পরে) নয় বর্তমানে।

যারা নবীর স্ত্রীগণকে আহলে বাইয়্যেতে গণ্য করে এরা অন্ধ-মূর্খ। দ্বীনে মুহাম্মদী কি জিনিস তা তারা বুঝেই নি। দ্বীনে মুহাম্মদীই একমাত্র ধর্ম এবং ইহা মানব জাতির জন্য বাস্তব মুক্তি বিধান। কোনো গন্ডীভূত জাতি-গোত্রের ধর্ম ইহা অবশ্যই নয়। কারণ, মানুষ মুহাম্মদ সুরতে তৈরী- এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান, মুসলমানের কথা বলা হয় নি। কাজেই যারা দ্বীনে মুহাম্মদীর অনুসারী তথা মানব ধর্মের অনুসারী তথা হায়ানীয়াত হতে বের হয়ে ইনসানীয়াতের মাঝে কায়েম হচ্ছে তারাই খাঁটি মুসলমান বা খাঁটি হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টান- মূলতঃ এক ধর্মকেই ধারণ করছে তথা এক আল্লাহর ফেৎরাতকেই ধারণ করে চির মুক্তির দেশে অবস্থান করছে, একত্বের ভিতর বাস করছে। ধর্ম ত্যাগ বলতেও কিছু নেই, যা আছে তা হলো হায়ানী আত্মার ধর্ম ত্যাগ করে ইনসানী আত্মার ধর্মকে ধারণ করা, নফসে মুৎমাইন্নাহ্ অর্জন করা। এখানে জাতিগত মুসলমানের নফসের কথা বলা হয় নি বা জাতিগত হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃষ্টানকেও বলা হয় নি।

মানুষের নফসের কথা বলা হয়েছে কোরানে। কারণ, কোরান কোনো জাতিগত ধার্মিকদের নয়, কোরান বিশ্ব মানব জাতির জন্য প্রেরিত। গীতা, বাইবেল, তাওরাত, যাবুর ইত্যাদি ধর্মশাস্ত্র মানব জাতির জন্য প্রেরিত। অন্ধ-মূর্খ বধিরগণ ধর্মশাস্ত্রকে জাতি-গোত্রে বিভক্ত করেছে ব্যক্তিস্বার্থের কুমতলবটি বাস্তবায়ন করার জন্য। তারা ধর্ম শাস্ত্রের মুহকামাত বুঝেনি, বুঝেছে মুতাশাবেহাত তথা রূপক, কাঠামো। এজন্যই ধর্ম এবং ধর্মশাস্ত্র নিয়ে তাদের মধ্যে মতভেদের অন্ত নেই। সেই মতভেদের বেড়াজালে পড়ে হুঁশ-আক্কেল সব হারিয়ে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি, ফতোয়াবাজি, জোড়-জুলুম, অত্যাচার-নির্যাতন, মানুষ হত্যা চালাচ্ছে। অর্থাৎ মানুষরূপে শয়তানই (ইন্নাহু লাকুম আদুউ্যুম মুবীনুন) ধর্মের ছদ্মাবরণে এসব করে যাচ্ছে। এরাই হলো অসভ্য জাতি, বর্বর জাতি, আহলে বাইয়্যেত হতে বিচ্ছিন্ন জাতি ইয়াজিদ, হায়ানীয়াত হলো এদের চরিত্র। কাজেই মানব জাতির ঐক্যতার প্রশ্নে তথা মুক্তির জন্য আহলে বাইয়্যেতকে ধারণ করে দ্বীনে মুহাম্মদীতে দাখেল হতে হবে। এ ছাড়া মানব জাতির মুক্তি মিলবে না। কারণ, প্রত্যেকটি মানুষের সাথেই আহলে বাইয়্যেত ঐক্যতার নিদর্শনস্বরূপ রয়েছে এবং এই আহলে বাইয়্যেতকে ধারণ করেই মুক্তি লাভ করতে হবে।

লেখক – হযরত খাজা কাজী বেনজীর হক চিশতী নিজামী
মহান মুর্শিদ কেবলা – বেনজীরিয়া চিশতীয়া দরবার শরীফ।

সাবস্ক্রাইব করুন
ফেসবুক পেজ
ইউটিউব
হোয়াটসএপ গ্রুপ
টেলিগ্রাম গ্রুপ